মেঘনা নদী থেকে বয়ে আসা চাঁদপুর, কুমিল্লা, নোয়াখালী তিন জেলার অন্তর্ভুক্ত ডাকাতিয়া নদী।কচুরিপানার দেখলে খাল ও নদী। শিল্প কারখানার বর্জ্য, হাট -বাজার,পৌরসভার বর্জ্য, রাইস মিলের বর্জ্য, কেমিক্যাল বর্জ্য, মারাত্মক দূষিত হয়ে পড়ছে। নদীটির পানির দুর্গন্ধে ছড়িয়ে পড়েছে আশপাশ এলাকা। মৎস্য সম্পদ, জনস্বাস্থ্য, পরিবেশ ক্ষেত্রে বিপর্যয়কর প্রভাব ফেলছে। ১৬০ ফুট দৈর্ঘ্য ডাকাতিয়া নদীটির দুই পাড়ে থাকা মনোহরগঞ্জ , লাকসাম, লালমাই তিন উপজেলার কিছু দুষ্কৃতী,ভূমিদস্যু প্রভাবশালী লোকজনের নদীর ভেতরে বাড়ি- ঘর মার্কেট। দখল দূষণের কারণে ১৬০ফুট নদী এখন ৪০ থেকে ৬০ফুটে পরিণত হয় ।বন্যার স্রোতে উপর থেকে নেমে আসা পলিমাটি জমে ভরাট হয় নদী।
ডাকাতিয়া নদী দিয়ে একসময় ব্যবসায়ীরা লঞ্চ-ইস্টিমার ,ডেঙ্গি নৌকা দিয়ে চাঁদপুর, হাজীগঞ্জ শাহারাস্তি, থেকে ইট-বালু,রড,সিমেন্ট,পাট,ধান,চা উল,গম,আটা,ময়দা, আদা,পেয়াজ, রসুন,হলুদ,লবণ, মরিচসহ বিভিন্ন হাট বাজারে নদী পথে মুদি মালা- মল নিয়ে ব্যবসায়ীরা ব্যবসা করত। চিতোষী-শাহারাস্তি,শান্তিরবাজা র,পোমগাঁও,মনোহরগঞ্জ,লক্ষনপুর, লাকসাম, বাগমারা,লালমাই, কুমিল্লা চৌদ্দগ্রাম, নাঙ্গলকোট,বিপুলাস,সোনাইমুড়ী, চৌমোহনী, ফেনী,নোয়াখালী সহ বিভিন্ন জেলা শহরে ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন মালামাল নিয়ে আমদানি রপ্তানি করতেন দেশ-বিদেশে এ ডাকাতিয়া নদীপথে। নদীর ভেতরেএবং দুই পাড়ে গড়ে তুলছেন বহুতল ভবন,বাড়ি ঘর,মার্কেট,জেলেরা মাছ ধরার জন্য বাঁশের বাঁধ -বারা দিয়ে করছেন নদী দখল। মনোহরগঞ্জ বাজার থেকে আমতলী,কালিয়াপুর, ইছাপুরা,লাকসাম নদীপথে লঞ্চ ইস্টিমার চলাচল একেবারে বন্ধ হয়ে গেছে । ডাকাতিয়া নদীর পানি দিয়ে এলাকার লক্ষ লক্ষ একর কৃষি জমিতে ইরি ধান সহ বিভিন্ন ফসলের চাষাবাদ করতেন। লক্ষ লক্ষ কৃষক এ নদীর ওপর নির্ভর শীল ছিলেন । কেমিক্যাল যুক্ত পানি ব্যবহারের ফলে ইরি বরো ধানসহ বিভিন্ন ফসলের ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে,ফসল উৎপাদন কমে যাচ্ছে। একসময় ডাকাতিয়ায় বিভিন্ন প্রজাতির দেশীয় মাছ নদীর মিঠা পানিতে প্রচুর পাওয়া যেত।আশ পাশের খাল বিল ভরে থাকতো মাছে। হাজার হাজার পরিবার জীবিকা নির্বাহ করত ।
কিন্ত পানি দূষণের কারণে অধিকাংশ দেশি মাছ, বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। এছাড়া বিভিন্ন কারখানার ময়লা, রাইস মিলের বর্জ্য, আশপাশের হাট -বাজার,বাসাবাড়ি ব্যবসা -প্রতিষ্ঠানের ময়লা আবর্জনা ফেলার কারণে নদীর পানি দূষিত হয়ে মশা মাছির উপদ্রববৃদ্ধি পেয়ে নানান রোগব্যধি ছড়াচ্ছে। দীর্ঘদিন নদী খনন না করায় মরাখালে পরিণত হয়।এলাকার হাজার হাজার কৃষক, ব্যবসায়ী, জেলে সহ নদীর দুই পাড়ে থাকা লাখ-লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত । বর্তমানে নদীর পানির দূষণ ভয়াবহ রুপ নিয়েছে, দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে আশপাশ এলাকায়। মনোহরগঞ্জের ইট বালু ব্যবসায়ী মো,শহিদ, আব্দুল মতিন, নুরুল ইসলাম বলেন, চাঁদপুর, হাজীগঞ্জ,শাহারাস্তি থেকে নৌকা, ডিঙ্গি, লঞ্চ ইস্টিমারে ইট, বালুর ব্যবসা করতাম, নৌকা, লঞ্চ ইস্টিমার চলাচল করতে না পারায় এখন আমাদের ব্যবসা বন্ধ হয়েছে। মনোহরগঞ্জবাজার, কালিয়াপুর বাজার, আমিরাবাগ বজার, ইছাপুরা বাজার,লাকসাম বাজার এই সমস্ত বাজারের ব্যবসায়ীরা ভূমি অফিস থেকে নাম মাত্র টাকায় লিজ নিয়ে গড়ে তুলছেন শত শত দোকান ও মার্কেট।মাননীয় প্রধান মন্ত্রী তারেক রহমান সহ ৪ অধিদপ্তরে ডাকাতিয়া নদীর পানি দূষিত হওয়া প্রসঙ্গে আবেদন করেন, মো,সফিকুর রহমান, সম্পাদক ও প্রকাশক দৈনিক আজকের জীবন ও কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক দপ্তর সম্পাদক ।আবেদন করেন গত ৬/৭/২৬ ইং তারিখ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রধান কার্যালয় তেজগাঁও ঢাকা, মহাপরিচালক পরিবেশ অধিদপ্তর প্রধান কার্যালয় ঢাকা, উপ পরিচালক পরিবেশ অধিদপ্তর কুমিল্লা, জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও জেলা প্রশাসক কুমিল্লা। স্থানীয় বাসিন্দারা সংসদ সদস্য মো, আবুল কালামের কাছে নদীটির সীমানা পূন নির্ধারণ করে নদী সংস্কার ও খনন করার দাবি করছেন । সাধারণ মানুষ জনপ্রতিনিধ ও প্রশাসনের নিকট সমস্যার দ্রুত সমাধান চায়, সংশ্লিষ্টরা এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন আশা করছেন এলাকাবাসী । জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট রোজী আক্তার বলেন, লিখিত আবেদন করলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে ।
আবদুর রহিম মনোহরগঞ্জ ( কুমিল্লা) প্রতিনিধি 





















