ঢাকা ১১:৫১ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ২১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে ৩৬.৫৯ বিলিয়ন ডলার ছাত্রদলের পরিণতি ছাত্রলীগের চেয়েও খারাপ হবে : সারজিস আলম যাদের কমিশনার হওয়ার যোগ্যতা ছিল না, তারা উপদেষ্টা হয়েছিল : পার্থ ভারতে যাওয়ার সময় কৃষক লীগ নেতা গ্রেপ্তার হাসিনা কোনো বক্তব্য দিলে দায় নেবে না ভারত: রণধীর জয়সওয়াল আগামী প্রজন্মের স্বার্থেই সংবিধান সংশোধন করা হবে : চিফ হুইপ জনগণ পরিবর্তন চেয়েছে বলেই জুলাই আন্দোলন সফল : প্রধানমন্ত্রী ‘তৃতীয় ভাষা শিক্ষায় চীনা ভাষাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে’ জুলাই চেতনায় গণতান্ত্রিক, ন্যায়ভিত্তিক ও বৈষম্যহীন দেশ গড়ার আহ্বান রাষ্ট্রপতির স্বামীর বন্ধুর সঙ্গে ২৮ দিনের সন্তান নিয়ে উধাও গৃহবধূ

ভুল রেকর্ডে তিন প্রজন্মের জমি দ্বন্দ্ব — সালিশ, মামলা, তবুও নেই শেষ

সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার সেলবরষ ইউনিয়নের বিরামপুর নয়াপাড়া গ্রামের এক প্রান্তিক পরিবার তিন প্রজন্ম ধরে ভুগছে জমি বিরোধে। ভুল রেকর্ড আর আইনি জটিলতায় পরিবারটি হারিয়েছে শান্তি ও স্থিতি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এস.এ. রেকর্ড অনুযায়ী জমিটির মালিক ছিলেন মৃত গোলাম হোসেন। তাঁর মৃত্যুর পর ছেলে বকুল মিয়া ওয়ারিশ সূত্রে মালিক হন এবং প্রায় ৭০ বছর ধরে ওই জমিতে বসবাস করে আসছেন।

অভাবের কারণে বকুল মিয়া একসময় পরিবার নিয়ে সিলেটে চলে যান। যাওয়ার সময় বাড়ির দেখাশোনার দায়িত্ব দেন চাচাতো ভাই আব্দুল হাই মিয়াকে। পরে ভূমি জরিপে আব্দুল হাই নিজের নাম মালিক হিসেবে জানালে ভুলবশত তাঁর নামেই রেকর্ড হয়।
এই সুযোগে আব্দুল হাই জায়গাটি বিক্রি করেন প্রতিবেশী আজব আলীর কাছে। পরে টাকা ফেরত দিলেও তিন বছর পর একই জমি বিক্রি করা হয় আজব আলীর ভাই আছাব আলীর কাছে। দলিল সম্পন্ন হলেও জায়গা বুঝিয়ে না দেওয়ায় সালিশ বৈঠক বসে।

সালিশে আছাব আলী টাকা ফেরত নিলেও দলিল ফেরত দেননি। সিলেট থেকে ফিরে এসে বকুল মিয়া জানতে পারেন, তাঁর বসতভিটা অন্যের নামে বিক্রি হয়ে গেছে। এরপর শুরু হয় মামলা ও বিরোধ।
পরে ইউনিয়ন চেয়ারম্যান গোলাম ফরিদ ও স্থানীয় নেতা ভুট্টো মিয়ার উদ্যোগে আরেক দফা সালিশ হয়। তাতে সিদ্ধান্ত হয়, নাম খারিজ হলে আছাব আলী জায়গা ফেরত দেবেন। কিন্তু নাম খারিজের পর তিনি মত বদলান।
এতে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়। বর্তমানে মামলাও চলছে। সবশেষ বুধবার সকালে সংঘর্ষে বকুল মিয়ার স্ত্রী ও ছেলে আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন।

আছাব আলী বলেন,
“আমি বৈধ দলিল ও নামজারি অনুযায়ী জমির মালিক। তারা অযথা ঝগড়া করছে।”

অন্যদিকে বকুল মিয়ার দাবি,
“এটি আমাদের পৈত্রিক ভিটা। ভুল রেকর্ডের সুযোগে অন্যের নামে দলিল হয়েছে। আমরা আমাদের অধিকার ফেরত চাই।”

স্থানীয়রা বলছেন, ভূমি জরিপে ভুল রেকর্ড ও প্রশাসনিক ত্রুটির কারণেই এমন বিরোধ বাড়ছে।
সালিশ আর মামলার ফাঁদে ঘুরছে তিন প্রজন্মের এক পরিবার— শান্তির পথ যেন আজও অন্ধকারে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে ৩৬.৫৯ বিলিয়ন ডলার

ভুল রেকর্ডে তিন প্রজন্মের জমি দ্বন্দ্ব — সালিশ, মামলা, তবুও নেই শেষ

আপডেট সময় ০৭:৫৬:২৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ অক্টোবর ২০২৫

সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার সেলবরষ ইউনিয়নের বিরামপুর নয়াপাড়া গ্রামের এক প্রান্তিক পরিবার তিন প্রজন্ম ধরে ভুগছে জমি বিরোধে। ভুল রেকর্ড আর আইনি জটিলতায় পরিবারটি হারিয়েছে শান্তি ও স্থিতি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এস.এ. রেকর্ড অনুযায়ী জমিটির মালিক ছিলেন মৃত গোলাম হোসেন। তাঁর মৃত্যুর পর ছেলে বকুল মিয়া ওয়ারিশ সূত্রে মালিক হন এবং প্রায় ৭০ বছর ধরে ওই জমিতে বসবাস করে আসছেন।

অভাবের কারণে বকুল মিয়া একসময় পরিবার নিয়ে সিলেটে চলে যান। যাওয়ার সময় বাড়ির দেখাশোনার দায়িত্ব দেন চাচাতো ভাই আব্দুল হাই মিয়াকে। পরে ভূমি জরিপে আব্দুল হাই নিজের নাম মালিক হিসেবে জানালে ভুলবশত তাঁর নামেই রেকর্ড হয়।
এই সুযোগে আব্দুল হাই জায়গাটি বিক্রি করেন প্রতিবেশী আজব আলীর কাছে। পরে টাকা ফেরত দিলেও তিন বছর পর একই জমি বিক্রি করা হয় আজব আলীর ভাই আছাব আলীর কাছে। দলিল সম্পন্ন হলেও জায়গা বুঝিয়ে না দেওয়ায় সালিশ বৈঠক বসে।

সালিশে আছাব আলী টাকা ফেরত নিলেও দলিল ফেরত দেননি। সিলেট থেকে ফিরে এসে বকুল মিয়া জানতে পারেন, তাঁর বসতভিটা অন্যের নামে বিক্রি হয়ে গেছে। এরপর শুরু হয় মামলা ও বিরোধ।
পরে ইউনিয়ন চেয়ারম্যান গোলাম ফরিদ ও স্থানীয় নেতা ভুট্টো মিয়ার উদ্যোগে আরেক দফা সালিশ হয়। তাতে সিদ্ধান্ত হয়, নাম খারিজ হলে আছাব আলী জায়গা ফেরত দেবেন। কিন্তু নাম খারিজের পর তিনি মত বদলান।
এতে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়। বর্তমানে মামলাও চলছে। সবশেষ বুধবার সকালে সংঘর্ষে বকুল মিয়ার স্ত্রী ও ছেলে আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন।

আছাব আলী বলেন,
“আমি বৈধ দলিল ও নামজারি অনুযায়ী জমির মালিক। তারা অযথা ঝগড়া করছে।”

অন্যদিকে বকুল মিয়ার দাবি,
“এটি আমাদের পৈত্রিক ভিটা। ভুল রেকর্ডের সুযোগে অন্যের নামে দলিল হয়েছে। আমরা আমাদের অধিকার ফেরত চাই।”

স্থানীয়রা বলছেন, ভূমি জরিপে ভুল রেকর্ড ও প্রশাসনিক ত্রুটির কারণেই এমন বিরোধ বাড়ছে।
সালিশ আর মামলার ফাঁদে ঘুরছে তিন প্রজন্মের এক পরিবার— শান্তির পথ যেন আজও অন্ধকারে।