ঢাকা ০১:০৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ২৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

নওগাঁয় কৃষকগনের কৃষি বিপ্লব নতুন অভিজান সরিষার চাষ

 

ভোজ্য তেলের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় নওগাঁ জেলার কৃষকগণ পুনরায় বাপ দাদার পুরনো পেশায় ফিরে যাচ্ছেন। এতদিন ধান ও আমে চাষের দিকে ঝুঁকলেও ভোজ্য তেলের মূল্য বৃদ্ধি হওয়ায় এবার নওগাঁ জেলা কৃষকগন পুনরায় সরিষা আবাদের দিকে মনোনিবেশ করেছেন।

জমির পরিমাণ।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে জেলার ১১টি উপজেলায় ৩২ হাজার একশ হেক্টর জমিতে সরিষা আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও ৩৩ হাজার ৬৪০ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ হয়েছে। যা গত বছরের তুলনায় ২ হাজার ৩২০ হেক্টর বেশি।তাইত বর্তমানে ৪৮ হাজার মেট্রিক টন সরিষা মোট উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

২০২২-২০২৩ মৌসুমে এই জেলায় সরিষার আবাদ হয় ৩১ হাজার ৩২০ হেক্টর জমিতে এবং হেক্টর প্রতি ১.৪৫ মেট্রিক টন হারে মোট সরিষা উৎপাদন হয় ৪৫ হাজার ৪৬৬ মেট্রিক টন সরিষা।
২০২৩-২০২৪ মৌসুমে নওগাঁ জেলায় সরিষার আবাদ হয় ৩৪ হাজার ৭৪৫ হেক্টর জমিতে হেক্টর প্রতি ১ পয়েন্ট ৫২ মেট্রিক টন হারে মোট উৎপাদন হয় ৫২ হাজার ৯৪৫ মেট্রিক টন সরিষা।
২০২৪-২০২৫ মৌসুমে নওগাঁ জেলার এগারটি উপজেলায় ৩২ হাজার ১০০ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। যেখানে গত মৌসুমে ৩৪ হাজার ৭৪৫হেক্টর জমিতে সরিষার চাষ হয়েছিলো।
(কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের(খামারবাড়ি) উপ-পরিচালক শামসুল ওয়াদুদ)।

জেলার ১১টি উপজেলার মধ্যে নওগাঁ-
সদর উপজেলায় ১ হাজার ৮২৫ হেক্টর,
রানীনগরে ২ হাজার ৮০৫ হেক্টর জমিতে।
আত্রাইয়ে ১ হাজার ৭৩০ হেক্টর জমিতে।
বদলগাছীতে ১হাজার ৯৩৫ হেক্টর জমিতে।
মহাদেবপুরে ১ হাজার ৫০৫ হেক্টর জমিতে।
পত্নীতলায় ৫ হাজার ৩০ হেক্টর জমিতে।
ধামইরহাটে ১ হাজার ৯৬০ হেক্টর জমিতে।
সাপাহারে ৩ হাজার ৭৫০ হেক্টর জমিতে।
পোরশায় ৩ হাজার ৬৭০ হেক্টর জমিতে।
মান্দায় ৪ হাজার ৪১০ হেক্টর জমিতে এবং নিয়ামতপুরে ৪ হাজার ৪৮০ হেক্টর জমিতে
সরিষার আবাদ হয়েছে।

উচ্চ ফলনশীল যাত
বারি-৯, বারি-১৪, বারি-১৫, বারি-১৬, বারি-১৭, বিনা-৪, বিনা-৯, টরি-৭ এবং সম্পদ জাতের সরিষা চাষ করা হয়েছে।সরিষা চাষে আগ্রহ বাড়াতে জেলার প্রান্তিক পর্যায়ের ৫ হাজার কৃষকের মাঝে প্রত্যেককে ১ কেজি উন্নত জাতের সরিষা বীজ, ২০ কেজি ডিওপি (ডাই-অ্যামোনিয়াম ফসফেট) ও ১০ কেজি এ (মিউরেট অব পটাশ) সার প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে।(নওগাঁ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (খামারবাড়ি) উপ- পরিচালক শামছুল ওয়াদুদ।)

জেলার মান্দা উপজেলার সতিহাট, রাণীনগর উপজেলার ত্রিমোহণী হাট ও আত্রাই উপজেলার আহসানগঞ্জ হাটে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বর্তমানে প্রকারভেদে প্রতি মণ নতুন সরিষা ২ হাজার ৩০০ টাকা থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকায় এবং সদ্য শুকনা সরিষা প্রতি মণ ২ হাজার ৫০০ টাকা থেকে ৩ হাজার টাকা মণ দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া প্রতি কেজি সরিষার তেল পাইকারী ১৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

নওগাঁ সদর উপজেলার চন্ডিপুর ইউনিয়নের চুনিয়াগাড়ী গ্রামের কৃষক আশিক আরমান শাওন বলেন, ‘গত বছর দেড় বিঘা জমিতে বারি-১৪ ও ১৫
জাতের সরিষা আবাদ করে ১১ মণ সরিষা পেয়ে ছিলাম। শুকনা সরিষা ২ হাজার ৫০০ টাকা মণ
দরে বিক্রি করে ভালো লাভ হয়েছিল। তাই এ বছর ২
বিঘা জমিতে সরিষার আবাদ করেছি। সরিষার জমি
প্রস্তুত ও আনুষঙ্গিক প্রায় সাড়ে ৫ হাজার টাকা খরচ
হয়েছে।

আবহাওয়া ভালো থাকায় সরিষার আবাদও ভালো হয়েছে। আশা করছি এখান থেকে কমপক্ষে ১৬ মণ সরিষা পাব। যেহেতু এ বছর সরিষার বাজার শুরু
থেকেই বেশি তাই এ বছর সরিষা আরও বেশি দামে
বিক্রি করতে পারব বলে আশা করছি।’

কৃষক কথা।
সাপাহার উপজেলার আশড়ন্দ গ্রামের কৃষক রেজাউল
ইসলাম বলেন, ‘প্রতি বছর ১ বিঘা জমিতে সরিষার আবাদ করলেও এ বছর ভালো দাম পাওয়ার আশায় দেড় বিঘা জমিতে বারি-১৪ জাতের সরিষার আবাদ করেছেন।
উপজেলা কৃষি অফিস থেকে প্রণোদনার সার ও বীজ পাওয়ায় সরিষা আবাদে খরচ অনেকটাই কম হয়েছে তার। গত বছর ২ হাজার ৭০০ টাকা মণ দরে শুকনা সরিষা বিক্রি করেছিলেন। এ বছর আবহাওয়া অনুক,লে থাকায় কমপক্ষে ১২ মণ ফলন পাবেন বলে আশাবাদী তিনি।

বাজার মূল্য।
এ বছর বাজারে ভোজ্যতেলের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই স্বাভাবিকভাবেই সরিষার বাজার বৃদ্ধি পাবে জেনেই এ মৌসুমের শুরুতেই কৃষকেরা দেশীও জাতের (টরি-৭) সরিষা আবাদ করেছেন। যেখানে জমি প্রস্তুত, বীজ, সার ও কীটনাশক প্রয়োগসহ যাবতীয় খরচ মিলিয়ে ১৫ হাজার টাকা খরচ করে নতুন সরিষা বাজারে প্রতি মন ২৫০০হাজার থেকে৩০০০ হাজার টাকা মন দরে কৃষক গন সরিষা বিক্রি করেছেন। সরিষা চাষের সবচেয়ে বড় সুবিধা স্বল্প সময়ে ফসল পাওয়া যায়। আবার একই জমিতে সরিষা বিক্রির টাকা দিয়েই বোরো আবাদ করা যায়। ওই জমিতে ২টি চাষ ও সামান্য পরিমাণ সার বোরো আবাদ করবেন তিনি।

সরিষা স্বল্প সময়ে উৎপাদনশীল রবিশষ্য হলেও গত কয়েক বছর আগে বাজারে তেমন চাহিদা এবং দাম না থাকায় স্বল্প সংখ্যক চাষি সরিষার আবাদ করতেন। যারাই চাষ করতেন তাদের মূল লক্ষ্য ছিল বোরো কেন্দ্রিক। এই ফসল ঘরে তুলে এখান থেকে যে টাকা আসবে সেটার সঙ্গে কিছু টাকা দিয়ে বোরো চাষ করবেন। তবে বর্তমানে বাজারে ভোজ্য তেলের দাম বৃদ্ধিতে সরিষার চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় দাম বেড়েছে।তাই সরিষার আবাদে জেলার সকল পর্যায়ের কৃষকদের আগ্রহ বেড়েছে।

প্রনদোনা সার ও বীজ।
চাষিদের সরিষা চাষে উদ্বুদ্ধ করতে কৃষি বিভাগ থেকে প্রণোদনার মাধ্যমে বিনামূল্যে সার ও বীজ দেওয়া হয়েছে। এ বছর আবহাওয়া অনুক,লে থাকায় বিগত বছরের তুলনায় আবাদ ভালো হয়েছে। তাই উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। যেহেতু বিগত বছরের তুলনায় এ বছর বাজারে ভোজ্যতেলের দাম বেশি তাই সরিষার দাম বেশি হবে বলে মনে হচ্ছে। কৃষকদের উৎপাদিত সরিষা বাজারে প্রায় ৩শ কোটি টাকায় বিক্রির সম্ভাবনা রয়েছে।(জেলা কৃষি আফিস,নওগাঁ)।

মৌ চাষ।
এবার নওগাঁ জেলায় ৮ হাজার মৌবক্স স্থাপন করা হয়েছে।এই পরিমাণ বক্স থেকে এবার ২০০ টন মধু সংগ্রহ করা হবে।প্রতি কেজি মধু ৫০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলো এবার নওগাঁ জেলায় সরিষা ফুল থেকে প্রায় ১০ কোটি টাকার মধু বিক্রয় করা হবে।

নওগাঁ জেলার কৃষক।রোদ ঝড় বৃষ্টিতে ফসলের সোনা মাঠে সোনাফলা সৃষ্টিতে।ধান,আম,মাছ আর অবারিত সরিষা মাঠ সবুজে ভরা মোদের নওগাঁর পথ ঘাট।
বরেন্দ্রভূমির ঠাঁ ঠাঁ মাঠের লড়াকু সৈনিক তোমাদের শতকুটি ছালাম।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

চীনে জুতার কারখানায় ভয়াবহ ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, নিহত ২৮

নওগাঁয় কৃষকগনের কৃষি বিপ্লব নতুন অভিজান সরিষার চাষ

আপডেট সময় ১২:৩৬:০৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৫

 

ভোজ্য তেলের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় নওগাঁ জেলার কৃষকগণ পুনরায় বাপ দাদার পুরনো পেশায় ফিরে যাচ্ছেন। এতদিন ধান ও আমে চাষের দিকে ঝুঁকলেও ভোজ্য তেলের মূল্য বৃদ্ধি হওয়ায় এবার নওগাঁ জেলা কৃষকগন পুনরায় সরিষা আবাদের দিকে মনোনিবেশ করেছেন।

জমির পরিমাণ।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে জেলার ১১টি উপজেলায় ৩২ হাজার একশ হেক্টর জমিতে সরিষা আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও ৩৩ হাজার ৬৪০ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ হয়েছে। যা গত বছরের তুলনায় ২ হাজার ৩২০ হেক্টর বেশি।তাইত বর্তমানে ৪৮ হাজার মেট্রিক টন সরিষা মোট উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

২০২২-২০২৩ মৌসুমে এই জেলায় সরিষার আবাদ হয় ৩১ হাজার ৩২০ হেক্টর জমিতে এবং হেক্টর প্রতি ১.৪৫ মেট্রিক টন হারে মোট সরিষা উৎপাদন হয় ৪৫ হাজার ৪৬৬ মেট্রিক টন সরিষা।
২০২৩-২০২৪ মৌসুমে নওগাঁ জেলায় সরিষার আবাদ হয় ৩৪ হাজার ৭৪৫ হেক্টর জমিতে হেক্টর প্রতি ১ পয়েন্ট ৫২ মেট্রিক টন হারে মোট উৎপাদন হয় ৫২ হাজার ৯৪৫ মেট্রিক টন সরিষা।
২০২৪-২০২৫ মৌসুমে নওগাঁ জেলার এগারটি উপজেলায় ৩২ হাজার ১০০ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। যেখানে গত মৌসুমে ৩৪ হাজার ৭৪৫হেক্টর জমিতে সরিষার চাষ হয়েছিলো।
(কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের(খামারবাড়ি) উপ-পরিচালক শামসুল ওয়াদুদ)।

জেলার ১১টি উপজেলার মধ্যে নওগাঁ-
সদর উপজেলায় ১ হাজার ৮২৫ হেক্টর,
রানীনগরে ২ হাজার ৮০৫ হেক্টর জমিতে।
আত্রাইয়ে ১ হাজার ৭৩০ হেক্টর জমিতে।
বদলগাছীতে ১হাজার ৯৩৫ হেক্টর জমিতে।
মহাদেবপুরে ১ হাজার ৫০৫ হেক্টর জমিতে।
পত্নীতলায় ৫ হাজার ৩০ হেক্টর জমিতে।
ধামইরহাটে ১ হাজার ৯৬০ হেক্টর জমিতে।
সাপাহারে ৩ হাজার ৭৫০ হেক্টর জমিতে।
পোরশায় ৩ হাজার ৬৭০ হেক্টর জমিতে।
মান্দায় ৪ হাজার ৪১০ হেক্টর জমিতে এবং নিয়ামতপুরে ৪ হাজার ৪৮০ হেক্টর জমিতে
সরিষার আবাদ হয়েছে।

উচ্চ ফলনশীল যাত
বারি-৯, বারি-১৪, বারি-১৫, বারি-১৬, বারি-১৭, বিনা-৪, বিনা-৯, টরি-৭ এবং সম্পদ জাতের সরিষা চাষ করা হয়েছে।সরিষা চাষে আগ্রহ বাড়াতে জেলার প্রান্তিক পর্যায়ের ৫ হাজার কৃষকের মাঝে প্রত্যেককে ১ কেজি উন্নত জাতের সরিষা বীজ, ২০ কেজি ডিওপি (ডাই-অ্যামোনিয়াম ফসফেট) ও ১০ কেজি এ (মিউরেট অব পটাশ) সার প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে।(নওগাঁ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (খামারবাড়ি) উপ- পরিচালক শামছুল ওয়াদুদ।)

জেলার মান্দা উপজেলার সতিহাট, রাণীনগর উপজেলার ত্রিমোহণী হাট ও আত্রাই উপজেলার আহসানগঞ্জ হাটে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বর্তমানে প্রকারভেদে প্রতি মণ নতুন সরিষা ২ হাজার ৩০০ টাকা থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকায় এবং সদ্য শুকনা সরিষা প্রতি মণ ২ হাজার ৫০০ টাকা থেকে ৩ হাজার টাকা মণ দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া প্রতি কেজি সরিষার তেল পাইকারী ১৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

নওগাঁ সদর উপজেলার চন্ডিপুর ইউনিয়নের চুনিয়াগাড়ী গ্রামের কৃষক আশিক আরমান শাওন বলেন, ‘গত বছর দেড় বিঘা জমিতে বারি-১৪ ও ১৫
জাতের সরিষা আবাদ করে ১১ মণ সরিষা পেয়ে ছিলাম। শুকনা সরিষা ২ হাজার ৫০০ টাকা মণ
দরে বিক্রি করে ভালো লাভ হয়েছিল। তাই এ বছর ২
বিঘা জমিতে সরিষার আবাদ করেছি। সরিষার জমি
প্রস্তুত ও আনুষঙ্গিক প্রায় সাড়ে ৫ হাজার টাকা খরচ
হয়েছে।

আবহাওয়া ভালো থাকায় সরিষার আবাদও ভালো হয়েছে। আশা করছি এখান থেকে কমপক্ষে ১৬ মণ সরিষা পাব। যেহেতু এ বছর সরিষার বাজার শুরু
থেকেই বেশি তাই এ বছর সরিষা আরও বেশি দামে
বিক্রি করতে পারব বলে আশা করছি।’

কৃষক কথা।
সাপাহার উপজেলার আশড়ন্দ গ্রামের কৃষক রেজাউল
ইসলাম বলেন, ‘প্রতি বছর ১ বিঘা জমিতে সরিষার আবাদ করলেও এ বছর ভালো দাম পাওয়ার আশায় দেড় বিঘা জমিতে বারি-১৪ জাতের সরিষার আবাদ করেছেন।
উপজেলা কৃষি অফিস থেকে প্রণোদনার সার ও বীজ পাওয়ায় সরিষা আবাদে খরচ অনেকটাই কম হয়েছে তার। গত বছর ২ হাজার ৭০০ টাকা মণ দরে শুকনা সরিষা বিক্রি করেছিলেন। এ বছর আবহাওয়া অনুক,লে থাকায় কমপক্ষে ১২ মণ ফলন পাবেন বলে আশাবাদী তিনি।

বাজার মূল্য।
এ বছর বাজারে ভোজ্যতেলের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই স্বাভাবিকভাবেই সরিষার বাজার বৃদ্ধি পাবে জেনেই এ মৌসুমের শুরুতেই কৃষকেরা দেশীও জাতের (টরি-৭) সরিষা আবাদ করেছেন। যেখানে জমি প্রস্তুত, বীজ, সার ও কীটনাশক প্রয়োগসহ যাবতীয় খরচ মিলিয়ে ১৫ হাজার টাকা খরচ করে নতুন সরিষা বাজারে প্রতি মন ২৫০০হাজার থেকে৩০০০ হাজার টাকা মন দরে কৃষক গন সরিষা বিক্রি করেছেন। সরিষা চাষের সবচেয়ে বড় সুবিধা স্বল্প সময়ে ফসল পাওয়া যায়। আবার একই জমিতে সরিষা বিক্রির টাকা দিয়েই বোরো আবাদ করা যায়। ওই জমিতে ২টি চাষ ও সামান্য পরিমাণ সার বোরো আবাদ করবেন তিনি।

সরিষা স্বল্প সময়ে উৎপাদনশীল রবিশষ্য হলেও গত কয়েক বছর আগে বাজারে তেমন চাহিদা এবং দাম না থাকায় স্বল্প সংখ্যক চাষি সরিষার আবাদ করতেন। যারাই চাষ করতেন তাদের মূল লক্ষ্য ছিল বোরো কেন্দ্রিক। এই ফসল ঘরে তুলে এখান থেকে যে টাকা আসবে সেটার সঙ্গে কিছু টাকা দিয়ে বোরো চাষ করবেন। তবে বর্তমানে বাজারে ভোজ্য তেলের দাম বৃদ্ধিতে সরিষার চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় দাম বেড়েছে।তাই সরিষার আবাদে জেলার সকল পর্যায়ের কৃষকদের আগ্রহ বেড়েছে।

প্রনদোনা সার ও বীজ।
চাষিদের সরিষা চাষে উদ্বুদ্ধ করতে কৃষি বিভাগ থেকে প্রণোদনার মাধ্যমে বিনামূল্যে সার ও বীজ দেওয়া হয়েছে। এ বছর আবহাওয়া অনুক,লে থাকায় বিগত বছরের তুলনায় আবাদ ভালো হয়েছে। তাই উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। যেহেতু বিগত বছরের তুলনায় এ বছর বাজারে ভোজ্যতেলের দাম বেশি তাই সরিষার দাম বেশি হবে বলে মনে হচ্ছে। কৃষকদের উৎপাদিত সরিষা বাজারে প্রায় ৩শ কোটি টাকায় বিক্রির সম্ভাবনা রয়েছে।(জেলা কৃষি আফিস,নওগাঁ)।

মৌ চাষ।
এবার নওগাঁ জেলায় ৮ হাজার মৌবক্স স্থাপন করা হয়েছে।এই পরিমাণ বক্স থেকে এবার ২০০ টন মধু সংগ্রহ করা হবে।প্রতি কেজি মধু ৫০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলো এবার নওগাঁ জেলায় সরিষা ফুল থেকে প্রায় ১০ কোটি টাকার মধু বিক্রয় করা হবে।

নওগাঁ জেলার কৃষক।রোদ ঝড় বৃষ্টিতে ফসলের সোনা মাঠে সোনাফলা সৃষ্টিতে।ধান,আম,মাছ আর অবারিত সরিষা মাঠ সবুজে ভরা মোদের নওগাঁর পথ ঘাট।
বরেন্দ্রভূমির ঠাঁ ঠাঁ মাঠের লড়াকু সৈনিক তোমাদের শতকুটি ছালাম।