ঢাকা ০৭:২৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
নিউগিনি প্রোপার্টিজের মালিক নাজিমুদ্দিনের বিরুদ্ধে আগেও ছিল জমি দখলের অভিযোগ আওয়ামী লীগের স্টাইলে বক্তব্য দিচ্ছে বিরোধী দল: মুক্তিযুদ্ধমন্ত্রী উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের দূরশিক্ষণ কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করার আহ্বান রাষ্ট্রপতির সৌহার্দ্য-সম্প্রীতির বন্ধনে মুকসুদপুর প্রেসক্লাবের সুন্দরবন ভ্রমণ কুমিল্লায় ঝোপের নিচে বিদেশি পিস্তল ও ৬ রাউন্ড গুলি উদ্ধার ভারি বৃষ্টিতে লণ্ডভণ্ড উত্তর প্রদেশ, নিহত ৫৬ মালয়েশিয়ায় মাটিধসে নিহত শরিফুল ফিরলেন কফিনবন্দি হয়ে ৩৫ কাঠা জমির বিরোধ থেকেই সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে ভাঙচুর: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পদ নয়, কাজেই মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিলেন বিদায়ী ওসি মনিরুজ্জামান নারীকণ্ঠে প্রেমের অভিনয়, সেনা সদস্য সেজে ৭ লাখ টাকা হাতিয়ে গ্রেপ্তার টিটু

পদ নয়, কাজেই মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিলেন বিদায়ী ওসি মনিরুজ্জামান

  • রিয়াজ ফরাজী
  • আপডেট সময় ০৫:৪৬:১৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৫১৬ বার পড়া হয়েছে

কেউ কেউ দায়িত্বের পদে থেকে সম্মান অর্জন করেন, আবার কেউ কেউ দায়িত্ব পালনের ধরন, সততা ও কাজের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মনে জায়গা করে নেন। সদ্য বিদায়ী বোরহানউদ্দিন থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান তাঁদেরই একজন—এমনটাই মনে করেন স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী ও সংশ্লিষ্টরা।

বোরহানউদ্দিন থানায় দায়িত্ব পালনকালে বিশেষ করে নির্বাচনকালীন ও নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার এবং অপরাধ নিয়ন্ত্রণে তাঁর ভূমিকা স্থানীয়ভাবে আলোচনায় আসে। দায়িত্ব গ্রহণের পর থানার কার্যক্রমে শৃঙ্খলা ও পেশাদারিত্ব বাড়াতে তাঁর বিভিন্ন উদ্যোগও ছিল দৃশ্যমান।

একজন গণমাধ্যমকর্মী হিসেবে নির্বাচনকাল থেকে বদলির আগ পর্যন্ত সময়ের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে স্থানীয় সাংবাদিক ইউসুফ হোসেন অনিক বলেন, ওসি মনিরুজ্জামানকে কাছ থেকে দেখার সুযোগ হয়েছে। তাঁর দায়িত্ব পালনের সময়ে মাদকবিরোধী অভিযানকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। বিভিন্ন অভিযানে মাদক উদ্ধার এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি থানার সার্বিক কার্যক্রমে শৃঙ্খলা ফেরানোর চেষ্টা ছিল লক্ষণীয়।

ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষণে ওসি মনিরুজ্জামানকে সাদাসিধে, দায়িত্বশীল ও ধর্মভীরু কর্মকর্তা হিসেবে দেখা গেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। সরকারি দায়িত্ব পালনে সততা, নৈতিকতা ও পেশাগত দায়িত্ববোধকে তিনি গুরুত্ব দিতেন। ফলে দায়িত্ব পালনের সময় স্থানীয় সাধারণ মানুষের একটি অংশের কাছেও তিনি গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করতে সক্ষম হন।

বোরহানউদ্দিন থানা থেকে বদলি হয়ে যাওয়ার পরও তাঁর দায়িত্বকালীন কাজের মূল্যায়ন হয়েছে। ভোলা জেলার পুলিশ সুপারের পক্ষ থেকে তাঁর নতুন কর্মস্থলের ঠিকানায় একটি সম্মাননা স্মারক ও নগদ অর্থ হিসেবে পুরস্কার পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, একজন কর্মকর্তার দায়িত্ব পালনের স্বীকৃতি শুধু কর্মস্থলে থাকা অবস্থাতেই সীমাবদ্ধ থাকে না; ভালো কাজের মূল্যায়ন পরবর্তী সময়েও পাওয়া যেতে পারে। ওসি মনিরুজ্জামানের ক্ষেত্রে সম্মাননা স্মারক ও আর্থিক পুরস্কার সেই স্বীকৃতিরই একটি উদাহরণ।

বোরহানউদ্দিন থানায় দায়িত্ব পালনকালে তাঁর মাদকবিরোধী তৎপরতা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সক্রিয়তা এবং থানার অভ্যন্তরীণ কার্যক্রমে শৃঙ্খলা বজায় রাখার প্রচেষ্টার বিষয়গুলো স্থানীয়ভাবে ইতিবাচকভাবে আলোচিত হয়েছে।

তাঁর এই অর্জনকে ব্যক্তিগত সম্মানের পাশাপাশি একজন পুলিশ কর্মকর্তার সততা, নিষ্ঠা ও পেশাগত দায়িত্ব পালনের স্বীকৃতি হিসেবে দেখছেন তাঁর পরিচিতজনরা।

বিদায়ী ওসি মো. মনিরুজ্জামানের নতুন কর্মস্থলের দায়িত্ব সফলভাবে পালনের পাশাপাশি তাঁর সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও কর্মজীবনের আরও সাফল্য কামনা করেছেন বোরহানউদ্দিনের স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা।

ভালো কাজের সবচেয়ে বড় স্বীকৃতি মানুষের আস্থা। আর দায়িত্বের সময় অর্জিত সেই আস্থা বদলির পরও মানুষের স্মৃতিতে থেকে যায়—ওসি মনিরুজ্জামানের বিদায় যেন তারই একটি দৃষ্টান্ত।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নিউগিনি প্রোপার্টিজের মালিক নাজিমুদ্দিনের বিরুদ্ধে আগেও ছিল জমি দখলের অভিযোগ

পদ নয়, কাজেই মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিলেন বিদায়ী ওসি মনিরুজ্জামান

আপডেট সময় ০৫:৪৬:১৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কেউ কেউ দায়িত্বের পদে থেকে সম্মান অর্জন করেন, আবার কেউ কেউ দায়িত্ব পালনের ধরন, সততা ও কাজের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মনে জায়গা করে নেন। সদ্য বিদায়ী বোরহানউদ্দিন থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান তাঁদেরই একজন—এমনটাই মনে করেন স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী ও সংশ্লিষ্টরা।

বোরহানউদ্দিন থানায় দায়িত্ব পালনকালে বিশেষ করে নির্বাচনকালীন ও নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার এবং অপরাধ নিয়ন্ত্রণে তাঁর ভূমিকা স্থানীয়ভাবে আলোচনায় আসে। দায়িত্ব গ্রহণের পর থানার কার্যক্রমে শৃঙ্খলা ও পেশাদারিত্ব বাড়াতে তাঁর বিভিন্ন উদ্যোগও ছিল দৃশ্যমান।

একজন গণমাধ্যমকর্মী হিসেবে নির্বাচনকাল থেকে বদলির আগ পর্যন্ত সময়ের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে স্থানীয় সাংবাদিক ইউসুফ হোসেন অনিক বলেন, ওসি মনিরুজ্জামানকে কাছ থেকে দেখার সুযোগ হয়েছে। তাঁর দায়িত্ব পালনের সময়ে মাদকবিরোধী অভিযানকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। বিভিন্ন অভিযানে মাদক উদ্ধার এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি থানার সার্বিক কার্যক্রমে শৃঙ্খলা ফেরানোর চেষ্টা ছিল লক্ষণীয়।

ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষণে ওসি মনিরুজ্জামানকে সাদাসিধে, দায়িত্বশীল ও ধর্মভীরু কর্মকর্তা হিসেবে দেখা গেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। সরকারি দায়িত্ব পালনে সততা, নৈতিকতা ও পেশাগত দায়িত্ববোধকে তিনি গুরুত্ব দিতেন। ফলে দায়িত্ব পালনের সময় স্থানীয় সাধারণ মানুষের একটি অংশের কাছেও তিনি গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করতে সক্ষম হন।

বোরহানউদ্দিন থানা থেকে বদলি হয়ে যাওয়ার পরও তাঁর দায়িত্বকালীন কাজের মূল্যায়ন হয়েছে। ভোলা জেলার পুলিশ সুপারের পক্ষ থেকে তাঁর নতুন কর্মস্থলের ঠিকানায় একটি সম্মাননা স্মারক ও নগদ অর্থ হিসেবে পুরস্কার পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, একজন কর্মকর্তার দায়িত্ব পালনের স্বীকৃতি শুধু কর্মস্থলে থাকা অবস্থাতেই সীমাবদ্ধ থাকে না; ভালো কাজের মূল্যায়ন পরবর্তী সময়েও পাওয়া যেতে পারে। ওসি মনিরুজ্জামানের ক্ষেত্রে সম্মাননা স্মারক ও আর্থিক পুরস্কার সেই স্বীকৃতিরই একটি উদাহরণ।

বোরহানউদ্দিন থানায় দায়িত্ব পালনকালে তাঁর মাদকবিরোধী তৎপরতা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সক্রিয়তা এবং থানার অভ্যন্তরীণ কার্যক্রমে শৃঙ্খলা বজায় রাখার প্রচেষ্টার বিষয়গুলো স্থানীয়ভাবে ইতিবাচকভাবে আলোচিত হয়েছে।

তাঁর এই অর্জনকে ব্যক্তিগত সম্মানের পাশাপাশি একজন পুলিশ কর্মকর্তার সততা, নিষ্ঠা ও পেশাগত দায়িত্ব পালনের স্বীকৃতি হিসেবে দেখছেন তাঁর পরিচিতজনরা।

বিদায়ী ওসি মো. মনিরুজ্জামানের নতুন কর্মস্থলের দায়িত্ব সফলভাবে পালনের পাশাপাশি তাঁর সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও কর্মজীবনের আরও সাফল্য কামনা করেছেন বোরহানউদ্দিনের স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা।

ভালো কাজের সবচেয়ে বড় স্বীকৃতি মানুষের আস্থা। আর দায়িত্বের সময় অর্জিত সেই আস্থা বদলির পরও মানুষের স্মৃতিতে থেকে যায়—ওসি মনিরুজ্জামানের বিদায় যেন তারই একটি দৃষ্টান্ত।