ঢাকা ০৫:৩২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বিআরডিবির মাঠ সংগঠক সাইদুরের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ এনবিআর কর কমিশনার রাকিবের বিরুদ্ধে ৩২৪ কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ দুদকের মামলার পরও বহাল এএসপি, জানেন না এসপি-ডিআইজি মুকসুদপুরে দেশীয় মাছের পোনা অবমুক্ত এলজিইডির সাবেক প্রকৌশলী আব্দুস সাত্তারের পরিবারের নামে ১৫ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে বাণিজ্য ও দুর্নীতির অভিযোগ দুবাইয়ে এইচবিএম ইকবালের ৭ বিলাসবহুল সম্পত্তি নিয়ে এনবিআরের অনুসন্ধান বরগুনার বেতাগীতে সেই শিশুকে ধর্ষণের চেষ্টা, যুবককে গ্রেপ্তারের দাবিতে মানববন্ধন পাঁচ ডিজিটাল ব্যাংকের অনুমোদন বড়লেখায় সিন্ডিকেট ভাঙায় হাকালুকির ‘হাওরখাল’ বিল পুনঃনিলামে, রাজস্ব বাড়ল ৩৮ লাখ
পঞ্চগড়ে কোটি টাকার ড্রেন নির্মাণে নিম্নমানের ইট

সাংবাদিকের উপস্থিতি টের পেয়ে সরিয়ে নিল ঠিকাদারের লোকজন

পঞ্চগড়ে চার লেন সড়কের ইউড্রেন নির্মাণকাজে নিম্নমানের ইট ব্যবহার ও স্যাঁতসেঁতে পানির মধ্যে নির্মাণকাজ করার অভিযোগ উঠেছে। বুধবার বিকেলে পঞ্চগড় পৌরসভার ডোকরোপাড়া এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ড কার্যালয়ের সামনে পঞ্চগড়-তেঁতুলিয়া মহাসড়কে এ ঘটনা ঘটে।

অভিযোগ রয়েছে, ড্রেন নির্মাণকাজে অত্যন্ত নিম্নমানের ইট ব্যবহার করা হচ্ছিল। বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে এলে তারা সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজনকে জানান। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

পরে সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে নির্মাণকাজে ব্যবহারের জন্য রাখা নিম্নমানের ইটগুলো দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, যে মানের ইট দিয়ে ড্রেন নির্মাণ করা হচ্ছিল, তা সাধারণত মানুষ নিজেদের বাড়িঘর নির্মাণেও ব্যবহার করেন না। তাদের দাবি, সরকারি অর্থে নির্মাণাধীন গুরুত্বপূর্ণ এই প্রকল্পের কাজের মান যথাযথভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

সচেতন নাগরিক হাসানুজ্জামান পলাশ বলেন, “চার লেন সড়কের পাশে এত বড় অনিয়ম মেনে নেওয়ার মতো নয়। তারা কীভাবে দিনের বেলায় প্রকাশ্যে এমন অনিয়ম করতে পারে, সেটিই প্রশ্ন। আমরা চাই ড্রেনের কাজ ভালো মানের হোক এবং কেউ যেন অনিয়ম করার সাহস না পায়।”

স্থানীয় হোটেল ব্যবসায়ী আলমগীর হোসেন বলেন, “এখানে ড্রেন নির্মাণ করা হচ্ছে। কেউ বলছে এর উচ্চতা ছয় ফুট, আবার কেউ বলছে পাঁচ ফুট ১১ ইঞ্চি। পানি নিষ্কাশনের জন্য এর প্রশস্ততা ও উচ্চতা কত, সেটিও স্পষ্টভাবে জানানো হচ্ছে না। এর মধ্যে দিনের বেলায় নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।”

চার লেন সড়কের নির্মাণকাজের দেখভালের দায়িত্বে থাকা পঞ্চগড় সড়ক বিভাগের কার্যসহকারী মোজাফফর হোসেন বলেন, “দুপুরে খাবার খেতে যাওয়ার সুযোগে তারা নিম্নমানের ইট ফেলেছে। পরে বিষয়টি জানতে পেরে ইটগুলো সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। ইটগুলো নিম্নমানের হওয়ায়ই নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।”

এ বিষয়ে পঞ্চগড় সড়ক বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মোতাহার হোসেন বলেন, “ঘটনার পর নির্বাহী প্রকৌশলীসহ আমরা ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। কাজে কিছুটা ত্রুটি থাকায় সেগুলো সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।”

প্রকাশ্যে নিম্নমানের ইট দিয়ে ড্রেন নির্মাণের চেষ্টা কীভাবে হলো—এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “এখানে কোনো রাজনৈতিক চাপ নেই। আমরা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ভালোভাবে কাজ করার জন্য বলেছি। কাজগুলো আমরা নিয়মিত দেখাশোনা করছি।”

উল্লেখ্য, পঞ্চগড় চৌরঙ্গী মোড় থেকে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার সড়ক চার লেনে উন্নীত করতে প্রায় ৫০ কোটি টাকা ব্যয় করছে সড়ক ও জনপথ বিভাগ। প্রকল্পের আওতায় সড়ক বিভাজক নির্মাণ, ড্রেন নির্মাণ, গাছ লাগানোসহ বিভিন্ন সৌন্দর্যবর্ধনমূলক কাজ করার কথা রয়েছে।

সরকারি অর্থে বাস্তবায়নাধীন গুরুত্বপূর্ণ এ প্রকল্পের নির্মাণকাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ ওঠায় বিষয়টি তদন্ত করে কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বিআরডিবির মাঠ সংগঠক সাইদুরের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

পঞ্চগড়ে কোটি টাকার ড্রেন নির্মাণে নিম্নমানের ইট

সাংবাদিকের উপস্থিতি টের পেয়ে সরিয়ে নিল ঠিকাদারের লোকজন

আপডেট সময় ০৩:২৯:৩৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পঞ্চগড়ে চার লেন সড়কের ইউড্রেন নির্মাণকাজে নিম্নমানের ইট ব্যবহার ও স্যাঁতসেঁতে পানির মধ্যে নির্মাণকাজ করার অভিযোগ উঠেছে। বুধবার বিকেলে পঞ্চগড় পৌরসভার ডোকরোপাড়া এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ড কার্যালয়ের সামনে পঞ্চগড়-তেঁতুলিয়া মহাসড়কে এ ঘটনা ঘটে।

অভিযোগ রয়েছে, ড্রেন নির্মাণকাজে অত্যন্ত নিম্নমানের ইট ব্যবহার করা হচ্ছিল। বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে এলে তারা সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজনকে জানান। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

পরে সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে নির্মাণকাজে ব্যবহারের জন্য রাখা নিম্নমানের ইটগুলো দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, যে মানের ইট দিয়ে ড্রেন নির্মাণ করা হচ্ছিল, তা সাধারণত মানুষ নিজেদের বাড়িঘর নির্মাণেও ব্যবহার করেন না। তাদের দাবি, সরকারি অর্থে নির্মাণাধীন গুরুত্বপূর্ণ এই প্রকল্পের কাজের মান যথাযথভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

সচেতন নাগরিক হাসানুজ্জামান পলাশ বলেন, “চার লেন সড়কের পাশে এত বড় অনিয়ম মেনে নেওয়ার মতো নয়। তারা কীভাবে দিনের বেলায় প্রকাশ্যে এমন অনিয়ম করতে পারে, সেটিই প্রশ্ন। আমরা চাই ড্রেনের কাজ ভালো মানের হোক এবং কেউ যেন অনিয়ম করার সাহস না পায়।”

স্থানীয় হোটেল ব্যবসায়ী আলমগীর হোসেন বলেন, “এখানে ড্রেন নির্মাণ করা হচ্ছে। কেউ বলছে এর উচ্চতা ছয় ফুট, আবার কেউ বলছে পাঁচ ফুট ১১ ইঞ্চি। পানি নিষ্কাশনের জন্য এর প্রশস্ততা ও উচ্চতা কত, সেটিও স্পষ্টভাবে জানানো হচ্ছে না। এর মধ্যে দিনের বেলায় নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।”

চার লেন সড়কের নির্মাণকাজের দেখভালের দায়িত্বে থাকা পঞ্চগড় সড়ক বিভাগের কার্যসহকারী মোজাফফর হোসেন বলেন, “দুপুরে খাবার খেতে যাওয়ার সুযোগে তারা নিম্নমানের ইট ফেলেছে। পরে বিষয়টি জানতে পেরে ইটগুলো সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। ইটগুলো নিম্নমানের হওয়ায়ই নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।”

এ বিষয়ে পঞ্চগড় সড়ক বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মোতাহার হোসেন বলেন, “ঘটনার পর নির্বাহী প্রকৌশলীসহ আমরা ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। কাজে কিছুটা ত্রুটি থাকায় সেগুলো সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।”

প্রকাশ্যে নিম্নমানের ইট দিয়ে ড্রেন নির্মাণের চেষ্টা কীভাবে হলো—এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “এখানে কোনো রাজনৈতিক চাপ নেই। আমরা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ভালোভাবে কাজ করার জন্য বলেছি। কাজগুলো আমরা নিয়মিত দেখাশোনা করছি।”

উল্লেখ্য, পঞ্চগড় চৌরঙ্গী মোড় থেকে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার সড়ক চার লেনে উন্নীত করতে প্রায় ৫০ কোটি টাকা ব্যয় করছে সড়ক ও জনপথ বিভাগ। প্রকল্পের আওতায় সড়ক বিভাজক নির্মাণ, ড্রেন নির্মাণ, গাছ লাগানোসহ বিভিন্ন সৌন্দর্যবর্ধনমূলক কাজ করার কথা রয়েছে।

সরকারি অর্থে বাস্তবায়নাধীন গুরুত্বপূর্ণ এ প্রকল্পের নির্মাণকাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ ওঠায় বিষয়টি তদন্ত করে কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।