ঢাকা ০১:৫৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

লালমোহনে নোমান বাহিনীর তান্ডবে দিশেহারা সাধারণ জনগণ

লালমোহনে নোমান বাহিনীর তান্ডবে দিশেহারা হারা সাধারণ জনগণ। ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের পতনের পর লালমোহনে আওয়ামী ক্যাডাররা পালায়ন করলে রাজপথ হয়ে পড়ে শূন্য।রাজপথ দখলে নেয় বিএনপি নেতা জাকির হোসেন নোমান। শুরু হয় চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী, দখলদারি ও ধর্ষণের মতো লোমহর্ষক ঘটনা। দিনে দিনে বেড়েই চলেছে নোমান বাহিনীর তান্ডব। আওয়ামী লীগের ক্যাডারদেরকে নোমান তার দলে ভিড়িয়ে একটি মাসেল বাহিনী তৈরি করেন। যার মাধ্যমে নোমান পুরো লালমোহনকে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে।
তথ্য সূত্রে জানা যায়, জাকির হোসেন নোমান হলো উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম বাবুল পঞ্চায়েতের ছোট ভাই।বিগত কয়েক বছর আওয়ামী লীগের ভয়ে তাবলীগে সময় লাগিয়ে বড় দাড়ি রেখে এক বুজুর্গে রুপ নিলেও সরকার পতনের পর আওয়ামী লীগের মতো লালমোহনে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড শুরু করে দেয়। রাতারাতি বনে যান বিএনপির নব্য গডফাদার। আওয়ামী লীগের কিছু সন্ত্রাসীদের সাথে নিয়ে পুরোদমে লালমোহনে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে নোমান।

তথ্য সূত্রে আরো জানা যায়, আওয়ামী সন্ত্রাসী জাকির হোসেন (৪৫), মামুন (৪৫), জিহাদ (৩৫),ইমন ( ৩০), এরশাদ,বজলু বেপারীও জাকির ফরাজীর মতো চিহ্নিত দূর্ধষ সন্ত্রাসীরা এখন নোমানের হয়ে পুরো লালমোহনে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করছে।৫ই আগষ্টের পরথেক লালমোহনে নোমান ছত্রছায়ায় থেকে সন্ত্রাসীরা শুরু করে চাঁদাবাজি,সন্ত্রাসী, লুটতরাজ ও দখলবাজি।পুরো লালমোহন সন্ত্রাসী আখড়ায় পরিণত হয়েছে। লালমোহনের প্রতিটি ইউনিয়নে, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ,অফিস আদালতে শুরু হয় চাঁদাবাজি। এখন নোমান লালমোহনের এক মূর্তিমান আতঙ্কের নাম। নোমান তার মাসেল বাহিনী দিয়ে সকাল থেকে গভীররাত অবধি চালায় তান্ডব লীলা। বিগত ২৪ সালের ৮ আগষ্ট রাত আনুমানিক ৯ ঘটিকার সময় গজারিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ইউসুফ মিয়ার বাড়িতে নোমান বাহিনী দেশী বিদেশী অস্ত্র নিয়ে ২০ লাখ টাকা চাঁদার জন্য যায়। এলাকার লোকজন ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ করলে নোমান তার বাহিনীসহ পালিয়ে যায়। পরের দিন শাহজাহান চেয়ারম্যানের কাছে থেকে ৩০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করে। স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতা দুলাল ফরাজীর কাছ থেকে ২০ লাখ টাকা,যুগল স্বর্ণকার থেকে ২০ লাখ টাকা,ফল কবিরের কাছ থেকে ১০ লাখ টাকা, হোটেল ব্যবসায়ী শেখর কুমারেল কাছে থেকে ১০ লাখ টাকা, আবু গঞ্জের ইউসুফ মাল থেকে ১০ লাখ টাকা ও ফরাজগঞ্জ ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ‌‌ মুরাদের কাছ থেকে ২০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করে নোমান বাহিনীর সন্ত্রাসীরা।

নোমান বাহিনীর সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অনুসন্ধান করতে গেলে বেড়িয়ে আসে অনেক চাঞ্চল্যকর ভয়ংকর তথ্য। নোমানের নেতৃত্বে গড়ে উঠা সন্ত্রাসী বাহিনী লালমোহনের ভূমি অফিস, বিআরটিএর অফিস, পাসপোর্ট অফিস,টি এনও অফিস, সাব রেজিস্ট্রি অফিস ও শিক্ষা অফিসে নির্ধারিত হারে মাসিক চাঁদার পরিমাণ বসিয়ে চাঁদা সংগ্রহ করে আসছে। নোমানের মাসেল বাহিনীর প্রধান মামুনের কাছে কালো রঙ্গের একটি বিদেশী পিস্তল ও নোমানের কাছে একটি একে ৪৭ আছে যা দিয়ে পুরো লালমোহনে ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করে সাধারণ জনগণের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে তাদের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের চালিয়ে যাচ্ছে। নোমানের সেকেন্ড ইন কমান্ড জাকির হোসেন বিগত ২৪ সালের ৫ই আগষ্টে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের হত্যা যজ্ঞে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের সাথে মিলে ছাত্র জনতার উপর নির্বিচারে গুলি চালিয়ে ছাত্র হত্যা মামলার আসামি আজ সেই আওয়ামী লীগ ক্যাডার এখন নোমানের সন্ত্রাসী বাহিনীর অন্যতম সদস্য।

অনুসন্ধানে আরো জানা যায়,বিগত সতের বছর যারা লালমোহনে বিএনপিকে টিকিয়ে রাখতে হামলা মামলার শিকার হয়েছেন তারা এখন আওয়ামী সন্ত্রাসীদের দ্বারা নির্যাতিত হচ্ছেন। নোমান বাহিনী এতোটা হিংস্র ২০২৪-২৫সালে লালমোহনের বিভিন্ন ইউনিয়নের সরকারী বরাদ্দ টি আর/কাবিখা/কাবিটার সকল বরাদ্দের প্রায় ২ কোটি টাকা, কোনো কাজ বাস্তবায়ন না করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে আঁতাত করে, নোমানের বড় ভাই উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম বাবুল পঞ্চায়েতের নির্দেশে টাকা উত্তোলন করে নিয়ে যায়। বিএনপির গজারিয়ায় ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক ফোরকান মিয়া আক্ষেপ করে বলেন, বিগত সরকারের পতনের পর লালমোহনে আমার ভাই শফিকুল ইসলাম বাবুল পঞ্চায়েত আমার নির্মাণাধীন বাড়ির ২০ লাখ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায় নোমানের সন্ত্রাসী বাহিনীর মাধ্যমে। রাতের আঁধারে এলাকায় প্রায় এক/দেড়শতাধিক সন্ত্রাসী নোমানের নেতৃত্বে আমার বাড়িতে হামলা করে মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। আওয়ামী লীগের আমলে আমরা চাঁদা দিতাম আর এখন বিএনপি আমাদের কাছ থেকে চাঁদা নেয়। আমরা যদি চাঁদা দিতে অস্বীকার করি তাহলে আমাদের উপর চলে নির্যাতনের ষ্ট্রিমরোলার। পুরো লালমোহন উপজেলা এখন নোমান বাহিনীর কথায় উঠবস করে। তিনি আরো বলেন, বাবুল পঞ্চায়েত ও নোমান পঞ্চায়েত আমার চাচাতো ভাই তারপরও আমাকে চাঁদা দিতে হয়। আমার লুট হওয়া মালামাল ফেরত পেতে প্রশাসনের কাছে প্রতিকার চেয়ে আবেদন করেও কোন লাভ হয়নি। এমনকি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও লালমোহনের সাবেক সংসদ সদস্য মেজর (অবঃ) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রমের কাছে এ বিষয়ে অভিযোগ করলেও কোন প্রতিকার পাওয়া যায় নি। এব্যাপারে সাবেক চেয়ারম্যান শাহজাহানের সাথে তার ব্যবহৃত মুঠো ফোনে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিগত বছর ৮ আগষ্ট নোমান বাহিনী আমার কাছ থেকে বিশ লাখ টাকা চাঁদা নেয়। আমি একটু দিতে দেরি করায় আমাকে মামুন মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে খুলি উড়িয়ে দেয়ার হুমকি দেয়। কাওকে যদি ঘটনা প্রকাশ করি তাহলে প্রাণে মেরে ফেলবে বলে হুমকি দিয়ে যায়।

অভিযুক্ত নোমানকে তার ব্যবহৃত মুঠো ফোনে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আপনারা যা শুনেছেন তা সঠিক নয়। যারা আমার সাথে আছে তারা বিএনপির ত্যাগী নেতা। আমরা চাঁদাবাজি করিনা মানুষ দলের কার্যক্রম পরিচালনা করতে কিছু টাকা আমাদেরকে দেয়। সরকারী টাকা লুট ও বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়ে কোটি কোটি টাকা চাঁদা আদায় করার অভিযোগের তীর আপনার দিকে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সেটা আমার ভাই দেখাশোনা করে। এ ব্যাপারে লালমোহন উপজেলার বিএনপি’র সভাপতি জাফরকে তার ব্যবহৃত মুঠো ফোনে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিষয়টি আমি শুনেছি তদন্ত করে আমাদের নেতা মেজর হাফিজ উদ্দিন আহমেদকে জানাব এবং সংগঠনের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কঠিন ব্যবস্থা নেব। অভিযুক্ত নোমান বাহিনীর তান্ডব থেকে বাঁচতে সাধারণ জনগণ প্রশাসনের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

গুম-নির্যাতের পেছনে দায়ী শেখ হাসিনা : জেরায় সাক্ষী

লালমোহনে নোমান বাহিনীর তান্ডবে দিশেহারা সাধারণ জনগণ

আপডেট সময় ০৬:৩০:১৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫

লালমোহনে নোমান বাহিনীর তান্ডবে দিশেহারা হারা সাধারণ জনগণ। ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের পতনের পর লালমোহনে আওয়ামী ক্যাডাররা পালায়ন করলে রাজপথ হয়ে পড়ে শূন্য।রাজপথ দখলে নেয় বিএনপি নেতা জাকির হোসেন নোমান। শুরু হয় চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী, দখলদারি ও ধর্ষণের মতো লোমহর্ষক ঘটনা। দিনে দিনে বেড়েই চলেছে নোমান বাহিনীর তান্ডব। আওয়ামী লীগের ক্যাডারদেরকে নোমান তার দলে ভিড়িয়ে একটি মাসেল বাহিনী তৈরি করেন। যার মাধ্যমে নোমান পুরো লালমোহনকে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে।
তথ্য সূত্রে জানা যায়, জাকির হোসেন নোমান হলো উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম বাবুল পঞ্চায়েতের ছোট ভাই।বিগত কয়েক বছর আওয়ামী লীগের ভয়ে তাবলীগে সময় লাগিয়ে বড় দাড়ি রেখে এক বুজুর্গে রুপ নিলেও সরকার পতনের পর আওয়ামী লীগের মতো লালমোহনে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড শুরু করে দেয়। রাতারাতি বনে যান বিএনপির নব্য গডফাদার। আওয়ামী লীগের কিছু সন্ত্রাসীদের সাথে নিয়ে পুরোদমে লালমোহনে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে নোমান।

তথ্য সূত্রে আরো জানা যায়, আওয়ামী সন্ত্রাসী জাকির হোসেন (৪৫), মামুন (৪৫), জিহাদ (৩৫),ইমন ( ৩০), এরশাদ,বজলু বেপারীও জাকির ফরাজীর মতো চিহ্নিত দূর্ধষ সন্ত্রাসীরা এখন নোমানের হয়ে পুরো লালমোহনে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করছে।৫ই আগষ্টের পরথেক লালমোহনে নোমান ছত্রছায়ায় থেকে সন্ত্রাসীরা শুরু করে চাঁদাবাজি,সন্ত্রাসী, লুটতরাজ ও দখলবাজি।পুরো লালমোহন সন্ত্রাসী আখড়ায় পরিণত হয়েছে। লালমোহনের প্রতিটি ইউনিয়নে, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ,অফিস আদালতে শুরু হয় চাঁদাবাজি। এখন নোমান লালমোহনের এক মূর্তিমান আতঙ্কের নাম। নোমান তার মাসেল বাহিনী দিয়ে সকাল থেকে গভীররাত অবধি চালায় তান্ডব লীলা। বিগত ২৪ সালের ৮ আগষ্ট রাত আনুমানিক ৯ ঘটিকার সময় গজারিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ইউসুফ মিয়ার বাড়িতে নোমান বাহিনী দেশী বিদেশী অস্ত্র নিয়ে ২০ লাখ টাকা চাঁদার জন্য যায়। এলাকার লোকজন ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ করলে নোমান তার বাহিনীসহ পালিয়ে যায়। পরের দিন শাহজাহান চেয়ারম্যানের কাছে থেকে ৩০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করে। স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতা দুলাল ফরাজীর কাছ থেকে ২০ লাখ টাকা,যুগল স্বর্ণকার থেকে ২০ লাখ টাকা,ফল কবিরের কাছ থেকে ১০ লাখ টাকা, হোটেল ব্যবসায়ী শেখর কুমারেল কাছে থেকে ১০ লাখ টাকা, আবু গঞ্জের ইউসুফ মাল থেকে ১০ লাখ টাকা ও ফরাজগঞ্জ ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ‌‌ মুরাদের কাছ থেকে ২০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করে নোমান বাহিনীর সন্ত্রাসীরা।

নোমান বাহিনীর সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অনুসন্ধান করতে গেলে বেড়িয়ে আসে অনেক চাঞ্চল্যকর ভয়ংকর তথ্য। নোমানের নেতৃত্বে গড়ে উঠা সন্ত্রাসী বাহিনী লালমোহনের ভূমি অফিস, বিআরটিএর অফিস, পাসপোর্ট অফিস,টি এনও অফিস, সাব রেজিস্ট্রি অফিস ও শিক্ষা অফিসে নির্ধারিত হারে মাসিক চাঁদার পরিমাণ বসিয়ে চাঁদা সংগ্রহ করে আসছে। নোমানের মাসেল বাহিনীর প্রধান মামুনের কাছে কালো রঙ্গের একটি বিদেশী পিস্তল ও নোমানের কাছে একটি একে ৪৭ আছে যা দিয়ে পুরো লালমোহনে ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করে সাধারণ জনগণের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে তাদের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের চালিয়ে যাচ্ছে। নোমানের সেকেন্ড ইন কমান্ড জাকির হোসেন বিগত ২৪ সালের ৫ই আগষ্টে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের হত্যা যজ্ঞে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের সাথে মিলে ছাত্র জনতার উপর নির্বিচারে গুলি চালিয়ে ছাত্র হত্যা মামলার আসামি আজ সেই আওয়ামী লীগ ক্যাডার এখন নোমানের সন্ত্রাসী বাহিনীর অন্যতম সদস্য।

অনুসন্ধানে আরো জানা যায়,বিগত সতের বছর যারা লালমোহনে বিএনপিকে টিকিয়ে রাখতে হামলা মামলার শিকার হয়েছেন তারা এখন আওয়ামী সন্ত্রাসীদের দ্বারা নির্যাতিত হচ্ছেন। নোমান বাহিনী এতোটা হিংস্র ২০২৪-২৫সালে লালমোহনের বিভিন্ন ইউনিয়নের সরকারী বরাদ্দ টি আর/কাবিখা/কাবিটার সকল বরাদ্দের প্রায় ২ কোটি টাকা, কোনো কাজ বাস্তবায়ন না করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে আঁতাত করে, নোমানের বড় ভাই উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম বাবুল পঞ্চায়েতের নির্দেশে টাকা উত্তোলন করে নিয়ে যায়। বিএনপির গজারিয়ায় ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক ফোরকান মিয়া আক্ষেপ করে বলেন, বিগত সরকারের পতনের পর লালমোহনে আমার ভাই শফিকুল ইসলাম বাবুল পঞ্চায়েত আমার নির্মাণাধীন বাড়ির ২০ লাখ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায় নোমানের সন্ত্রাসী বাহিনীর মাধ্যমে। রাতের আঁধারে এলাকায় প্রায় এক/দেড়শতাধিক সন্ত্রাসী নোমানের নেতৃত্বে আমার বাড়িতে হামলা করে মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। আওয়ামী লীগের আমলে আমরা চাঁদা দিতাম আর এখন বিএনপি আমাদের কাছ থেকে চাঁদা নেয়। আমরা যদি চাঁদা দিতে অস্বীকার করি তাহলে আমাদের উপর চলে নির্যাতনের ষ্ট্রিমরোলার। পুরো লালমোহন উপজেলা এখন নোমান বাহিনীর কথায় উঠবস করে। তিনি আরো বলেন, বাবুল পঞ্চায়েত ও নোমান পঞ্চায়েত আমার চাচাতো ভাই তারপরও আমাকে চাঁদা দিতে হয়। আমার লুট হওয়া মালামাল ফেরত পেতে প্রশাসনের কাছে প্রতিকার চেয়ে আবেদন করেও কোন লাভ হয়নি। এমনকি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও লালমোহনের সাবেক সংসদ সদস্য মেজর (অবঃ) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রমের কাছে এ বিষয়ে অভিযোগ করলেও কোন প্রতিকার পাওয়া যায় নি। এব্যাপারে সাবেক চেয়ারম্যান শাহজাহানের সাথে তার ব্যবহৃত মুঠো ফোনে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিগত বছর ৮ আগষ্ট নোমান বাহিনী আমার কাছ থেকে বিশ লাখ টাকা চাঁদা নেয়। আমি একটু দিতে দেরি করায় আমাকে মামুন মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে খুলি উড়িয়ে দেয়ার হুমকি দেয়। কাওকে যদি ঘটনা প্রকাশ করি তাহলে প্রাণে মেরে ফেলবে বলে হুমকি দিয়ে যায়।

অভিযুক্ত নোমানকে তার ব্যবহৃত মুঠো ফোনে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আপনারা যা শুনেছেন তা সঠিক নয়। যারা আমার সাথে আছে তারা বিএনপির ত্যাগী নেতা। আমরা চাঁদাবাজি করিনা মানুষ দলের কার্যক্রম পরিচালনা করতে কিছু টাকা আমাদেরকে দেয়। সরকারী টাকা লুট ও বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়ে কোটি কোটি টাকা চাঁদা আদায় করার অভিযোগের তীর আপনার দিকে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সেটা আমার ভাই দেখাশোনা করে। এ ব্যাপারে লালমোহন উপজেলার বিএনপি’র সভাপতি জাফরকে তার ব্যবহৃত মুঠো ফোনে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিষয়টি আমি শুনেছি তদন্ত করে আমাদের নেতা মেজর হাফিজ উদ্দিন আহমেদকে জানাব এবং সংগঠনের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কঠিন ব্যবস্থা নেব। অভিযুক্ত নোমান বাহিনীর তান্ডব থেকে বাঁচতে সাধারণ জনগণ প্রশাসনের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।