ঢাকা ০৩:৩৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সিলেট সীমান্তে সক্রিয় সেই আলোচিত ‘শ্যাম কালা’ একই কর্মস্থলে ৮ বছর দাপট খাটানো সেই সমবায় কর্মকর্তা মাহফুজা এবার মিঠাপুকুরে বিষ মেশানো ভাত খেয়ে কাতরাচ্ছিলেন স্বামী, স্ত্রী এনে দিলেন বিষাক্ত শরবত হলিস্টিক গ্রুপের দুই শত কোটি টাকার প্রতারণা পবিপ্রবিতে গ্রেটার রাজশাহী স্টুডেন্ট অ্যালায়েন্সের নবীনবরণ ও বিদায় সংবর্ধনা গাজী নজরুল ইসলামকে বাদ দিয়েই সংসদীয় কমিটি গঠন রেলওয়ের প্রকৌশলী শাহ আলমের কুলখানি ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত মঠবাড়িয়ায় প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে দুটি  বিস্ফোরক ও হত্যা মামলার আসামী আল মামুন  অটোরিকশায় যুক্ত হচ্ছে কিউআর কোড ও ডিজিটাল ট্র্যাকিং সিস্টেম অটোরিকশায় বছরে ৪ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব ক্ষতি : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

লক্ষ্মীপুরে প্রবাসীর উপর হামলার ঘটনায় তদন্তে সত্যতা পাওয়া গেছে

লক্ষ্মীপুরে জমিজমা নিয়ে পূর্ব বিরোধের জেরে স্ত্রী- পুত্রসহ প্রাবাসীর উপর প্রতিপক্ষের হামলার ঘটনায় বাদী রুনু আক্তারের করা মামলায় প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা লক্ষ্মীপুর জেলা গোয়েন্দা পুলিশের সহকারী উপ পরিদর্শক মোঃ আবু তাহের জুন মাসে আদালতে ৯ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ পত্র দাখিল করেছেন। এ ঘটনায় মামলার অভিযুক্তরা হলেন, সদর উপজেলার দক্ষিণ হামছাদী ইউনিয়নে ৩নং ওয়ার্ড পূর্ব নন্দনপুর গ্রামের রমজান আলী মিঝি বাড়ীর বাসিন্দা মৃত আব্দুল মান্নান ওরফে কালুর পুত্র মোঃ আহসান উল্লাহ (৪৮), মৃত আব্দুল ওহাবের পুত্র শাহআলম (৬৫), হারুনুর রশীদের পুত্র মোঃ জহির (৩০), শাহ আলমের কন্যা শারমিন আক্তার (২৮), আহসান উল্লাহর স্ত্রী শাহিদা বেগম (৪৫), শাহ আলমের স্ত্রী আয়েশা আক্তার (৫০), হারুনুর রশীদের স্ত্রী রহিমা বেগম (৫৫), হোসেন আহাম্মদের স্ত্রী খতিজা বেগম (৪৮), আহসান উল্লাহর কন্যা শিমু আক্তার (২৫)।
লক্ষ্মীপুর অতিরিক্ত চীপ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সদর আদালতের সি.আর মামলা ১০৫৩/২৫ সুত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত আহসান উল্লাহ ও প্রবাসী আনোয়ার উভয় পক্ষ একই গ্রামে বাস করে এবং দীর্ঘদিন ধরে তাদের মধ্যে জমি নিয়ে বিরোধ চলছে। মামলার বাদী রুনুর স্বামী আনোয়ার সম্প্রতি বিদেশ থেকে ফিরেছেন। গত ১১ মে রবিবার বেলা পৌনে একটার সময় জমিজমা নিয়ে প্রতিবেশি আহসান উল্লাহদের সাথে প্রবাসী আনোয়ারের কথা কাটাকাটি হয়। এসময় অভিযুক্ত আহসান উল্লাহরা লাঠিসোঁটা হাতে আনোয়ারকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। এতে আনোয়ার প্রতিবাদ করলে আহসান উল্লাহ আনোয়ারের ঠোঁটে ঘুষি মারেন, যার ফলে তিনি গুরুতর আহত হন। এরপর আহসান উল্লাহ আনোয়ারের হার্নিয়া অপারেশনের স্থানে পা দিয়ে লাথি দেয়, এতে আনোয়ার মাটিতে পড়ে যায়। এসময় মামলা বাদী রুনু আক্তার আহসান উল্লাহ গংদে থেকে স্বামীকে রক্ষা করার চেষ্টা করেন, তখন অভিযুক্ত শাহ আলম বাদী রুনু আক্তারকে মারধর করে পড়নের কাপড় খুলে শীলতা হানি করে। এসময় অভিযুক্তদের কবল থেকে পিতামাতাকে রক্ষায় পুত্র ইয়াছিন আরাফাত রনি এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা সবাই মিলে রনিকেও মারধর করে। এসময় চিৎকার শুনে আছমা এগিয়ে এলে আছমাকেও অভিযুক্তরা সকলে মিলে মারধর করে। ঘটনার পরে ভুক্তভোগী আহতরা লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা করার পরে আনোয়ারের স্ত্রী রুনু আক্তার বাদী হয়ে ২০ মে আদালতে মামলা করে।
ভুক্তভোগী প্রবাসী আনোয়ারের স্ত্রী রুনু আক্তার বলেন, আমার স্বামী পাশের পুকুর মালিকদের থেকে অনুমতি নিয়ে জমিতে চাষাবাদ করার জন্য পানি সেচ দিতে পাম্প বসাতে গেলে প্রতিবেশি আহসান উল্লাহ দলবল নিয়ে বাধা দেয়। এতে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে আহসান উল্লাহরা আমার স্বামীকে ব্যাপক মারধর করে। আমি স্বামীকে রক্ষা করতে গেলে আমাকেও তারা মারধর করে পড়নের কাপড় খুলে শীলতা হানি করে। আমাদের চিৎকার শুনে ছেলে ইয়াছিন আরাফাত রনি এগিয়ে এলে তাকেও আহসান উল্লাহ গংরা বেধড়ক মারপিট করে। পরে ষড়যন্ত্র করে আমার ছেলের নামে তাদের ভাড়া করা লোক দিয়ে আদালতে মিথ্যা মামলা দিয়ে আমাদের হয়রানি করে চলছে। তাদের মামলা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট তা এলাকাবাসী সবাই জানে।
স্হানীয় বাসিন্দা ছোলায়মানের কন্যা সাথী এ প্রতিবেদককে বলেন, প্রবাসী আনোয়ার তার জমি চাষাবাদের জন্য আমাদের পুকুর থেকে পানি নেয়ার জন্য পাম্প বসালে আহসান উল্লাহ বাঁধা দেয়। এতে তর্কাতর্কির এক পর্যায়ে আনোয়ারকে একা পেয়ে আহসান উল্লাহরা সবাই মিলে তাকে অনেক মারধর করে। আনোয়ারকে রক্ষা করতে স্ত্রী রুনু ও পুত্র রনি এগিয়ে এলে তাদেরকেও আহসান উল্লাহরা সবাই মিলে মারধর করে।
প্রধান অভিযুক্ত আহসান উল্লাহর বোন মামলার ৬নং আসামি আয়েশা আক্তার অভিযোগের বিষয়ে বলেন, জমিজমা নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি ও ধাক্কা ধাক্কি হয়। আনোয়ার ভাষা খারাপ করায় আমার ভাই আহসান উল্লাহ আনোয়ারকে একটা থাপ্পড় মারে। এর বেশি কিছু হয়নি।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সিলেট সীমান্তে সক্রিয় সেই আলোচিত ‘শ্যাম কালা’

লক্ষ্মীপুরে প্রবাসীর উপর হামলার ঘটনায় তদন্তে সত্যতা পাওয়া গেছে

আপডেট সময় ০৫:৩০:৩০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ জুলাই ২০২৫

লক্ষ্মীপুরে জমিজমা নিয়ে পূর্ব বিরোধের জেরে স্ত্রী- পুত্রসহ প্রাবাসীর উপর প্রতিপক্ষের হামলার ঘটনায় বাদী রুনু আক্তারের করা মামলায় প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা লক্ষ্মীপুর জেলা গোয়েন্দা পুলিশের সহকারী উপ পরিদর্শক মোঃ আবু তাহের জুন মাসে আদালতে ৯ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ পত্র দাখিল করেছেন। এ ঘটনায় মামলার অভিযুক্তরা হলেন, সদর উপজেলার দক্ষিণ হামছাদী ইউনিয়নে ৩নং ওয়ার্ড পূর্ব নন্দনপুর গ্রামের রমজান আলী মিঝি বাড়ীর বাসিন্দা মৃত আব্দুল মান্নান ওরফে কালুর পুত্র মোঃ আহসান উল্লাহ (৪৮), মৃত আব্দুল ওহাবের পুত্র শাহআলম (৬৫), হারুনুর রশীদের পুত্র মোঃ জহির (৩০), শাহ আলমের কন্যা শারমিন আক্তার (২৮), আহসান উল্লাহর স্ত্রী শাহিদা বেগম (৪৫), শাহ আলমের স্ত্রী আয়েশা আক্তার (৫০), হারুনুর রশীদের স্ত্রী রহিমা বেগম (৫৫), হোসেন আহাম্মদের স্ত্রী খতিজা বেগম (৪৮), আহসান উল্লাহর কন্যা শিমু আক্তার (২৫)।
লক্ষ্মীপুর অতিরিক্ত চীপ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সদর আদালতের সি.আর মামলা ১০৫৩/২৫ সুত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত আহসান উল্লাহ ও প্রবাসী আনোয়ার উভয় পক্ষ একই গ্রামে বাস করে এবং দীর্ঘদিন ধরে তাদের মধ্যে জমি নিয়ে বিরোধ চলছে। মামলার বাদী রুনুর স্বামী আনোয়ার সম্প্রতি বিদেশ থেকে ফিরেছেন। গত ১১ মে রবিবার বেলা পৌনে একটার সময় জমিজমা নিয়ে প্রতিবেশি আহসান উল্লাহদের সাথে প্রবাসী আনোয়ারের কথা কাটাকাটি হয়। এসময় অভিযুক্ত আহসান উল্লাহরা লাঠিসোঁটা হাতে আনোয়ারকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। এতে আনোয়ার প্রতিবাদ করলে আহসান উল্লাহ আনোয়ারের ঠোঁটে ঘুষি মারেন, যার ফলে তিনি গুরুতর আহত হন। এরপর আহসান উল্লাহ আনোয়ারের হার্নিয়া অপারেশনের স্থানে পা দিয়ে লাথি দেয়, এতে আনোয়ার মাটিতে পড়ে যায়। এসময় মামলা বাদী রুনু আক্তার আহসান উল্লাহ গংদে থেকে স্বামীকে রক্ষা করার চেষ্টা করেন, তখন অভিযুক্ত শাহ আলম বাদী রুনু আক্তারকে মারধর করে পড়নের কাপড় খুলে শীলতা হানি করে। এসময় অভিযুক্তদের কবল থেকে পিতামাতাকে রক্ষায় পুত্র ইয়াছিন আরাফাত রনি এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা সবাই মিলে রনিকেও মারধর করে। এসময় চিৎকার শুনে আছমা এগিয়ে এলে আছমাকেও অভিযুক্তরা সকলে মিলে মারধর করে। ঘটনার পরে ভুক্তভোগী আহতরা লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা করার পরে আনোয়ারের স্ত্রী রুনু আক্তার বাদী হয়ে ২০ মে আদালতে মামলা করে।
ভুক্তভোগী প্রবাসী আনোয়ারের স্ত্রী রুনু আক্তার বলেন, আমার স্বামী পাশের পুকুর মালিকদের থেকে অনুমতি নিয়ে জমিতে চাষাবাদ করার জন্য পানি সেচ দিতে পাম্প বসাতে গেলে প্রতিবেশি আহসান উল্লাহ দলবল নিয়ে বাধা দেয়। এতে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে আহসান উল্লাহরা আমার স্বামীকে ব্যাপক মারধর করে। আমি স্বামীকে রক্ষা করতে গেলে আমাকেও তারা মারধর করে পড়নের কাপড় খুলে শীলতা হানি করে। আমাদের চিৎকার শুনে ছেলে ইয়াছিন আরাফাত রনি এগিয়ে এলে তাকেও আহসান উল্লাহ গংরা বেধড়ক মারপিট করে। পরে ষড়যন্ত্র করে আমার ছেলের নামে তাদের ভাড়া করা লোক দিয়ে আদালতে মিথ্যা মামলা দিয়ে আমাদের হয়রানি করে চলছে। তাদের মামলা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট তা এলাকাবাসী সবাই জানে।
স্হানীয় বাসিন্দা ছোলায়মানের কন্যা সাথী এ প্রতিবেদককে বলেন, প্রবাসী আনোয়ার তার জমি চাষাবাদের জন্য আমাদের পুকুর থেকে পানি নেয়ার জন্য পাম্প বসালে আহসান উল্লাহ বাঁধা দেয়। এতে তর্কাতর্কির এক পর্যায়ে আনোয়ারকে একা পেয়ে আহসান উল্লাহরা সবাই মিলে তাকে অনেক মারধর করে। আনোয়ারকে রক্ষা করতে স্ত্রী রুনু ও পুত্র রনি এগিয়ে এলে তাদেরকেও আহসান উল্লাহরা সবাই মিলে মারধর করে।
প্রধান অভিযুক্ত আহসান উল্লাহর বোন মামলার ৬নং আসামি আয়েশা আক্তার অভিযোগের বিষয়ে বলেন, জমিজমা নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি ও ধাক্কা ধাক্কি হয়। আনোয়ার ভাষা খারাপ করায় আমার ভাই আহসান উল্লাহ আনোয়ারকে একটা থাপ্পড় মারে। এর বেশি কিছু হয়নি।