সংবাদ শিরোনাম ::
তিস্তা মহাপরিকল্পনায় কারিগরি সহায়তা দিতে আগ্রহী চীন নরসিংদীতে কুকুরের গলায় ইট বেঁধে নদীতে নিক্ষেপ, যুবক আটক ভূমিকম্পে ধ্বংসস্তূপের নিচে জীবিত আটকা বহু, উদ্ধারে আসছেন না কেউ বরগুনায় সরকারি চাল আত্মসাতের অভিযোগে প্যানেল চেয়ারম্যান (ইউপি সদস্যের) বিরুদ্ধে মামলা গ্রেট হলে প্রধানমন্ত্রীকে উষ্ণ অভ্যর্থনা বড়লেখার ছাতুর খাল পুনঃখনন ও সুইচ গেইট নির্মাণের জন্য এমপি নাসির উদ্দিন আহমেদের ডিও লেটার “ঠিকাদার মো. সায়মনের বিরুদ্ধে গণপূর্তে চাঁদাবাজি ও কর্মকর্তাদের হয়রানির অভিযোগ” মৌলভীবাজার সীমান্তে বিজিবির অভিযান ৩ বিদেশি পিস্তলসহ বিস্ফোরক উদ্ধার নিখোঁজের তিনদিন পর মিলল ইব্রাহিমের মরদেহ  ব্রাহ্মণপাড়া বাড়ির পাশের খালে ডুবে শিশুর মৃত্যু, এলাকায় শোকের ছায়া

পাটগ্রামে জাল সনদে ছাত্রলীগ কর্মীর চাকরি বেতন তুলছেন ১ বছর ধরে

লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার ধবলসতী উচ্চ বিদ্যালয়ের কম্পিউটার ল্যাব অপারেটর পদে জাল সনদে চাকরি করার অভিযোগ উঠেছে কম্পিউটার ল্যাব অপারেটর আসাদুজ্জামান এর বিরুদ্ধে।

খোজখবর নিয়ে জানা গেছে, অভিযুক্ত ওয়াড আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল বাকির পুত্র ছাত্রলীগ কর্মী আসাদুজ্জামন গত ২৮/০৭/২০২২ সালে আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে চাকরি নেন ধবলসতী উচ্চ বিদ্যালয়ে এবং ০১/০১/২০২৪ সালে বেতন ভুক্ত হন।

আব্দুল বাকি সাবেক সংসদ মোতাহার হোসেনের ঘনিষ্ট হওয়ায় এবং অভিযুক্ত আসাদুজ্জামান নিজে সদ্য নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কর্মী হওয়ায় ক্ষমতা দেখিয়ে নিয়ম বহির্ভূতভাবে চাকরি বাগিয়ে নেন। নিয়োগবিধি অনুযায়ী যোগ্যতা না থাকায় এক সেচ্ছাসেবকলীগ নেতার সহায়তায় মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে কম্পিউটার ডিপ্লোমা ইন্জিনিয়ারিং (আবশ্যক) জাল সনদ ম্যানেজ করে এমপিওভূক্ত হন। নীতিমালা অনুযায়ী কম্পিউটার ল্যাব অপারেটরের পদে যোগ্যতা বিজ্ঞান বিভাগে এসএসসি ও কম্পিউটার আবশ্যক বিষয়সহ এইচএসসি অথবা এসএসসি ও কম্পিউটারে চার বছর মেয়াদি কম্পিউটার ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং।

সরজমিনে বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, আসাদুজ্জামান ২০০৫ সালে বিজ্ঞান বিভাগে এসএসসি ও ২০০৮ সালে পাটগ্রাম বিএম কলেজ থেকে এইচএসসসি পাস করেন। এরপর এমপিওভূক্তির ক্ষেত্রে তিনি ২০১৬ সালের কম্পিউটার বিষয়ে ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং একটি সনদ ব্যবহার করেন। যার রোল নং-৬৬৫০৬৮ এবং রেজিঃ নং-৬৮৪৪৫২ সেশন ২০১২-১৩। কিন্ত অনলাইনে সার্স দিয়ে এই সনদের কোন অস্তিত্ব মেলেনি। অভিযুক্তকে কোন কলেজ থেকে পাস করেছে এবং রেজাল্ট কি ব্জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলতে পারেন নি।

এই বিষয়ে ধবলসতী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তৌহিদুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, আমরা নিয়োগ সকল বিধি মেনে নিয়োগ দিয়েছি, নিয়োগের সময় সনদ অনলাইনে যাচাই করেছি কিন্ত বর্তমানে কেন অনলাইনে শো করছে না তা জানি না। আসাদুজ্জামানের কম্পিউটার ডিপ্লোমা কোসের এডমিট ও রেজিষ্ট্রেশন দেখতে চাইলে বেশ কয়েকদিন সময় নিয়েও তা দেখাতে পারে নি।

উক্ত নিয়োগ কমিটির সদস্য ছিলেন ৭ জন। নিয়োগ কমিটির প্রধান ছিলেন তৎকালীন ধবলসতী উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আলহাজ্ব রবিউল ইসলাম; গোলাম কিবরিয়া, মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার পাটগ্রাম ; আব্দুল জব্বার বসুনিয়া, প্রধান শিক্ষক পাটগ্রাম হুজুর উদ্দিন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়; লতিফুল রেজ্জাক, সদস্য ম্যনেজিং কমিটি ধবলসতী উচ্চ বিদ্যালয়; তবিবর রহমান, সদস্য ম্যানেজিং কমিটি ধবলসতী উচ্চ বিদ্যালয়; মো: রোকনুজ্জামান আইসিটি শিক্ষক ধবলসতী উচ্চ বিদ্যালয় ও তৌহিদুল ইসলাম, প্রধান শিক্ষক ধবলসতী উচ্চ বিদ্যালয়।

নিয়োগ বিষয়ে তৎকালীন সভাপতি আলহাজ্ব রবিউল ইসলামের সাথে মুঠো ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, নিয়োগের সবকিছু করেছে শিক্ষা অফিসার আপনি ওনাকে জিজ্ঞেস করেন। নিয়োগের ব্যপারে অর্থনৈতিক লেনদেনের কথা জিজ্ঞেস করলে তিনি কিছু না বলে ফোন কেটে দেন।

বর্তমানে পাটগ্রাম উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার অন্যত্র বদলি হওয়ায় এবং পাটগ্রাম মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসে অতিরিক্ত দায়িত্ব থাকা আদিতমারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার উপস্থিত না থাকায় এ বিষয়ে বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

 

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

তিস্তা মহাপরিকল্পনায় কারিগরি সহায়তা দিতে আগ্রহী চীন

পাটগ্রামে জাল সনদে ছাত্রলীগ কর্মীর চাকরি বেতন তুলছেন ১ বছর ধরে

আপডেট সময় ০৫:২২:১০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ ফেব্রুয়ারী ২০২৫

লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার ধবলসতী উচ্চ বিদ্যালয়ের কম্পিউটার ল্যাব অপারেটর পদে জাল সনদে চাকরি করার অভিযোগ উঠেছে কম্পিউটার ল্যাব অপারেটর আসাদুজ্জামান এর বিরুদ্ধে।

খোজখবর নিয়ে জানা গেছে, অভিযুক্ত ওয়াড আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল বাকির পুত্র ছাত্রলীগ কর্মী আসাদুজ্জামন গত ২৮/০৭/২০২২ সালে আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে চাকরি নেন ধবলসতী উচ্চ বিদ্যালয়ে এবং ০১/০১/২০২৪ সালে বেতন ভুক্ত হন।

আব্দুল বাকি সাবেক সংসদ মোতাহার হোসেনের ঘনিষ্ট হওয়ায় এবং অভিযুক্ত আসাদুজ্জামান নিজে সদ্য নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কর্মী হওয়ায় ক্ষমতা দেখিয়ে নিয়ম বহির্ভূতভাবে চাকরি বাগিয়ে নেন। নিয়োগবিধি অনুযায়ী যোগ্যতা না থাকায় এক সেচ্ছাসেবকলীগ নেতার সহায়তায় মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে কম্পিউটার ডিপ্লোমা ইন্জিনিয়ারিং (আবশ্যক) জাল সনদ ম্যানেজ করে এমপিওভূক্ত হন। নীতিমালা অনুযায়ী কম্পিউটার ল্যাব অপারেটরের পদে যোগ্যতা বিজ্ঞান বিভাগে এসএসসি ও কম্পিউটার আবশ্যক বিষয়সহ এইচএসসি অথবা এসএসসি ও কম্পিউটারে চার বছর মেয়াদি কম্পিউটার ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং।

সরজমিনে বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, আসাদুজ্জামান ২০০৫ সালে বিজ্ঞান বিভাগে এসএসসি ও ২০০৮ সালে পাটগ্রাম বিএম কলেজ থেকে এইচএসসসি পাস করেন। এরপর এমপিওভূক্তির ক্ষেত্রে তিনি ২০১৬ সালের কম্পিউটার বিষয়ে ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং একটি সনদ ব্যবহার করেন। যার রোল নং-৬৬৫০৬৮ এবং রেজিঃ নং-৬৮৪৪৫২ সেশন ২০১২-১৩। কিন্ত অনলাইনে সার্স দিয়ে এই সনদের কোন অস্তিত্ব মেলেনি। অভিযুক্তকে কোন কলেজ থেকে পাস করেছে এবং রেজাল্ট কি ব্জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলতে পারেন নি।

এই বিষয়ে ধবলসতী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তৌহিদুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, আমরা নিয়োগ সকল বিধি মেনে নিয়োগ দিয়েছি, নিয়োগের সময় সনদ অনলাইনে যাচাই করেছি কিন্ত বর্তমানে কেন অনলাইনে শো করছে না তা জানি না। আসাদুজ্জামানের কম্পিউটার ডিপ্লোমা কোসের এডমিট ও রেজিষ্ট্রেশন দেখতে চাইলে বেশ কয়েকদিন সময় নিয়েও তা দেখাতে পারে নি।

উক্ত নিয়োগ কমিটির সদস্য ছিলেন ৭ জন। নিয়োগ কমিটির প্রধান ছিলেন তৎকালীন ধবলসতী উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আলহাজ্ব রবিউল ইসলাম; গোলাম কিবরিয়া, মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার পাটগ্রাম ; আব্দুল জব্বার বসুনিয়া, প্রধান শিক্ষক পাটগ্রাম হুজুর উদ্দিন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়; লতিফুল রেজ্জাক, সদস্য ম্যনেজিং কমিটি ধবলসতী উচ্চ বিদ্যালয়; তবিবর রহমান, সদস্য ম্যানেজিং কমিটি ধবলসতী উচ্চ বিদ্যালয়; মো: রোকনুজ্জামান আইসিটি শিক্ষক ধবলসতী উচ্চ বিদ্যালয় ও তৌহিদুল ইসলাম, প্রধান শিক্ষক ধবলসতী উচ্চ বিদ্যালয়।

নিয়োগ বিষয়ে তৎকালীন সভাপতি আলহাজ্ব রবিউল ইসলামের সাথে মুঠো ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, নিয়োগের সবকিছু করেছে শিক্ষা অফিসার আপনি ওনাকে জিজ্ঞেস করেন। নিয়োগের ব্যপারে অর্থনৈতিক লেনদেনের কথা জিজ্ঞেস করলে তিনি কিছু না বলে ফোন কেটে দেন।

বর্তমানে পাটগ্রাম উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার অন্যত্র বদলি হওয়ায় এবং পাটগ্রাম মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসে অতিরিক্ত দায়িত্ব থাকা আদিতমারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার উপস্থিত না থাকায় এ বিষয়ে বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।