ঢাকা ০১:২১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬, ৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
মুখস্থনির্ভর শিক্ষা নয়, খেলায় খেলায় শিশুদের শেখাতে হবে : ববি হাজ্জাজ মঠবাড়িয়ায় মেডিকেল এসিস্ট্যান্ট পরিচয়ে কম্পিউটারে রোগী দেখেন মিজানুর রহমান  ঢাকায় ২০০ ইভি বাস কিনছে সরকার, নারীদের জন্য ১০০টি : সড়কমন্ত্রী র‍্যাব বিলুপ্ত করে এসআরবি, আইনের খসড়া অনুমোদন সমকামিতার অপবাদে ১০ লাখ টাকা দাবি-৬০ হাজারে মুক্তির অভিযোগ সাবেক সেনাপ্রধান আজিজের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলে রেড নোটিশ জারির আবেদন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন: প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন আজ দেশে ফিরলেন লিবিয়ায় বন্দি থাকা ১৭৪ বাংলাদেশি সন্ধ্যার মধ্যে যেসব জেলায় ঝড়-বৃষ্টির শঙ্কা ২৫০ স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর

ভারতের ভোটার আইডি ব্যবস্থার মতো যুক্তরাষ্ট্রে একই নিয়ম চান ট্রাম্প

ভারতের নির্বাচনব্যবস্থা ও ভোটারদের পরিচয় যাচাইয়ের নিয়মের উদাহরণ টেনে যুক্তরাষ্ট্রে ‘সেভ আমেরিকা অ্যাক্ট’ পাসের আহ্বান জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রস্তাবিত এই আইনে ফেডারেল নির্বাচনে ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে নাগরিকত্বের প্রমাণ এবং পরিচয় যাচাইয়ের নিয়ম আরো কঠোর করার কথা বলা হয়েছে।

ট্রাম্প নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বক্তব্যের কথা তুলে ধরেন। ট্রাম্পের দাবি, জ্ঞানেশ কুমার সম্প্রতি মার্কিন প্রশাসনের কাছে জানতে চেয়েছেন, বৈধ ছবিযুক্ত পরিচয়পত্র ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে কীভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ট্রাম্প বলেন, নির্বাচনে কারচুপি ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যেক ভোটারের জন্য বৈধ ছবিযুক্ত পরিচয়পত্র বাধ্যতামূলক করা উচিত। ভারতের সর্বশেষ সাধারণ নির্বাচনের প্রসঙ্গ তুলে ট্রাম্প বলেন, দেশটির ৬৪ কোটি ৬০ লাখ ভোটারের মধ্যে এক শতাংশেরও কম ডাকযোগে ভোট দিয়েছেন।

তার দাবি, সেখানে প্রত্যেক ভোটারকে বৈধ ছবিযুক্ত পরিচয়পত্র দেখাতে হয়েছে। ট্রাম্প বলেন, ‘আমাদের এখনই সেভ আমেরিকা অ্যাক্ট পাস করতে হবে।’
ট্রাম্পের এই উদ্যোগকে সমর্থন জানিয়েছেন ভারতে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোর। তিনিও ভারতের ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনকে ভোটার পরিচয় যাচাইয়ের ক্ষেত্রে একটি উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে গোর বলেন, ট্রাম্পের অবস্থান সঠিক। তার দাবি, ভারতের সর্বশেষ নির্বাচনে ৬৪ কোটি ৬০ লাখ ভোটার ছিল এবং প্রত্যেকের জন্য পরিচয়পত্র বাধ্যতামূলক ছিল। গোর বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের উচিত ‘সেভ আমেরিকা অ্যাক্ট’ পাস করা।
রিপাবলিকান নেতা ডোনাল্ড ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই এই আইন পাসের পক্ষে কথা বলে আসছেন। তার দাবি, প্রস্তাবিত আইনটি নির্বাচনে কারচুপি ঠেকাতে সাহায্য করবে।

আইনটি পাসের প্রস্তাব গত ২৯ জানুয়ারি উত্থাপন করা হয়। তবে এ নিয়ে ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান- দুই দলের মধ্যেই মতভেদ রয়েছে। চলতি মাসের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট কোনো কার্যকর পদক্ষেপ ছাড়াই পাঁচ সপ্তাহের জন্য অধিবেশন মুলতবি করেছে। হোয়াইট হাউসের ভাষ্য অনুযায়ী, এই আইনের মূল লক্ষ্য হলো শুধু যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের ফেডারেল নির্বাচনের ফল নির্ধারণে ভোট দেওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করা।

প্রস্তাবিত আইনে ফেডারেল নির্বাচনে ভোটার হিসেবে নিবন্ধনের সময় নাগরিকত্বের প্রমাণ দেখানো বাধ্যতামূলক করার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে বৈধ পরিচয়পত্র দেখানোর নিয়মও চালু করার প্রস্তাব রয়েছে। হোয়াইট হাউস বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদেরই নির্ধারণ করা উচিত। ‘সেভ আমেরিকা অ্যাক্ট’-এ ডাকযোগে ভোট দেওয়ার সুযোগও সীমিত করার প্রস্তাব রয়েছে।

প্রস্তাব অনুযায়ী, অসুস্থতা, শারীরিক অক্ষমতা, সামরিক দায়িত্ব বা ভ্রমণের মতো নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে ডাকযোগে ভোট দেওয়ার সুযোগ রাখা হবে। এর বাইরে ডাকযোগে ভোট দেওয়ার সুযোগ কঠোরভাবে সীমিত করার কথা বলা হয়েছে। এ ছাড়া অঙ্গরাজ্যগুলোকে ভোটার তালিকা থেকে অ-মার্কিন নাগরিকদের নাম বাদ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়ার প্রস্তাবও রয়েছে। হোয়াইট হাউসের বক্তব্য, যুক্তরাষ্ট্রে ভোট দেওয়ার জন্য নিবন্ধন করতে হলে একজন ব্যক্তিকে অবশ্যই মার্কিন নাগরিক হতে হবে।

ট্রাম্প প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনব্যবস্থার সঙ্গে অন্যান্য দেশের ব্যবস্থারও তুলনা করেছে। হোয়াইট হাউসের দাবি, ভোটারদের পরিচয় নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র অন্য কয়েকটি দেশের তুলনায় পিছিয়ে রয়েছে। হোয়াইট হাউস ভারত ও ব্রাজিলের উদাহরণ দিয়ে বলেছে, দেশ দুটি ভোটারদের পরিচয়কে জীবমিতি তথ্যভান্ডারের সঙ্গে যুক্ত করে। অন্যদিকে, নাগরিকত্ব যাচাইয়ের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র মূলত ভোটারের নিজের দেওয়া তথ্যের ওপর নির্ভর করে বলে দাবি করেছে তারা।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মুখস্থনির্ভর শিক্ষা নয়, খেলায় খেলায় শিশুদের শেখাতে হবে : ববি হাজ্জাজ

ভারতের ভোটার আইডি ব্যবস্থার মতো যুক্তরাষ্ট্রে একই নিয়ম চান ট্রাম্প

আপডেট সময় ১১:৩৬:৪২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬

ভারতের নির্বাচনব্যবস্থা ও ভোটারদের পরিচয় যাচাইয়ের নিয়মের উদাহরণ টেনে যুক্তরাষ্ট্রে ‘সেভ আমেরিকা অ্যাক্ট’ পাসের আহ্বান জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রস্তাবিত এই আইনে ফেডারেল নির্বাচনে ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে নাগরিকত্বের প্রমাণ এবং পরিচয় যাচাইয়ের নিয়ম আরো কঠোর করার কথা বলা হয়েছে।

ট্রাম্প নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বক্তব্যের কথা তুলে ধরেন। ট্রাম্পের দাবি, জ্ঞানেশ কুমার সম্প্রতি মার্কিন প্রশাসনের কাছে জানতে চেয়েছেন, বৈধ ছবিযুক্ত পরিচয়পত্র ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে কীভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ট্রাম্প বলেন, নির্বাচনে কারচুপি ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যেক ভোটারের জন্য বৈধ ছবিযুক্ত পরিচয়পত্র বাধ্যতামূলক করা উচিত। ভারতের সর্বশেষ সাধারণ নির্বাচনের প্রসঙ্গ তুলে ট্রাম্প বলেন, দেশটির ৬৪ কোটি ৬০ লাখ ভোটারের মধ্যে এক শতাংশেরও কম ডাকযোগে ভোট দিয়েছেন।

তার দাবি, সেখানে প্রত্যেক ভোটারকে বৈধ ছবিযুক্ত পরিচয়পত্র দেখাতে হয়েছে। ট্রাম্প বলেন, ‘আমাদের এখনই সেভ আমেরিকা অ্যাক্ট পাস করতে হবে।’
ট্রাম্পের এই উদ্যোগকে সমর্থন জানিয়েছেন ভারতে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোর। তিনিও ভারতের ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনকে ভোটার পরিচয় যাচাইয়ের ক্ষেত্রে একটি উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে গোর বলেন, ট্রাম্পের অবস্থান সঠিক। তার দাবি, ভারতের সর্বশেষ নির্বাচনে ৬৪ কোটি ৬০ লাখ ভোটার ছিল এবং প্রত্যেকের জন্য পরিচয়পত্র বাধ্যতামূলক ছিল। গোর বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের উচিত ‘সেভ আমেরিকা অ্যাক্ট’ পাস করা।
রিপাবলিকান নেতা ডোনাল্ড ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই এই আইন পাসের পক্ষে কথা বলে আসছেন। তার দাবি, প্রস্তাবিত আইনটি নির্বাচনে কারচুপি ঠেকাতে সাহায্য করবে।

আইনটি পাসের প্রস্তাব গত ২৯ জানুয়ারি উত্থাপন করা হয়। তবে এ নিয়ে ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান- দুই দলের মধ্যেই মতভেদ রয়েছে। চলতি মাসের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট কোনো কার্যকর পদক্ষেপ ছাড়াই পাঁচ সপ্তাহের জন্য অধিবেশন মুলতবি করেছে। হোয়াইট হাউসের ভাষ্য অনুযায়ী, এই আইনের মূল লক্ষ্য হলো শুধু যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের ফেডারেল নির্বাচনের ফল নির্ধারণে ভোট দেওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করা।

প্রস্তাবিত আইনে ফেডারেল নির্বাচনে ভোটার হিসেবে নিবন্ধনের সময় নাগরিকত্বের প্রমাণ দেখানো বাধ্যতামূলক করার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে বৈধ পরিচয়পত্র দেখানোর নিয়মও চালু করার প্রস্তাব রয়েছে। হোয়াইট হাউস বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদেরই নির্ধারণ করা উচিত। ‘সেভ আমেরিকা অ্যাক্ট’-এ ডাকযোগে ভোট দেওয়ার সুযোগও সীমিত করার প্রস্তাব রয়েছে।

প্রস্তাব অনুযায়ী, অসুস্থতা, শারীরিক অক্ষমতা, সামরিক দায়িত্ব বা ভ্রমণের মতো নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে ডাকযোগে ভোট দেওয়ার সুযোগ রাখা হবে। এর বাইরে ডাকযোগে ভোট দেওয়ার সুযোগ কঠোরভাবে সীমিত করার কথা বলা হয়েছে। এ ছাড়া অঙ্গরাজ্যগুলোকে ভোটার তালিকা থেকে অ-মার্কিন নাগরিকদের নাম বাদ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়ার প্রস্তাবও রয়েছে। হোয়াইট হাউসের বক্তব্য, যুক্তরাষ্ট্রে ভোট দেওয়ার জন্য নিবন্ধন করতে হলে একজন ব্যক্তিকে অবশ্যই মার্কিন নাগরিক হতে হবে।

ট্রাম্প প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনব্যবস্থার সঙ্গে অন্যান্য দেশের ব্যবস্থারও তুলনা করেছে। হোয়াইট হাউসের দাবি, ভোটারদের পরিচয় নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র অন্য কয়েকটি দেশের তুলনায় পিছিয়ে রয়েছে। হোয়াইট হাউস ভারত ও ব্রাজিলের উদাহরণ দিয়ে বলেছে, দেশ দুটি ভোটারদের পরিচয়কে জীবমিতি তথ্যভান্ডারের সঙ্গে যুক্ত করে। অন্যদিকে, নাগরিকত্ব যাচাইয়ের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র মূলত ভোটারের নিজের দেওয়া তথ্যের ওপর নির্ভর করে বলে দাবি করেছে তারা।