ঢাকা ০৪:৫৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
মঠবাড়িয়ায় মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ-স্যাম্পল বিক্রি, ৫ ফার্মেসিকে জরিমানা ৯ জেলায় ৬০ কিমি বেগে ঝোড়ো হাওয়ার সঙ্গে বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস জমি নিয়ে বিরোধ, রাতের আঁধারে কৃষকের কাঁচা ধান কেটে নষ্ট স্ত্রীকে হত্যার পর মরদেহ গোপন, ফ্রিজে মিলল মাথা সৃজনশীল অর্থনীতিকে জিডিপির ৩ শতাংশে নিতে চায় সরকার: অর্থমন্ত্রী রাজৈরে আদালতের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে দরজার সামনে দেয়াল, অবরুদ্ধ বিধবা পরিবার প্রধানমন্ত্রীকে গালি দেওয়া সেই সিফাতের জামিন নামঞ্জুর নারী থেকে পুরুষ হতে গিয়ে প্রাণ গেল ৩১ বছরের লিজার রোহিঙ্গা সংকট বাংলাদেশের অন্যতম বড় সংকট : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নামে কী কী সম্পদ আছে, ধানমন্ডি ৩২ নম্বর কি তাঁর নামে

নারী থেকে পুরুষ হতে গিয়ে প্রাণ গেল ৩১ বছরের লিজার

নারী থেকে পুরুষ হওয়ার জন্য হরমোন চিকিৎসার পাশাপাশি স্তন অপারেশন করিয়েছিলেন রোজি আক্তার লিজা (৩১)। ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের কয়েক ঘণ্টা পর তার মৃত্যু হয়েছে। গত ৫ সেপ্টেম্বর বিকেলে অপারেশন করা হয়। পরদিন ৬ সেপ্টেম্বর ভোররাতে তার মৃত্যু হয় বলে পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

মৃত লিজা বরিশালের গৌরনদী উপজেলার মাহিলাড়া গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রব হাওলাদার (রব রাজ) এর মেয়ে। ৬ সেপ্টেম্বর বিকেলে পরিবারের সদস্যরা তার লাশ বাড়িতে নিয়ে আসেন। পরে সন্ধ্যার মধ্যেই দাফন করা হয়। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, লিজা ছোটবেলা থেকেই ছেলেদের মতো চলাফেরা করতেন এবং ছেলেদের মতো চুল কাটাতেন। ঢাকার যাত্রাবাড়ী এলাকার বাসিন্দা জেমিনি ওরফে জেনিফা আক্তারের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা ছিল। জেনিফা প্রায়ই লিজাদের বাড়িতে এসে মাসের পর মাস একসঙ্গে থাকতেন। স্থানীয়দের ধারণা, তাদের মধ্যে সমকামী সম্পর্ক ছিল।

জেনিফা স্থানীয় সাংবাদিকদের জানান, তারা একে অপরের বাসায় বেড়াতেন এবং একসঙ্গে থাকতেন। লিজা ঢাকায় হরমোনের চিকিৎসা করাতেন। তার মা, বাবা ও বোন স্তন অপারেশনের জন্য টাকা দেন। ওই টাকা দিয়ে গত ৩ সেপ্টেম্বর ঢাকার পান্থপথের একটি হাসপাতালে ‘সরফরাজ’ নামে লিজাকে ভর্তি করা হয়।

জেনিফার দাবি, অপারেশনের আগে সম্মতিপত্রে তিনি লিজার স্ত্রী হিসেবে স্বাক্ষর করেন। লিজার মা-বাবার সম্মতি নিয়েই তিনি স্বাক্ষর করেছেন বলেও জানান তিনি।

তবে লিজার বাবা আব্দুর রব হাওলাদার বলেন, জেনিফা যে স্বাক্ষর করবেন এবং তার স্বাক্ষরে অপারেশন হবে, সে বিষয়ে তিনি কিছুই জানতেন না। এমনকি লিজার নাম ‘সরফরাজ’ রাখা হয়েছে, সেটিও তিনি ওইদিনই জানতে পারেন।

তিনি বলেন, “লিজা অপারেশন করে পুরুষ হয়ে জেনিফাকে বিয়ে করবে—এমনটা ওর মায়ের কাছে শুনেছি।
লিজার মা ফজিলা বেগম বলেন, ছোটবেলা থেকেই তার মেয়ে কোনো ছেলেকে পছন্দ করতেন না। তাকে জোর করে দুবার বিয়ে দেওয়া হলেও কোনো সংসার করেননি। ছেলেদের সঙ্গে সংসার করার কোনো মনমানসিকতা তার ছিল না।

তিনি আরও বলেন, জেনিফা দীর্ঘদিন ধরে লিজার ঘনিষ্ঠ বান্ধবী হিসেবে তাদের বাড়িতে আসা-যাওয়া করতেন। এ কারণে লিজার অপারেশনের দায়িত্ব তারা জেনিফার ওপর ছেড়ে দিয়েছিলেন।

এদিকে হাসপাতালের দেওয়া মৃত্যু সনদে বলা হয়েছে, ৩ সেপ্টেম্বর লিজাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সনদে তার নাম ‘সরফরাজ’ এবং লিঙ্গ পুরুষ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে মৃত্যু সনদে দেওয়া হাসপাতালের নম্বরে যোগাযোগ করা হলে লিমন নামের এক ব্যক্তি নিজেকে হাসপাতালের অ্যাডমিন পরিচয় দেন। তিনি জিএমের সঙ্গে কথা বলতে বলেন। পরে হাসপাতালের দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসকসহ কেউই ফোনে এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি।
তবে অস্ত্রোপচারের পর মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ, চিকিৎসায় কোনো ত্রুটি ছিল কি না এবং এ ঘটনায় কোনো তদন্ত হয়েছে কি না তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মঠবাড়িয়ায় মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ-স্যাম্পল বিক্রি, ৫ ফার্মেসিকে জরিমানা

নারী থেকে পুরুষ হতে গিয়ে প্রাণ গেল ৩১ বছরের লিজার

আপডেট সময় ০৩:৪০:১২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নারী থেকে পুরুষ হওয়ার জন্য হরমোন চিকিৎসার পাশাপাশি স্তন অপারেশন করিয়েছিলেন রোজি আক্তার লিজা (৩১)। ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের কয়েক ঘণ্টা পর তার মৃত্যু হয়েছে। গত ৫ সেপ্টেম্বর বিকেলে অপারেশন করা হয়। পরদিন ৬ সেপ্টেম্বর ভোররাতে তার মৃত্যু হয় বলে পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

মৃত লিজা বরিশালের গৌরনদী উপজেলার মাহিলাড়া গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রব হাওলাদার (রব রাজ) এর মেয়ে। ৬ সেপ্টেম্বর বিকেলে পরিবারের সদস্যরা তার লাশ বাড়িতে নিয়ে আসেন। পরে সন্ধ্যার মধ্যেই দাফন করা হয়। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, লিজা ছোটবেলা থেকেই ছেলেদের মতো চলাফেরা করতেন এবং ছেলেদের মতো চুল কাটাতেন। ঢাকার যাত্রাবাড়ী এলাকার বাসিন্দা জেমিনি ওরফে জেনিফা আক্তারের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা ছিল। জেনিফা প্রায়ই লিজাদের বাড়িতে এসে মাসের পর মাস একসঙ্গে থাকতেন। স্থানীয়দের ধারণা, তাদের মধ্যে সমকামী সম্পর্ক ছিল।

জেনিফা স্থানীয় সাংবাদিকদের জানান, তারা একে অপরের বাসায় বেড়াতেন এবং একসঙ্গে থাকতেন। লিজা ঢাকায় হরমোনের চিকিৎসা করাতেন। তার মা, বাবা ও বোন স্তন অপারেশনের জন্য টাকা দেন। ওই টাকা দিয়ে গত ৩ সেপ্টেম্বর ঢাকার পান্থপথের একটি হাসপাতালে ‘সরফরাজ’ নামে লিজাকে ভর্তি করা হয়।

জেনিফার দাবি, অপারেশনের আগে সম্মতিপত্রে তিনি লিজার স্ত্রী হিসেবে স্বাক্ষর করেন। লিজার মা-বাবার সম্মতি নিয়েই তিনি স্বাক্ষর করেছেন বলেও জানান তিনি।

তবে লিজার বাবা আব্দুর রব হাওলাদার বলেন, জেনিফা যে স্বাক্ষর করবেন এবং তার স্বাক্ষরে অপারেশন হবে, সে বিষয়ে তিনি কিছুই জানতেন না। এমনকি লিজার নাম ‘সরফরাজ’ রাখা হয়েছে, সেটিও তিনি ওইদিনই জানতে পারেন।

তিনি বলেন, “লিজা অপারেশন করে পুরুষ হয়ে জেনিফাকে বিয়ে করবে—এমনটা ওর মায়ের কাছে শুনেছি।
লিজার মা ফজিলা বেগম বলেন, ছোটবেলা থেকেই তার মেয়ে কোনো ছেলেকে পছন্দ করতেন না। তাকে জোর করে দুবার বিয়ে দেওয়া হলেও কোনো সংসার করেননি। ছেলেদের সঙ্গে সংসার করার কোনো মনমানসিকতা তার ছিল না।

তিনি আরও বলেন, জেনিফা দীর্ঘদিন ধরে লিজার ঘনিষ্ঠ বান্ধবী হিসেবে তাদের বাড়িতে আসা-যাওয়া করতেন। এ কারণে লিজার অপারেশনের দায়িত্ব তারা জেনিফার ওপর ছেড়ে দিয়েছিলেন।

এদিকে হাসপাতালের দেওয়া মৃত্যু সনদে বলা হয়েছে, ৩ সেপ্টেম্বর লিজাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সনদে তার নাম ‘সরফরাজ’ এবং লিঙ্গ পুরুষ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে মৃত্যু সনদে দেওয়া হাসপাতালের নম্বরে যোগাযোগ করা হলে লিমন নামের এক ব্যক্তি নিজেকে হাসপাতালের অ্যাডমিন পরিচয় দেন। তিনি জিএমের সঙ্গে কথা বলতে বলেন। পরে হাসপাতালের দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসকসহ কেউই ফোনে এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি।
তবে অস্ত্রোপচারের পর মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ, চিকিৎসায় কোনো ত্রুটি ছিল কি না এবং এ ঘটনায় কোনো তদন্ত হয়েছে কি না তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।