রাজশাহী সহ উত্তরবঙ্গের ইট ভাটা গুলোর বেহাল অবস্থা, নেই কোন ইট বেচা-বিক্রি প্রতিদিন বাড়ছে ঋণের বোঝা। মূলধনে পড়ছে ঘাটতি, দিতে পারছেনা দিন মজুরীর, কর্মী বিল ও অন্যান্য খরচ। পরিশোধ করতে পারছেন জ্বালানীর খড়ি ও কয়লা ক্রয় বাবদ টাকা । সব মিলিয়ে ভাটার খরচ চালাতে হিমসিম খাচ্ছে মালিকেরা।
সরকার পতনের পর থেকে শত শত ভাটার মালিকেরা পড়েছে আর্থিক সংকটে। সরকারি ও বেসরকারি অধিকাংশ প্রকল্পের কাজই বন্ধ হওয়ায় ভাটার ইট বিক্রয় কমে গেছে, কিন্তু ইট উৎপাদন সহ অন্যান্য খরচ আগের মতোই চলোমান রয়েছে। তাই আয়ের সাথে ব্যয় সামঞ্জস্য না থাকায় চরম আর্থিক সংকটে পড়েছে ভাটার মালিকেরা। অনেক ইট ভাটার ম্যানেজার ও মালিকরা জানাই যে, কোন কোন দিন তাদের ১টি ইটও বিক্রয় হয় না। কিন্তু ভাটার কার্যক্রম চলোমান রাখতে গিয়ে, দিন মজুর শ্রমিকের বিলের টাকা পরিশোধ করতে বিভিন্ন জায়গাতে ঋণ করতে হচ্ছে। এমন অবস্থা চলতে থাকলে ভাটা গুলো স্থায়ীভাবে বন্ধ করে বাধ্য হতে হবে। ইতিমধ্যে অনেক বাটা বন্ধ হয়ে গেছে।
উত্তরবঙ্গের শত শত ইটভাটা গুলোই অনুমোদন ছাড়াই ক্লে-ব্রিকস (ইট) উৎপাদন করছে। বিএসটিআই বিভিন্ন পরীক্ষা নিরিক্ষায় ইটে গুণগত মান, সরকার জারি করা ইটের দৈর্ঘ্য, প্রস্থ ও উচ্চতা, পানি নিষ্কাষণ এবং স্থায়িত্ব যাচাই-বাছাই না করার প্রমাণ পাচ্ছে। এছাড়া বিএসটিআই`র লাইসেন্স না নিয়ে ইট তৈরি ও বিক্রয়ের অভিযোগও রয়েছে। সেই প্রেক্ষিতে বিএসটিআই‘র বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। সেখানেও ভাটার মালিকদের গনতে হচ্ছে জরিমানার টাকা।
বিএসটিআইয়ের ২৪ ধারা লংঘনের দায়ে ইট ভাটা গুলোর বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করা হচ্ছে। অধিকাংশ ইটভাটার নেই পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র। নেই নিবন্ধনও। কারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদফতরের ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন-২০১৩ অনুযায়ী, লাইসেন্স গ্রহণ ছাড়া ইটভাটায় ইট প্রস্তুত করলে এক বছরের কারাদণ্ড অথবা তার অধিক এক লাখ টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানের প্রেক্ষিতে ইটভাটার কার্যক্রম যেমন ব্যাহত হচ্ছে, তেমনি বন্ধ হচ্ছে ইট উৎপাদন ও বিক্রি। দিনের পর দিন ইট ভাটা গুলো ব্যাংকের লোন পরিশোধ করতে পারছে না। সব মিলে ইটভাটা গুলোর বেহাল অবস্থা, আর্থিক সংকটের দিন কাটাচ্ছে ইট ভাটার মালিকগণ।
রাজশাহী বিভাগীয় ব্যুরো প্রধানঃ 

























