জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনসহ নানা অভিযোগ উঠেছে বাংলাদেশ হাইকোর্ট সুপ্রিমকোর্ট আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি এম ফারুক আহমেদের বিরুদ্ধে। ২০০১ সালের ফেব্রুয়ারিতে ফারুক আহমেদকে আওয়ামী লীগ সরকার তাঁর মেয়াদের শেষের দিকে হাইকোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দেয়। ২০০১ সালের শেষের দিকে বাংলাদেশে জাতীয়তাবাদী দল সরকার ক্ষমতায় আসার পর তাকেসহ ৮ জন বিচারপতিকে স্থায়ী বিচারক হিসেবে নিয়োগ দেয়নি। বাংলাদেশ হাইকোর্টের একটি রায় বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট দ্বারা বহাল থাকলেও মানা হয়নি। বাংলাদেশ সরকারকে আহমেদ ফারুক কে হাইকোর্ট বিভাগে পূর্ণ নিয়োগ করতে বলা হয়েছিল যাদের নিয়োগ সত্ত্বেও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল সরকার নিশ্চিত করেননি। বিগত আওয়ামী লীগ সরকার তাঁকে অতিরিক্ত বিচারপতি হিসেবে আদালতে নিয়োগ দিয়েছিলেন।২০০৮ সালে আওয়ামীলীগ পুনরায় ক্ষমতায় আসলে ২০১১ সালের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশ হাইকোর্টের ফারুক আহমেদসহ ৭ জন বিচারপতি আপিল বিভাগে নিয়োগ না পেয়ে ধর্মঘটসহ পদত্যাগের হুমকি দেয়। ওই বিচারপতিদের যুক্তি ছিল আদালতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল সরকার তাদের নিয়োগ নিশ্চিত না করায় ফারুক আহমেদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ সময় আন্দোলনের প্রেক্ষিতে সরকার আপিল বিভাগে নিয়োগ নিশ্চিত করেন।
জানা গেছে আপিল বিভাগ থেকে অবসর গ্রহণ করলে ২০২১ সালের ২৯ জুন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এক নিয়োগ সংক্রান্ত আদেশ জারি করেছিলেন। আদেশে বলা হয় অন্যান্য প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের সঙ্গে কর্মসম্পর্ক পরিত্যাগের শর্তে এম ফারুক নিয়োগ পেয়েছেন। তিনি হাইকোর্ট বিভাগের বিচারকের মর্যাদা ও আর্থিক সুবিধা পাবেন বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়। ওই বছরের শ্রম আপিল ট্রাইব্যুনাল বিভাগের চেয়ারম্যান বিচারপতি আব্দুল হাই করোনাভাইরাসে মারা যান। এরপর ট্রাইব্যুনালের সদস্য (জেলা জজ) মোসাম্মদ জাকিয়া পারভিন চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছিলেন। ওই বছরের ১৭ জুন জাকিয়াকে অন্যত্র বদলি করা হলে তার স্থলাভিষিক্ত করেন এম বিচারপতি ফারুক আহমেদকে।
এদিকে বিতর্কিত ভূমিকায় আপিল ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান ফারুকের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ করেছিলেন বিভিন্ন মহল। এ সময় তাঁর অনিয়মের কারণে বিচার গ্রহীতাদের মধ্যে নাভিশ্বাস উঠলেও কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি সাবেক আওয়ামী লীগ সরকার। তিনি মামলার ধার্য তারিখে প্রায়ই অনুপস্থিত ছিলেন আবার ধার্য তারিখে মামলার নথি কোর্টের কার্যতালিকায় খুঁজে পাওয়া যায়নি। বিচার গ্রহীতারা বিভিন্ন তারিখে হয়রানির শিকার হয়েছেন। বিচারকাজ বিলম্বিত হওয়ার কারণে ক্ষুব্ধ হয়ে শ্রম মন্ত্রণালয়ে তার অব্যহতির জন্য আবেদন করেছিলেন একাধিক আইনজীবী। আইনজীবীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করার অভিযোগ ছিল এম ফারুকের বিরুদ্ধে। এছাড়াও ফারুক আহমেদ বিচারিক আদালতে অনেক প্রহসনের রায় দিয়ে গোটা বিচার বিভাগ কে প্রশ্নবিদ্ধ করার অভিযোগ রয়েছে। নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে বিগত সরকারের নিকট থেকে আর্থিক সুবিধাসহ উপহার হিসেবে রাজধানীর পূর্বাচলের দশ কাঠার একটি প্লট নিয়েছেন।আমেরিকায় একাধিক বাড়ির ক্রয়ের খবর চাউর হয়েছে বিগত সরকারের কর্তৃত্ববাদী হয়ে বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন।৫ অগাস্টের পর বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের অভিযোগে বিচারপতি মানিক ও সাবেক প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের হাতে আটক হলেও এম ফারুক আহমেদ অদৃশ্য কারণে গ্রেফতার এড়িয়ে ঢাকায় বসবাস করছেন। তাঁর বিতর্কিত কর্মকান্ডগুলো জনগণের কাছে অত্যন্ত নিন্দনীয়। তাঁর জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের অনুসন্ধান অব্যহত রয়েছে। বিস্তারিত প্রকাশ পাবে পরবর্তী সংখ্যায়।
২০১১ সাল থেকে ২০২১ সালের স্বল্প সময়ে সম্পদের পাহাড় গড়ার অভিযোগ বিস্তর চাউর হয়েছে। ওই সময় তার বেপরোয়া আচরণে বিচার গ্রহীতাসহ আইনজীবীরাও উদ্বেগ জানিয়ে ছিলেন।
অনুসন্ধান সূত্র বলছে , সাবেক বিচারপতি এম ফারুক আহমেদ দুই ছেলে এবং তিন কন্যার জনক। দুই ছেলে কোন চাকরি বা ব্যবসা না করলেও বাড্ডা আফতাবনগর ১১ তলা নিজ বাড়িতে সপরিবারে বসবাস করছেন। তাঁর জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের মধ্যে বাড্ডা আফতাবনগর ১১ তলা পাঁচ কা ঠার উপরে একটি ডুপ্লেক্স নান্দনিক ডিজাইনের ভবন রয়েছে। রামপুরা বনশ্রী প্রজেক্টে একটি চার কাঠা জমির উপর নির্মিত আটতলা নিজস্ব ভবন রয়েছে। এছাড়াও রাজধানী পূর্বাচল আবাসিকে দশ কাটার একটি প্লট রয়েছে। নামে বেনামে ব্যাংক ডিপোজিট এবং আমেরিকাতে তাঁর ছোট মেয়ের নামে আছে একটি আলিশান বাড়ি , অবসরে গিয়ে অবৈধ টাকা বিদেশে পাচারের অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। অবসরে যাওয়ার পরে তাঁর মেয়ের কাছে আমেরিকাতে একাধিকবার আসা-যাওয়া করেছেন। হাইকোর্ট এবং শ্রম আপিল ট্রাইবুনালে চাকরি করে ব্যাপক অনিয়ম অব্যবস্থাপনার অভিযোগ থাকলেও কোনো প্রতিকার পাননি ভুক্তভোগীরা। তিনি ছিলেন বিগত সরকারের একরোখা আস্থাভাজন ও দাপুটে বিচারক। ঢাকাসহ রাজধানীর বাইরে তার অন্যান্য সম্পদের অনুসন্ধান অব্যহত রয়েছে।
এসব বিষয় জানতে চেয়ে সাবেক বিচারপতি এম ফারুক আহমেদ এর সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।তবে তাঁর স্ত্রী মেরিনা আহমেদ গণমাধ্যম কে আংশিক স্বীকার করে বলেন, আমেরিকাতে একটি বাড়ি আছে, আফতাবনগর একটি এগারো তলা বাড়ি, পূর্বাচল ৬ কাঠার একটি প্লট রয়েছে।আমেরিকায় একটি বাড়ির কথা স্বীকার করে বলেন, ওখানে আমার ছোট মেয়ে বসবাস করছেন। তবে বনশ্রীর বাড়ি অনেক আগে ক্রয় করা হয়েছে।
নিজস্ব প্রতিবেদক 
























