ঢাকা ০৬:৩৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
মির্জাপুর ভূমি অফিসে রিনা রানীর দাপট, ঘুষ-নথি জালিয়াতির অভিযোগ ডেমরা রেজিস্ট্রি অফিসে তুহিন-সাজুর দাপট, প্রভাবশালীদের ছত্রচ্ছায়ায় অনিয়মের অভিযোগ অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগে পিআইবির ডিজি ফারুক ওয়াসিফের অপসারণের দাবিতে মানববন্ধন অভিযোগের পরও একই বিদেশি স্টেশনে স্বামী-স্ত্রী কুমিল্লা সার্কিট হাউসে উইপোকার উপদ্রব, রাত না কাটিয়েই চলে গেলেন বিরোধীদলীয় উপনেতা নিউইয়র্ক সফরে ট্রাম্পের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক হতে পারে: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কুমিল্লা মেডিকেলে মন্ত্রীর সরেজমিন পরিদর্শন, অনিয়ম-অব্যবস্থাপনা বন্ধে কঠোর নির্দেশ শেরেবাংলা নগর বয়েজ হাই স্কুল অ্যালামনাই এসোসিয়েশন-এর কার্যনির্বাহী পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত আত্রাইয়ের ঐতিহাসিক পতিসর রাস্তার সৌন্দর্যবর্ধনে তাল গাছের চারা রোপণ দাবি না মানলে ডিসেম্বরের মধ্যে সরকার পতনের হুঁশিয়ারি জামায়াত আমিরের

শেরপুরে ৮ গ্রামের ৫ কিলোমিটার রাস্তার বেহাল দশা

বগুড়ার শেরপুর উপজেলার মাত্র ৫ কিলোমিটার রাস্তা এখনও পর্যন্ত উন্নয়নের কোন ছোঁয়া লাগেনি। প্রতিদিন এই রাস্তা দিয়ে শত শত মানুষ যাতায়াত করলেও রাস্তাটির উন্নয়ন না হওয়ায় মানুষের জীবনমান, কৃষি উৎপাদন, শিক্ষা ও চিকিৎসা সেবা ব্যাহত হচ্ছে। মির্জাপুর ইউনিয়নের বীরগ্রামের কালু মিয়ার বাড়ি হতে পেংড়াপাড়া এবং খোট্টাপাড়া খেলার মাঠ হতে দড়িমুকন্দ পর্যন্ত রাস্তায় ভোগান্তিতে ৮টি গ্রামের লক্ষাধিক মানুষ।
সরে জমিনে গিয়ে দেখা যায়, এই রাস্তা দিয়ে খোট্টাপাড়া, বীরগ্রাম, ভাদাইশপাড়া, রাজবাড়ী, বাঘমারা, হাতিগাড়া, কদিমুকন্দ ও পেংড়াপাড়া এই আটটি গ্রামের প্রায় লক্ষাধিক মানুষ চলাচল করে। বিশেষ করে এই অঞ্চলটি কৃষি ও মৎস্য খামার নির্ভরশীল এলাকা এখানে প্রায় ৫০টি ছোট-বড় পুকুরে মাছ চাষ হয়। কিন্তু রাস্তাঘাট ভালো না থাকায় সময়মতো বাজারে মাছ পরিবহন করা সম্ভব হয় না, ফলে চাষিরা ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হন।
এছাড়াও, এই গ্রামগুলোতে প্রায় ১ হাজার একর জমিতে ধান, মরিচ, আলু, পাটসহ নানা ফসল চাষ হয়। কিন্তু রাস্তার দুরবস্থার কারণে এসব ফসল পরিবহন করতে গিয়ে কৃষকদের ভোগান্তি পোহাতে হয়, ফলে অনেক কৃষক চাষাবাদে আগ্রহ হারাচ্ছেন। শুধু কৃষি নয়, শিক্ষার ক্ষেত্রেও পড়েছে মারাত্মক প্রভাব। ওই আটটি গ্রামের শিক্ষার্থীরা স্কুল ও কলেজে যাতায়াত করতে গিয়ে প্রতিদিন কর্দমাক্ত ও ভাঙাচোরা অবস্থার কারণে শিক্ষার্থীদের স্কুলে যাওয়া নিরুৎসাহিত হচ্ছে। এতে পিছিয়ে পড়ছে এলাকার শিক্ষা। চিকিৎসার ক্ষেত্রেও একই চিত্র। কেউ হঠাৎ অসুস্থ হলে, তাকে সময়মতো হাসপাতালে নেওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পরায় জীবনের ঝুঁকি বাড়ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা খোট্টাপাড়া আব্দুল আজিজ, ইসমাইল, সোলাইমান বলেন, আমরা স্মার্ট বাংলাদেশে বসবাস করি কিন্তু মাত্র রাস্তার কারনে পিছিয়ে থাকায় শিক্ষা, চিকিৎসা ও কৃষিতে তেমন উন্নয়ন করতে পারছিনা। এই রাস্তা পাকা হলে আমাদের আটটি গ্রাম আরো উন্নয়ন হবে।
বীরগ্রাম দড়িমুকুন্দ ও ভাদাইশপাড়া গ্রামের কালু, রঞ্জু মিয়া এবং রাইসুলসহ দশজন ব্যাক্তিরা বলেন, অত্যন্ত সম্ভাবনাময় এ অঞ্চলের মানুষের উন্নয়নের স্বার্থে অতি দ্রুত রাস্তা সংস্কারে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য স্থানীয় প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। একদিকে উন্নয়ন হবে অন্যদিকে মানুষের ভোগান্তি দুর হবে।
মির্জাপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম বলেন, রাস্তারি বিষয়ে উদ্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। বরাদ্ধ পেলেই কাজ শুরু করা হবে।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুল মজিদ বলেন, রাস্তাটি নতুন প্রকল্প পাঠানো হয়েছে। আশা করছি সামনের বরাদ্ধ পাশ হয়ে আসবে।

 

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মির্জাপুর ভূমি অফিসে রিনা রানীর দাপট, ঘুষ-নথি জালিয়াতির অভিযোগ

শেরপুরে ৮ গ্রামের ৫ কিলোমিটার রাস্তার বেহাল দশা

আপডেট সময় ০৪:০৭:১৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ অগাস্ট ২০২৫

বগুড়ার শেরপুর উপজেলার মাত্র ৫ কিলোমিটার রাস্তা এখনও পর্যন্ত উন্নয়নের কোন ছোঁয়া লাগেনি। প্রতিদিন এই রাস্তা দিয়ে শত শত মানুষ যাতায়াত করলেও রাস্তাটির উন্নয়ন না হওয়ায় মানুষের জীবনমান, কৃষি উৎপাদন, শিক্ষা ও চিকিৎসা সেবা ব্যাহত হচ্ছে। মির্জাপুর ইউনিয়নের বীরগ্রামের কালু মিয়ার বাড়ি হতে পেংড়াপাড়া এবং খোট্টাপাড়া খেলার মাঠ হতে দড়িমুকন্দ পর্যন্ত রাস্তায় ভোগান্তিতে ৮টি গ্রামের লক্ষাধিক মানুষ।
সরে জমিনে গিয়ে দেখা যায়, এই রাস্তা দিয়ে খোট্টাপাড়া, বীরগ্রাম, ভাদাইশপাড়া, রাজবাড়ী, বাঘমারা, হাতিগাড়া, কদিমুকন্দ ও পেংড়াপাড়া এই আটটি গ্রামের প্রায় লক্ষাধিক মানুষ চলাচল করে। বিশেষ করে এই অঞ্চলটি কৃষি ও মৎস্য খামার নির্ভরশীল এলাকা এখানে প্রায় ৫০টি ছোট-বড় পুকুরে মাছ চাষ হয়। কিন্তু রাস্তাঘাট ভালো না থাকায় সময়মতো বাজারে মাছ পরিবহন করা সম্ভব হয় না, ফলে চাষিরা ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হন।
এছাড়াও, এই গ্রামগুলোতে প্রায় ১ হাজার একর জমিতে ধান, মরিচ, আলু, পাটসহ নানা ফসল চাষ হয়। কিন্তু রাস্তার দুরবস্থার কারণে এসব ফসল পরিবহন করতে গিয়ে কৃষকদের ভোগান্তি পোহাতে হয়, ফলে অনেক কৃষক চাষাবাদে আগ্রহ হারাচ্ছেন। শুধু কৃষি নয়, শিক্ষার ক্ষেত্রেও পড়েছে মারাত্মক প্রভাব। ওই আটটি গ্রামের শিক্ষার্থীরা স্কুল ও কলেজে যাতায়াত করতে গিয়ে প্রতিদিন কর্দমাক্ত ও ভাঙাচোরা অবস্থার কারণে শিক্ষার্থীদের স্কুলে যাওয়া নিরুৎসাহিত হচ্ছে। এতে পিছিয়ে পড়ছে এলাকার শিক্ষা। চিকিৎসার ক্ষেত্রেও একই চিত্র। কেউ হঠাৎ অসুস্থ হলে, তাকে সময়মতো হাসপাতালে নেওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পরায় জীবনের ঝুঁকি বাড়ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা খোট্টাপাড়া আব্দুল আজিজ, ইসমাইল, সোলাইমান বলেন, আমরা স্মার্ট বাংলাদেশে বসবাস করি কিন্তু মাত্র রাস্তার কারনে পিছিয়ে থাকায় শিক্ষা, চিকিৎসা ও কৃষিতে তেমন উন্নয়ন করতে পারছিনা। এই রাস্তা পাকা হলে আমাদের আটটি গ্রাম আরো উন্নয়ন হবে।
বীরগ্রাম দড়িমুকুন্দ ও ভাদাইশপাড়া গ্রামের কালু, রঞ্জু মিয়া এবং রাইসুলসহ দশজন ব্যাক্তিরা বলেন, অত্যন্ত সম্ভাবনাময় এ অঞ্চলের মানুষের উন্নয়নের স্বার্থে অতি দ্রুত রাস্তা সংস্কারে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য স্থানীয় প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। একদিকে উন্নয়ন হবে অন্যদিকে মানুষের ভোগান্তি দুর হবে।
মির্জাপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম বলেন, রাস্তারি বিষয়ে উদ্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। বরাদ্ধ পেলেই কাজ শুরু করা হবে।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুল মজিদ বলেন, রাস্তাটি নতুন প্রকল্প পাঠানো হয়েছে। আশা করছি সামনের বরাদ্ধ পাশ হয়ে আসবে।