ঢাকা ০১:১২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
লুটপাট করে স্বাস্থ্য খাত ধ্বংস করেছে ফ্যাসিস্ট সরকার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী পঞ্চগড়ে নানা আয়োজনে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস ২০২৬ উদ্‌যাপন চাঁদা না পেয়ে ইউপি সদস্যকে মারধরের অভিযোগ বিএনপি নেতা তোতার বিরুদ্ধে মিঠাপুকুরে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে বাসের ধাক্কা, নিহত ৪ ক্রসফায়ার মন্তব্য ঘিরে বিতর্ক, নতুন আইজিপি নিয়োগে আলোচনায় ৩ কর্মকর্তা কুমিল্লায় ২৭ লাখ ৯৫ হাজার টাকার বাসমতি চাল ও ফুচকাসহ পিকআপ আটক ইউপি নির্বাচনে অনিয়ম ঠেকাতে সব কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা বাড়ি ফেরার পথে কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী হত্যা: ৫ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট চলে গেলেন চিত্রনায়িকা পপির মা মরিয়ম বেগম ঊর্ধ্বমুখী সূচকে চলছে পুঁজিবাজারের লেনদেন

ভুল রেকর্ডে তিন প্রজন্মের জমি দ্বন্দ্ব — সালিশ, মামলা, তবুও নেই শেষ

সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার সেলবরষ ইউনিয়নের বিরামপুর নয়াপাড়া গ্রামের এক প্রান্তিক পরিবার তিন প্রজন্ম ধরে ভুগছে জমি বিরোধে। ভুল রেকর্ড আর আইনি জটিলতায় পরিবারটি হারিয়েছে শান্তি ও স্থিতি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এস.এ. রেকর্ড অনুযায়ী জমিটির মালিক ছিলেন মৃত গোলাম হোসেন। তাঁর মৃত্যুর পর ছেলে বকুল মিয়া ওয়ারিশ সূত্রে মালিক হন এবং প্রায় ৭০ বছর ধরে ওই জমিতে বসবাস করে আসছেন।

অভাবের কারণে বকুল মিয়া একসময় পরিবার নিয়ে সিলেটে চলে যান। যাওয়ার সময় বাড়ির দেখাশোনার দায়িত্ব দেন চাচাতো ভাই আব্দুল হাই মিয়াকে। পরে ভূমি জরিপে আব্দুল হাই নিজের নাম মালিক হিসেবে জানালে ভুলবশত তাঁর নামেই রেকর্ড হয়।
এই সুযোগে আব্দুল হাই জায়গাটি বিক্রি করেন প্রতিবেশী আজব আলীর কাছে। পরে টাকা ফেরত দিলেও তিন বছর পর একই জমি বিক্রি করা হয় আজব আলীর ভাই আছাব আলীর কাছে। দলিল সম্পন্ন হলেও জায়গা বুঝিয়ে না দেওয়ায় সালিশ বৈঠক বসে।

সালিশে আছাব আলী টাকা ফেরত নিলেও দলিল ফেরত দেননি। সিলেট থেকে ফিরে এসে বকুল মিয়া জানতে পারেন, তাঁর বসতভিটা অন্যের নামে বিক্রি হয়ে গেছে। এরপর শুরু হয় মামলা ও বিরোধ।
পরে ইউনিয়ন চেয়ারম্যান গোলাম ফরিদ ও স্থানীয় নেতা ভুট্টো মিয়ার উদ্যোগে আরেক দফা সালিশ হয়। তাতে সিদ্ধান্ত হয়, নাম খারিজ হলে আছাব আলী জায়গা ফেরত দেবেন। কিন্তু নাম খারিজের পর তিনি মত বদলান।
এতে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়। বর্তমানে মামলাও চলছে। সবশেষ বুধবার সকালে সংঘর্ষে বকুল মিয়ার স্ত্রী ও ছেলে আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন।

আছাব আলী বলেন,
“আমি বৈধ দলিল ও নামজারি অনুযায়ী জমির মালিক। তারা অযথা ঝগড়া করছে।”

অন্যদিকে বকুল মিয়ার দাবি,
“এটি আমাদের পৈত্রিক ভিটা। ভুল রেকর্ডের সুযোগে অন্যের নামে দলিল হয়েছে। আমরা আমাদের অধিকার ফেরত চাই।”

স্থানীয়রা বলছেন, ভূমি জরিপে ভুল রেকর্ড ও প্রশাসনিক ত্রুটির কারণেই এমন বিরোধ বাড়ছে।
সালিশ আর মামলার ফাঁদে ঘুরছে তিন প্রজন্মের এক পরিবার— শান্তির পথ যেন আজও অন্ধকারে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

লুটপাট করে স্বাস্থ্য খাত ধ্বংস করেছে ফ্যাসিস্ট সরকার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

ভুল রেকর্ডে তিন প্রজন্মের জমি দ্বন্দ্ব — সালিশ, মামলা, তবুও নেই শেষ

আপডেট সময় ০৭:৫৬:২৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ অক্টোবর ২০২৫

সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার সেলবরষ ইউনিয়নের বিরামপুর নয়াপাড়া গ্রামের এক প্রান্তিক পরিবার তিন প্রজন্ম ধরে ভুগছে জমি বিরোধে। ভুল রেকর্ড আর আইনি জটিলতায় পরিবারটি হারিয়েছে শান্তি ও স্থিতি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এস.এ. রেকর্ড অনুযায়ী জমিটির মালিক ছিলেন মৃত গোলাম হোসেন। তাঁর মৃত্যুর পর ছেলে বকুল মিয়া ওয়ারিশ সূত্রে মালিক হন এবং প্রায় ৭০ বছর ধরে ওই জমিতে বসবাস করে আসছেন।

অভাবের কারণে বকুল মিয়া একসময় পরিবার নিয়ে সিলেটে চলে যান। যাওয়ার সময় বাড়ির দেখাশোনার দায়িত্ব দেন চাচাতো ভাই আব্দুল হাই মিয়াকে। পরে ভূমি জরিপে আব্দুল হাই নিজের নাম মালিক হিসেবে জানালে ভুলবশত তাঁর নামেই রেকর্ড হয়।
এই সুযোগে আব্দুল হাই জায়গাটি বিক্রি করেন প্রতিবেশী আজব আলীর কাছে। পরে টাকা ফেরত দিলেও তিন বছর পর একই জমি বিক্রি করা হয় আজব আলীর ভাই আছাব আলীর কাছে। দলিল সম্পন্ন হলেও জায়গা বুঝিয়ে না দেওয়ায় সালিশ বৈঠক বসে।

সালিশে আছাব আলী টাকা ফেরত নিলেও দলিল ফেরত দেননি। সিলেট থেকে ফিরে এসে বকুল মিয়া জানতে পারেন, তাঁর বসতভিটা অন্যের নামে বিক্রি হয়ে গেছে। এরপর শুরু হয় মামলা ও বিরোধ।
পরে ইউনিয়ন চেয়ারম্যান গোলাম ফরিদ ও স্থানীয় নেতা ভুট্টো মিয়ার উদ্যোগে আরেক দফা সালিশ হয়। তাতে সিদ্ধান্ত হয়, নাম খারিজ হলে আছাব আলী জায়গা ফেরত দেবেন। কিন্তু নাম খারিজের পর তিনি মত বদলান।
এতে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়। বর্তমানে মামলাও চলছে। সবশেষ বুধবার সকালে সংঘর্ষে বকুল মিয়ার স্ত্রী ও ছেলে আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন।

আছাব আলী বলেন,
“আমি বৈধ দলিল ও নামজারি অনুযায়ী জমির মালিক। তারা অযথা ঝগড়া করছে।”

অন্যদিকে বকুল মিয়ার দাবি,
“এটি আমাদের পৈত্রিক ভিটা। ভুল রেকর্ডের সুযোগে অন্যের নামে দলিল হয়েছে। আমরা আমাদের অধিকার ফেরত চাই।”

স্থানীয়রা বলছেন, ভূমি জরিপে ভুল রেকর্ড ও প্রশাসনিক ত্রুটির কারণেই এমন বিরোধ বাড়ছে।
সালিশ আর মামলার ফাঁদে ঘুরছে তিন প্রজন্মের এক পরিবার— শান্তির পথ যেন আজও অন্ধকারে।