খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী অর্ণব হত্যা মামলায় সন্দেহভাজন গ্রেফতার সাইফুল ইসলাম গাজীকে একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। রোববার খুলনা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-১ এর বিচারক মোঃ রাকিবুল ইসলাম এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এর আগে গত শুক্রবার রাত ১০টার দিকে নগরীর বয়রা বাজার এলাকা থেকে পুলিশ সাইফুল ইসলাম গাজীকে গ্রেফতার করে। রোববার বিকেল ৫টায় তাকে আদালতে উপস্থাপন করে পুলিশ ৭ দিনের রিমান্ডের আবেদন করে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আশরাফুল আলম জানান, শিক্ষার্থী অর্ণব হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সাইফুলের যোগাযোগ রয়েছে। সে হত্যাকাণ্ডের সময় খুনীচক্রের মোটরসাইকেল বহরে ছিল। গ্রেফতারের পর সে হত্যকাণ্ডের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদান করেছে। তিনি জানান, হত্যাকাণ্ডের ঘটনার বিবরণও সে দিয়েছে। তদন্তকারী কর্মকর্তা আরো জানান।
গ্রেফতারকৃত সাইফুল গাজীর বিরুদ্ধে সোনাডাঙ্গা থানায় হত্যাচেষ্টাসহ ৫টি মামলা রয়েছে। অর্ণব হত্যাকাণ্ডে ১৫/২০ জন সদস্য ছিল। হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে তারা শিববাড়ি মোড় পর্যন্ত এক সঙ্গে যায় এবং সেখান থেকে একাধিক গ্র“পে বিচ্ছিন হয়ে তারা পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। গ্রেফতার হওয়া সাইফুল গাজী নগরীর আলোচিত রোহান পলাশের অনুসারী। তাদের অপর সহযোগী রমজানকে গ্রেফাতারের পর সাইফুলের নাম উঠে আসে। পুলিশ ধারণা করছে রিমান্ড শেষে আদালতে স্বীকারোক্তি দিলে এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচিত হতে পারে।
উলেখ্য, গত ২৪ জানুয়ারি রাত পৌণে ৯টার দিকে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসা প্রশাসনের শিক্ষার্থী অর্ণব কুমার তার বন্ধুদের সঙ্গে নগরীর শেখপাড়া তেঁতুলতলা মোড়ে অবস্থান করছিল। এ সময় ৪/৫টি মোটরসাইকেল যোগে সন্ত্রাসীরা প্রথমে গুলি ও পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে হত্যা করে। পরে নিহতের বাবা নিতিশ কুমার বাদী হয়ে অজ্ঞাত ২০/২৫ জনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পুলিশ ঘটনার পর নিহত অর্ণবের দিন বন্ধু গোলাম রব্বানী, খালিদ ও ফাহিমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে।
এ সময় শর্ত সাপেক্ষে খালিদ ও ফাহিমকে ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে গোলাম রব্বানীর কথা অসংলগ্ন মনে হওয়ায় তাকে গ্রেফতার করা হয়। এ নিয়ে এ পর্যন্ত অর্ণবের বন্ধু গোলাম রব্বানীসহ ৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
পুলিশের একজন কর্মকর্তা জানান, গ্রেফতার সাইফুল ইসলাম হত্যা মিশনে ছিল এটা প্রায় নিশ্চিত হওয়ায় তাড়াতাড়ি এ হত্যাকাণ্ডের জট খুলতে পারে।
খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের ডেপুটি কমিশনার মনিরুজ্জামান মিঠু জানান, একটি ক্লুলেস হত্যাকাণ্ড। তিনি বলেন, সিসি টিভিতে দেখা গেছে, যারা মোটর সাইকেলযোগে যারা এসেছিল, তাদের প্রত্যেকের মুখ কাপড় দিয়ে বাঁধা ছিল। তারপরও স্থানীয়দের সহায়তায় অপরাধীদের সনাক্ত করার কাজ করে যাচ্ছে পুলিশ। এ ঘটনার পর থেকে অতি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। তিনি বলেন, আমরা অনেকটা এগিয়ে গেছি। খুব শিগগিরই একটি ফলাফল বেরিয়ে আসবে।
জাহিদা সুলতানা রিমা 

























