ঢাকা ১২:২৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৫, ২১ চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ফরিদপুরের নগরকান্দায় একদিন পরে মিললো কিশোরের লাশ সাতক্ষীরা সদরে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের নিয়ে ছাত্রশিবিরের দোয়া অনুষ্ঠান পটুয়াখালী বাউফলে যুবদলের আহবায়ক ও যুগ্ম আহবায়ককে বহিষ্কার  ভালুকায় মোটরসাইকেল চাপায় বৃদ্ধ নিহত রাজশাহী বাগমারায় বিক্ষুব্ধ জনতার হামলায় নিহত ২, আহত ৬ পুলিশ  গাজীপুর কর্নপুর বড়দিঘী ঈদগার কমিটি গঠন বগুড়া গাবতলীতে জমিজমা সংক্রান্ত ঘটনার জের ধরে সংর্ঘষ, আটক ১ জামালপুরে সাবেক ছাত্রদল নেতা বৃদ্ধ পিতার হাত-পা ভেঙ্গে দেওয়ায় কুপালো ছোট ভাই দেশীয় মাছের নিরাপদ আশ্রয়স্থলে পুকুর খনন,দেশীয় মাছের প্রজনন ক্ষতিগ্রস্ত তারেক রহমানের নেতৃত্বে আমরা বাংলাদেশের মানুষকে মুক্তির স্বাদ ঘরে ঘরে পৌঁছে দেবো -অ্যাড. শিমুল বিশ্বাস

নওগাঁ আলতাদিঘি ও শালবন জাতীয় উদ্যান উত্তরবঙ্গের জনপ্রিয় ভ্রমণ স্থান হয়ে উঠেছে

আলতাদিঘী নওগাঁ জেলার ধামইরহাট থানার পূর্ব উত্তর পার্শে খুকশী নদীর পূর্বতীরে অবস্থিত একটি মনোরম দর্শনীয় স্থান। দূরত্ব সামান্য দুই থেকে তিন কিলোমিটার ভারতের সীমান্তঘেষে দাদনপুর ও মহিশুর গ্রামের মধ্যবর্তী স্থানে অবস্হিত।

এই অঞ্চলের আপামর জনসাধারণ আলতার দিঘি জাতীয় উদ্যানে দিঘির জলে ডাউক,কোকিল, সংঙ্ক চিলের অভয়ারণ্য।পদ্ম, শাপলা, শালুকের ভরা স্বচ্ছ ঢেউ খেলানো জল। যে কোনো পর্যটককে সহজেই আকৃষ্ট করে। প্রতিটি পর্যটন ভ্রমণপিপাসু মানুষ খুশিতে বিহবল হয় এর অপার সৌন্দর্য দর্শনে।

দুই ঈদের পরবর্তী সময়ে কিংবা স্কুল-কলেজের বাৎসরিক বনভোজনের আয়োজনে অথবা দম্পতির নিরিবিলির সময় কাটানোর জন্য ছুটে যান আলতা দিকের মনোরম পরিবেশে। বনভোজনে এখানে ছুটে আসেন শিক্ষক, ছাত্র, চাকুরীজীবী,ব্যবসায়ী, সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ। তখন বিভিন্ন শ্রমজীবী, পেশাজীবি, সহ ধামইরহাট ও ধামইরহাটের বাইরের মানুষদের নিয়ে এখানে ঘটে এক মহামিলন মহাযজ্ঞ।

স্থানঃ
উত্তরবঙ্গের আমাজন খ্যাত নওগাঁ জেলার ধামইরহাট থানার আলতা দিঘী শালবন জাতীয় উদ্যান। এই আলতাদিঘিকে ঘিরে প্রত্ন নিদর্শন সমৃদ্ধ এই অঞ্চল মৌর্য, পাল,সেন,ও সুলতানী আমলের অনেক ইতিহাস ঐতিহ্যেকে ধারণ ও বহন করে আছে।

আমি কেন যাব আলতা দিঘি?
অধিকাংশ ঐতিহাসিকদের মতে ১০৭৮ সনে কৈবর্ত সেনাপতি দিব্যক পালরাজা মহিপাল কে পরাজিত ও নিহত করে নিজেকে গৌড়বঙ্গের অধীশ্বর হিসেবে সিংহাসনে আরোহন করেন। এবং দিবর দিঘিতে দিব্বক বিজয় স্তম্ভ স্হাপন করেন (১০৭৮-১০৮৪)। অতপর ১০৮৪ সনে মহিপালের ভ্রাতা রামপাল ১৭ জন আমর্ত রাজার সহযোগিতায় রাজা দিব্বকের ভাতুস্পুত্র প্রতাপশালী রাজা ভিমকে যুদ্ধে পরজিত ও নিহত করে নিজ পিতৃ ভূমি বরেন্দ্র উদ্ধার করেন।

১৩ তম পাল রাজা রামপাল(১০৮৪-১১২৪) বরেন্দ্র ভূমিতে সুদীর্ঘ ৪০ বছর শাসনামলে বরেন্দ্রভূমিতে “রামাবতী” নামে একটি নতুন ও সুরম্য রাজধানী স্থাপন করেন। রাজধানীর মধ্যখানে শিক্ষা ও সংস্কৃতি চর্চা কেন্দ্র জগদ্দল মহাবিহার স্থাপন করেন। তিনি জনগণের সুবিধার লক্ষ্যে অনেক নগর সস্হাপন করেন। যেমন- জগৎ নগর, হাট নগর, ডাশ নগর, ঘোষ নগর, মই নগর, রাধা নগর,সেন নগর,আড়া নগর, ইত্যাদি।

অনেক বড় বড় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। যেমন=জগদ্দল মহাবিহার, হলুদ বিহার, অগ্রপুরি বিহার ইত্যাদি। অনেক বড় বড় জলাশয় বা দিঘি খণন করেন। এই দিঘি গুলির মধ্যে অন্যতম আলতা দিঘী, দাড়কা দিঘী, কাঞ্চন দিঘী, টুক্কামারি দিঘি, ভাঙ্গা দিঘী,নিমাই দিঘী,হাটসর দিঘী ইত্যাদি।

আমাদের নওগাঁ জেলার ধামইরহাট থানার আলতা
দিঘী পাল রাজারদের বিশাল কর্মযজ্ঞের একটি নিদর্শন বহন করে। খুকশী নদীর পাশে সারি সারি শাল গাছে ভরা শালবন, ধামইরহাটের বর্তমান বাজার থেকে নদীর পশ্চিম পাশ দিয়ে দুর্গাপুর পর্যন্ত পুরাতন ইটের স্তুপ গুলি দৃষ্টিনন্দন সুরম্য ও মনোহরি রামাবতি রাজধানীরই টিকে থাকা ধংস চিহ্ন।

ধামইরহাটের যুবসমাজ সহ আপামর জনসাধারণকে সঙ্গে নিয়ে মতপার্থক্য ভুলে ক্লান্তি শেষে দিঘি পাড়ের এই মিলন মেলার আয়োজনের স্থানটি আরো আধুনিক করে গড়ে,তুলতে পারলে আগামীতে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে একটি অতীতের পূর্বপুরুষের নির্মল বিনোদনের উদাহরণ হয়ে থাকবে।

 

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

ফরিদপুরের নগরকান্দায় একদিন পরে মিললো কিশোরের লাশ

নওগাঁ আলতাদিঘি ও শালবন জাতীয় উদ্যান উত্তরবঙ্গের জনপ্রিয় ভ্রমণ স্থান হয়ে উঠেছে

আপডেট সময় ১১:৩৮:৫৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২২ মার্চ ২০২৫

আলতাদিঘী নওগাঁ জেলার ধামইরহাট থানার পূর্ব উত্তর পার্শে খুকশী নদীর পূর্বতীরে অবস্থিত একটি মনোরম দর্শনীয় স্থান। দূরত্ব সামান্য দুই থেকে তিন কিলোমিটার ভারতের সীমান্তঘেষে দাদনপুর ও মহিশুর গ্রামের মধ্যবর্তী স্থানে অবস্হিত।

এই অঞ্চলের আপামর জনসাধারণ আলতার দিঘি জাতীয় উদ্যানে দিঘির জলে ডাউক,কোকিল, সংঙ্ক চিলের অভয়ারণ্য।পদ্ম, শাপলা, শালুকের ভরা স্বচ্ছ ঢেউ খেলানো জল। যে কোনো পর্যটককে সহজেই আকৃষ্ট করে। প্রতিটি পর্যটন ভ্রমণপিপাসু মানুষ খুশিতে বিহবল হয় এর অপার সৌন্দর্য দর্শনে।

দুই ঈদের পরবর্তী সময়ে কিংবা স্কুল-কলেজের বাৎসরিক বনভোজনের আয়োজনে অথবা দম্পতির নিরিবিলির সময় কাটানোর জন্য ছুটে যান আলতা দিকের মনোরম পরিবেশে। বনভোজনে এখানে ছুটে আসেন শিক্ষক, ছাত্র, চাকুরীজীবী,ব্যবসায়ী, সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ। তখন বিভিন্ন শ্রমজীবী, পেশাজীবি, সহ ধামইরহাট ও ধামইরহাটের বাইরের মানুষদের নিয়ে এখানে ঘটে এক মহামিলন মহাযজ্ঞ।

স্থানঃ
উত্তরবঙ্গের আমাজন খ্যাত নওগাঁ জেলার ধামইরহাট থানার আলতা দিঘী শালবন জাতীয় উদ্যান। এই আলতাদিঘিকে ঘিরে প্রত্ন নিদর্শন সমৃদ্ধ এই অঞ্চল মৌর্য, পাল,সেন,ও সুলতানী আমলের অনেক ইতিহাস ঐতিহ্যেকে ধারণ ও বহন করে আছে।

আমি কেন যাব আলতা দিঘি?
অধিকাংশ ঐতিহাসিকদের মতে ১০৭৮ সনে কৈবর্ত সেনাপতি দিব্যক পালরাজা মহিপাল কে পরাজিত ও নিহত করে নিজেকে গৌড়বঙ্গের অধীশ্বর হিসেবে সিংহাসনে আরোহন করেন। এবং দিবর দিঘিতে দিব্বক বিজয় স্তম্ভ স্হাপন করেন (১০৭৮-১০৮৪)। অতপর ১০৮৪ সনে মহিপালের ভ্রাতা রামপাল ১৭ জন আমর্ত রাজার সহযোগিতায় রাজা দিব্বকের ভাতুস্পুত্র প্রতাপশালী রাজা ভিমকে যুদ্ধে পরজিত ও নিহত করে নিজ পিতৃ ভূমি বরেন্দ্র উদ্ধার করেন।

১৩ তম পাল রাজা রামপাল(১০৮৪-১১২৪) বরেন্দ্র ভূমিতে সুদীর্ঘ ৪০ বছর শাসনামলে বরেন্দ্রভূমিতে “রামাবতী” নামে একটি নতুন ও সুরম্য রাজধানী স্থাপন করেন। রাজধানীর মধ্যখানে শিক্ষা ও সংস্কৃতি চর্চা কেন্দ্র জগদ্দল মহাবিহার স্থাপন করেন। তিনি জনগণের সুবিধার লক্ষ্যে অনেক নগর সস্হাপন করেন। যেমন- জগৎ নগর, হাট নগর, ডাশ নগর, ঘোষ নগর, মই নগর, রাধা নগর,সেন নগর,আড়া নগর, ইত্যাদি।

অনেক বড় বড় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। যেমন=জগদ্দল মহাবিহার, হলুদ বিহার, অগ্রপুরি বিহার ইত্যাদি। অনেক বড় বড় জলাশয় বা দিঘি খণন করেন। এই দিঘি গুলির মধ্যে অন্যতম আলতা দিঘী, দাড়কা দিঘী, কাঞ্চন দিঘী, টুক্কামারি দিঘি, ভাঙ্গা দিঘী,নিমাই দিঘী,হাটসর দিঘী ইত্যাদি।

আমাদের নওগাঁ জেলার ধামইরহাট থানার আলতা
দিঘী পাল রাজারদের বিশাল কর্মযজ্ঞের একটি নিদর্শন বহন করে। খুকশী নদীর পাশে সারি সারি শাল গাছে ভরা শালবন, ধামইরহাটের বর্তমান বাজার থেকে নদীর পশ্চিম পাশ দিয়ে দুর্গাপুর পর্যন্ত পুরাতন ইটের স্তুপ গুলি দৃষ্টিনন্দন সুরম্য ও মনোহরি রামাবতি রাজধানীরই টিকে থাকা ধংস চিহ্ন।

ধামইরহাটের যুবসমাজ সহ আপামর জনসাধারণকে সঙ্গে নিয়ে মতপার্থক্য ভুলে ক্লান্তি শেষে দিঘি পাড়ের এই মিলন মেলার আয়োজনের স্থানটি আরো আধুনিক করে গড়ে,তুলতে পারলে আগামীতে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে একটি অতীতের পূর্বপুরুষের নির্মল বিনোদনের উদাহরণ হয়ে থাকবে।