জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার পাররামরামপুর ইউনিয়নের পোড়াভিটা এলাকায় সেনাসদস্য জীবন মিয়ার বাড়িতে বিয়ের দাবিতে চার দিন ধরে অনশন করছেন কলেজছাত্রী মিষ্টি আক্তার। তিনি উপজেলার হাতিভাঙ্গা ইউনিয়নের উত্তর সাপমারী গ্রামের খোরসু মিয়ার মেয়ে।
মিষ্টির পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জীবন মিয়া ও মিষ্টি আক্তারের মধ্যে প্রায় চার বছর ধরে প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে। জীবন মিয়া পার্শ্ববর্তী তারাটিয়া পোড়াভিটা জলব্রিজ এলাকার ফেলু মিয়ার ছেলে এবং সেনাবাহিনীতে সৈনিক পদে কর্মরত। পরিবারের দাবি, সম্পর্ক চলাকালে তারা বিভিন্ন স্থানে একসঙ্গে ঘোরাফেরাও করেছেন।
মিষ্টির পরিবারের ভাষ্য, তাদের বিয়ের বিষয়টি নিয়ে এর আগে কয়েক দফা সালিশ-বৈঠক হলেও কোনো সমাধান হয়নি।
সর্বশেষ সালিশে জীবন মিয়ার বাবা ফেলু মিয়া ছেলের সঙ্গে মিষ্টির বিয়ের প্রস্তাবে রাজি হন। তবে সালিশে জীবনকে উপস্থিত করতে না পারায় বিষয়টির সমাধান হয়নি।
সালিশ চলাকালে একপর্যায়ে ফেলু মিয়া মাথা ঘুরে মাটিতে পড়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাকে চিকিৎসার জন্য দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়। এরপর সালিশ বৈঠকটি তাৎক্ষণিকভাবে স্থগিত করা হয় বলে জানা গেছে।
অন্যদিকে, মিষ্টির পরিবারের অভিযোগ, জীবন মিয়ার বাড়িতে অবস্থানকালে মিষ্টি শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। চার দিন ধরে ঠিকমতো খাবার না খেয়ে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বলেও পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।
এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা বিষয়টির দ্রুত ও শান্তিপূর্ণ সমাধানের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে জীবন মিয়ার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও পরিবারের কেউ কথা বলতে রাজি হননি।
দেওয়ানগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন জানান, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কেউ লিখিত অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দেওয়ানগঞ্জ (জামালপুর) প্রতিনিধি 






















