ঢাকা ০৭:১৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সিসিকে দুর্নীতির মহোৎসব, শত কোটি টাকার লুটপাটে জড়িত ১৪ কর্মকর্তা-কর্মচারী! মাদকমুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়তে মৌলভীবাজারে শিক্ষক প্রশিক্ষণ পপুলার ডায়াগনস্টিকে অনুমোদিত প্রযুক্তিতে ফাইব্রোস্ক্যান সেবা চালুর উদ্যোগ রামপালে বিশেষ অভিযানে চুরি মামলার আসামি গ্রেপ্তার, চোরাই মালামাল উদ্ধার জাবির ভর্তি পরীক্ষা শুরু ১০ জানুয়ারি, চলবে ২১ জানুয়ারি পর্যন্ত তারাগঞ্জে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের যাত্রা শুরু, প্রতিভা অন্বেষণে মাঠে শিশুরা আত্রাইয়ে বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস পালিত, শিক্ষার্থীদের মধ্যে সাবান বিতরণ মুরাদনগরে চোরাই সিএনজিসহ আন্তঃজেলা চোর চক্রের ৩ সদস্য আটক আত্রাইয়ে গ্রাম আদালতের এজলাস উদ্বোধন, স্বল্প খরচে বিচারসেবা নিশ্চিতের প্রত্যাশা পে-ফিক্সেশনের নামে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে অসাধু সিন্ডিকেট: জিম্মি সাধারণ কর্মচারীরা
বিকাশ লেনদেনের তথ্য ও টাকা নেওয়ার ভিডিও ফাঁস

পে-ফিক্সেশনের নামে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে অসাধু সিন্ডিকেট: জিম্মি সাধারণ কর্মচারীরা

সরকারি কর্মচারীদের উচ্চধাপে বেতন নির্ধারণ বা ‘পে-ফিক্সেশন’ কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে বন বিভাগের বিভিন্ন ডিভিশনে একটি অসাধু চক্রের বিরুদ্ধে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। সরকারি বিধি মোতাবেক সাধারণ কর্মচারীদের ন্যায্য বেতন ও টাইমস্কেল নির্ধারণ একটি নিয়মিত দাপ্তরিক কাজ হলেও, রাঙামাটিসহ বিভিন্ন ডিভিশনের এজি (অ্যাকাউন্ট্যান্ট জেনারেল) অফিসের কিছু অসাধু কর্মকর্তা ও অফিস সহকারীদের সিন্ডিকেটের কারণে এটি এখন চরম ভোগান্তি ও দুর্নীতির উৎসে পরিণত হয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, টাকা না দিলে মাসের পর মাস ফাইল আটকে রাখা হচ্ছে, যার ফলে সাধারণ কর্মচারীরা এই চক্রের কাছে সম্পূর্ণ জিম্মি হয়ে পড়েছেন। অভিযোগের পক্ষে ইতিমধ্যেই বিকাশে টাকা লেনদেনের স্ক্রিনশট, অডিও রেকর্ড এবং সরাসরি টাকা গ্রহণের একাধিক ভিডিও চিত্র সামনে এসেছে।

টাকা ছাড়া মিলছে না সেবা, ডিভিশনভেদে চলছে রেট:

প্রাপ্ত তথ্য ও অভিযোগ অনুযায়ী, রাঙামাটি ডিভিশনে পে-ফিক্সেশনের কাজ সম্পন্ন করতে কর্মচারীপ্রতি ৩,৫০০ থেকে ৪,৫০০ টাকা পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট রেট নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে বা বিলম্ব করলে ফাইলে বিভিন্ন অজুহাতে ত্রুটি ধরে তা বছরের পর বছর ঝুলিয়ে রাখা হচ্ছে।

শুধু রাঙামাটিই নয়, দেশের অন্যান্য ডিভিশনেও এই সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য চরম আকার ধারণ করেছে। অন্যান্য অঞ্চলে ফাইল ছাড়াতে ৩,০০০ থেকে ৫,০০০ টাকা পর্যন্ত অবৈধ উৎকোচ নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে মাঠপর্যায়ের সাধারণ কর্মচারীরা চরম অর্থনৈতিক ও মানসিক হয়রানির শিকার হচ্ছেন।

অভিযুক্তদের তালিকা ও সিন্ডিকেটের নেটওয়ার্ক:

ভুক্তভোগী ও বিভিন্ন সূত্র থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এই অবৈধ অর্থ আত্মসাৎ ও সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত হিসেবে এজি অফিস ও বন বিভাগের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীর নাম উঠে এসেছে। এদের মধ্যে অন্যতম হলেন—

  • এজি অফিসের অডিটর পারভিন সিদ্দিকা
  • বগুড়া ডিভিশনের শাদাত
  • ভোলা ডিভিশনের অফিস সহকারী মুরাদ
  • কক্সবাজার ডিভিশনের অফিস সহকারী মইন ও সুমন
  • রাঙামাটি ডিভিশনের অফিস সহকারী আমিনুল, হেলাল ও কাইউম

অভিযোগ রয়েছে, এই ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের পদে বহাল থেকে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। বিভিন্ন ডিভিশন থেকে টাকা সংগ্রহ করে তা বিকাশের মাধ্যমে এবং সরাসরি অফিসে বসে লেনদেন করা হচ্ছে।

ভিডিও ও ডিজিটাল লেনদেনের অকাট্য প্রমাণ:

এই অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সাধারণ কর্মচারীদের ক্ষোভ এখন চরমে। অভিযোগের সমর্থনে ইতিমধ্যে বেশ কিছু সিসিটিভি ফুটেজ, মোবাইল ফোনে ধারণকৃত টাকা নেওয়ার ভিডিও এবং বিকাশ নম্বরসহ লেনদেনের চিত্র প্রকাশ পেয়েছে। এসব তথ্যপ্রমাণে দেখা যায়, দাপ্তরিক টেবিলের নিচ দিয়ে কিংবা সরাসরি বিকাশের মাধ্যমে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

তীব্র প্রতিবাদ ও সুষ্ঠু তদন্তের দাবি:

সরকারি কর্মচারীদের নিজস্ব দাপ্তরিক কাজের জন্য এভাবে টাকা দেওয়ার নিয়ম না থাকলেও, এই অসাধু চক্রের কারণে পুরো প্রশাসনিক ব্যবস্থার ওপর সাধারণ মানুষের অনাস্থা তৈরি হচ্ছে। বন বিভাগের বিভিন্ন ডিভিশনে এই পে-ফিক্সেশনকে ঘিরে ওঠা অর্থ আদায়ের বিরুদ্ধে এখন তীব্র প্রতিবাদ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

সচেতন মহল ও ভুক্তভোগী কর্মচারীদের জোর দাবি—অবিলম্বে এই ডিজিটাল লেনদেনের তথ্য ও ফাঁস হওয়া ভিডিওসহ সংশ্লিষ্ট সব প্রমাণ যাচাই করে একটি উচ্চপর্যায়ের নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করতে হবে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িত ব্যক্তি বা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দ্রুত বিভাগীয় ও কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

সরকারি কর্মচারীরা যেন তাঁদের ন্যায্য পাওনা ও বেতন বুঝে নিতে গিয়ে কোনো অসাধু সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি না হন, তা নিশ্চিত করা জরুরি। দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করে পে-ফিক্সেশনে শতভাগ স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও হয়রানিমুক্ত সেবা নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হচ্ছে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সিসিকে দুর্নীতির মহোৎসব, শত কোটি টাকার লুটপাটে জড়িত ১৪ কর্মকর্তা-কর্মচারী!

বিকাশ লেনদেনের তথ্য ও টাকা নেওয়ার ভিডিও ফাঁস

পে-ফিক্সেশনের নামে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে অসাধু সিন্ডিকেট: জিম্মি সাধারণ কর্মচারীরা

আপডেট সময় ০৫:৪৩:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬

সরকারি কর্মচারীদের উচ্চধাপে বেতন নির্ধারণ বা ‘পে-ফিক্সেশন’ কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে বন বিভাগের বিভিন্ন ডিভিশনে একটি অসাধু চক্রের বিরুদ্ধে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। সরকারি বিধি মোতাবেক সাধারণ কর্মচারীদের ন্যায্য বেতন ও টাইমস্কেল নির্ধারণ একটি নিয়মিত দাপ্তরিক কাজ হলেও, রাঙামাটিসহ বিভিন্ন ডিভিশনের এজি (অ্যাকাউন্ট্যান্ট জেনারেল) অফিসের কিছু অসাধু কর্মকর্তা ও অফিস সহকারীদের সিন্ডিকেটের কারণে এটি এখন চরম ভোগান্তি ও দুর্নীতির উৎসে পরিণত হয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, টাকা না দিলে মাসের পর মাস ফাইল আটকে রাখা হচ্ছে, যার ফলে সাধারণ কর্মচারীরা এই চক্রের কাছে সম্পূর্ণ জিম্মি হয়ে পড়েছেন। অভিযোগের পক্ষে ইতিমধ্যেই বিকাশে টাকা লেনদেনের স্ক্রিনশট, অডিও রেকর্ড এবং সরাসরি টাকা গ্রহণের একাধিক ভিডিও চিত্র সামনে এসেছে।

টাকা ছাড়া মিলছে না সেবা, ডিভিশনভেদে চলছে রেট:

প্রাপ্ত তথ্য ও অভিযোগ অনুযায়ী, রাঙামাটি ডিভিশনে পে-ফিক্সেশনের কাজ সম্পন্ন করতে কর্মচারীপ্রতি ৩,৫০০ থেকে ৪,৫০০ টাকা পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট রেট নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে বা বিলম্ব করলে ফাইলে বিভিন্ন অজুহাতে ত্রুটি ধরে তা বছরের পর বছর ঝুলিয়ে রাখা হচ্ছে।

শুধু রাঙামাটিই নয়, দেশের অন্যান্য ডিভিশনেও এই সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য চরম আকার ধারণ করেছে। অন্যান্য অঞ্চলে ফাইল ছাড়াতে ৩,০০০ থেকে ৫,০০০ টাকা পর্যন্ত অবৈধ উৎকোচ নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে মাঠপর্যায়ের সাধারণ কর্মচারীরা চরম অর্থনৈতিক ও মানসিক হয়রানির শিকার হচ্ছেন।

অভিযুক্তদের তালিকা ও সিন্ডিকেটের নেটওয়ার্ক:

ভুক্তভোগী ও বিভিন্ন সূত্র থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এই অবৈধ অর্থ আত্মসাৎ ও সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত হিসেবে এজি অফিস ও বন বিভাগের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীর নাম উঠে এসেছে। এদের মধ্যে অন্যতম হলেন—

  • এজি অফিসের অডিটর পারভিন সিদ্দিকা
  • বগুড়া ডিভিশনের শাদাত
  • ভোলা ডিভিশনের অফিস সহকারী মুরাদ
  • কক্সবাজার ডিভিশনের অফিস সহকারী মইন ও সুমন
  • রাঙামাটি ডিভিশনের অফিস সহকারী আমিনুল, হেলাল ও কাইউম

অভিযোগ রয়েছে, এই ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের পদে বহাল থেকে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। বিভিন্ন ডিভিশন থেকে টাকা সংগ্রহ করে তা বিকাশের মাধ্যমে এবং সরাসরি অফিসে বসে লেনদেন করা হচ্ছে।

ভিডিও ও ডিজিটাল লেনদেনের অকাট্য প্রমাণ:

এই অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সাধারণ কর্মচারীদের ক্ষোভ এখন চরমে। অভিযোগের সমর্থনে ইতিমধ্যে বেশ কিছু সিসিটিভি ফুটেজ, মোবাইল ফোনে ধারণকৃত টাকা নেওয়ার ভিডিও এবং বিকাশ নম্বরসহ লেনদেনের চিত্র প্রকাশ পেয়েছে। এসব তথ্যপ্রমাণে দেখা যায়, দাপ্তরিক টেবিলের নিচ দিয়ে কিংবা সরাসরি বিকাশের মাধ্যমে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

তীব্র প্রতিবাদ ও সুষ্ঠু তদন্তের দাবি:

সরকারি কর্মচারীদের নিজস্ব দাপ্তরিক কাজের জন্য এভাবে টাকা দেওয়ার নিয়ম না থাকলেও, এই অসাধু চক্রের কারণে পুরো প্রশাসনিক ব্যবস্থার ওপর সাধারণ মানুষের অনাস্থা তৈরি হচ্ছে। বন বিভাগের বিভিন্ন ডিভিশনে এই পে-ফিক্সেশনকে ঘিরে ওঠা অর্থ আদায়ের বিরুদ্ধে এখন তীব্র প্রতিবাদ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

সচেতন মহল ও ভুক্তভোগী কর্মচারীদের জোর দাবি—অবিলম্বে এই ডিজিটাল লেনদেনের তথ্য ও ফাঁস হওয়া ভিডিওসহ সংশ্লিষ্ট সব প্রমাণ যাচাই করে একটি উচ্চপর্যায়ের নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করতে হবে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িত ব্যক্তি বা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দ্রুত বিভাগীয় ও কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

সরকারি কর্মচারীরা যেন তাঁদের ন্যায্য পাওনা ও বেতন বুঝে নিতে গিয়ে কোনো অসাধু সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি না হন, তা নিশ্চিত করা জরুরি। দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করে পে-ফিক্সেশনে শতভাগ স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও হয়রানিমুক্ত সেবা নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হচ্ছে।