আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি দেশজুড়ে গণভোট আয়োজনের ব্যাপক প্রস্তুতি নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। গণভোটের বিষয়বস্তু ও ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে ইসি ৮০ লাখের বেশি লিফলেট এবং ৫৭ হাজার ব্যানার প্রস্তুত করছে। আগামী ৫ জানুয়ারি থেকে সারা দেশে এই প্রচার কার্যক্রম শুরু হবে।
শনিবার (৩ জানুয়ারি ২০২৬) ইসি সচিবালয়ের পরিচালক (জনসংযোগ) মো. রুহুল আমিন মল্লিক জানান, গণভোটের বার্তা প্রতিটি ভোটারের কাছে পৌঁছে দিতে বিজি প্রেসে ৮০ লাখ ৪২ হাজার লিফলেট ছাপানোর কাজ চলছে।
প্রচারণার অংশ হিসেবে জনবহুল এলাকা ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে প্রদর্শনের জন্য ১০ ফুট বাই ৪ ফুট আকারের প্রায় ১৫ হাজার বড় ব্যানার তৈরি করা হচ্ছে। এছাড়া প্রতিটি ভোটকেন্দ্রের সামনে টানানোর জন্য ৩ ফুট বাই ৫ ফুট আকারের ৪২ হাজার ৭৬৬টি ব্যানার প্রস্তুত করা হচ্ছে।
ইসি অনুমোদিত প্রচারপত্রে ভোটারদের কাছে প্রশ্ন রাখা হয়েছে—‘আপনি কি জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫ এবং জুলাই জাতীয় সনদে লিপিবদ্ধ সংবিধান সংস্কার সম্পর্কিত নিম্নলিখিত প্রস্তাবসমূহের প্রতি আপনার সম্মতি জ্ঞাপন করিতেছেন?’ (হ্যাঁ/না)।
১. তত্ত্বাবধায়ক সরকার: নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার, ইসি ও অন্যান্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান জুলাই সনদের আলোকে গঠন করা হবে।
২. দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট সংসদ: আগামী সংসদ হবে দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট। নির্বাচনে দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে ১০০ সদস্যের একটি উচ্চকক্ষ গঠিত হবে। সংবিধান সংশোধনে এই উচ্চকক্ষেরও অনুমোদন লাগবে।
৩. ৩০টি সংস্কার: সংসদে নারী প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধি, বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ এবং রাষ্ট্রপতির ক্ষমতাসহ জুলাই সনদে বর্ণিত ৩০টি বিষয়ে ঐকমত্য হওয়া সংস্কারগুলো বাস্তবায়নে বিজয়ী দল বাধ্য থাকবে।
৪. অন্যান্য সংস্কার: সনদে বর্ণিত অন্যান্য সংস্কারও রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বাস্তবায়ন করা হবে।
নিজস্ব প্রতিবেদক 






















