ঢাকা ০২:৫০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ১০ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
মিঠাপুকুরে পরিকল্পিত হামলা: ঘটনাকে ভিন্ন খাতে নেওয়ার অভিযোগ, গ্রেপ্তার হয়নি কেউ গণপূর্তে ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ! সাকিলা ইসলামকে ঘিরে লাইসেন্স শাখায় সিন্ডিকেট তৎপর শেরপুরে বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা পেলেন দুই শতাধিক রোগী! ফায়ার সার্ভিস ডিজির বিরুদ্ধে অপপ্রচারের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় হত্যার হুমকি মিরপুর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দুর্নীতির সাম্রাজ্য: ‘সাব-রেজিস্টার’কে বানানো হয় জখন ‘সব রেজিস্টার’! জামালপুরে ১০ বছরেও শুরু হয়নি ৫০০ শয্যার হাসপাতাল ভবনের নির্মাণকাজ নেত্রকোণায় দুই গ্রামবাসীর সংঘর্ষে নারী নিহত, আহত ২০ জঙ্গলে ২৭ বছর কাটিয়ে দেশে ফিরলেন নি‌খোঁজ মালয়েশিয়া প্রবাসী উল্টো পথে আসা পিকআপে অটোরিকশায় ধাক্কা, অন্তঃসত্ত্বাসহ আহত ৭ এনসিপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ‘রাজনৈতিক পর্ষদ’ সদস্য হলেন ২ এমপি

আওয়ামী লীগ নেতার দখলে ফুলবাড়িয়া সুপার মার্কেট

ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের (দক্ষিণ) নগর ভবন প্লাজার ফুলবাড়িয়া সুপার মার্কেটের রাজত্ব শুরু হয় ১৯৯৮ সালে কামরুলের দখল দারিত্ব শুরু হয়। তারপর চলে আওয়ামী লীগের নেতার রাজত্ব।
এক অনুসন্ধানীতে দেখা যায়, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মালিকানাধীন নগর প্লাজা ফুলবাড়িয়া সুপার মার্কেট ব্লক বি গুলিস্তান ফুলবাড়ি এলাকায় অবস্থিত মার্কেটটি নগর প্লাজা ফুলবাড়িয়া সুপারমার্কেট ব্লক ২/বি দোকান মালিক পরিচালিত সমিতির রেজিস্ট্রেশন নং: ৩০৪/৮২ অত্র মার্কেটটি সিটি কর্পোরেশনের কর্তৃক সমিতির সদস্যদের অনুকূলে বিভিন্ন সময়ে ৯৫ টি দোকান বরাদ্দ প্রদান করে উচ্ছেদের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত। মোঃ মোস্তফা ২৮ দোকান বরাত দের সালামির প্রথম কর্পোরেশনের জমা প্রদান করেন। পরবর্তীতে তো বরাদ্দ প্রদানের সময় তৎকালীন এমপি মোঃ নূরনবী চৌধুরী শাওন যুবলীগ নেতা ইসমাইল চৌধুরীর সম্রাট ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ৩০ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আব্দুল আউয়াল হোসেনের সহযোগিতায় মূল বরাদ্দ কে দোকানটির না দিয়ে স্বঘোষিত সভাপতি জনাব কামরুল আহসান, মূল ক্ষতিগ্রস্ত মালিক না হয়েও জাল জালিয়াতির মাধ্যমে দোকানটির নিজের নামে করে নেয়। মূল মালিক মোঃ মোস্তফাকে প্রাণ নাশের হুমকি দিয়ে এলাকা ছাড়তে বাধ্য করে। ক্ষতিগ্রস্ত সদস্যদের নামে ৩৯ টি দোকানের স্বঘোষিত প্রধান কামরুল আহসান মূল মালিকদের দোকান বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য দোকানপতি ২০ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করে, তখন দোকান মালিকরা উক্ত টাকা পরিশোধ করতে না পারায় আওয়ামী লীগের দোসর ও ফ্যাসিবাদীদের সহযোগিতায় নিজের নামে দোকানগুলো বরাদ্দ করে নেয়।
তখন উত্তলিত টাকা কামরুল আহসান তৎকালীন এমপি নূরনবী চৌধুরী শাওন, এমপি মোঃ আফজাল হোসেন এবং কমিশনার ফরিদ উদ্দিন আহমেদ রতন সহযোগীতায় ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাটসহ অন্যান্যরা ভাগাটোয়ারা করে নেন।
তৎকালীন সময়ে ৮ই মে ১৯৯৮ সালে কামরুল আহসান সন্ত্রাসীদের নিয়ে ব্যাপক বোমাবাজির কারণে মার্কেট উদ্বোধনী অনুষ্ঠান বন্ধ করে দেয়। ধারাবাহিকতায় ২৬-৫-১৯৯৮ সালে ফ্যাসিবাদী সরকার অন্যতম সহযোগী তৎকালীন মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের ভাই দেলোয়ার হোসেন যুবলীগ নেতা শওকত হোসেন কানন ৩৩ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আব্দুল আউয়াল হোসেন ও কামরুল আহসানের নির্বাচিত বৈধ কমিটিকে অস্ত্রের মুখে বের করে দিয়ে মার্কেটটি সম্পূর্ণ তাদের দখলে নিয়ে নেন। তৎকালীন সময়ে দীর্ঘ তিন বছর বেজমেন্ট ফ্লোর ১৭৬ টি দোকান ভাড়া দিয়ে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করে আহসান গং।
১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২২ তারিখে হত্যা মামলাসহ আরো অনেক মামলার আসামি পুরান ঢাকার শীর্ষ সন্ত্রাসী ৩৩ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আব্দুল আউয়াল হোসেন মানিকসহ অনেকের চিহ্নিত সন্ত্রাসী নিয়ে মার্কেট পরিচালনা কমিটির গঠন করে। ওই সময়ে তার নেতৃত্বে ব্যবসায়ীদের শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে টাকা লুটপাট করাসহ লক্ষ লক্ষ টাকা বিদ্যুৎ বিল ওয়াসা বিল বকেয়া করে।
গত ২০ বছর সমবায় আইন অনুযায়ী কোন অডিটও নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় নাই। সমবায় আইন অনুযায়ী পরপর তিনটি পরবর্তী মেয়াদে নির্বাচন করার সুযোগ না থাকলেও কামরুল আহসান বলতো ফ্যাসিবাদী সরকারের প্রভাবে আমি নির্বাচনে পারিবারিক কমিটি গঠন করেছি। ইতিপূর্বে জেলা সমবায় সমিতি কার্যালয় ঢাকা তাকে সভাপতির পথ থেকে অব্যহতি প্রদান করলেও সে পুনরায় ফ্যাসিবাদ সরকারের অবৈধ প্রভাবে সমবায় কার্যালয়ে কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় নিজে সভাপতি, ছোট ভাইকে সম্পাদক, ছেলেকে কোষাধ্যক্ষ এবং সহ দুই বন্ধুকে সদস্য করে একটি পারিবারিক কমিটি গঠন করার মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করে। এই ব্যাপারে দোকানদাররা একাধিক অভিযোগ করলেও সমবায় অধিদপ্তর কোন ব্যবস্থা করেনি বরং সমবায় অধিদপ্তরের নানান হেনস্তার শিকার হয় সাধারণ ব্যবসায়ীরা।
জুলাই পরর্বতী সময়ে ভোল্ট পাল্টিয়ে কামরুল আহসান বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতার ছত্রছায়ায় ফুলবাড়িয়া সুপার মার্কেটের রাজত্ব কায়েম করছে এই কামরুল আহসান।
তার বিরুদ্ধে নারী অপহরণ ধর্ষণ, চাঁদাবাজি, অর্থ আত্মসাৎসহ নানান অভিযোগ রয়েছে। প্রায়ই মার্কেট সমিতির অফিসে ২০ থেকে ২৫ জন অস্ত্র সহকারে মহড়া দিতে দেখা যায়।
ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর সারা বাংলাদেশে ব্যবসায়িক সংগঠন সমূহের অবৈধ কমিটি বাতিল করলেও অত্র মার্কেটের অনির্বাচিত কমিটি বহাল।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মিঠাপুকুরে পরিকল্পিত হামলা: ঘটনাকে ভিন্ন খাতে নেওয়ার অভিযোগ, গ্রেপ্তার হয়নি কেউ

আওয়ামী লীগ নেতার দখলে ফুলবাড়িয়া সুপার মার্কেট

আপডেট সময় ১০:২৮:১৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২১ জুলাই ২০২৫

ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের (দক্ষিণ) নগর ভবন প্লাজার ফুলবাড়িয়া সুপার মার্কেটের রাজত্ব শুরু হয় ১৯৯৮ সালে কামরুলের দখল দারিত্ব শুরু হয়। তারপর চলে আওয়ামী লীগের নেতার রাজত্ব।
এক অনুসন্ধানীতে দেখা যায়, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মালিকানাধীন নগর প্লাজা ফুলবাড়িয়া সুপার মার্কেট ব্লক বি গুলিস্তান ফুলবাড়ি এলাকায় অবস্থিত মার্কেটটি নগর প্লাজা ফুলবাড়িয়া সুপারমার্কেট ব্লক ২/বি দোকান মালিক পরিচালিত সমিতির রেজিস্ট্রেশন নং: ৩০৪/৮২ অত্র মার্কেটটি সিটি কর্পোরেশনের কর্তৃক সমিতির সদস্যদের অনুকূলে বিভিন্ন সময়ে ৯৫ টি দোকান বরাদ্দ প্রদান করে উচ্ছেদের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত। মোঃ মোস্তফা ২৮ দোকান বরাত দের সালামির প্রথম কর্পোরেশনের জমা প্রদান করেন। পরবর্তীতে তো বরাদ্দ প্রদানের সময় তৎকালীন এমপি মোঃ নূরনবী চৌধুরী শাওন যুবলীগ নেতা ইসমাইল চৌধুরীর সম্রাট ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ৩০ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আব্দুল আউয়াল হোসেনের সহযোগিতায় মূল বরাদ্দ কে দোকানটির না দিয়ে স্বঘোষিত সভাপতি জনাব কামরুল আহসান, মূল ক্ষতিগ্রস্ত মালিক না হয়েও জাল জালিয়াতির মাধ্যমে দোকানটির নিজের নামে করে নেয়। মূল মালিক মোঃ মোস্তফাকে প্রাণ নাশের হুমকি দিয়ে এলাকা ছাড়তে বাধ্য করে। ক্ষতিগ্রস্ত সদস্যদের নামে ৩৯ টি দোকানের স্বঘোষিত প্রধান কামরুল আহসান মূল মালিকদের দোকান বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য দোকানপতি ২০ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করে, তখন দোকান মালিকরা উক্ত টাকা পরিশোধ করতে না পারায় আওয়ামী লীগের দোসর ও ফ্যাসিবাদীদের সহযোগিতায় নিজের নামে দোকানগুলো বরাদ্দ করে নেয়।
তখন উত্তলিত টাকা কামরুল আহসান তৎকালীন এমপি নূরনবী চৌধুরী শাওন, এমপি মোঃ আফজাল হোসেন এবং কমিশনার ফরিদ উদ্দিন আহমেদ রতন সহযোগীতায় ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাটসহ অন্যান্যরা ভাগাটোয়ারা করে নেন।
তৎকালীন সময়ে ৮ই মে ১৯৯৮ সালে কামরুল আহসান সন্ত্রাসীদের নিয়ে ব্যাপক বোমাবাজির কারণে মার্কেট উদ্বোধনী অনুষ্ঠান বন্ধ করে দেয়। ধারাবাহিকতায় ২৬-৫-১৯৯৮ সালে ফ্যাসিবাদী সরকার অন্যতম সহযোগী তৎকালীন মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের ভাই দেলোয়ার হোসেন যুবলীগ নেতা শওকত হোসেন কানন ৩৩ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আব্দুল আউয়াল হোসেন ও কামরুল আহসানের নির্বাচিত বৈধ কমিটিকে অস্ত্রের মুখে বের করে দিয়ে মার্কেটটি সম্পূর্ণ তাদের দখলে নিয়ে নেন। তৎকালীন সময়ে দীর্ঘ তিন বছর বেজমেন্ট ফ্লোর ১৭৬ টি দোকান ভাড়া দিয়ে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করে আহসান গং।
১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২২ তারিখে হত্যা মামলাসহ আরো অনেক মামলার আসামি পুরান ঢাকার শীর্ষ সন্ত্রাসী ৩৩ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আব্দুল আউয়াল হোসেন মানিকসহ অনেকের চিহ্নিত সন্ত্রাসী নিয়ে মার্কেট পরিচালনা কমিটির গঠন করে। ওই সময়ে তার নেতৃত্বে ব্যবসায়ীদের শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে টাকা লুটপাট করাসহ লক্ষ লক্ষ টাকা বিদ্যুৎ বিল ওয়াসা বিল বকেয়া করে।
গত ২০ বছর সমবায় আইন অনুযায়ী কোন অডিটও নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় নাই। সমবায় আইন অনুযায়ী পরপর তিনটি পরবর্তী মেয়াদে নির্বাচন করার সুযোগ না থাকলেও কামরুল আহসান বলতো ফ্যাসিবাদী সরকারের প্রভাবে আমি নির্বাচনে পারিবারিক কমিটি গঠন করেছি। ইতিপূর্বে জেলা সমবায় সমিতি কার্যালয় ঢাকা তাকে সভাপতির পথ থেকে অব্যহতি প্রদান করলেও সে পুনরায় ফ্যাসিবাদ সরকারের অবৈধ প্রভাবে সমবায় কার্যালয়ে কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় নিজে সভাপতি, ছোট ভাইকে সম্পাদক, ছেলেকে কোষাধ্যক্ষ এবং সহ দুই বন্ধুকে সদস্য করে একটি পারিবারিক কমিটি গঠন করার মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করে। এই ব্যাপারে দোকানদাররা একাধিক অভিযোগ করলেও সমবায় অধিদপ্তর কোন ব্যবস্থা করেনি বরং সমবায় অধিদপ্তরের নানান হেনস্তার শিকার হয় সাধারণ ব্যবসায়ীরা।
জুলাই পরর্বতী সময়ে ভোল্ট পাল্টিয়ে কামরুল আহসান বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতার ছত্রছায়ায় ফুলবাড়িয়া সুপার মার্কেটের রাজত্ব কায়েম করছে এই কামরুল আহসান।
তার বিরুদ্ধে নারী অপহরণ ধর্ষণ, চাঁদাবাজি, অর্থ আত্মসাৎসহ নানান অভিযোগ রয়েছে। প্রায়ই মার্কেট সমিতির অফিসে ২০ থেকে ২৫ জন অস্ত্র সহকারে মহড়া দিতে দেখা যায়।
ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর সারা বাংলাদেশে ব্যবসায়িক সংগঠন সমূহের অবৈধ কমিটি বাতিল করলেও অত্র মার্কেটের অনির্বাচিত কমিটি বহাল।