* ২০১৪ সাল থেকে সংগঠনটির সভাপতির দায়িত্বে অভিযুক্ত মনির।
* তবে তিনি দাবি করেন, সব নিয়ম মেনেই তিনি ওই পদে রয়েছেন।
রেলওয়েতে চাকরির সঙ্গে কোনো সম্পর্ক না থাকলেও ‘বাংলাদেশ রেলওয়ে পোষ্য সোসাইটি’র সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মো. মনিরুজ্জামান মনির। অথচ বিদ্যমান বিধিমালায় রেলওয়েতে কর্মরত নন এমন ব্যক্তির সাধারণ সদস্য হওয়ার সুযোগ নেই বলে জানা গেছে। তবে মনিরের দাবি, তিনি নিয়ম মেনেই পদে আছেন। এদিকে সংগঠনটির প্রভাব কাজে লাগিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তদবির ও বদলি-বাণিজ্যের অভিযোগও উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে।
বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ (সংশোধিত-২০২৬) এবং রেলওয়ে এস্টাব্লিশমেন্ট কোড ভলিউম, ১৯৬১-এর ১৫ ও ১৬ নং বিধি অনুযায়ী, সরকার বা রেল কর্তৃপক্ষ কর্তৃক অনুমোদন সাপেক্ষে রেলওয়ের কর্মচারীরা স্বীকৃত ট্রেড ইউনিয়ন বা সমিতির সদস্য হতে পারেন। একই সঙ্গে কোনো সমিতি বা ট্রেড ইউনিয়নের সদস্য হতে হলে ব্যক্তিকে অবশ্যই রেলওয়ের কর্মচারী হতে
হবে। রেলওয়েতে কর্মরত নন এমন কেউ সাধারণ সদস্য হতে পারে না। রেলওয়ে প্রশাসনিক গোপনীয়তা ও শৃঙ্খলা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কায় এই বিধি তৈরি করা হয়েছে বলে মত দেন সংশ্লিষ্টরা।
তবে রেলওয়ের অভ্যন্তরীণ কোনো বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করে সংগঠনটি শুধু পোষ্যদের নিয়ে বিভিন্ন সামাজিক কল্যাণমূলক কাজ করে থাকে বলে দাবি করেন মনির। বাংলাদেশ রেলওয়ে পোষ্য সোসাইটির কেন্দ্রীয় এই সভাপতি বলেন, ‘সংগঠনটি মূলত রেলওয়ে কর্মচারীদের সন্তানদের নিয়ে গঠিত একটি সামাজিক সংগঠন। এই সংগঠন মূলত পোষ্যদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট অধিকার ও কল্যাণমূলক কাজ করে থাকে এবং কর্তৃপক্ষের কাছে বিভিন্ন দাবি-প্রস্তাব উপস্থাপন করে থাকে। রেলওয়ের অন্যান্য যেসব ট্রেড ইউনিয়ন বা সংগঠন রয়েছে, সেগুলোর সঙ্গে এই সংগঠনের কর্মকাণ্ডের মধ্যে কোনো মিল নেই। দুটির মধ্যে আলাদা বিধিমালাও রয়েছে।’
মনির বলেন, ‘সোসাইটিজ রেজিস্ট্রেশন অ্যাক্ট, ১৮৬০ বিধি অনুযায়ী আমাদের সংগঠন পরিচালিত হয়। বিধিমালা অনুযায়ী, রেলওয়ের কর্মচারীদের সন্তানেরা এই সংগঠনের সদস্য হতে পারে এবং এই সংগঠন পরিচালনার জন্য রেলওয়ের কর্মচারী হতে হবে এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। আমার বাবা রেলওয়েতে কর্মরত ছিলেন, সেই সুবাদে আমি এই পোষ্য সংগঠনটির সঙ্গে সম্পৃক্ত আছি।’
জানা গেছে, ২০১৪ সালে যাত্রা শুরু হয় সংগঠনটির। শুরু থেকেই সভাপতির পদে আছেন মনির। রেলওয়ের একাধিক কর্মচারীর অভিযোগ, দীর্ঘ এই সময় সংগঠনের প্রভাব খাটিয়ে তদবির ও বদলি-বাণিজ্য করে আসছেন তিনি।
সম্প্রতি ৮৬৫ জন খালাসি নিয়োগপ্রক্রিয়া শুরু করে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। এটা নিয়ে উচ্চ আদালতে পোষ্য কোটায় নিয়োগ দেওয়ার জন্য একটি রিট করলে আদালত যাচাই-বাছাই করে এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষকে আদেশ দিয়েছেন। পরে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ এই বিষয়ে যাচাই-বাছাই করে প্রতিবেদন দিতে তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করে। ওই নিয়োগপ্রক্রিয়া নিয়ে কমিটির সদস্যদের বিভিন্ন সময় তদবির
করার অভিযোগ উঠেছে পোষ্য সংগঠনটির বিরুদ্ধে; বিশেষ করে সভাপতি মনিরের বিরুদ্ধে।
জানতে চাইলে কমিটির আহ্বায়ক ও রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের প্রধান সংস্থাপন কর্মকর্তা তরুণ কান্তি বালা বলেন, ‘আমরা এখনো প্রতিবেদন জমা দিতে পারিনি। এটা নিয়ে আরও কাজ চলছে। উনি (মনির) মাঝেমধ্যে আসেন এই প্রতিবেদন দ্রুত জমা দেওয়ার বিষয়ে খোঁজখবর নিতে। এর বাইরে অন্য কিছু না। তবে একই বিষয়ে বারবার বিরক্ত করলেও আমাদের কাজেরও সমস্যা হয়ে থাকে।’
রেলওয়ের একটি শ্রমিক সংগঠনের পদধারী নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, মনির রেলওয়ের কোনো কর্মচারী নন। তিনি অনেক দিন ধরেই রেলওয়ে পোষ্য সোসাইটির সঙ্গে যুক্ত আছেন। তাঁর বাবা কোনো এক সময় রেলওয়েতে চাকরি করতেন।
রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের একাধিক ট্রেড ইউনিয়ন নেতার অভিযোগ, রেলের অভ্যন্তরে থাকা কিছু অসাধু ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে ঘিরে একটি সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে, যারা রেলওয়ে পোষ্য সোসাইটিকে বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে। রেলওয়ের শীর্ষ এক কর্মকর্তার প্রভাব কাজে লাগিয়ে মনির পোষ্য সোসাইটির কার্যক্রম নির্বিঘ্নে চালাচ্ছে বলে জানান তাঁরা।
সংবাদ শিরোনাম ::
রেলওয়ে পোষ্য সোসাইটিতে কর্মচারী না হয়েও নেতা মনির
-
নিজস্ব প্রতিবেদক - আপডেট সময় ০১:৩২:৩৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬
- ৫১৭ বার পড়া হয়েছে
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ
























