ঢাকা ১০:৪৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
দায়িত্ব বাড়ল দুই মন্ত্রীর নেত্রকোনায় জুয়ার আসর থেকে ৮ জুয়াড়ি আটক মায়ের কোলে শিশু যেমন নিরাপদ, বাংলাদেশে সব ধর্মের মানুষও তেমন নিরাপদ : চরমোনাই পীর নোয়াখালীতে সাবেক রেলওয়ে প্রকৌশলী শাহ আলমের রুহের মাগফেরাত কামনায় দোয়া মাহফিল কোটালীপাড়ায় প্রীতি ফুটবল ম্যাচ: বিবাহিত ও অবিবাহিত দল গোলে ড্র শিবগঞ্জে রাতের আঁধারে কবরস্থানের ১৪০ মেহগনি গাছ কেটে ফেলেছে দুর্বৃত্তরা ব্রাহ্মণপাড়ায় পুলিশের পৃথক অভিযানে ৯ জন গ্রেপ্তার, সাড়ে ২৬ কেজি গাঁজা উদ্ধার ময়নাতদন্ত ও থানায় অভিযোগ ছাড়াই সোহাগের লাশ দাফন: রহস্য আরও ঘনীভূত হাই-টেক পার্কে আনোয়ার-শফিকের কোটি টাকার অনিয়ম, নিয়োগ-বাণিজ্য, টেন্ডারের তথ্য পাচার ও ওএসএস ঘিরে অভিযোগ দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে দুদককে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান রাষ্ট্রপতির

কেল্লা বাবার মাজারের দানবাক্স খুলে মিলল ১ কোটি ৩ লাখ টাকা

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ার ঐতিহ্যবাহী খড়মপুর শাহ সৈয়দ আহাম্মদ গেছুদারাজ (রহ.) ওরফে কেল্লা বাবার মাজারের চারটি দানবাক্স খুলে মিলেছে ১ কোটি ৩ লাখ ৩৫১ টাকা। নগদ অর্থের পাশাপাশি পাওয়া গেছে বৈদেশিক মুদ্রা ও স্বর্ণালংকার। মাজারের ইতিহাসে এবারই প্রথম দানবাক্সে কোটি টাকার বেশি অর্থ জমা পড়েছে।

ওরস শেষে সোমবার (১৭ আগস্ট) সকাল ৯টায় মাজারের চারটি দানবাক্স খোলা হয়। আখাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও মাজার পরিচালনা কমিটির সহসভাপতি তাপসী রাবেয়ার নেতৃত্বে টাকা গণনা শুরু হয়। দীর্ঘ প্রায় সাড়ে ১৯ ঘণ্টা গণনা শেষে মঙ্গলবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে গণনা কার্যক্রম শেষ হয়।

চারটি দানবাক্স থেকে পাওয়া টাকা ভরে মোট ১২টি বস্তা হয়। বিপুল পরিমাণ এই টাকা গণনায় সোনালী ব্যাংকের প্রায় ৫০ জন কর্মকর্তা এবং মাজার শরিফ মাদ্রাসার অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী ও স্বেচ্ছাসেবী অংশ নেন। গণনা শেষে নগদ অর্থ সোনালী ব্যাংকের স্থানীয় শাখায় জমা দেওয়া হয়েছে।

গত ১০ আগস্ট মাজারে সাত দিনব্যাপী ওরস শুরু হয়। ১৪ আগস্ট রাতে আখেরি মোনাজাতের মাধ্যমে ওরসের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটে। ওরস উপলক্ষে দেশ-বিদেশ থেকে আসা হাজার হাজার ভক্ত ও আশেকান দানবাক্সে নগদ অর্থের পাশাপাশি সোনা-রুপা ও বৈদেশিক মুদ্রা দান করেন। ভক্তদের দেওয়া পশুপাখি ও অন্যান্য সামগ্রীর হিসাব আলাদাভাবে করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, খড়মপুরের এই মাজারটি প্রায় ৭০০ বছরের পুরোনো। প্রতিবছর দেশের বিভিন্ন অঞ্চলসহ বিদেশ থেকেও বিপুলসংখ্যক পুণ্যার্থী ও ভক্ত এখানে আসেন।

মাজার পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম, মিন্টু খাদেম নামে পরিচিত, জানান, দানবাক্সে জমা পড়া অর্থের পরিমাণ প্রতি বছরই বাড়ছে। ২০২১ সালে পাওয়া গিয়েছিল ৬১ লাখ টাকা, ২০২২ সালে ৬৪ লাখ এবং ২০২৩ সালে ৮৪ লাখ টাকা। এবার আগের সব রেকর্ড ভেঙে প্রথমবারের মতো দানের পরিমাণ ১ কোটি টাকার মাইলফলক অতিক্রম করেছে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

দায়িত্ব বাড়ল দুই মন্ত্রীর

কেল্লা বাবার মাজারের দানবাক্স খুলে মিলল ১ কোটি ৩ লাখ টাকা

আপডেট সময় ০৬:৪৮:১১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ার ঐতিহ্যবাহী খড়মপুর শাহ সৈয়দ আহাম্মদ গেছুদারাজ (রহ.) ওরফে কেল্লা বাবার মাজারের চারটি দানবাক্স খুলে মিলেছে ১ কোটি ৩ লাখ ৩৫১ টাকা। নগদ অর্থের পাশাপাশি পাওয়া গেছে বৈদেশিক মুদ্রা ও স্বর্ণালংকার। মাজারের ইতিহাসে এবারই প্রথম দানবাক্সে কোটি টাকার বেশি অর্থ জমা পড়েছে।

ওরস শেষে সোমবার (১৭ আগস্ট) সকাল ৯টায় মাজারের চারটি দানবাক্স খোলা হয়। আখাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও মাজার পরিচালনা কমিটির সহসভাপতি তাপসী রাবেয়ার নেতৃত্বে টাকা গণনা শুরু হয়। দীর্ঘ প্রায় সাড়ে ১৯ ঘণ্টা গণনা শেষে মঙ্গলবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে গণনা কার্যক্রম শেষ হয়।

চারটি দানবাক্স থেকে পাওয়া টাকা ভরে মোট ১২টি বস্তা হয়। বিপুল পরিমাণ এই টাকা গণনায় সোনালী ব্যাংকের প্রায় ৫০ জন কর্মকর্তা এবং মাজার শরিফ মাদ্রাসার অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী ও স্বেচ্ছাসেবী অংশ নেন। গণনা শেষে নগদ অর্থ সোনালী ব্যাংকের স্থানীয় শাখায় জমা দেওয়া হয়েছে।

গত ১০ আগস্ট মাজারে সাত দিনব্যাপী ওরস শুরু হয়। ১৪ আগস্ট রাতে আখেরি মোনাজাতের মাধ্যমে ওরসের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটে। ওরস উপলক্ষে দেশ-বিদেশ থেকে আসা হাজার হাজার ভক্ত ও আশেকান দানবাক্সে নগদ অর্থের পাশাপাশি সোনা-রুপা ও বৈদেশিক মুদ্রা দান করেন। ভক্তদের দেওয়া পশুপাখি ও অন্যান্য সামগ্রীর হিসাব আলাদাভাবে করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, খড়মপুরের এই মাজারটি প্রায় ৭০০ বছরের পুরোনো। প্রতিবছর দেশের বিভিন্ন অঞ্চলসহ বিদেশ থেকেও বিপুলসংখ্যক পুণ্যার্থী ও ভক্ত এখানে আসেন।

মাজার পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম, মিন্টু খাদেম নামে পরিচিত, জানান, দানবাক্সে জমা পড়া অর্থের পরিমাণ প্রতি বছরই বাড়ছে। ২০২১ সালে পাওয়া গিয়েছিল ৬১ লাখ টাকা, ২০২২ সালে ৬৪ লাখ এবং ২০২৩ সালে ৮৪ লাখ টাকা। এবার আগের সব রেকর্ড ভেঙে প্রথমবারের মতো দানের পরিমাণ ১ কোটি টাকার মাইলফলক অতিক্রম করেছে।