চাঁপাইনবাবগঞ্জের ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে ডেঙ্গু জ্বরের পরীক্ষা সম্পর্কে তথ্য জানতে গিয়ে কানিজা আফরোজ (৪০) নামে এক নারীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে কয়েকজন কথিত দালালের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় আহত ওই নারীকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তাঁর মাথায় তিনটি সেলাই দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
আহত কানিজা আফরোজ চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকার বালুবাগান এলাকার বাসিন্দা। তাঁর অভিযোগ, ছেলের ডেঙ্গু জ্বরের চিকিৎসা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার বিষয়ে তথ্য জানতে তিনি হাসপাতালের বহির্বিভাগে যান। সেখানে সিবিসি (CBC) পরীক্ষা করা হয় কি না—এ বিষয়ে জানতে চাইলে আশপাশে থাকা কয়েকজন ব্যক্তি তাঁকে ও তাঁর ছেলেকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন।

কানিজা আফরোজের অভিযোগ, ওই ব্যক্তিরা তাঁকে হাসপাতাল থেকে বের হয়ে একটি বেসরকারি ক্লিনিকে গিয়ে পরীক্ষা করানোর জন্য চাপ দিতে থাকেন। তিনি আগে পরীক্ষার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানতে চাইলে তাঁকে জোর করে হাসপাতাল থেকে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, একপর্যায়ে কয়েকজন ব্যক্তি প্লাস্টিকের পাইপ ও রডসহ বিভিন্ন জিনিস দিয়ে তাঁকে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। এতে তাঁর মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে। পরে তিনি হাসপাতালের জরুরি বিভাগে গিয়ে চিকিৎসা নেন। সেখানে তাঁর মাথায় তিনটি সেলাই দেওয়া হয়।
কানিজা আফরোজ বলেন, “আমি শুধু জানতে চেয়েছিলাম এখানে সিবিসি পরীক্ষা হয় কি না। এরপর কয়েকজন আমাকে হাসপাতাল থেকে বের করে দিতে চান। আমি বলি, আগে তথ্যটা জেনে নিই। তখন তারা বলে, এখানে পরীক্ষা হয় না, ক্লিনিকে যেতে হবে। আমি যেতে না চাইলে আমাকে মারধর করা হয়।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা বাঁচাও বলে চিৎকার করেছি। তারা আমাদের মেরে ফেলবে বলে ভয় দেখাচ্ছিল। কিন্তু কেউ এগিয়ে এসে সাহায্য করেনি।”
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, সরকারি হাসপাতালটিতে দীর্ঘদিন ধরে কথিত দালালদের দৌরাত্ম্য রয়েছে। তাঁরা রোগী ও স্বজনদের বিভিন্নভাবে প্রভাবিত করে বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।
এ ঘটনায় সরকারি হাসপাতালে রোগী ও স্বজনদের নিরাপত্তা এবং হাসপাতাল চত্বরে কথিত দালালদের কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ভুক্তভোগী ও তাঁর স্বজনরা ঘটনার তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক (আরএমও) ডা. মাহবুব রহমান বলেন, “বিষয়টি আমরা জেনেছি। হাসপাতাল চত্বরে কোনো রোগী বা স্বজনকে হয়রানি কিংবা মারধরের ঘটনা ঘটলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে। ঘটনাটি সম্পর্কে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। হাসপাতালের সেবা নিতে আসা রোগী ও স্বজনদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কর্তৃপক্ষ সচেষ্ট রয়েছে। দালালদের মাধ্যমে রোগী বা স্বজনদের কোনো বেসরকারি ক্লিনিক কিংবা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেলে সেটিও তদন্ত করে দেখা হবে।”
তবে মারধরের ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
মো. জাহিদ হাসান, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি 



















