স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যুৎ বিল বিতরণ এবং সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার ক্ষেত্রে যথাযথ নিয়ম অনুসরণ করা হচ্ছে না। অনেক গ্রাহকের হাতে নির্ধারিত সময়ে বিদ্যুৎ বিল পৌঁছায় না। ফলে বিল পরিশোধের নির্ধারিত সময়সীমা সম্পর্কে অনেকেই যথাসময়ে অবগত হতে পারেন না। অথচ পরবর্তী সময়ে বিল বকেয়া থাকার অজুহাতে কোনো কোনো গ্রাহকের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ গ্রাহকরা।
ভুক্তভোগীদের দাবি, বিদ্যুৎ বিল হাতে না পাওয়া কিংবা বিলসংক্রান্ত কোনো জটিলতা থাকলে তা সমাধানের সুযোগ দেওয়া উচিত। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, এসব বিষয় বিবেচনায় না নিয়ে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার ঘটনা ঘটছে। সবচেয়ে বেশি আপত্তি উঠেছে সংযোগ পুনঃস্থাপনের প্রক্রিয়া নিয়ে। গ্রাহকদের অভিযোগ, বিচ্ছিন্ন সংযোগ পুনরায় চালু করার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত অর্থ দাবি কিংবা আদায়ের চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে এসব অর্থ দাবির নির্দিষ্ট ঘটনা ও প্রমাণ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।
শুধু বিল ও সংযোগ বিচ্ছিন্ন করাই নয়, অফিসে সেবা নিতে গিয়ে কর্মকর্তার আচরণ নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন গ্রাহকরা। তাঁদের অভিযোগ, বিদ্যুৎ বিল, মিটার কিংবা সংযোগসংক্রান্ত সমস্যা নিয়ে কার্যালয়ে গেলে আবাসিক প্রকৌশলী মেহেদী হাসান নয়নের কাছ থেকে প্রত্যাশিত সহযোগিতা পাওয়া যায় না। বরং অভিযোগ জানাতে গেলে অসৌজন্যমূলক ও ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণের মুখোমুখি হতে হয়। কোনো কোনো গ্রাহককে পুনরায় বিদ্যুৎ সংযোগ না দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
এমন পরিস্থিতিতে সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে—বিদ্যুৎ বিল যথাসময়ে গ্রাহকের হাতে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব কার? বিল বিতরণে ঘাটতি থাকলে তার দায়ভার গ্রাহককে কেন বহন করতে হবে? একজন গ্রাহক তাঁর ন্যায্য সেবা ও অভিযোগের প্রতিকার চাইতে গিয়ে কেন অসৌজন্যমূলক আচরণের শিকার হবেন? সরকারি সেবাপ্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের কাজ যেখানে গ্রাহকদের ভোগান্তি কমানো, সেখানে এমন অভিযোগ ওঠা জনসেবার মান নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করেছে।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, বিদ্যুৎ বিভাগ কোনো ব্যক্তিনির্ভর প্রতিষ্ঠান নয়; এটি জনগণের অর্থে পরিচালিত একটি গুরুত্বপূর্ণ সেবামূলক প্রতিষ্ঠান। এখানে দায়িত্ব পালনকারী প্রত্যেক কর্মকর্তাকে নিয়ম, নীতিমালা ও জবাবদিহির আওতায় থেকে কাজ করতে হবে। গ্রাহককে যথাসময়ে বিল সরবরাহ, বিল পরিশোধের সুযোগ নিশ্চিত করা, সংযোগ বিচ্ছিন্নের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য বিধি অনুসরণ এবং পুনঃসংযোগের ক্ষেত্রে নির্ধারিত ফি ছাড়া কোনো অর্থ লেনদেন না হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা জরুরি।
তাঁদের মতে, কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে একাধিক গ্রাহক হয়রানি ও অনিয়মের অভিযোগ উঠলে বিষয়টি ধামাচাপা না দিয়ে স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এতে একদিকে গ্রাহকদের অধিকার সুরক্ষিত হবে, অন্যদিকে প্রতিষ্ঠানের সেবার মান ও জনআস্থা ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।
এ অবস্থায় ভুক্তভোগী গ্রাহক ও স্থানীয় সচেতন মহল ওজোপাডিকোর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাঁদের প্রধান দাবি, আবাসিক প্রকৌশলী মেহেদী হাসান নয়নকে দ্রুত বোরহানউদ্দিন কার্যালয় থেকে প্রত্যাহার করতে হবে। পাশাপাশি তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো তদন্তে একটি নিরপেক্ষ বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন, গ্রাহকদের অভিযোগ গ্রহণ ও নিষ্পত্তির কার্যকর ব্যবস্থা এবং বিদ্যুৎ বিল বিতরণ ও সংযোগ বিচ্ছিন্নের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে।
তাঁদের হুঁশিয়ারি, অভিযোগগুলোর বিষয়ে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে গ্রাহকদের অধিকার ও হয়রানি বন্ধের দাবিতে বৃহত্তর কর্মসূচি গ্রহণ করা হতে পারে।
আবাসিক প্রকৌশলী মেহেদী হাসান নয়নের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে তাঁর বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যথাযথ গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে।
রিয়াজ ফরাজী 
























