ঢাকা ১০:৩২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ঢাকা ওয়াসা বোর্ড বিলুপ্ত, এমডি মনিরুজ্জামানের হাতে সব ক্ষমতা দুঃখের কথা শুনেই সহায়তার হাত বাড়ালেন মানবিক ডিসি জাহিদ পাওনা টাকা চাওয়ায় ব্যবসায়ীকে মারধর, যুবদল নেতা আল আমিনের বিরুদ্ধে মামলা আরব দলগুলোর সমর্থন পেলে ক্ষমতা হারাতে পারেন নেতানিয়াহু বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়কে টোলের নামে চাঁদাবাজি, ক্ষুব্ধ পর্যটক ও যাত্রীরা ১২ কেজি এলপিজির দাম ৩০০ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব ভোটার স্থানান্তরের আবেদনের সময় বাড়ল ১ নভেম্বর পর্যন্ত উখিয়ায় এসআই কিবরিয়াসহ ৩ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে ১ লাখ ইয়াবা ও পিস্তল গায়েবের অভিযোগ নেতানিয়াহুর বদলে ‘কম ক্ষতিকর’ প্রধানমন্ত্রী চান গাজাবাসী বরগুনায় জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস পালিত

পাওনা টাকা চাওয়ায় ব্যবসায়ীকে মারধর, যুবদল নেতা আল আমিনের বিরুদ্ধে মামলা

চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুরে পাওনা টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে এক ব্যবসায়ীকে মারধর, হত্যার হুমকি ও তাঁর পকেট থেকে আড়াই লাখ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে জেলা যুবদলের এক নেতার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় জেলা যুবদলের সদস্য মো. আল আমিন বিশ্বাসকে প্রধান আসামি করে ২০ থেকে ২৫ জনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেছেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মো. রুবেল হোসেন (৪১)। এদিকে মারধরের কথা স্বীকার করলেও টাকা ছিনতাই ও বিবস্ত্র করার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত যুবদল নেতা আল আমিন বিশ্বাস।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ছয় মাস আগে আল আমিন বিশ্বাস রুবেল হোসেনের শোরুম থেকে ৬ হাজার টাকা নগদ পরিশোধ করে বাকিতে একটি এলইডি টেলিভিশন কেনেন। এ বাবদ তাঁর কাছে আরও ২ হাজার ৫০০ টাকা পাওনা ছিল। বাকি অর্থ চাইতে গেলে নানা টালবাহানা শুরু করেন আল আমিন।

এজাহারে উল্লেখ করা হয়, গত ১৬ অক্টোবর সন্ধ্যা সাতটার দিকে গোমস্তাপুর ইউনিয়নের বাজারপাড়া বাজারের সিনেমা হলসংলগ্ন এলাকায় মশিউর রহমানের ডেকোরেটরের দোকানে পাওনা টাকা পরিশোধের কথা বলে রুবেলকে কৌশলে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে পৌঁছালে আগে থেকে অবস্থান করা ব্যক্তিরা তাঁকে গালিগালাজ করেন। একপর্যায়ে আল আমিন বিশ্বাস, তাঁর ভাই মো. মোমিন হোসেন ও মো. নুরুল ইসলামসহ ২০ থেকে ২৫ জন লাঠি ও লোহার রড দিয়ে তাঁকে মারধর করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

ব্যবসায়ীর দাবি, হামলাকারীদের আঘাতে তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম হয়। একপর্যায়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়লে হত্যার উদ্দেশ্যে তাঁর গলা চেপে ধরা হয়। এ সময় পকেটে থাকা নগদ আড়াই লাখ টাকা নিয়ে যাওয়া হয় বলেও এজাহারে উল্লেখ রয়েছে। পরে তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় আহত রুবেলকে উদ্ধার করে গোমস্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসা নেন তিনি।

ঘটনার একটি সিসিটিভি ফুটেজে রুবেলকে কয়েকজন মিলে মারধর করতে দেখা যায়। ফুটেজে আল আমিন বিশ্বাসের উপস্থিতিও দেখা গেছে। একপর্যায়ে মাটিতে পড়ে থাকা রুবেলের টি-শার্ট খুলে নেওয়ার দৃশ্য রয়েছে। এ ছাড়া, আল আমিনকে উপস্থিত ব্যক্তিদের মারধরের নির্দেশ দিতে দেখা গেছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী। আরেকটি দৃশ্যে তাঁকে রুবেলের বাড়িতে বোমা ফাটানোর হুমকি দিতে শোনা যায় বলে দাবি করা হয়েছে।

রুবেল হোসেন বলেন, ‘হামলার পর আমি ও আমার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। তাঁর ভাই আমার বাড়িতে বোমা ফাটিয়ে দেওয়ার প্রকাশ্য হুমকি দিয়েছেন। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই। হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘৫ আগস্টের পর আরও তিনজনকে তাঁর লোকজন দিয়ে একইভাবে মারধর করা হয়েছে। তাঁরা ভয়ে মুখ খুলছেন না, এমনকি আইনের আশ্রয়ও নিতে পারছেন না। আমার মতো আর কেউ যেন এমন হামলার শিকার না হন, সে জন্য দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি করছি।’

অভিযোগের বিষয়ে জেলা যুবদলের সদস্য আল আমিন বিশ্বাস বলেন, ‘টেলিভিশন কেনার সুবাদে রুবেল আমার কাছে আড়াই হাজার টাকা পেতেন। ওই টাকা নিয়ে ১৬ অক্টোবর বিকেল চারটার দিকে হেলিপ্যাড এলাকায় (হাটখোলা বাজার) কথা-কাটাকাটি হয়। পরে সন্ধ্যায় গোমস্তাপুর সিনেমা হলের সামনে তাঁর আপন চাচাতো ভাইয়ের দোকানে টাকা দেওয়ার বিষয়ে মীমাংসার জন্য বসি। কিন্তু সেখানেও রুবেল উচ্চবাচ্য করেন। তখন আমার লোকজন তাঁকে মারধর করেছে। তবে টাকা ছিনতাই ও বিবস্ত্র করার ঘটনা সত্য নয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘তাঁর আপন চাচাতো ভাইয়ের কাছে আমি আগে থেকেই সাড়ে পাঁচ হাজার টাকা পেতাম। সেই টাকা তাঁর ভাইয়ের কাছ থেকে নিতে বলেছিলাম। কিন্তু তাঁর ভাই তাঁকে টাকা দেননি, সেটা আমার জানা ছিল না। রুবেল টাকা পাবেন, এটা ঠিক। কিন্তু তিনি আমাকে যখন-তখন অসম্মানজনক কথা বলেছেন। সে কারণেই আমার লোকজন তাঁকে মারধর করেছে।’

এদিকে, গোমস্তাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাজমুল হক বলেন, মারধরের ঘটনায় ২৬ অক্টোবর থানায় মামলা রেকর্ড হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ চেষ্টা চালাচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ঢাকা ওয়াসা বোর্ড বিলুপ্ত, এমডি মনিরুজ্জামানের হাতে সব ক্ষমতা

পাওনা টাকা চাওয়ায় ব্যবসায়ীকে মারধর, যুবদল নেতা আল আমিনের বিরুদ্ধে মামলা

আপডেট সময় ০৯:৫০:৪৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬

চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুরে পাওনা টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে এক ব্যবসায়ীকে মারধর, হত্যার হুমকি ও তাঁর পকেট থেকে আড়াই লাখ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে জেলা যুবদলের এক নেতার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় জেলা যুবদলের সদস্য মো. আল আমিন বিশ্বাসকে প্রধান আসামি করে ২০ থেকে ২৫ জনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেছেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মো. রুবেল হোসেন (৪১)। এদিকে মারধরের কথা স্বীকার করলেও টাকা ছিনতাই ও বিবস্ত্র করার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত যুবদল নেতা আল আমিন বিশ্বাস।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ছয় মাস আগে আল আমিন বিশ্বাস রুবেল হোসেনের শোরুম থেকে ৬ হাজার টাকা নগদ পরিশোধ করে বাকিতে একটি এলইডি টেলিভিশন কেনেন। এ বাবদ তাঁর কাছে আরও ২ হাজার ৫০০ টাকা পাওনা ছিল। বাকি অর্থ চাইতে গেলে নানা টালবাহানা শুরু করেন আল আমিন।

এজাহারে উল্লেখ করা হয়, গত ১৬ অক্টোবর সন্ধ্যা সাতটার দিকে গোমস্তাপুর ইউনিয়নের বাজারপাড়া বাজারের সিনেমা হলসংলগ্ন এলাকায় মশিউর রহমানের ডেকোরেটরের দোকানে পাওনা টাকা পরিশোধের কথা বলে রুবেলকে কৌশলে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে পৌঁছালে আগে থেকে অবস্থান করা ব্যক্তিরা তাঁকে গালিগালাজ করেন। একপর্যায়ে আল আমিন বিশ্বাস, তাঁর ভাই মো. মোমিন হোসেন ও মো. নুরুল ইসলামসহ ২০ থেকে ২৫ জন লাঠি ও লোহার রড দিয়ে তাঁকে মারধর করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

ব্যবসায়ীর দাবি, হামলাকারীদের আঘাতে তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম হয়। একপর্যায়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়লে হত্যার উদ্দেশ্যে তাঁর গলা চেপে ধরা হয়। এ সময় পকেটে থাকা নগদ আড়াই লাখ টাকা নিয়ে যাওয়া হয় বলেও এজাহারে উল্লেখ রয়েছে। পরে তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় আহত রুবেলকে উদ্ধার করে গোমস্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসা নেন তিনি।

ঘটনার একটি সিসিটিভি ফুটেজে রুবেলকে কয়েকজন মিলে মারধর করতে দেখা যায়। ফুটেজে আল আমিন বিশ্বাসের উপস্থিতিও দেখা গেছে। একপর্যায়ে মাটিতে পড়ে থাকা রুবেলের টি-শার্ট খুলে নেওয়ার দৃশ্য রয়েছে। এ ছাড়া, আল আমিনকে উপস্থিত ব্যক্তিদের মারধরের নির্দেশ দিতে দেখা গেছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী। আরেকটি দৃশ্যে তাঁকে রুবেলের বাড়িতে বোমা ফাটানোর হুমকি দিতে শোনা যায় বলে দাবি করা হয়েছে।

রুবেল হোসেন বলেন, ‘হামলার পর আমি ও আমার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। তাঁর ভাই আমার বাড়িতে বোমা ফাটিয়ে দেওয়ার প্রকাশ্য হুমকি দিয়েছেন। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই। হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘৫ আগস্টের পর আরও তিনজনকে তাঁর লোকজন দিয়ে একইভাবে মারধর করা হয়েছে। তাঁরা ভয়ে মুখ খুলছেন না, এমনকি আইনের আশ্রয়ও নিতে পারছেন না। আমার মতো আর কেউ যেন এমন হামলার শিকার না হন, সে জন্য দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি করছি।’

অভিযোগের বিষয়ে জেলা যুবদলের সদস্য আল আমিন বিশ্বাস বলেন, ‘টেলিভিশন কেনার সুবাদে রুবেল আমার কাছে আড়াই হাজার টাকা পেতেন। ওই টাকা নিয়ে ১৬ অক্টোবর বিকেল চারটার দিকে হেলিপ্যাড এলাকায় (হাটখোলা বাজার) কথা-কাটাকাটি হয়। পরে সন্ধ্যায় গোমস্তাপুর সিনেমা হলের সামনে তাঁর আপন চাচাতো ভাইয়ের দোকানে টাকা দেওয়ার বিষয়ে মীমাংসার জন্য বসি। কিন্তু সেখানেও রুবেল উচ্চবাচ্য করেন। তখন আমার লোকজন তাঁকে মারধর করেছে। তবে টাকা ছিনতাই ও বিবস্ত্র করার ঘটনা সত্য নয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘তাঁর আপন চাচাতো ভাইয়ের কাছে আমি আগে থেকেই সাড়ে পাঁচ হাজার টাকা পেতাম। সেই টাকা তাঁর ভাইয়ের কাছ থেকে নিতে বলেছিলাম। কিন্তু তাঁর ভাই তাঁকে টাকা দেননি, সেটা আমার জানা ছিল না। রুবেল টাকা পাবেন, এটা ঠিক। কিন্তু তিনি আমাকে যখন-তখন অসম্মানজনক কথা বলেছেন। সে কারণেই আমার লোকজন তাঁকে মারধর করেছে।’

এদিকে, গোমস্তাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাজমুল হক বলেন, মারধরের ঘটনায় ২৬ অক্টোবর থানায় মামলা রেকর্ড হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ চেষ্টা চালাচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি।