ঢাকা ০২:৫৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ১২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান আবারও প্রমাণ করেছে, রাষ্ট্রের প্রকৃত মালিক জনগণ’ জামায়াত এমপির ওপর হামলা, গ্রেপ্তার ৯ যুদ্ধের ডামাডোল পেরিয়ে হজে যাচ্ছেন ৩০ হাজার ইরানি ট্রান্সফর্মার চুরি করতে গিয়ে প্রাণ গেল যুবকের ​বন বিভাগের ‘মাফিয়া’ সুমন মিয়ার ক্ষমতার দাপট: নির্বাচন কমিশনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি ও কোটি কোটি টাকার রাজস্ব হরিলুট মিঠাপুকুরে দুই সাংবাদিক ও কয়েকটি পত্রিকার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা স্বরলিপি পাবলিকেশনের কৃতী নারী সম্মাননা ফ্যাসিস্ট মন্ত্রীর প্রভাবে মহাজন, এরপর কোটি টাকার হরিলুট বালিজুড়ী রেঞ্জারের পৈশাচিকতায় ধ্বংস হচ্ছে বন বড়লেখায় পৃথক ২ রাস্তার উন্নয়ন কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন নাসির উদ্দিন এমপি দিনে ১০-১৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না শেরপুরে, বিপর্যস্ত জনজীবন

মিঠাপুকুরে পরিকল্পিত হামলা: ঘটনাকে ভিন্ন খাতে নেওয়ার অভিযোগ, গ্রেপ্তার হয়নি কেউ

রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার ৮নং চেংমারী ইউনিয়নের তালিমগঞ্জ (মামুদেরপাড়া) এলাকায় গত ১৬ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে সংঘটিত একটি পরিকল্পিত হামলার ঘটনাকে ভিন্ন খাতে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করা হলেও এখন পর্যন্ত কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়নি, যা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, পূর্ব শত্রুতার জেরে ওইদিন বিকেল আনুমানিক ৩টা ৩০ মিনিটে নজরুল ইসলাম (৫০), রবিউল ইসলাম (৩৫), সবুজ মিয়া (৩৫) ও শিল্পী বেগমসহ কয়েকজন দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে প্রতিবেশী আব্দুর রাজ্জাক মিয়ার বাড়িতে অনধিকার প্রবেশ করে। তারা রাজ্জাক মিয়ার এসএসসি পরীক্ষার্থী ছেলে জাহিদ মিয়াকে জোরপূর্বক তুলে নেওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় স্থানীয়রা বাধা দিলে তাদের মারধর করা হয়।
এরপর বিকেল আনুমানিক ৪টা ৩০ মিনিটে একই অভিযুক্তরা তালিমগঞ্জ বাজারে হেলাল উদ্দিনের দোকানে হামলা চালায়। হামলায় হেলাল উদ্দিন গুরুতর আহত হন। অভিযোগ রয়েছে, নজরুল ইসলাম লোহার শাবল দিয়ে তার মাথায় আঘাত করার চেষ্টা করলে তা লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে কাঁধে লাগে, ফলে তিনি গুরুতর জখম হন। এ সময় দোকান ভাঙচুর ও মালামাল নষ্ট করে প্রায় ১৫ হাজার টাকার ক্ষতি করা হয়।
আহত হেলাল উদ্দিনকে দ্রুত মিঠাপুকুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়, যেখানে তিনি বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ঘটনার সময় স্থানীয় কয়েকজন সাক্ষী উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলে অভিযুক্তরা তাদের হুমকি দিয়ে পালিয়ে যায়।
এদিকে, মামলার তদন্তে প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পরও এখনো কোনো আসামি গ্রেপ্তার না হওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে। একই সঙ্গে একজন এসএসসি পরীক্ষার্থীকে আসামি করা নিয়েও বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।
বাংলাদেশ যুব অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় সদস্য মেহেদী হাসানের ওপর হামলার ঘটনাও স্থানীয়ভাবে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন, প্রভাবশালী মহলের কারণে অভিযুক্তরা পার পেয়ে যেতে পারে।
স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত তদন্ত শেষ করে দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান আবারও প্রমাণ করেছে, রাষ্ট্রের প্রকৃত মালিক জনগণ’

মিঠাপুকুরে পরিকল্পিত হামলা: ঘটনাকে ভিন্ন খাতে নেওয়ার অভিযোগ, গ্রেপ্তার হয়নি কেউ

আপডেট সময় ১২:০৯:১০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬

রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার ৮নং চেংমারী ইউনিয়নের তালিমগঞ্জ (মামুদেরপাড়া) এলাকায় গত ১৬ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে সংঘটিত একটি পরিকল্পিত হামলার ঘটনাকে ভিন্ন খাতে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করা হলেও এখন পর্যন্ত কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়নি, যা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, পূর্ব শত্রুতার জেরে ওইদিন বিকেল আনুমানিক ৩টা ৩০ মিনিটে নজরুল ইসলাম (৫০), রবিউল ইসলাম (৩৫), সবুজ মিয়া (৩৫) ও শিল্পী বেগমসহ কয়েকজন দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে প্রতিবেশী আব্দুর রাজ্জাক মিয়ার বাড়িতে অনধিকার প্রবেশ করে। তারা রাজ্জাক মিয়ার এসএসসি পরীক্ষার্থী ছেলে জাহিদ মিয়াকে জোরপূর্বক তুলে নেওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় স্থানীয়রা বাধা দিলে তাদের মারধর করা হয়।
এরপর বিকেল আনুমানিক ৪টা ৩০ মিনিটে একই অভিযুক্তরা তালিমগঞ্জ বাজারে হেলাল উদ্দিনের দোকানে হামলা চালায়। হামলায় হেলাল উদ্দিন গুরুতর আহত হন। অভিযোগ রয়েছে, নজরুল ইসলাম লোহার শাবল দিয়ে তার মাথায় আঘাত করার চেষ্টা করলে তা লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে কাঁধে লাগে, ফলে তিনি গুরুতর জখম হন। এ সময় দোকান ভাঙচুর ও মালামাল নষ্ট করে প্রায় ১৫ হাজার টাকার ক্ষতি করা হয়।
আহত হেলাল উদ্দিনকে দ্রুত মিঠাপুকুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়, যেখানে তিনি বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ঘটনার সময় স্থানীয় কয়েকজন সাক্ষী উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলে অভিযুক্তরা তাদের হুমকি দিয়ে পালিয়ে যায়।
এদিকে, মামলার তদন্তে প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পরও এখনো কোনো আসামি গ্রেপ্তার না হওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে। একই সঙ্গে একজন এসএসসি পরীক্ষার্থীকে আসামি করা নিয়েও বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।
বাংলাদেশ যুব অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় সদস্য মেহেদী হাসানের ওপর হামলার ঘটনাও স্থানীয়ভাবে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন, প্রভাবশালী মহলের কারণে অভিযুক্তরা পার পেয়ে যেতে পারে।
স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত তদন্ত শেষ করে দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।