ঢাকা ১০:০৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬, ৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
আহতদের চিকিৎসা ও শহীদ পরিবারের পুনর্বাসনে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার : ইশরাক হোসেন ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক হবে সমমর্যাদার ভিত্তিতে: রিজভী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ বৃহস্পতিবার, শপথ শুক্রবার : চিফ হুইপ পিনাকী-ইলিয়াস জামায়াতের হয়ে টাকার বিনিময়ে গুজব ছড়ান: প্রতিমন্ত্রী নুর বিদায়ী বক্তব্যে কাঁদলেন মির্জা ফখরুল চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ স্বজনদের, তদন্তের আশ্বাস প্রশাসনের জাজিরা থানার ওসি মোঃ সালেহ আহাম্মদ জেলার শ্রেষ্ঠ অফিসার ইনচার্জ নির্বাচিত কালুখালীতে নবাগত ইউএনও’র সঙ্গে উপজেলা বিএনপি নেতৃবৃন্দের সৌজন্য সাক্ষাৎ সিলেটে চুরি-ছিনতাই ও কিশোরগ্যাং আতঙ্ক, জননিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আবারও জেলা প্রশাসক, বরগুনা কর্তৃক সাপ্তাহিক গণশুনানি গ্রহণ অনুষ্ঠিত

রাতের আঁধারে ১১ লাখ টাকার ডাকাতি, ৮ দিনেই আন্তজেলা ডাকাত দলের সর্দারসহ গ্রেপ্তার ৩

  • রিয়াজ ফরাজী 
  • আপডেট সময় ০৭:১৪:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫২৩ বার পড়া হয়েছে
ভোলার বোরহানউদ্দিনে ব্যবসায়ীর বাড়িতে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনায় আন্তজেলা ডাকাত দলের সর্দারসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঘটনার মাত্র আট দিনের মধ্যে প্রযুক্তির সহায়তায় সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে ডাকাতদের শনাক্তের পর মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) লালমোহনে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় ডাকাতি হওয়া স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার বিকেলে ভোলা জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান জেলা পুলিশ সুপার মো. শহিদুল্লাহ কাওছার।
পুলিশ সুপার জানান, তাঁর দিকনির্দেশনায় লালমোহন সার্কেল, জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি), লালমোহন থানা ও বোরহানউদ্দিন থানা পুলিশের সমন্বয়ে যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়। প্রথমে প্রযুক্তির সহায়তায় ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে ডাকাত দলের সদস্যদের শনাক্ত করা হয়। এরপর গোপন সংবাদের ভিত্তিতে লালমোহন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—লালমোহন উপজেলার পশ্চিম চরউমেদ এলাকার মো. আমির হোসেন (৪৫), দক্ষিণ মেহেরগঞ্জ এলাকার মো. মঞ্জু (৩৫) এবং চরফ্যাশন উপজেলার আবদুল্লাহপুর এলাকার মো. হাসান (২১)। পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার আমির হোসেন আন্তজেলা ডাকাত দলের সর্দার।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১০ আগস্ট দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টার দিকে বোরহানউদ্দিন উপজেলার পক্ষিয়া ইউনিয়নের বাটামারা এলাকায় ব্যবসায়ী সৈয়দ আরাফাত রহমান চৌধুরী ও তাঁর ছোট ভাই সৈয়দ আশিকুর রহমান চৌধুরীর বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটে।
রাতের গভীরে ৭ থেকে ৮ জনের একটি সশস্ত্র দল বাড়ির দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। পরে পরিবারের সদস্যদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে আলমারি ও সুকেস ভেঙে নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার ও মুঠোফোনসহ প্রায় ১১ লাখ ২৬ হাজার টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায়।
হঠাৎ এমন দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনার পর ব্যবসায়ী সৈয়দ আরাফাত রহমান চৌধুরী ১০ আগস্ট বোরহানউদ্দিন থানায় মামলা করেন। মামলায় দণ্ডবিধির ৩৯৫ ও ৩৯৭ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
পুলিশের ভাষ্য, সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রযুক্তিগত তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে ডাকাত দলের গতিবিধি শনাক্ত করা হয়। পরে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে আন্তজেলা ডাকাত দলের কথিত সর্দারসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারদের কাছ থেকে ডাকাতির ঘটনায় লুট হওয়া স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় ডাকাত দলের সঙ্গে জড়িত অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তার এবং লুট হওয়া বাকি মালামাল উদ্ধারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
পুলিশ সুপার মো. শহিদুল্লাহ কাওছার বলেন, অপরাধীদের শনাক্ত করতে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে। ডাকাতিসহ যেকোনো অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে জেলা পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে।
Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আহতদের চিকিৎসা ও শহীদ পরিবারের পুনর্বাসনে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার : ইশরাক হোসেন

রাতের আঁধারে ১১ লাখ টাকার ডাকাতি, ৮ দিনেই আন্তজেলা ডাকাত দলের সর্দারসহ গ্রেপ্তার ৩

আপডেট সময় ০৭:১৪:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬
ভোলার বোরহানউদ্দিনে ব্যবসায়ীর বাড়িতে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনায় আন্তজেলা ডাকাত দলের সর্দারসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঘটনার মাত্র আট দিনের মধ্যে প্রযুক্তির সহায়তায় সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে ডাকাতদের শনাক্তের পর মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) লালমোহনে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় ডাকাতি হওয়া স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার বিকেলে ভোলা জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান জেলা পুলিশ সুপার মো. শহিদুল্লাহ কাওছার।
পুলিশ সুপার জানান, তাঁর দিকনির্দেশনায় লালমোহন সার্কেল, জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি), লালমোহন থানা ও বোরহানউদ্দিন থানা পুলিশের সমন্বয়ে যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়। প্রথমে প্রযুক্তির সহায়তায় ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে ডাকাত দলের সদস্যদের শনাক্ত করা হয়। এরপর গোপন সংবাদের ভিত্তিতে লালমোহন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—লালমোহন উপজেলার পশ্চিম চরউমেদ এলাকার মো. আমির হোসেন (৪৫), দক্ষিণ মেহেরগঞ্জ এলাকার মো. মঞ্জু (৩৫) এবং চরফ্যাশন উপজেলার আবদুল্লাহপুর এলাকার মো. হাসান (২১)। পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার আমির হোসেন আন্তজেলা ডাকাত দলের সর্দার।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১০ আগস্ট দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টার দিকে বোরহানউদ্দিন উপজেলার পক্ষিয়া ইউনিয়নের বাটামারা এলাকায় ব্যবসায়ী সৈয়দ আরাফাত রহমান চৌধুরী ও তাঁর ছোট ভাই সৈয়দ আশিকুর রহমান চৌধুরীর বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটে।
রাতের গভীরে ৭ থেকে ৮ জনের একটি সশস্ত্র দল বাড়ির দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। পরে পরিবারের সদস্যদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে আলমারি ও সুকেস ভেঙে নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার ও মুঠোফোনসহ প্রায় ১১ লাখ ২৬ হাজার টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায়।
হঠাৎ এমন দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনার পর ব্যবসায়ী সৈয়দ আরাফাত রহমান চৌধুরী ১০ আগস্ট বোরহানউদ্দিন থানায় মামলা করেন। মামলায় দণ্ডবিধির ৩৯৫ ও ৩৯৭ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
পুলিশের ভাষ্য, সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রযুক্তিগত তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে ডাকাত দলের গতিবিধি শনাক্ত করা হয়। পরে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে আন্তজেলা ডাকাত দলের কথিত সর্দারসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারদের কাছ থেকে ডাকাতির ঘটনায় লুট হওয়া স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় ডাকাত দলের সঙ্গে জড়িত অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তার এবং লুট হওয়া বাকি মালামাল উদ্ধারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
পুলিশ সুপার মো. শহিদুল্লাহ কাওছার বলেন, অপরাধীদের শনাক্ত করতে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে। ডাকাতিসহ যেকোনো অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে জেলা পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে।