ঢাকা ১২:০৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
গণপূর্তের মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ ও অনিয়মের অভিযোগ বিআইডব্লিউটিএ নারীকাণ্ডে বরখাস্ত সেই আরিফকে অন্য বিভাগে পদায়ন চট্টগ্রাম কাস্টমসের ওমর কাউসার ও সুমন বিশ্বাসের বিরুদ্ধে ঘুষ-হয়রানির অভিযোগ, নীরব কর্তৃপক্ষ বড়লেখায় সড়ক দুর্ঘটনা রোধে নিসচার উদ্যোগে শিক্ষার্থী সমাবেশ ব্যাটারিচালিত রিকশা নিয়ন্ত্রণে নতুন বিধিমালা জারি যান্ত্রিক ত্রুটি মেরামতের পর ঢাকার পথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মৌলভীবাজারে মাদকবিরোধী অভিযানে ৬ জনের কারাদণ্ড অন্যের হাত ধরে উধাও স্ত্রী, প্রবাসী বললেন-কাবাঘরে গিয়ে বিচার দিবো মুক্তিযোদ্ধা কোটা নিয়ে জালিয়াতির অভিযোগ, ৩ কর্মকর্তা এবার ওএসডি রংপুর-সৈয়দপুর মহাসড়কে বাস উল্টে হেলপার নিহত, আহত ২০

খালেদা জিয়ার বাসার বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নকারি ডেসকোর শামীমের দখল ও দুর্নীতির খতিয়ান

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় ১২:৩২:৪৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬
  • ৫৪৭ বার পড়া হয়েছে

ঢাকা ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানির (ডেসকো) সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম আহমেদের বিরুদ্ধে সরকারি খাল ও ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি দখল করে শত শত কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ গড়ার অভিযোগ উঠেছে। রাজধানীর মিরপুরের ইসিবি চত্বর সংলগ্ন সরকারি খালের জমি ও স্থানীয়দের জায়গা জোরপূর্বক দখল করে তিনি গড়ে তুলেছেন একটি বিশাল ১৭ তলা ভবন, যার বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা। রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালনের আড়ালে এমন অঢেল সম্পদের পাহাড় গড়ে তোলা এবং জালিয়াতির অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট থানা এবং চট্টগ্রামে পৃথক মামলাও রয়েছে।

আওয়ামী লীগ সরকারের জমানায় রাজনৈতিক প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সান্নিধ্যে থেকে নানা সুবিধা বাগিয়ে নেন শামীম আহমেদ। বিশেষ করে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার গুলশানের বাসভবনের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার ঘটনায় তিনি প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ছিলেন বলে তথ্য পাওয়া যায়। সে সময় বিদ্যুৎ বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকাকালীন রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলে ক্ষমতার অপব্যবহারের একাধিক অভিযোগ তৈরি হয় তাঁর বিরুদ্ধে। তৎকালীন শাসকগোষ্ঠীর ঘনিষ্ঠ অনুসারী হিসেবে পরিচিত এই কর্মকর্তা নিজের ক্ষমতার প্রভাবে সব ধরনের আইনি জবাবদিহি থেকে এতদিন অধরা ছিলেন।

তবে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের পরও তাঁর প্রভাব বিস্তারের কৌশল থামেনি। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের পর গঠিত ইউনুস সরকারের মেয়াদকালেও মোটা অঙ্কের ঘুষ লেনদেনের মাধ্যমে তিনি ডেসকোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদ বাগিয়ে নেন বলে একাধিক সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে। সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গেই তিনি নিজের রাজনৈতিক রূপ পাল্টে নিজেকে বিএনপি সমর্থক হিসেবে জাহির করতে শুরু করেন। হঠাৎ করেই রাজনৈতিক খোলস বদলে প্রশাসনিক পদে বহাল থাকার এমন চাতুর্য নিয়ে খোদ বিদ্যুৎ খাত ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক অঙ্গনে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়েছে।

এই ক্ষমতাধর কর্মকর্তার ক্ষমতার অপব্যবহার, খাল দখল এবং অবৈধ সম্পদ অর্জনের নানা বিস্ফোরক তথ্য উঠে এসেছে সম্প্রতি দৈনিক আমাদের মাতৃভূমিতে প্রকাশিত একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে। পড়ুন সে প্রতিবেদন: মামলা-অভিযোগ মাথায় নিয়েই ডেসকোর এমডি শামীমের মেয়াদ বাড়ানোর উদ্যোগ

 

রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার করে ব্যক্তিস্বার্থ উদ্ধার, খাসজমি দখল এবং বারবার রাজনৈতিক আশ্রয় পরিবর্তন করে বহাল তবিয়তে থাকার বিষয়টি এখন দুর্নীতি দমন কমিশন ও তদন্তকারী সংস্থাগুলোর নজরদারির দাবি রাখে। একজন দায়িত্বশীল পদে থাকা অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ওঠা এসব গুরুতর জালিয়াতি ও দখলের অপরাধ বিদ্যুৎ খাতের সার্বিক সুশাসনের চরম অবনতিকেই নির্দেশ করে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

গণপূর্তের মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ ও অনিয়মের অভিযোগ

খালেদা জিয়ার বাসার বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নকারি ডেসকোর শামীমের দখল ও দুর্নীতির খতিয়ান

আপডেট সময় ১২:৩২:৪৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

ঢাকা ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানির (ডেসকো) সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম আহমেদের বিরুদ্ধে সরকারি খাল ও ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি দখল করে শত শত কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ গড়ার অভিযোগ উঠেছে। রাজধানীর মিরপুরের ইসিবি চত্বর সংলগ্ন সরকারি খালের জমি ও স্থানীয়দের জায়গা জোরপূর্বক দখল করে তিনি গড়ে তুলেছেন একটি বিশাল ১৭ তলা ভবন, যার বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা। রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালনের আড়ালে এমন অঢেল সম্পদের পাহাড় গড়ে তোলা এবং জালিয়াতির অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট থানা এবং চট্টগ্রামে পৃথক মামলাও রয়েছে।

আওয়ামী লীগ সরকারের জমানায় রাজনৈতিক প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সান্নিধ্যে থেকে নানা সুবিধা বাগিয়ে নেন শামীম আহমেদ। বিশেষ করে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার গুলশানের বাসভবনের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার ঘটনায় তিনি প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ছিলেন বলে তথ্য পাওয়া যায়। সে সময় বিদ্যুৎ বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকাকালীন রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলে ক্ষমতার অপব্যবহারের একাধিক অভিযোগ তৈরি হয় তাঁর বিরুদ্ধে। তৎকালীন শাসকগোষ্ঠীর ঘনিষ্ঠ অনুসারী হিসেবে পরিচিত এই কর্মকর্তা নিজের ক্ষমতার প্রভাবে সব ধরনের আইনি জবাবদিহি থেকে এতদিন অধরা ছিলেন।

তবে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের পরও তাঁর প্রভাব বিস্তারের কৌশল থামেনি। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের পর গঠিত ইউনুস সরকারের মেয়াদকালেও মোটা অঙ্কের ঘুষ লেনদেনের মাধ্যমে তিনি ডেসকোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদ বাগিয়ে নেন বলে একাধিক সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে। সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গেই তিনি নিজের রাজনৈতিক রূপ পাল্টে নিজেকে বিএনপি সমর্থক হিসেবে জাহির করতে শুরু করেন। হঠাৎ করেই রাজনৈতিক খোলস বদলে প্রশাসনিক পদে বহাল থাকার এমন চাতুর্য নিয়ে খোদ বিদ্যুৎ খাত ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক অঙ্গনে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়েছে।

এই ক্ষমতাধর কর্মকর্তার ক্ষমতার অপব্যবহার, খাল দখল এবং অবৈধ সম্পদ অর্জনের নানা বিস্ফোরক তথ্য উঠে এসেছে সম্প্রতি দৈনিক আমাদের মাতৃভূমিতে প্রকাশিত একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে। পড়ুন সে প্রতিবেদন: মামলা-অভিযোগ মাথায় নিয়েই ডেসকোর এমডি শামীমের মেয়াদ বাড়ানোর উদ্যোগ

 

রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার করে ব্যক্তিস্বার্থ উদ্ধার, খাসজমি দখল এবং বারবার রাজনৈতিক আশ্রয় পরিবর্তন করে বহাল তবিয়তে থাকার বিষয়টি এখন দুর্নীতি দমন কমিশন ও তদন্তকারী সংস্থাগুলোর নজরদারির দাবি রাখে। একজন দায়িত্বশীল পদে থাকা অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ওঠা এসব গুরুতর জালিয়াতি ও দখলের অপরাধ বিদ্যুৎ খাতের সার্বিক সুশাসনের চরম অবনতিকেই নির্দেশ করে।