জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) আবারও চালু করার পরিকল্পনা চলছে বহুল আলোচিত ও সমালোচিত পোষ্য কোটা। এবার নতুনভাবে যুক্ত হতে পারে শিক্ষকদের ভাই-বোনদের জন্য কোটা সুবিধাও। শিক্ষার্থীরা এই সিদ্ধান্তকে বৈষম্যমূলক ও গোষ্ঠীবাদী প্রবণতা বলে আখ্যা দিচ্ছেন।
এর আগে চলতি বছরের শুরুতে শিক্ষার্থীদের টানা আন্দোলন ও গণঅনশনের মুখে পোষ্য কোটা বাতিলের ঘোষণা দেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। গত ফেব্রুয়ারিতে ১৯ ঘণ্টাব্যাপী গণঅনশনের পর উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসান আন্দোলনকারীদের আশ্বস্ত করেন এবং জানান, পোষ্য কোটা স্থগিত থাকবে। একইসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধা পুনর্বিবেচনায় একটি কমিটি গঠনের কথাও জানানো হয়।
এক সূত্রে জানা যায়, এখন শুধু সন্তান নয়, শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের স্ত্রী ও ভাই-বোনদেরও পোষ্য কোটার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে চালু থাকা অন্যান্য কোটার মধ্যে রয়েছে—বীর মুক্তিযোদ্ধা, প্রতিবন্ধী, খেলোয়াড়, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী, অনগ্রসর নৃগোষ্ঠী, পার্বত্য বাঙালি (অ-উপজাতি), বিদেশি শিক্ষার্থী, চা-শ্রমিক এবং বিকেএসপি কোটা। এছাড়া উপাচার্য কোটাও আগে প্রচলিত ছিল, যার মাধ্যমে উপাচার্য নিজ ক্ষমতায় ২০ জন শিক্ষার্থী ভর্তির সুযোগ দিতে পারতেন। তবে এ বছর সেই কোটা বাতিল করা হয়েছে।
পোষ্য কোটার পুনর্বহাল সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের (একাংশ), জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সংসদ এক যৌথ বিবৃতি দিয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, “বিশ্ববিদ্যালয় কোনো বংশানুক্রমিক অধিকার প্রতিষ্ঠার জায়গা নয়। শিক্ষকের ভাই-বোনদের জন্য কোটা চালু করা মানে একটি প্রজন্মকে জন্মসূত্রে উচ্চশিক্ষার চাবিকাঠি দিয়ে দেওয়া—যা প্রকৃতপক্ষে দরিদ্র ও প্রান্তিক শিক্ষার্থীদের স্বপ্নে আঘাত হানে।”
তারা আরও বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় ন্যায়ের প্রতীক, এখানে জন্মসূত্রে বিশেষ সুবিধা থাকার কোনো নীতিগত যৌক্তিকতা নেই। যাঁরা প্রকৃত অর্থে পিছিয়ে, বিশেষ করে ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য সীমিত কোটা বিবেচনা করা যেতে পারে; কিন্তু প্রশাসনের সুবিধাভোগী অংশের জন্য কোটা চালু রাখা হবে সরাসরি শিক্ষায় বৈষম্য প্রতিষ্ঠার নামান্তর।”
বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরিচালনা কমিটির তথ্য অনুযায়ী, প্রতি বিভাগে সর্বোচ্চ চারজন করে প্রায় ১৪৮ জন শিক্ষার্থী পোষ্য কোটায় ভর্তির সুযোগ পেতেন। যদিও গত পাঁচ বছরে এই কোটায় ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা গড়ে ৫০–৫৫ জনের মধ্যে সীমিত ছিল।
এদিকে ভর্তি পরিচালনা কমিটির সূত্রে জানা গেছে, বিভাগের শিক্ষার্থী প্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্টদের নিয়ে আসন্ন রবিবার একটি আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। সেখানেই শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের পরিবারের সদস্যদের জন্য পোষ্য কোটা পুনর্বহালের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে।
জাবি প্রতিনিধি 




















