ঢাকা ০৭:২৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
পলাতক সাজাপ্রাপ্তদের ফেরাতে ভারত সুনির্দিষ্ট জবাব দেয়নি: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী গুণীজনদের সম্মাননায় এফডিসিতে ‘ফিল্ম ডিরেক্টরস ডে’ আত্রাইয়ে সামাজিক বনায়ন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর হাসপাতালে দালালের দাপট, ডেঙ্গু পরীক্ষার তথ্য চাওয়ায় নারীকে মারধর রাজনগরে স্বামীর বাড়ি থেকে গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার, হত্যার অভিযোগ স্বজনদের রাজৈরে নজরুল বর্ষ উপলক্ষে সংগীত, নৃত্য ও বিভিন্ন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত ডেঙ্গুতে অন্তঃসত্ত্বা নারীর মৃত্যু, বাঁচানো যায়নি ৯ মাসের গর্ভের শিশুকেও মিয়ানমারে পাচারের সময় ৪০০ বস্তা ইউরিয়া সারসহ ৩ জন আটক শিক্ষাখাতে পাঁচ বছরে জিডিপির ৫ শতাংশ ব্যয় করা হবে: জনপ্রশাসন উপদেষ্টা মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মুখে ভারতসহ ১০ দেশ

রাজনগরে স্বামীর বাড়ি থেকে গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার, হত্যার অভিযোগ স্বজনদের

কুমিল্লার মুরাদনগরে স্বামীর বাড়ি থেকে আয়েশা আক্তার নামে এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের স্বজনরা তাকে হত্যা করা হয়েছে অভিযোগ করে স্বামী ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে তদন্ত ও বিচার দাবি করেছেন।

নিহত আয়েশা আক্তার দেবিদ্বার উপজেলার রাজামেহার ইউনিয়নের গাংটিয়ারা গ্রামের নজরুল ইসলাম মুন্সি ও সাহানাজ বেগমের মেয়ে। প্রায় ১২ বছর আগে মুরাদনগর উপজেলার পাহাড়পুর দাগার বাড়ি গ্রামের মৃত শহিদের ছেলে আবদুল ওহাবের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়।

নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই আয়েশা বিভিন্ন সময়ে দাম্পত্য নির্যাতনের শিকার হন। তাঁকে মারধর এবং পরিবারের কাছে টাকা দাবির অভিযোগও রয়েছে।

নিহতের ভাইয়ের দাবি, সম্প্রতি আয়েশাকে স্বামীর বাড়িতে পাঠাতে তাঁদের পরিবার রাজি ছিল না। পরে আবদুল ওহাব ক্ষমা চেয়ে আর কোনো ঝগড়া-বিবাদ হবে না বলে আশ্বাস দিলে তাঁকে স্বামীর বাড়িতে পাঠানো হয়। সেখানে যাওয়ার পর তাঁর পরিবারের কাছে ৫ লাখ টাকা দাবি করা হয় এবং টাকা না দিলে তাঁকে হত্যা করে মাছের প্রজেক্টে ফেলে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলেও দাবি করেন তিনি।

স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, মৃত্যুর খবর পেয়ে তাঁরা ঘটনাস্থলে গিয়ে বাড়ির উঠানে আয়েশার মরদেহ দেখতে পান। সে সময় স্বামী বা পরিবারের অন্য সদস্যদের কাউকে বাড়িতে পাওয়া যায়নি। স্বজনরা স্বামীকে ফোন করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

খবর পেয়ে মুরাদনগর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে এবং ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।

মুরাদনগর থানার ওসি মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন চৌধুরী জানান, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, গৃহবধূ ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর এটি আত্মহত্যা নাকি হত্যা-তা নিশ্চিত হওয়া যাবে।

এদিকে নিহতের স্বজনদের দাবি, তাঁরা থানায় হত্যা মামলা করতে গেলেও মামলা নেওয়া হয়নি। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

পলাতক সাজাপ্রাপ্তদের ফেরাতে ভারত সুনির্দিষ্ট জবাব দেয়নি: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

রাজনগরে স্বামীর বাড়ি থেকে গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার, হত্যার অভিযোগ স্বজনদের

আপডেট সময় ০৬:১৩:৩০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কুমিল্লার মুরাদনগরে স্বামীর বাড়ি থেকে আয়েশা আক্তার নামে এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের স্বজনরা তাকে হত্যা করা হয়েছে অভিযোগ করে স্বামী ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে তদন্ত ও বিচার দাবি করেছেন।

নিহত আয়েশা আক্তার দেবিদ্বার উপজেলার রাজামেহার ইউনিয়নের গাংটিয়ারা গ্রামের নজরুল ইসলাম মুন্সি ও সাহানাজ বেগমের মেয়ে। প্রায় ১২ বছর আগে মুরাদনগর উপজেলার পাহাড়পুর দাগার বাড়ি গ্রামের মৃত শহিদের ছেলে আবদুল ওহাবের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়।

নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই আয়েশা বিভিন্ন সময়ে দাম্পত্য নির্যাতনের শিকার হন। তাঁকে মারধর এবং পরিবারের কাছে টাকা দাবির অভিযোগও রয়েছে।

নিহতের ভাইয়ের দাবি, সম্প্রতি আয়েশাকে স্বামীর বাড়িতে পাঠাতে তাঁদের পরিবার রাজি ছিল না। পরে আবদুল ওহাব ক্ষমা চেয়ে আর কোনো ঝগড়া-বিবাদ হবে না বলে আশ্বাস দিলে তাঁকে স্বামীর বাড়িতে পাঠানো হয়। সেখানে যাওয়ার পর তাঁর পরিবারের কাছে ৫ লাখ টাকা দাবি করা হয় এবং টাকা না দিলে তাঁকে হত্যা করে মাছের প্রজেক্টে ফেলে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলেও দাবি করেন তিনি।

স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, মৃত্যুর খবর পেয়ে তাঁরা ঘটনাস্থলে গিয়ে বাড়ির উঠানে আয়েশার মরদেহ দেখতে পান। সে সময় স্বামী বা পরিবারের অন্য সদস্যদের কাউকে বাড়িতে পাওয়া যায়নি। স্বজনরা স্বামীকে ফোন করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

খবর পেয়ে মুরাদনগর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে এবং ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।

মুরাদনগর থানার ওসি মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন চৌধুরী জানান, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, গৃহবধূ ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর এটি আত্মহত্যা নাকি হত্যা-তা নিশ্চিত হওয়া যাবে।

এদিকে নিহতের স্বজনদের দাবি, তাঁরা থানায় হত্যা মামলা করতে গেলেও মামলা নেওয়া হয়নি। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।