ঢাকা ০৩:৩৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
প্রকৌশলী আনিছুর রহমানকে ঘিরে গুরুতর অভিযোগ ৮৮৪ কোটি টাকার রেল প্রকল্পে বড় প্যাকেজ, সীমিত দরদাতায় সিন্ডিকেটের শঙ্কা কুমিল্লায় টাকার বিনিময়ে ২৪ রোহিঙ্গাকে জন্মনিবন্ধন দেওয়ার অভিযোগ ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ৪৯ ব্যাংক হিসাবে লেনদেন প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা সিট-খাবার-মোবাইল সুবিধায় রেটকার্ডের অভিযোগ মুগদা মেডিকেল ঘিরে ডায়াগনস্টিকের ‘সিন্ডিকেট’! রোগী পাঠানোর নেপথ্যে কারা? পাবনা গণপূর্তে রাশেদ কবীরের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ পিডিবিএফে মাহমুদ হাসানকে ঘিরে অভিযোগের পাহাড় রেলওয়ের উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়মের ছড়াছড়ি, হাজার কোটি টাকার ক্ষতির অভিযোগ ৪২ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধান

সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জমি দখলের অভিযোগ ম্যাক্সওয়েলের বিরুদ্ধে

রাজধানীর কেরাণীগঞ্জে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জমি দখলের অভিযোগে ‘ম্যাক্সওয়েল হোমস অ্যান্ড প্রোপার্টিজ লিমিটেড’ নামের একটি অবৈধ হাউজিং কোম্পানির বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী এক কৃষক।
রবিবার (৩ আগস্ট) সকাল ১১টায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ তোলেন কেরাণীগঞ্জ উপজেলার তারানগর ইউনিয়নের নিমতলী গ্রামের বাসিন্দা হরি কমল বিশ্বাস। তিনি জানান, তার পৈতৃক জমি জাল কাগজপত্র দেখিয়ে অবৈধভাবে দখল করে নিয়েছে ম্যাক্সওয়েল হোমস অ্যান্ড প্রোপার্টিজ।
হরি কমল বিশ্বাস বলেন, “আমি একজন সাধারণ কৃষক। আমার পৈতৃক জমি যা আমার পরিবারের একমাত্র সম্পদ—সেটি অবৈধভাবে দখল করে হাউজিং প্রকল্প গড়ে তুলছে এই কোম্পানি। আমার কাছে বৈধ দলিল ও খাজনা পরিশোধের প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে ঘুরেও বিচার পাইনি।”
তিনি আরও বলেন, কোম্পানিটি বিভিন্ন সময়ে মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে সম্পত্তি নিজেদের নামে লিখিয়ে নিয়েছে। সেই জমির কোনো মূল্য এখনও পরিশোধ করা হয়নি। উল্টো প্রতিবাদ করায় তার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে হরি কমল বিশ্বাস অভিযোগ করেন, তার প্রতিবন্ধী ভাই কৃষ্ণ কমল বিশ্বাসের জমিও কোর্টের অনুমতি ছাড়া দখল করে নিজেদের নামে লিখিয়ে নিয়েছে কোম্পানিটি। বর্তমানে তারা পরিবারসহ চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
তিনি জানান, স্থানীয় আরও অনেকের জমি জোরপূর্বক দখল করে বালু দিয়ে ভরাট করছে ম্যাক্সওয়েল। একই জমি একাধিক ব্যক্তির কাছে বিক্রি করেও প্রতারণা করা হচ্ছে। রাজউক, গণপূর্ত ও পরিবেশ অধিদপ্তরের কোনো অনুমোদন ছাড়াই প্রকল্প পরিচালিত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি দাবি করেন, সরকারি কিছু কর্মকর্তা ও একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষকও এই অনিয়মে জড়িত।
তিনি প্রধান উপদেষ্টা, ভূমি মন্ত্রণালয়, রাজউক চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, “আমার জমি ফিরিয়ে দিন এবং কোম্পানির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করুন। যাতে ভবিষ্যতে কেউ এই প্রতারণার শিকার না হয়।”
Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রকৌশলী আনিছুর রহমানকে ঘিরে গুরুতর অভিযোগ

সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জমি দখলের অভিযোগ ম্যাক্সওয়েলের বিরুদ্ধে

আপডেট সময় ০৮:৪০:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩ অগাস্ট ২০২৫
রাজধানীর কেরাণীগঞ্জে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জমি দখলের অভিযোগে ‘ম্যাক্সওয়েল হোমস অ্যান্ড প্রোপার্টিজ লিমিটেড’ নামের একটি অবৈধ হাউজিং কোম্পানির বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী এক কৃষক।
রবিবার (৩ আগস্ট) সকাল ১১টায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ তোলেন কেরাণীগঞ্জ উপজেলার তারানগর ইউনিয়নের নিমতলী গ্রামের বাসিন্দা হরি কমল বিশ্বাস। তিনি জানান, তার পৈতৃক জমি জাল কাগজপত্র দেখিয়ে অবৈধভাবে দখল করে নিয়েছে ম্যাক্সওয়েল হোমস অ্যান্ড প্রোপার্টিজ।
হরি কমল বিশ্বাস বলেন, “আমি একজন সাধারণ কৃষক। আমার পৈতৃক জমি যা আমার পরিবারের একমাত্র সম্পদ—সেটি অবৈধভাবে দখল করে হাউজিং প্রকল্প গড়ে তুলছে এই কোম্পানি। আমার কাছে বৈধ দলিল ও খাজনা পরিশোধের প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে ঘুরেও বিচার পাইনি।”
তিনি আরও বলেন, কোম্পানিটি বিভিন্ন সময়ে মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে সম্পত্তি নিজেদের নামে লিখিয়ে নিয়েছে। সেই জমির কোনো মূল্য এখনও পরিশোধ করা হয়নি। উল্টো প্রতিবাদ করায় তার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে হরি কমল বিশ্বাস অভিযোগ করেন, তার প্রতিবন্ধী ভাই কৃষ্ণ কমল বিশ্বাসের জমিও কোর্টের অনুমতি ছাড়া দখল করে নিজেদের নামে লিখিয়ে নিয়েছে কোম্পানিটি। বর্তমানে তারা পরিবারসহ চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
তিনি জানান, স্থানীয় আরও অনেকের জমি জোরপূর্বক দখল করে বালু দিয়ে ভরাট করছে ম্যাক্সওয়েল। একই জমি একাধিক ব্যক্তির কাছে বিক্রি করেও প্রতারণা করা হচ্ছে। রাজউক, গণপূর্ত ও পরিবেশ অধিদপ্তরের কোনো অনুমোদন ছাড়াই প্রকল্প পরিচালিত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি দাবি করেন, সরকারি কিছু কর্মকর্তা ও একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষকও এই অনিয়মে জড়িত।
তিনি প্রধান উপদেষ্টা, ভূমি মন্ত্রণালয়, রাজউক চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, “আমার জমি ফিরিয়ে দিন এবং কোম্পানির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করুন। যাতে ভবিষ্যতে কেউ এই প্রতারণার শিকার না হয়।”