নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ মডেল থানাকে বিভক্ত করে উপজেলার বাংলাবাজার এলাকায় নতুন থানা স্থাপনের দাবি জোরালো হয়েছে। দীর্ঘদিনের এ দাবির পক্ষে ভৌগোলিক অবস্থান, বিশাল এলাকার প্রশাসনিক চাপ, সীমিত জনবল এবং সীমান্তবর্তী এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয়তাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক মঞ্জুরি এবং প্রস্তাবিত থানার জন্য প্রয়োজনীয় পদ সৃষ্টির ব্যবস্থা নিতে পুলিশ সদর দপ্তরে পুনরায় অনুরোধ জানিয়েছে নোয়াখালী জেলা পুলিশ। ২০২৫ সালের ২৮ জানুয়ারি নোয়াখালীর পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকে অতিরিক্ত ডিআইজি (এডমিন), বাংলাদেশ পুলিশ, পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স, ঢাকার কাছে পাঠানো এক চিঠিতে বাংলাবাজারে নতুন থানা স্থাপনের প্রস্তাবের বিষয়টি তুলে ধরা হয়।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, বেগমগঞ্জ থানার আওতাধীন বিশাল এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের ওপর ব্যাপক চাপ রয়েছে। বেগমগঞ্জ থানার অধীনে ১৬টি ইউনিয়ন এবং চৌমুহনীর মতো গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক পৌরসভা রয়েছে। অন্যদিকে প্রস্তাবিত বাংলাবাজার থানা এলাকার আমানউল্যাহপুর ও আলাইয়ারপুর ইউনিয়ন লক্ষ্মীপুর জেলার চন্দ্রগঞ্জ সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত।
সীমান্তবর্তী অবস্থানের কারণে কোনো অপরাধ সংঘটনের পর অপরাধীরা সহজেই পার্শ্ববর্তী জেলার সীমানায় চলে যেতে পারে। এতে বেগমগঞ্জ থানা থেকে এসব অপরাধীকে দ্রুত নিয়ন্ত্রণ করা অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে ওই এলাকায় কিছু সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড সংঘটিত হওয়ায় আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে আরও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। বিশাল এলাকার তুলনায় বেগমগঞ্জ থানা পুলিশের জনবলও সীমিত। ফলে একটি থানার পক্ষে পুরো এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ছে বলে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
আগেও একাধিকবার সুপারিশ
বাংলাবাজারে নতুন থানা স্থাপনের বিষয়টি নতুন নয়। চিঠিতে বলা হয়েছে, এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক, ডিআইজি চট্টগ্রাম রেঞ্জ এবং বিভাগীয় কমিশনার চট্টগ্রামের দপ্তরের মাধ্যমে একাধিকবার তদন্ত প্রতিবেদন ও প্রস্তাব পুলিশ সদর দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। বিভিন্ন পর্যায়ের তদন্ত ও প্রতিবেদনে নতুন থানা স্থাপনের বিষয়টি ইতিবাচকভাবে উঠে এসেছে।
তবে দীর্ঘদিন ধরে প্রস্তাবটি প্রক্রিয়াধীন থাকলেও থানা স্থাপনের কার্যক্রমের সর্বশেষ অগ্রগতি সম্পর্কে নোয়াখালী জেলা পুলিশ অবহিত নয় বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
৮ ইউনিয়ন নিয়ে প্রস্তাবিত নতুন থানা
পুলিশের সর্বশেষ প্রস্তাব অনুযায়ী, বেগমগঞ্জ থানাকে বিভক্ত করে প্রস্তাবিত আটটি ইউনিয়ন নিয়ে বাংলাবাজার নামক স্থানে নতুন থানা স্থাপনের কথা বলা হয়েছে।
এ জন্য প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক মঞ্জুরি দেওয়ার পাশাপাশি নতুন থানার জন্য প্রয়োজনীয় পদ সৃষ্টির ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পুলিশ সদর দপ্তরে পুনরায় অনুরোধ জানানো হয়েছে।
জনগণের সেবায় মিলবে সুফল
বাংলাবাজারে পৃথক থানা স্থাপন হলে প্রস্তাবিত আট ইউনিয়নের মানুষকে পুলিশি সেবা নিতে দূরের বেগমগঞ্জ মডেল থানায় যেতে হবে না। মামলা ও সাধারণ ডায়েরি (জিডি) গ্রহণ, পুলিশি সহায়তা, তদন্ত, ভেরিফিকেশনসহ জরুরি সেবা স্থানীয় পর্যায়েই দ্রুত পাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।
পাশাপাশি সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় পুলিশের টহল ও অভিযান আরও দ্রুত পরিচালনা করা সম্ভব হবে। এতে সন্ত্রাসী ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে নিরাপত্তাবোধ বাড়বে।
নতুন থানা প্রতিষ্ঠা হলে বাংলাবাজার ও আশপাশের এলাকার ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিবেশও আরও নিরাপদ হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, বাংলাবাজারে পৃথক থানা হলে শুধু আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন নয়, বরং স্থানীয় জনগণের পুলিশি সেবা ও নাগরিক সুবিধা আরও সহজলভ্য হবে।
সংবাদ শিরোনাম ::
আইনশৃঙ্খলা ও জনসেবায় মিলবে সুফল
বেগমগঞ্জের বাংলাবাজারে নতুন থানা স্থাপনের দাবি
-
হুমায়ুন কবির নিজস্ব প্রতিবেদক - আপডেট সময় ০৬:৩২:৪৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬
- ৫১০ বার পড়া হয়েছে
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ



















