গুলশান সাবরেজিষ্ট্রি অফিসের নকলনবিশ গিয়াস উদ্দিন বহিরাগতদের সাথে নিয়ে অফিসে রীতিমত ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছেন। সেবা গ্রহীতাদের কাছে গিয়াসউদ্দিন এক আতংকের নাম। এমন কোনো অপকর্ম নেই যা তিনি করেন না। গিয়াসউদ্দিনের ক্ষমতার দাপটের কারনে সংশ্লিষ্ট মহলে ”বিকল্প সাবরেজিষ্ট্রার” হিসেবে পরিচিত।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানাগেছে,দলিল তল্লাসী ও নকল উত্তোলন করতে গিয়ে অতিরিক্ত টাকা আদায় সহ নানা রকম দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। ক্ষমতার অপব্যবহার করে তিনি রেকর্ডরুমে যাকে ইচ্ছা তাকে প্রববেশ করার সুযোগ করে দেন। নকল ও সার্চিং বাবদ গৃহিত অর্থের সাথে ট্রেজারী চালানের কোনো মিল না রেখে তিনি ইচ্ছা মতো টাকা আদায় করেন।
সেবা গ্রহণেচ্ছু গ্রাহকদের বক্তব্য অনুযায়ী উক্ত অফিসে নানাবিধ হয়রানি ও বিভিন্ন পর্যায়ে সরকার নির্ধারিত ফি’র অতিরিক্ত অর্থ দাবির সত্যতা পাওয়া গেছে। যার সাথে নকলনবিশ গিয়াসউদ্দিন সরাসরি জড়িত । এমনকি জাল দলিল তৈরিতেও তিনি সিদ্ধহস্ত বলে অভিযোগ রয়েছে। সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের উপর মহলে তার শক্তিশালী লিয়াজো ছিলো বলে প্রমাণ পাওয়া যায়। যুবলীগের পদধারী নেতা গিয়াসউদ্দিন আওয়ামী লীগের শাসনামলে দলীয় ক্ষমতা ব্যব্যবহার করেই দুর্নীতি করে পার পেয়েছেন। রাজনৈতিক পটপরিবর্তন পর তিনি বহাল তবিয়তে থেকে তার দুর্নীতির রামরাজত্ব অব্যাহত রেখেছেন।
গুলশান সাব-রেজিস্ট্রি অফিসকে ঘিরে সম্প্রতি নানা ধরনের অনিয়ম, দুর্নীতি ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এই কার্যালয়ে জমির শ্রেণী পরিবর্তনের মাধ্যমে সরকারি রাজস্ব ফাঁকি, ঘুষ বাণিজ্য, জাল ও ভুয়া দলিল নিবন্ধন এবং দালালচক্রের প্রভাব বিস্তারের মতো ঘটনা ঘটছে। এসব অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন গুলশান সাবরেজিষ্ট্রি অফিসে নকলনবিশ গিয়াসউদ্দিন। সাব-রেজিস্ট্রার মো. আব্দুল্লাহ আল-মামুন এর ক্যাশিয়ার হিসেবে কাজ করছেন নকলনবিশ গিয়াসউদ্দিন।
গত ৩ মে-২০২৬ তারিখে সম্পাদিত একটি সাব-কবলা দলিল, যার নম্বর ৩৪৫৯, সেখানে প্রায় ১০.৬৬ কাঠা জমি হস্তান্তর করা হয়। জমিটির প্রকৃত অবস্থা ছিল অত্যন্ত মূল্যবান বসতভিটা; কিন্তু দলিলে সেটিকে ‘নাল জমি’ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। এর ফলে প্রকৃত মূল্যের তুলনায় অনেক কম রাজস্ব আদায় হয়েছে এবং সরকারি কোষাগার বিপুল পরিমাণ অর্থ হারিয়েছে। এই অপকর্মের মূলহোতা ছিলেন গুলশান সাবরেজিষ্ট্রি অফিসে নকলনবিশ গিয়াসউদ্দিন।
গুলশান সাব-রেজিস্ট্রি অফিসকে ঘিরে সবচেয়ে আলোচিত অভিযোগগুলোর একটি হলো ঘুষ বাণিজ্য। সরকার নির্ধারিত ফি ছাড়াও বিভিন্ন ধাপে অতিরিক্ত অর্থ দাবি করা হয়। দলিল নিবন্ধন, কাগজপত্র যাচাই, নামজারি-সংক্রান্ত নথি প্রস্তুত বা বিভিন্ন প্রশাসনিক সহায়তার ক্ষেত্রে একটি অলিখিত অর্থ লেনদেনের সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে। গুলশান সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে প্রতিদিন গড়ে ২৫ থেকে ৩০টি দলিল নিবন্ধন হয়। সংখ্যায় তুলনামূলক কম হলেও এসব দলিলের আর্থিক মূল্য অনেক বেশি। ফলে প্রতিটি লেনদেনের সঙ্গে বড় অঙ্কের অর্থ জড়িত থাকে। গুলশান সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে নকলনবিশ মো. গিয়াস উদ্দিনসহ কতিপয় বহিরাগত দালাল চক্রের মাধ্যমে জাল কাগজপত্র, অসত্য তথ্য কিংবা মালিকানার ইতিহাস যথাযথভাবে যাচাই না করেই কিছু দলিল নিবন্ধন করা হচ্ছে। এর ফলে প্রকৃত মালিকদের সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হচ্ছে এবং দীর্ঘমেয়াদি আইনি জটিলতা দেখা দিচ্ছে।
গুলশান সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের নকলনবিশ মো. গিয়াস উদ্দিন অনিয়ম দুর্নীতির মাধ্যমে সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে অঢেল বিত্ত বৈভবের মালিক বনে গেছেন। তার অবৈধ সম্পদের ফিরিস্তিসহ দুর্নীতির বিস্তারিত থাকছে পরবর্তি পর্বে।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানার জন্যে নকলনবিশ মো. গিয়াস উদ্দিনের মোবাইল ফোনে কল দিলে তা বন্ধ পাওয়া যায়।
সংবাদ শিরোনাম ::
গুলশান সাবরেজিষ্ট্রি অফিসে নকলনবিশ গিয়াসউদ্দিনের ত্রাসের রাজত্ব!
-
নিজস্ব প্রতিবেদক - আপডেট সময় ০৯:২৫:২৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
- ৫০০ বার পড়া হয়েছে
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ





















