ঢাকা ০৮:১৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬, ৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ভঙ্গুর অর্থনীতিতেই দেশের হাল ধরেছে সরকার: স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী চোরাচালান ও আটক পণ্য নিষ্পত্তিতে এনবিআরের নতুন আদেশ জারি রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক চাপ বাড়াতে কাজ করছে সরকার : পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী পদত্যাগ করলেন পিএসসি চেয়ারম্যান মোবাশ্বের মোনেম রাতের আঁধারে ১১ লাখ টাকার ডাকাতি, ৮ দিনেই আন্তজেলা ডাকাত দলের সর্দারসহ গ্রেপ্তার ৩ ন্যাড়া মাথায় মন্দিরে হাজির বলিউড অভিনেত্রী নয়নতারা পবিপ্রবিতে প্রথমবারের মত শিক্ষার্থীদের মাঝে লেকের মাছ বিতরণ কেল্লা বাবার মাজারের দানবাক্স খুলে মিলল ১ কোটি ৩ লাখ টাকা কালুখালীতে নবাগত ইউএনও এস এম রেজাউল করিম এর যোগদান বেগমগঞ্জের বাংলাবাজারে নতুন থানা স্থাপনের দাবি

মদের কারখানার ড্রেন খুঁড়ে মিলল ১২৭ কোটি টাকার সোনা

বেলজিয়ামে পরিত্যক্ত এক মদের কারখানার পয়ঃনিষ্কাশনের ড্রেন খনন করতে গিয়ে প্রায় ৯ মিলিয়ন ইউরো বা ১২৭ কোটি ৬৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা মূল্যের সোনা ও মূল্যবান প্রাচীন মুদ্রার সন্ধান পেয়েছেন শ্রমিকরা।

ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ানের গত শুক্রবারের (১৪ আগস্ট) এক প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে এ তথ্য।
প্রতিবেদেন অনুসারে, রাজধানী ব্রাসেলস থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে সেন্ট-গিলিস-ডেন্ডারমন্ডে এলাকায় ড্রেনেজ লাইনের পুরোনো পাইপ বদলের কাজ চলছিল। সেখানে গ্রীষ্মকালীন কর্মী হিসেবে কাজ করছিলেন ১৮ বছর বয়সী তরুণ কোবে। কাজের সময় তিনিই প্রথম মাটির নিচে থাকা এই সোনার সন্ধান পান।

বেলজিয়ামের টেলিভিশন নেটওয়ার্ক ভিটিএমকে কোবে জানান, প্রথমে মাটিতে কয়েকটি মুদ্রা দেখতে পেয়েছিলেন তিনি এবং প্রাথমিকভাবে তিনি ও তার সহকর্মীরা ভেবেছিলেন, সেগুলো এক ইউরোর মুদ্রা। পরে একটি সোনার বার দেখতে পান তারা। এরপর আরও খনন করে বিপুল পরিমাণ সোনার মুদ্রা, সোনার টুকরা এবং নম্বরযুক্ত সোনার বার পাওয়া যায়।

সোনার বারগুলো একটি ব্যাগের মধ্যে রাখা ছিল এবং ব্যাগটি সেন্ট-গিলিস-ডেন্ডারমন্ডের একটি পুরোনো ভবনের ভূগর্ভস্থ কক্ষের ইট দিয়ে বন্ধ করা দেয়ালের ভেতরে লুকানো ছিল।

জানা যায়, ওই ভবনটি উনিশ শতকের শেষ দিকে মদ ব্যবসায়ী থিওফিলাস ভ্যান অ্যাশের জন্য নির্মাণ করা হয়েছিল। সেখানে ১৮৯৯ সালে ভবনটিতে মদ উৎপাদন শুরু হয় এবং ১৯৭০ সালে তা বন্ধ হয়ে যায়।

বর্তমানে পুরোনো ভবনটি সংস্কার করে কার্যালয় ও আবাসন তৈরির কাজ চলছে। নির্মাণকাজের সময় এই বিপুল সোনা ও মূল্যবান মুদ্রার সন্ধান পাওয়া যাওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে পুরো এলাকায় নিরাপত্তা জারি করে কর্তৃপক্ষ।

পরে উদ্ধার করা সোনা ও অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী ব্রাসেলসের একটি নিরাপদ স্থানে নিয়ে রাখা হয়। এসব সম্পদের উৎস ও প্রকৃত মালিকানা নির্ধারণে এখন তদন্ত চলছে।

পূর্ব ফ্লান্ডারসের প্রসিকিউটর কার্যালয় জানিয়েছে, সোনাগুলো চুরি করা হয়েছিল কি না কিংবা কোনো অপরাধের সঙ্গে এগুলোর সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা প্রথমে যাচাই করা হবে। তারপর সম্পদের বৈধ মালিকানা নিয়ে আইনি প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে।

খুঁজে পাওয়া সম্পদের সম্ভাব্য দাবিদার হিসেবে ভবনটির মালিকপক্ষ, নির্মাণকাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান এবং ভ্যান অ্যাশে পরিবারের উত্তরসূরিদের বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।

বেলজিয়ামের আইন অনুযায়ী, প্রকৃত মালিকের দাবির জন্য পাঁচ বছর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়। এই সময়ের মধ্যে বৈধ দাবিদার পাওয়া গেলে সম্পদের মালিকানা নিয়ে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।
এদিকে ১৮ বছর বয়সী কোবে আশা করছেন, এত বড় সম্পদের ভাণ্ডার খুঁজে পাওয়ার জন্য তিনি ও তার সহকর্মীরা বড় কোনো পুরস্কার বা সম্মানী পেতে পারেন।

 

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ভঙ্গুর অর্থনীতিতেই দেশের হাল ধরেছে সরকার: স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী

মদের কারখানার ড্রেন খুঁড়ে মিলল ১২৭ কোটি টাকার সোনা

আপডেট সময় ০৪:৫০:৪৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬

বেলজিয়ামে পরিত্যক্ত এক মদের কারখানার পয়ঃনিষ্কাশনের ড্রেন খনন করতে গিয়ে প্রায় ৯ মিলিয়ন ইউরো বা ১২৭ কোটি ৬৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা মূল্যের সোনা ও মূল্যবান প্রাচীন মুদ্রার সন্ধান পেয়েছেন শ্রমিকরা।

ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ানের গত শুক্রবারের (১৪ আগস্ট) এক প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে এ তথ্য।
প্রতিবেদেন অনুসারে, রাজধানী ব্রাসেলস থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে সেন্ট-গিলিস-ডেন্ডারমন্ডে এলাকায় ড্রেনেজ লাইনের পুরোনো পাইপ বদলের কাজ চলছিল। সেখানে গ্রীষ্মকালীন কর্মী হিসেবে কাজ করছিলেন ১৮ বছর বয়সী তরুণ কোবে। কাজের সময় তিনিই প্রথম মাটির নিচে থাকা এই সোনার সন্ধান পান।

বেলজিয়ামের টেলিভিশন নেটওয়ার্ক ভিটিএমকে কোবে জানান, প্রথমে মাটিতে কয়েকটি মুদ্রা দেখতে পেয়েছিলেন তিনি এবং প্রাথমিকভাবে তিনি ও তার সহকর্মীরা ভেবেছিলেন, সেগুলো এক ইউরোর মুদ্রা। পরে একটি সোনার বার দেখতে পান তারা। এরপর আরও খনন করে বিপুল পরিমাণ সোনার মুদ্রা, সোনার টুকরা এবং নম্বরযুক্ত সোনার বার পাওয়া যায়।

সোনার বারগুলো একটি ব্যাগের মধ্যে রাখা ছিল এবং ব্যাগটি সেন্ট-গিলিস-ডেন্ডারমন্ডের একটি পুরোনো ভবনের ভূগর্ভস্থ কক্ষের ইট দিয়ে বন্ধ করা দেয়ালের ভেতরে লুকানো ছিল।

জানা যায়, ওই ভবনটি উনিশ শতকের শেষ দিকে মদ ব্যবসায়ী থিওফিলাস ভ্যান অ্যাশের জন্য নির্মাণ করা হয়েছিল। সেখানে ১৮৯৯ সালে ভবনটিতে মদ উৎপাদন শুরু হয় এবং ১৯৭০ সালে তা বন্ধ হয়ে যায়।

বর্তমানে পুরোনো ভবনটি সংস্কার করে কার্যালয় ও আবাসন তৈরির কাজ চলছে। নির্মাণকাজের সময় এই বিপুল সোনা ও মূল্যবান মুদ্রার সন্ধান পাওয়া যাওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে পুরো এলাকায় নিরাপত্তা জারি করে কর্তৃপক্ষ।

পরে উদ্ধার করা সোনা ও অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী ব্রাসেলসের একটি নিরাপদ স্থানে নিয়ে রাখা হয়। এসব সম্পদের উৎস ও প্রকৃত মালিকানা নির্ধারণে এখন তদন্ত চলছে।

পূর্ব ফ্লান্ডারসের প্রসিকিউটর কার্যালয় জানিয়েছে, সোনাগুলো চুরি করা হয়েছিল কি না কিংবা কোনো অপরাধের সঙ্গে এগুলোর সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা প্রথমে যাচাই করা হবে। তারপর সম্পদের বৈধ মালিকানা নিয়ে আইনি প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে।

খুঁজে পাওয়া সম্পদের সম্ভাব্য দাবিদার হিসেবে ভবনটির মালিকপক্ষ, নির্মাণকাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান এবং ভ্যান অ্যাশে পরিবারের উত্তরসূরিদের বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।

বেলজিয়ামের আইন অনুযায়ী, প্রকৃত মালিকের দাবির জন্য পাঁচ বছর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়। এই সময়ের মধ্যে বৈধ দাবিদার পাওয়া গেলে সম্পদের মালিকানা নিয়ে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।
এদিকে ১৮ বছর বয়সী কোবে আশা করছেন, এত বড় সম্পদের ভাণ্ডার খুঁজে পাওয়ার জন্য তিনি ও তার সহকর্মীরা বড় কোনো পুরস্কার বা সম্মানী পেতে পারেন।