ঢাকা ০৩:১৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
৪ হাজার কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা ডিএসসিসির ঘোড়াশাল প্রকল্পে ৪,৭৫৮ কোটি টাকা অনিয়মের অভিযোগ ‘শৃঙ্খলিত পুলিশ, নিরাপদ ভোলা’ মাস্টার প্যারেডে পুলিশ সুপারের কঠোর বার্তা চাঁদাবাজির মামলায় বিএনপি নেতা আলমগীর মালতিয়া কারাগারে, পরিবারের দাবি রাজনৈতিক প্রতিহিংসা মানুষ আমাকে কোনো পুরুষের সঙ্গে দেখতে চায় না: পরীমণি ভারতের ওপর ১০০ শতাংশ কর বসানোর কথা ভাবছে যুক্তরাষ্ট্র মানবপাচার ও অনলাইন স্ক্যাম প্রতিরোধে ‘জিরো টলারেন্স’: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ২৫ দিনেও মেলেনি বিচার, প্রতারণার অভিযোগে হতাশায় ফাতেমা আক্তারের পরিবার নওগাঁর দয়ালের মোড়ে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল এক শিক্ষকের এ দেশে যখনই পরিবর্তনের কথা বলা হয়েছে, তখনই প্রাণ দিতে হয়েছে: মির্জা ফখরুল

বরগুনার আমতলীর হলদিয়া–চাওড়া খালে স্থায়ী সেতু নির্মাণের দাবি

বরগুনা জেলার আমতলী উপজেলার হলদিয়া ও চাওড়া খালের ওপর নির্মিত অস্থায়ী কাঠের ব্রিজ দিয়ে দৈনন্দিন চলাচল করছে দু’টি ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষ। দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকি নিয়ে এই কাঠের ব্রীজ ব্যবহার করতে হচ্ছে এলাকাবাসীকে। দ্রুত স্থায়ী সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

জানা গেছে, হলদিয়া খালের ওপর নির্মিত প্রায় ৮৫ মিটার দৈর্ঘ্যের একটি আয়রন ব্রিজ নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে নির্মাণ করায় ২০২৪ সালের জুন মাসের মাঝামাঝি সময়ে একটি মাইক্রোবাসসহ ভেঙে খালে পড়ে যায়। ওই দুর্ঘটনায় মাইক্রোবাসে থাকা ১২ জন যাত্রীর মধ্যে ৯ জন প্রাণ হারান। মর্মান্তিক ওই ঘটনার পর ব্রিজটি সম্পূর্ণরূপে অচল হয়ে পড়ে।

এরপর দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে হলদিয়া ও চাওড়া ইউনিয়নের মানুষজনকে আমতলী উপজেলা সদরে আসা-যাওয়ার জন্য কয়েক কিলোমিটার অতিরিক্ত পথ পাড়ি দিতে হয়। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়ে শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, কৃষক ও ব্যবসায়ীরা।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মো. মকবুল হোসেন খান ও সমাজসেবক নান্নু মোল্লা স্থানীয় জনসাধারণের সহযোগিতায় কাঠ দিয়ে অস্থায়ী একটি ব্রিজ নির্মাণের উদ্যোগ নেন। পরে এলাকাবাসীর আর্থিক ও শ্রম সহায়তায় কাঠের তৈরি ব্রিজটি নির্মিত হয়।

তবে কাঠের এই ব্রিজ দিয়ে ভারী মালবোঝাই কোনো যানবাহন চলাচল করতে পারছে না। হলদিয়া ইউনিয়নের টেপুরা, পূর্বচিলা, দক্ষিণ তক্তাবুনিয়া, পশ্চিম চিলা এবং চাওড়া ইউনিয়নের কাউনিয়া, কাপালী, চন্দ্রা ও হলদিয়া গ্রামের হাজারো মানুষ প্রতিদিন এই ব্রিজ ব্যবহার করছেন।

হলদিয়া খালের ওপাড়ে ইউনিয়ন ভূমি অফিস, একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থাকায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা বাধ্য হয়ে ঝুঁকিপূর্ণ কাঠের ব্রিজ দিয়েই যাতায়াত করছেন।

হলদিয়া গ্রামের বাসিন্দা মো. জাকির হোসেন বলেন, “এলাকাবাসীর জীবনের কথা চিন্তা করে জরুরি ভিত্তিতে এখানে একটি স্থায়ী ও টেকসই সেতু নির্মাণ করা প্রয়োজন।”

কৃষক মো. রিপন জানান, “প্রায় দেড় বছর আগে সেতুটি ভেঙে যায়। আমরা নিজেদের খরচে কাঠ দিয়ে ব্রিজ বানিয়ে চলাচল করছি। কিন্তু অতিবৃষ্টিতে কাঠ দ্রুত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।”

এ বিষয়ে আমতলী উপজেলা প্রকৌশলী মো. ইদ্রিস আলী বলেন, “হলদিয়া খালের ওপর একটি গার্ডার সেতু নির্মাণে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ২৩ কোটি টাকা ব্যয় ধরে অনুমোদন দিয়েছে। চলতি মাসের মধ্যেই দরপত্র আহ্বান করা হবে।” এলাকাবাসীর আশা, দ্রুত দরপত্র প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে স্থায়ী সেতু নির্মাণের কাজ শুরু হলে দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ ও ঝুঁকির অবসান ঘটবে।

 

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

৪ হাজার কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা ডিএসসিসির

বরগুনার আমতলীর হলদিয়া–চাওড়া খালে স্থায়ী সেতু নির্মাণের দাবি

আপডেট সময় ০৮:৩৭:৫৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫

বরগুনা জেলার আমতলী উপজেলার হলদিয়া ও চাওড়া খালের ওপর নির্মিত অস্থায়ী কাঠের ব্রিজ দিয়ে দৈনন্দিন চলাচল করছে দু’টি ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষ। দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকি নিয়ে এই কাঠের ব্রীজ ব্যবহার করতে হচ্ছে এলাকাবাসীকে। দ্রুত স্থায়ী সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

জানা গেছে, হলদিয়া খালের ওপর নির্মিত প্রায় ৮৫ মিটার দৈর্ঘ্যের একটি আয়রন ব্রিজ নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে নির্মাণ করায় ২০২৪ সালের জুন মাসের মাঝামাঝি সময়ে একটি মাইক্রোবাসসহ ভেঙে খালে পড়ে যায়। ওই দুর্ঘটনায় মাইক্রোবাসে থাকা ১২ জন যাত্রীর মধ্যে ৯ জন প্রাণ হারান। মর্মান্তিক ওই ঘটনার পর ব্রিজটি সম্পূর্ণরূপে অচল হয়ে পড়ে।

এরপর দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে হলদিয়া ও চাওড়া ইউনিয়নের মানুষজনকে আমতলী উপজেলা সদরে আসা-যাওয়ার জন্য কয়েক কিলোমিটার অতিরিক্ত পথ পাড়ি দিতে হয়। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়ে শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, কৃষক ও ব্যবসায়ীরা।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মো. মকবুল হোসেন খান ও সমাজসেবক নান্নু মোল্লা স্থানীয় জনসাধারণের সহযোগিতায় কাঠ দিয়ে অস্থায়ী একটি ব্রিজ নির্মাণের উদ্যোগ নেন। পরে এলাকাবাসীর আর্থিক ও শ্রম সহায়তায় কাঠের তৈরি ব্রিজটি নির্মিত হয়।

তবে কাঠের এই ব্রিজ দিয়ে ভারী মালবোঝাই কোনো যানবাহন চলাচল করতে পারছে না। হলদিয়া ইউনিয়নের টেপুরা, পূর্বচিলা, দক্ষিণ তক্তাবুনিয়া, পশ্চিম চিলা এবং চাওড়া ইউনিয়নের কাউনিয়া, কাপালী, চন্দ্রা ও হলদিয়া গ্রামের হাজারো মানুষ প্রতিদিন এই ব্রিজ ব্যবহার করছেন।

হলদিয়া খালের ওপাড়ে ইউনিয়ন ভূমি অফিস, একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থাকায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা বাধ্য হয়ে ঝুঁকিপূর্ণ কাঠের ব্রিজ দিয়েই যাতায়াত করছেন।

হলদিয়া গ্রামের বাসিন্দা মো. জাকির হোসেন বলেন, “এলাকাবাসীর জীবনের কথা চিন্তা করে জরুরি ভিত্তিতে এখানে একটি স্থায়ী ও টেকসই সেতু নির্মাণ করা প্রয়োজন।”

কৃষক মো. রিপন জানান, “প্রায় দেড় বছর আগে সেতুটি ভেঙে যায়। আমরা নিজেদের খরচে কাঠ দিয়ে ব্রিজ বানিয়ে চলাচল করছি। কিন্তু অতিবৃষ্টিতে কাঠ দ্রুত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।”

এ বিষয়ে আমতলী উপজেলা প্রকৌশলী মো. ইদ্রিস আলী বলেন, “হলদিয়া খালের ওপর একটি গার্ডার সেতু নির্মাণে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ২৩ কোটি টাকা ব্যয় ধরে অনুমোদন দিয়েছে। চলতি মাসের মধ্যেই দরপত্র আহ্বান করা হবে।” এলাকাবাসীর আশা, দ্রুত দরপত্র প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে স্থায়ী সেতু নির্মাণের কাজ শুরু হলে দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ ও ঝুঁকির অবসান ঘটবে।