ঢাকা ১২:১১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬, ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ভারতীয় সিরাপসহ গ্রেফতার ১ জন  মুরাদনগরে ১৬ পিস ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার দুর্নীতির অভিযোগের কেন্দ্রে পরিচালক সালেহ্ আহমদ জাকারিয়া রূপালী লাইফে এখনও বহাল সিইও গোলাম কিবরিয়া! রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ও সিইসির বৈঠক আজ আইসিটি আইনে সাজা দেওয়ার হুমকির অভিযোগ ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পবিপ্রবির বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম পরিদর্শন করেন ভিসি, প্রো-ভিসি ও ট্রেজারার অভিবাসন ব্যয় কমা‌তে কাজ কর‌ছে সরকার : পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ঢাকার পার্শ্ববর্তী জেলাগুলো দ্রুতগতির রেল নেটওয়ার্কের আওতায় আসবে: রেলমন্ত্রী জুলাই শহীদদের স্বপ্নের দেশ গড়তে প্রতিটি নাগরিককে দায়িত্ব পালনের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

রাজধানীর মিরপুরে জমি দখলের অভিযোগ

রাজধানীর মিরপুরের এক ব্যবসায়ীর জমি দখলের চেষ্টা করেছে একটি চক্র। গত ১৯ ফেব্রুয়ারী বুধবার সকালে প্রায় দেড় শতাধিক দুর্বৃত্ত নিয়ে সে জমি নিজের ক্রয়কৃত সম্পক্তি দাবি করে দখলের চেষ্টা করে জাহাঙ্গীর হোসেন নামের জনৈক ব্যক্তি। তবে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর তৎপরাতায় জাহাঙ্গীর হোসেন ও নিযুক্তীয় আম-মোক্তার সাইফুল ইসলাম নিজানের সে চেষ্টা ব্যার্থ হয়। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট থানায় একটি অভিযোগ করেছেন ব্যাবসায়ী বায়েজিদ।
প্রাপ্ত তথ্য ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পল্লবী থানাধীন দ্বিগুন মৌজার সিটি খতিয়ান-১৪৮৯ দাগ ৮৪০৭ এর মালিক আব্দুস সাত্তার মোল্লার কাছ থেকে ১৯৯৩ সালে জনৈক নুরজাহান ৭শতাংশ জমি ক্রয় করেন। তবে পরবর্তীতে সিটি জরিপে ভুলবশতঃ নুরজাহানের নামে ২৮.১৯ শতাংশ জমি রেকর্ডভুক্ত হয়। নুরজাহান বেগম ১৯৯৮ সালে ইষ্টার্ণ হাউজিং লিঃ-এক কাছে তার জমিটি বিক্রি করেন। ইস্টার্ন হাউজিং থেকে ব্যবসায়ী বায়েজিদ গং জমিটি ক্রয় করেন। ব্যবসায়ী বায়েজিদ ইস্টার্ন হাউজিং থেকে জমিটি বুঝে নিয়ে তার সীমানা প্রাচীর সহ সেখানে কাঁচাপাকা ভবন নির্মাণ করে ভোগদখল করছেন।
কিন্তু গত ১৯ ফেব্রুয়ারী বুধবার সেই জমিটি নিজের ক্রয়কৃত সম্পত্তি দাবি করে দখলের চেষ্টা করে জাহাঙ্গীর নামের জনৈক ব্যক্তি। তার তথ্যানুশারে ২০১৮ সালে জাহাঙ্গীর এই জমিটি ক্রয় করেছেন এবং সেই দলিল মুলে তিনি নামজারী ও খাজনা খারিজ করেন। একইসাথে বর্তমানে দখলকৃত ব্যবসায়ী বায়েজিদকে উচ্ছেদের প্রয়াসে ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইনে ২০২৪ সালে একটি সিআর মামলাও করেন। বিষয়টির সঠিক সিদ্ধান্তে বিজ্ঞ চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সিআইডিকে তথ্য সংগ্রহের আদেশ দেন। সে আদেশমতে সিআইডি পুলিশের এসআই মো. সজিব মিয়াকে তদন্তকারী অফিসার নিযুক্ত করেন। এসআই সজিব মিয়া তদন্ত করে গত ১৬/১/২০২৫ তারিখ আদালতে একটি রিপোর্ট দাখিল করেন।
দাখিলকৃত রিপোর্টে তিনি লিখেন, মিরপুর পল্লবী থানাধীন দ্বিগুন মৌজার এ জমিটি ১৯৯৩ সালে জনৈক আব্দুস সাত্তার মোল্লার কাছ থেকে ৭শতাংশ জমি মাদারীপুরের জনৈক নুরজাহান বেগম ক্রয় করেন। কিন্তু পরবর্তীতে সিটি জরিপে ভুলবশতঃ ২৮.১৯ শতাংশ জমি নুরজাহান বেগমের নামে রেকর্ডভুক্ত হয়। ১৯৯৮ সালে নুরজাহান বেগম ইস্টার্ন হাউজিং লিঃ-এর কাছে তার জমি বিক্রি করেন। পরে ২০২০ সালে ইস্টার্ন হাউজিং হতে কামাল হোসেন গং মালিকানা প্রাপ্ত হয়ে সম্পত্তির খাজনা খারিজ করে ভোগ দখলে রয়েছেন। জাহাঙ্গীর হোসেনের দাবি উক্ত নুরজাহান বেগম তার কাছে জমিটি ২০১৮ সালে বিক্রি করেছেন। কিন্তু দলিলদাতা নুরজাহান বেগম তার মৃত্যুর পূর্বেই ১৯৯৮ সালে ইস্টার্ন হাউজিং এর নিকট এ জমিটি বিক্রি করেন।
ব্যবসায়ী বায়েজিদ জানান, জাহাঙ্গীর হোসেন তার লোকজন কথিত নুরজাহানের নাম ও ভোটার আইডি ব্যবহার করে একটি ভুয়া দলিল মূলে ১৯ ফেব্রুয়ারী নিয়ে জমিটি দখলের সুযোগ নেয়। অথচ প্রকৃত নুরজাহান বেগম অনেক আগেই মৃত্যু বরণ করেছেন। জাহাঙ্গীরের দলিলের নুরজাহানের বাড়ী ময়মনসিংহ অথচ প্রকৃত নুরজাহানের বাড়ী মাদারীপুর। সেদিন জরুরী সেবা ৯৯৯-এ ফোন দিলে পল্লবী থানা পুলিশ ও সেনাবাহিনী ঘটনাস্থালে এসে বিষয়টি আদালত কেন্দ্রিক হওয়ায় জাহাঙ্গীর হোসেন এবং তার লোকজনকে ঘটনাস্থল থেকে চলে যেতে বলেন। পরে এ বিষয়ে পল্লবী থানায় একটি অভিযোগ করেছি।
সরেজমিনে রবিবার দেখা যায়, সেই জমিটির কাছেই ইস্টার্ন হাউজিং কর্তৃপক্ষের কয়েকজন আনসার পাহারায় ঘোরাঘুরি করছেন। আনসাররা জানান এখানে তারা পূর্ব থেকেই নিয়মিতই পাহারা দেন। জমিটির বসতঘরের মূল ফটকে আশরাফ উদ্দিন গং নামে একটি বোর্ড রয়েছে, পাশাপাশি দেয়ালে আদালতের একটি নোটিশ সাটানো রয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে জাহাঙ্গীর হোসেনের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে বেশ কয়েকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি এবং ক্ষুদে বার্তা পাঠালেও কোন উত্তর দেননি।
ইস্টার্ন হাউজিং লিঃ এর জিএম শামিনের জানান, এই জমি ইস্টার্ন হাউজিংএর ক্রয়কৃত সম্পত্তি এবং ব্যবসায়ী বায়েজিদ গং এর কাছে বিক্রি করেছি। কথিত জাহাঙ্গীর একটি ভুয়া দলিল করে জমিটি দখলের চেষ্টা করেছে, আমরা আদালতের মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন করেছি।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ভারতীয় সিরাপসহ গ্রেফতার ১ জন 

রাজধানীর মিরপুরে জমি দখলের অভিযোগ

আপডেট সময় ০৬:২৪:৫৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৫

রাজধানীর মিরপুরের এক ব্যবসায়ীর জমি দখলের চেষ্টা করেছে একটি চক্র। গত ১৯ ফেব্রুয়ারী বুধবার সকালে প্রায় দেড় শতাধিক দুর্বৃত্ত নিয়ে সে জমি নিজের ক্রয়কৃত সম্পক্তি দাবি করে দখলের চেষ্টা করে জাহাঙ্গীর হোসেন নামের জনৈক ব্যক্তি। তবে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর তৎপরাতায় জাহাঙ্গীর হোসেন ও নিযুক্তীয় আম-মোক্তার সাইফুল ইসলাম নিজানের সে চেষ্টা ব্যার্থ হয়। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট থানায় একটি অভিযোগ করেছেন ব্যাবসায়ী বায়েজিদ।
প্রাপ্ত তথ্য ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পল্লবী থানাধীন দ্বিগুন মৌজার সিটি খতিয়ান-১৪৮৯ দাগ ৮৪০৭ এর মালিক আব্দুস সাত্তার মোল্লার কাছ থেকে ১৯৯৩ সালে জনৈক নুরজাহান ৭শতাংশ জমি ক্রয় করেন। তবে পরবর্তীতে সিটি জরিপে ভুলবশতঃ নুরজাহানের নামে ২৮.১৯ শতাংশ জমি রেকর্ডভুক্ত হয়। নুরজাহান বেগম ১৯৯৮ সালে ইষ্টার্ণ হাউজিং লিঃ-এক কাছে তার জমিটি বিক্রি করেন। ইস্টার্ন হাউজিং থেকে ব্যবসায়ী বায়েজিদ গং জমিটি ক্রয় করেন। ব্যবসায়ী বায়েজিদ ইস্টার্ন হাউজিং থেকে জমিটি বুঝে নিয়ে তার সীমানা প্রাচীর সহ সেখানে কাঁচাপাকা ভবন নির্মাণ করে ভোগদখল করছেন।
কিন্তু গত ১৯ ফেব্রুয়ারী বুধবার সেই জমিটি নিজের ক্রয়কৃত সম্পত্তি দাবি করে দখলের চেষ্টা করে জাহাঙ্গীর নামের জনৈক ব্যক্তি। তার তথ্যানুশারে ২০১৮ সালে জাহাঙ্গীর এই জমিটি ক্রয় করেছেন এবং সেই দলিল মুলে তিনি নামজারী ও খাজনা খারিজ করেন। একইসাথে বর্তমানে দখলকৃত ব্যবসায়ী বায়েজিদকে উচ্ছেদের প্রয়াসে ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইনে ২০২৪ সালে একটি সিআর মামলাও করেন। বিষয়টির সঠিক সিদ্ধান্তে বিজ্ঞ চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সিআইডিকে তথ্য সংগ্রহের আদেশ দেন। সে আদেশমতে সিআইডি পুলিশের এসআই মো. সজিব মিয়াকে তদন্তকারী অফিসার নিযুক্ত করেন। এসআই সজিব মিয়া তদন্ত করে গত ১৬/১/২০২৫ তারিখ আদালতে একটি রিপোর্ট দাখিল করেন।
দাখিলকৃত রিপোর্টে তিনি লিখেন, মিরপুর পল্লবী থানাধীন দ্বিগুন মৌজার এ জমিটি ১৯৯৩ সালে জনৈক আব্দুস সাত্তার মোল্লার কাছ থেকে ৭শতাংশ জমি মাদারীপুরের জনৈক নুরজাহান বেগম ক্রয় করেন। কিন্তু পরবর্তীতে সিটি জরিপে ভুলবশতঃ ২৮.১৯ শতাংশ জমি নুরজাহান বেগমের নামে রেকর্ডভুক্ত হয়। ১৯৯৮ সালে নুরজাহান বেগম ইস্টার্ন হাউজিং লিঃ-এর কাছে তার জমি বিক্রি করেন। পরে ২০২০ সালে ইস্টার্ন হাউজিং হতে কামাল হোসেন গং মালিকানা প্রাপ্ত হয়ে সম্পত্তির খাজনা খারিজ করে ভোগ দখলে রয়েছেন। জাহাঙ্গীর হোসেনের দাবি উক্ত নুরজাহান বেগম তার কাছে জমিটি ২০১৮ সালে বিক্রি করেছেন। কিন্তু দলিলদাতা নুরজাহান বেগম তার মৃত্যুর পূর্বেই ১৯৯৮ সালে ইস্টার্ন হাউজিং এর নিকট এ জমিটি বিক্রি করেন।
ব্যবসায়ী বায়েজিদ জানান, জাহাঙ্গীর হোসেন তার লোকজন কথিত নুরজাহানের নাম ও ভোটার আইডি ব্যবহার করে একটি ভুয়া দলিল মূলে ১৯ ফেব্রুয়ারী নিয়ে জমিটি দখলের সুযোগ নেয়। অথচ প্রকৃত নুরজাহান বেগম অনেক আগেই মৃত্যু বরণ করেছেন। জাহাঙ্গীরের দলিলের নুরজাহানের বাড়ী ময়মনসিংহ অথচ প্রকৃত নুরজাহানের বাড়ী মাদারীপুর। সেদিন জরুরী সেবা ৯৯৯-এ ফোন দিলে পল্লবী থানা পুলিশ ও সেনাবাহিনী ঘটনাস্থালে এসে বিষয়টি আদালত কেন্দ্রিক হওয়ায় জাহাঙ্গীর হোসেন এবং তার লোকজনকে ঘটনাস্থল থেকে চলে যেতে বলেন। পরে এ বিষয়ে পল্লবী থানায় একটি অভিযোগ করেছি।
সরেজমিনে রবিবার দেখা যায়, সেই জমিটির কাছেই ইস্টার্ন হাউজিং কর্তৃপক্ষের কয়েকজন আনসার পাহারায় ঘোরাঘুরি করছেন। আনসাররা জানান এখানে তারা পূর্ব থেকেই নিয়মিতই পাহারা দেন। জমিটির বসতঘরের মূল ফটকে আশরাফ উদ্দিন গং নামে একটি বোর্ড রয়েছে, পাশাপাশি দেয়ালে আদালতের একটি নোটিশ সাটানো রয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে জাহাঙ্গীর হোসেনের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে বেশ কয়েকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি এবং ক্ষুদে বার্তা পাঠালেও কোন উত্তর দেননি।
ইস্টার্ন হাউজিং লিঃ এর জিএম শামিনের জানান, এই জমি ইস্টার্ন হাউজিংএর ক্রয়কৃত সম্পত্তি এবং ব্যবসায়ী বায়েজিদ গং এর কাছে বিক্রি করেছি। কথিত জাহাঙ্গীর একটি ভুয়া দলিল করে জমিটি দখলের চেষ্টা করেছে, আমরা আদালতের মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন করেছি।