সংবাদ শিরোনাম ::
আইজিপির সঙ্গে জাতিসংঘ বাংলাদেশের নিরাপত্তা উপদেষ্টার সাক্ষাৎ ট্রাম্পের বিরুদ্ধে মামলা করলেন আইসিসির তিন বিচারক গণমাধ্যম খাতে সহযোগিতায় বাংলাদেশ-চীনের মধ্যে চারটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হোটেল রুমে স্বামী, পাকিস্তান নারী ক্রিকেট দলের ঘরে বিবাদ ১ টাকার দুর্নীতি বের করতে পারলে ইস্তফা দেবো: হাসনাত  আশুরা মানুষকে অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হতে শেখায় : রাষ্ট্রপতি তিস্তা মহাপরিকল্পনায় কারিগরি সহায়তা দিতে আগ্রহী চীন নরসিংদীতে কুকুরের গলায় ইট বেঁধে নদীতে নিক্ষেপ, যুবক আটক ভূমিকম্পে ধ্বংসস্তূপের নিচে জীবিত আটকা বহু, উদ্ধারে আসছেন না কেউ বরগুনায় সরকারি চাল আত্মসাতের অভিযোগে প্যানেল চেয়ারম্যান (ইউপি সদস্যের) বিরুদ্ধে মামলা

বরুড়ায় প্রকল্পে কাজ ছাড়াই বিল উত্তোলনের অভিযোগ

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) আওতায় বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) নামে প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়ন না করেই বিল উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে কুমিল্লার বরুড়া উপজেলায়। উপজেলার ভবানীপুর ইউনিয়নের ঘটকপুর এলাকায় এই অনিয়মের ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এর এক উপসহকারী প্রকৌশলী এবং একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিকের যোগসাজশের অভিযোগ রয়েছে।

ঘটকপুর খলিল চেয়ারম্যান বাড়ির সংলগ্ন ব্রীজ থেকে খালের পাশে প্রতিরক্ষা দেয়াল নির্মাণের জন্য ২০২১-২২ অর্থবছরে এডিপির আওতায় ৩ লাখ ৯৯ হাজার ৯১০ টাকার বরাদ্দ দেওয়া হয়। কাজের দায়িত্ব পায় ‘শাহজাহান টেকনো বিল্ডার্স’ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। সরেজমিনে পরিদর্শনকালে দেখা যায়, এই এলাকাতেই এলজিইডির অর্থায়নে ২০২২ সালের ৭ জুলাই ২ লাখ ৮৭ হাজার টাকা ব্যয়ে রাস্তা পাকা করণসহ ৩০০ মিটার প্রতিরক্ষা ওয়াল নির্মাণ করা হয়েছে, কাজ বাস্তবায়ন করেন ঠিকাদার খলিলুর রহমান।

স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, নতুন করে কোনো কাজনা করে পুরনো এলজিইডি প্রকল্পকে দেখিয়ে উপজেলা প্রকৌশল অফিস থেকে এডিপির বরাদ্দের টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য জামাল হোসেন জানান, “এটি মূলত এলজিইডির কাজ, রাস্তা ও ওয়াল একসঙ্গে করা হয়েছে।”

শাহজাহান টেকনো বিল্ডার্সের মালিক রোবায়েত আহমেদ উৎসের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে প্রথমে তিনি বলেন, “আমার হাতে অনেক কাজ, ফাইল দেখে বলতে পারবো।” পরবর্তীতে সরাসরি যোগাযোগের কথা বললেও তাকে আর পাওয়া যায়নি।

অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রকল্পটির পেছনে মূল ভূমিকা পালন করেন বরুড়া উপজেলা উপসহকারী প্রকৌশলী আঃ মন্নান। তিনি আরএফকিউ (রিকোয়েস্ট ফর কোটেশন) পদ্ধতি ব্যবহার করে পূর্বে সম্পন্ন হওয়া এলজিইডি প্রকল্পকেই নতুন প্রকল্প হিসেবে উপস্থাপন করেন এবং বিল অনুমোদনের জন্য কাজের তদারকি ও বিল প্রস্তুতিতে মুখ্য ভূমিকা পালন করেন।

বরুড়া উপজেলা প্রকৌশলী জাকির হোসেন বলেন, “আমি এখানে নতুন যোগ দিয়েছি। বিষয়টি খতিয়ে না দেখে মন্তব্য করতে পারবো না।”

সরকারি অর্থে বাস্তবায়ন না হওয়া প্রকল্পে বিল উত্তোলনের এই অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টরা সবাই রয়েছে নীরব ভূমিকায়। এতে প্রকল্পের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আইজিপির সঙ্গে জাতিসংঘ বাংলাদেশের নিরাপত্তা উপদেষ্টার সাক্ষাৎ

বরুড়ায় প্রকল্পে কাজ ছাড়াই বিল উত্তোলনের অভিযোগ

আপডেট সময় ১২:২৩:৩৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ মে ২০২৫

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) আওতায় বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) নামে প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়ন না করেই বিল উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে কুমিল্লার বরুড়া উপজেলায়। উপজেলার ভবানীপুর ইউনিয়নের ঘটকপুর এলাকায় এই অনিয়মের ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এর এক উপসহকারী প্রকৌশলী এবং একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিকের যোগসাজশের অভিযোগ রয়েছে।

ঘটকপুর খলিল চেয়ারম্যান বাড়ির সংলগ্ন ব্রীজ থেকে খালের পাশে প্রতিরক্ষা দেয়াল নির্মাণের জন্য ২০২১-২২ অর্থবছরে এডিপির আওতায় ৩ লাখ ৯৯ হাজার ৯১০ টাকার বরাদ্দ দেওয়া হয়। কাজের দায়িত্ব পায় ‘শাহজাহান টেকনো বিল্ডার্স’ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। সরেজমিনে পরিদর্শনকালে দেখা যায়, এই এলাকাতেই এলজিইডির অর্থায়নে ২০২২ সালের ৭ জুলাই ২ লাখ ৮৭ হাজার টাকা ব্যয়ে রাস্তা পাকা করণসহ ৩০০ মিটার প্রতিরক্ষা ওয়াল নির্মাণ করা হয়েছে, কাজ বাস্তবায়ন করেন ঠিকাদার খলিলুর রহমান।

স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, নতুন করে কোনো কাজনা করে পুরনো এলজিইডি প্রকল্পকে দেখিয়ে উপজেলা প্রকৌশল অফিস থেকে এডিপির বরাদ্দের টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য জামাল হোসেন জানান, “এটি মূলত এলজিইডির কাজ, রাস্তা ও ওয়াল একসঙ্গে করা হয়েছে।”

শাহজাহান টেকনো বিল্ডার্সের মালিক রোবায়েত আহমেদ উৎসের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে প্রথমে তিনি বলেন, “আমার হাতে অনেক কাজ, ফাইল দেখে বলতে পারবো।” পরবর্তীতে সরাসরি যোগাযোগের কথা বললেও তাকে আর পাওয়া যায়নি।

অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রকল্পটির পেছনে মূল ভূমিকা পালন করেন বরুড়া উপজেলা উপসহকারী প্রকৌশলী আঃ মন্নান। তিনি আরএফকিউ (রিকোয়েস্ট ফর কোটেশন) পদ্ধতি ব্যবহার করে পূর্বে সম্পন্ন হওয়া এলজিইডি প্রকল্পকেই নতুন প্রকল্প হিসেবে উপস্থাপন করেন এবং বিল অনুমোদনের জন্য কাজের তদারকি ও বিল প্রস্তুতিতে মুখ্য ভূমিকা পালন করেন।

বরুড়া উপজেলা প্রকৌশলী জাকির হোসেন বলেন, “আমি এখানে নতুন যোগ দিয়েছি। বিষয়টি খতিয়ে না দেখে মন্তব্য করতে পারবো না।”

সরকারি অর্থে বাস্তবায়ন না হওয়া প্রকল্পে বিল উত্তোলনের এই অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টরা সবাই রয়েছে নীরব ভূমিকায়। এতে প্রকল্পের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।