রমজান শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মুসলমানদের হৃদয় আল্লাহর দিকে ঝুঁকে পড়ে, আত্মশুদ্ধির এক অপূর্ব আবহ তৈরি হয়। এই পবিত্র মাসে সংযম, ত্যাগ ও ধৈর্যের শিক্ষা গ্রহণের পাশাপাশি সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষদের জন্য সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এবারের রমজানকে কেন্দ্র করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন একটি অনন্য উদ্যোগ নিয়েছে—বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে প্রতিদিন ৩০০০ শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীর জন্য বিনামূল্যে ইফতারের ব্যবস্থা করেছে। এটি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এমন একটি মহৎ আয়োজন। ইতোমধ্যেই রান্নার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে, আর শিক্ষার্থীরা অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে এই উদ্যোগকে স্বাগত জানাচ্ছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থী জানিয়েছেন, এতো বিশাল পরিসরে আগে কখনো ইফতারের ব্যবস্থা করা হয়নি। তারা মনে করেন, এই উদ্যোগ শুধু ক্ষুধার্তদের আহারের ব্যবস্থা নয়, বরং ক্যাম্পাসে ঐক্য ও ইসলামী মূল্যবোধের প্রচারেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
রমজান ও ইফতারের ফজিলত কুরআন-হাদিসের আলোকে
রমজান মাস সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা বলেন—
“হে মুমিনগণ! তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর, যাতে তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পারো।” (সুরা আল-বাকারা: ১৮৩)
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—
“যে ব্যক্তি ঈমানের সঙ্গে ও সওয়াবের আশায় রমজানের রোজা রাখে, তার পূর্ববর্তী সকল গুনাহ ক্ষমা করা হয়।” (বুখারি ও মুসলিম)
ইফতারের সময় মুমিনের জন্য বিশেষ দোয়া কবুল হয়। রাসুল (সা.) বলেছেন—
“রোজাদারের জন্য দুটি আনন্দ রয়েছে—একটি ইফতারের সময় এবং অপরটি রবের সঙ্গে সাক্ষাতের সময়।” (বুখারি ও মুসলিম)
এমন মহিমান্বিত সময়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের এই উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবিদার। এটি যেন আগামী বছরগুলোতেও অব্যাহত থাকে, সে প্রত্যাশা সকলের।
আমাদের দায়িত্ব
রমজান শুধু ব্যক্তিগত সংযমের মাস নয়, এটি মানবতার সেবার মাস। আমাদের উচিত সমাজের অসহায় ও দুস্থ মানুষের জন্য সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়া এবং সৎকর্মে প্রতিযোগিতা করা।
আল্লাহ আমাদের সকলকে এই পবিত্র মাসের রহমত, মাগফিরাত ও নাজাত লাভের তৌফিক দান করুন। আমিন।
আল আমিন ইসলাম রাবি প্রতিনিধি 
























