ঢাকা ০৫:১৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
২৪ দিন পর ব্রহ্মপুত্রের শাখা নদে ভেসে উঠল নিখোঁজ শিশুর মরদেহ খাস জমি দখলের অভিযোগে নীলফামারীর ইউপি চেয়ারম্যান বরখাস্ত রাজনৈতিক বিরোধে ছাতকে ছাত্রলীগ নেতার ভাই নিখোঁজ, চার মাসেও সন্ধান মেলেনি সুলাইমানের আ জ ম নাছিরের ঘনিষ্ঠ আহমেদ উল্লাহকে ঘিরে মামলা, দখল-বাণিজ্য ও রাজনৈতিক প্রভাবের বিস্তর অভিযোগ ‘শেখ হাসিনা ফিরলে কিছু হবে না’-মন্তব্যের পর ওসি প্রত্যাহার ১০ গোল হজমের পর এবার ৬ গোল খেল বাংলাদেশ এসআই আলতাফ হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের নির্দেশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর রংপুর অভিমুখী লংমার্চে কোনো বিশৃঙ্খলা চাই না: গোলাম পরওয়ার বিডিআর হত্যার ৪ প্রত্যক্ষদর্শীকে গুলি করে বস্তাবন্দি অবস্থায় নদীতে ফেলেন জিয়াউল আহসান চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে ৩ কোটি টাকার চোরাচালানি পণ্য জব্দ

এসআই আলতাফ হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের নির্দেশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় ০৩:৪৫:৪৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৫০৯ বার পড়া হয়েছে

ঢাকার সাভারের আমিনবাজারে সন্ত্রাসীদের নৃশংস হামলায় নিহত স্পেশাল ব্রাঞ্চের (এসবি) এসআই (নিরস্ত্র) মো. আলতাফ হোসেনের হত্যাকাণ্ডে জড়িত সব আসামিকে দ্রুত গ্রেপ্তারের নির্দেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অফিসকক্ষে মন্ত্রীর সঙ্গে নিহতের পরিবারের সদস্যরা সাক্ষাৎ করতে এলে তিনি সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের এ নির্দেশনা দেন।

সাক্ষাৎকালে মন্ত্রী শোকসন্তপ্ত পরিবারটিকে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার সর্বাত্মক আশ্বাস দেন।

মন্ত্রী জানান, নিহত পুলিশ কর্মকর্তার পরিবারের সার্বিক কল্যাণে ইতোমধ্যে পুলিশ অধিদপ্তরের কল্যাণ তহবিল থেকে ৬ লাখ টাকার আর্থিক অনুদান দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া নিহতের পারিবারিক ব্যবসা সচল রাখার সুবিধার্থে ‘কমিউনিটি ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড’ থেকে প্রয়োজনীয় ঋণসহ সার্বিক সহায়তার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে কর্মজীবনে মরহুম আলতাফ হোসেনের নৈতিকতা ও সাহসিকতাপূর্ণ কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে মরণোত্তর ‘পুলিশ পদক (পিপিএম)’ প্রদানের জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন তিনি। মন্ত্রী এ সময় মরহুমের স্ত্রী মোছা. শিউলী পারভীনের হাতে অনুদানের টাকা তুলে দেন।

এর আগে গত ৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা আনুমানিক সাড়ে ৭টার দিকে সাভারের আমিনবাজারের বরদেশী পশ্চিমপাড়ায় একটি অটোরিকশা রাখা নিয়ে সৃষ্ট তর্ক-বিতর্ক মেটাতে গিয়ে সন্ত্রাসীদের হামলার মুখে পড়েন এসআই আলতাফ হোসেন। প্রাণ বাঁচাতে তিনি তাঁর বড় ছেলের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে আশ্রয় নিলে রাত ৮টা ১০ মিনিটে সন্ত্রাসীরা দেশীয় অস্ত্র, রড, পাইপ, হাতুড়ি ও লাঠি নিয়ে সেখানে বর্বর হামলা চালায়। বাবাকে বাঁচাতে গিয়ে তাঁর ছোট ছেলে মো. আরিফুল ইসলামও ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর জখম হন। পরবর্তীতে স্থানীয়রা তাঁদের উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক এসআই আলতাফ হোসেনকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় মরহুমের স্ত্রী বাদী হয়ে ১৫ জনকে আসামি করে সাভার মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

মরহুম আলতাফ হোসেন ১৯৮৬ সালে সিরাজগঞ্জ জেলা থেকে কনস্টেবল পদে বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীতে যোগদান করেন। দীর্ঘ ৪০ বছরের কর্মজীবনে তিনি ডিএমপি, রাঙামাটি, আরআরএফ রাজশাহী, আরএমপি ও বরিশাল জেলায় অত্যন্ত সততা, নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১১ সাল থেকে মৃত্যু পর্যন্ত তিনি স্পেশাল ব্রাঞ্চ (এসবি), ঢাকায় কর্মরত ছিলেন।

মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, বড় ছেলে মো. শরিফুল ইসলাম (৩০) এবং ছোট ছেলে মো. আরিফুল ইসলাম (২৪) রেখে গেছেন।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

২৪ দিন পর ব্রহ্মপুত্রের শাখা নদে ভেসে উঠল নিখোঁজ শিশুর মরদেহ

এসআই আলতাফ হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের নির্দেশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

আপডেট সময় ০৩:৪৫:৪৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ঢাকার সাভারের আমিনবাজারে সন্ত্রাসীদের নৃশংস হামলায় নিহত স্পেশাল ব্রাঞ্চের (এসবি) এসআই (নিরস্ত্র) মো. আলতাফ হোসেনের হত্যাকাণ্ডে জড়িত সব আসামিকে দ্রুত গ্রেপ্তারের নির্দেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অফিসকক্ষে মন্ত্রীর সঙ্গে নিহতের পরিবারের সদস্যরা সাক্ষাৎ করতে এলে তিনি সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের এ নির্দেশনা দেন।

সাক্ষাৎকালে মন্ত্রী শোকসন্তপ্ত পরিবারটিকে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার সর্বাত্মক আশ্বাস দেন।

মন্ত্রী জানান, নিহত পুলিশ কর্মকর্তার পরিবারের সার্বিক কল্যাণে ইতোমধ্যে পুলিশ অধিদপ্তরের কল্যাণ তহবিল থেকে ৬ লাখ টাকার আর্থিক অনুদান দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া নিহতের পারিবারিক ব্যবসা সচল রাখার সুবিধার্থে ‘কমিউনিটি ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড’ থেকে প্রয়োজনীয় ঋণসহ সার্বিক সহায়তার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে কর্মজীবনে মরহুম আলতাফ হোসেনের নৈতিকতা ও সাহসিকতাপূর্ণ কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে মরণোত্তর ‘পুলিশ পদক (পিপিএম)’ প্রদানের জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন তিনি। মন্ত্রী এ সময় মরহুমের স্ত্রী মোছা. শিউলী পারভীনের হাতে অনুদানের টাকা তুলে দেন।

এর আগে গত ৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা আনুমানিক সাড়ে ৭টার দিকে সাভারের আমিনবাজারের বরদেশী পশ্চিমপাড়ায় একটি অটোরিকশা রাখা নিয়ে সৃষ্ট তর্ক-বিতর্ক মেটাতে গিয়ে সন্ত্রাসীদের হামলার মুখে পড়েন এসআই আলতাফ হোসেন। প্রাণ বাঁচাতে তিনি তাঁর বড় ছেলের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে আশ্রয় নিলে রাত ৮টা ১০ মিনিটে সন্ত্রাসীরা দেশীয় অস্ত্র, রড, পাইপ, হাতুড়ি ও লাঠি নিয়ে সেখানে বর্বর হামলা চালায়। বাবাকে বাঁচাতে গিয়ে তাঁর ছোট ছেলে মো. আরিফুল ইসলামও ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর জখম হন। পরবর্তীতে স্থানীয়রা তাঁদের উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক এসআই আলতাফ হোসেনকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় মরহুমের স্ত্রী বাদী হয়ে ১৫ জনকে আসামি করে সাভার মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

মরহুম আলতাফ হোসেন ১৯৮৬ সালে সিরাজগঞ্জ জেলা থেকে কনস্টেবল পদে বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীতে যোগদান করেন। দীর্ঘ ৪০ বছরের কর্মজীবনে তিনি ডিএমপি, রাঙামাটি, আরআরএফ রাজশাহী, আরএমপি ও বরিশাল জেলায় অত্যন্ত সততা, নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১১ সাল থেকে মৃত্যু পর্যন্ত তিনি স্পেশাল ব্রাঞ্চ (এসবি), ঢাকায় কর্মরত ছিলেন।

মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, বড় ছেলে মো. শরিফুল ইসলাম (৩০) এবং ছোট ছেলে মো. আরিফুল ইসলাম (২৪) রেখে গেছেন।