ঢাকা ১০:০৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বোরহানউদ্দিনে ওজোপাডিকোর প্রকৌশলী মেহেদীর বিরুদ্ধে গ্রাহক হয়রানির অভিযোগ জানুয়ারি থেকে নতুন মজুরি, বৃহস্পতিবার কাজে ফেরার আহ্বান শ্রমিকদের একনেকে ৫৮ হাজার ৮৯ কোটি টাকার ১৩ প্রকল্প অনুমোদন বিএনপিকে দুর্বল ভাবলে বোকার স্বর্গে বাস করছেন: ডিএসসিসি প্রশাসক পোশাকশিল্পে চলমান পরিস্থিতি স্বাভাবিক শ্রমিক আন্দোলন নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাহজাহানপুরে রাজউকের নকশা লঙ্ঘন করে ১০ তলা ভবন নির্মাণ, নেপথ্যে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ চীনা মন্ত্রীর সঙ্গে রাষ্ট্রপতির সাক্ষাৎ, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারের আহ্বান অপপ্রচার ছাপিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে শক্ত অবস্থান গড়ছে সশস্ত্র বাহিনী ফায়ার সার্ভিসে গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়নে তদবির, মামুনুর রশিদকে ঘিরে অনিয়মের অভিযোগ ট্রাম্পের রিপাবলিকানদের পরাজয়ে তেহরানে ইরানিদের উল্লাস

আমতলীতে ডিবি পুলিশের অভিযানে ৪ হাজার ৭০০ পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ২

বরগুনার আমতলীতে ডিবি পুলিশের বিশেষ অভিযানে ৪ হাজার ৭০০ পিস ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জব্দ করা এই মাদকের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১৫ লাখ টাকা। অভিযানে জড়িত থাকার অভিযোগে শ্বশুর ও শাশুড়িকে হাতেনাতে আটক করা হলেও মূল হোতা জামাই পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে পালিয়ে গেছেন।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বরগুনা জেলা গোয়েন্দা শাখা থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বরগুনা জেলাকে মাদকমুক্ত করার লক্ষ্যে পুলিশ সুপার মো. কুদরত-ই-খুদা, পিপিএম-সেবার নির্দেশনায় নিয়মিত বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত রাতে (৩ নভেম্বর) ডিবি পুলিশের একটি আভিযানিক দল আমতলী থানাধীন ২ নম্বর কুকুয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব চুনাখালী গ্রামের একটি বাড়িতে অভিযান চালায়।

ডিবির এসআই (নিঃ) বিকাশ কর্মকারের নেতৃত্বে পরিচালিত ওই অভিযানে অংশ নেন এসআই (নিঃ) মো. মঞ্জুরুল হাসান, এএসআই (নিঃ) রাজিব হাওলাদারসহ পুলিশের একটি দল।

রাত আনুমানিক ১২টা ২৫ মিনিটের দিকে ডিবি পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালানোর চেষ্টা করেন বাড়ির বাসিন্দারা। এ সময় নারী পুলিশ কনস্টেবল রুমা আক্তারের সহায়তায় মোসা. কহিনুর (৪০) এবং অন্য কর্মকর্তা ও সদস্যদের সহায়তায় তাঁর স্বামী মো. সেলিম প্যাদাকে (৫৫) আটক করা হয়। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে কৌশলে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান তাঁদের মেয়ের জামাই।

পরে স্থানীয় নিরপেক্ষ সাক্ষীদের উপস্থিতিতে মোসা. কহিনুরের শরীর তল্লাশি করে তাঁর পরিহিত কাপড়ের ভেতর থেকে ২০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। পরবর্তী সময়ে তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রান্নাঘরে তল্লাশি চালিয়ে খাকি কসটেপ ও পলিথিনে মোড়ানো একটি প্লাস্টিকের ব্যাগ থেকে আরও ৪ হাজার ৫০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। সব মিলিয়ে অভিযানে মোট ৪ হাজার ৭০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত ব্যাগ এবং প্যাকেটজাত করার কাজে ব্যবহৃত কসটেপ ও সরঞ্জামও জব্দ করা হয়েছে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে। পুলিশ জানায়, পলাতক আসামি মো. সবুজ মৃধা (৩৪)—যিনি গ্রেপ্তার হওয়া আসামিদের মেয়ের জামাই—দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পাইকারি দামে ইয়াবা সংগ্রহ করে তাঁর শ্বশুর-শাশুড়ির ঘরে জমা রাখতেন। পরে অটোরিকশায় করে সেসব ইয়াবা বিভিন্ন এলাকায় খুচরা ও পাইকারি দামে বিক্রি করতেন তিনি। বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে বয়স্ক শ্বশুর-শাশুড়িকে এই অপরাধের সঙ্গে জড়িয়েছিলেন ওই যুবক।

এ ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া মোসা. কহিনুর, মো. সেলিম প্যাদা এবং পলাতক আসামি মো. সবুজ মৃধার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ অনুযায়ী আমতলী থানায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। পুলিশ জানিয়েছে, পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তারে সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বোরহানউদ্দিনে ওজোপাডিকোর প্রকৌশলী মেহেদীর বিরুদ্ধে গ্রাহক হয়রানির অভিযোগ

আমতলীতে ডিবি পুলিশের অভিযানে ৪ হাজার ৭০০ পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ২

আপডেট সময় ০৫:৪৯:১১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬

বরগুনার আমতলীতে ডিবি পুলিশের বিশেষ অভিযানে ৪ হাজার ৭০০ পিস ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জব্দ করা এই মাদকের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১৫ লাখ টাকা। অভিযানে জড়িত থাকার অভিযোগে শ্বশুর ও শাশুড়িকে হাতেনাতে আটক করা হলেও মূল হোতা জামাই পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে পালিয়ে গেছেন।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বরগুনা জেলা গোয়েন্দা শাখা থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বরগুনা জেলাকে মাদকমুক্ত করার লক্ষ্যে পুলিশ সুপার মো. কুদরত-ই-খুদা, পিপিএম-সেবার নির্দেশনায় নিয়মিত বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত রাতে (৩ নভেম্বর) ডিবি পুলিশের একটি আভিযানিক দল আমতলী থানাধীন ২ নম্বর কুকুয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব চুনাখালী গ্রামের একটি বাড়িতে অভিযান চালায়।

ডিবির এসআই (নিঃ) বিকাশ কর্মকারের নেতৃত্বে পরিচালিত ওই অভিযানে অংশ নেন এসআই (নিঃ) মো. মঞ্জুরুল হাসান, এএসআই (নিঃ) রাজিব হাওলাদারসহ পুলিশের একটি দল।

রাত আনুমানিক ১২টা ২৫ মিনিটের দিকে ডিবি পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালানোর চেষ্টা করেন বাড়ির বাসিন্দারা। এ সময় নারী পুলিশ কনস্টেবল রুমা আক্তারের সহায়তায় মোসা. কহিনুর (৪০) এবং অন্য কর্মকর্তা ও সদস্যদের সহায়তায় তাঁর স্বামী মো. সেলিম প্যাদাকে (৫৫) আটক করা হয়। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে কৌশলে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান তাঁদের মেয়ের জামাই।

পরে স্থানীয় নিরপেক্ষ সাক্ষীদের উপস্থিতিতে মোসা. কহিনুরের শরীর তল্লাশি করে তাঁর পরিহিত কাপড়ের ভেতর থেকে ২০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। পরবর্তী সময়ে তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রান্নাঘরে তল্লাশি চালিয়ে খাকি কসটেপ ও পলিথিনে মোড়ানো একটি প্লাস্টিকের ব্যাগ থেকে আরও ৪ হাজার ৫০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। সব মিলিয়ে অভিযানে মোট ৪ হাজার ৭০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত ব্যাগ এবং প্যাকেটজাত করার কাজে ব্যবহৃত কসটেপ ও সরঞ্জামও জব্দ করা হয়েছে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে। পুলিশ জানায়, পলাতক আসামি মো. সবুজ মৃধা (৩৪)—যিনি গ্রেপ্তার হওয়া আসামিদের মেয়ের জামাই—দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পাইকারি দামে ইয়াবা সংগ্রহ করে তাঁর শ্বশুর-শাশুড়ির ঘরে জমা রাখতেন। পরে অটোরিকশায় করে সেসব ইয়াবা বিভিন্ন এলাকায় খুচরা ও পাইকারি দামে বিক্রি করতেন তিনি। বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে বয়স্ক শ্বশুর-শাশুড়িকে এই অপরাধের সঙ্গে জড়িয়েছিলেন ওই যুবক।

এ ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া মোসা. কহিনুর, মো. সেলিম প্যাদা এবং পলাতক আসামি মো. সবুজ মৃধার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ অনুযায়ী আমতলী থানায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। পুলিশ জানিয়েছে, পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তারে সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।