শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জে জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে মারামারির ঘটনায় থানায় অভিযোগ দেওয়ায় বাদীর বসতঘর পুড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে।
ঘটনাটি গতকাল রাতে উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের ইকরকান্দি এলাকায় ঘটেছে। এ ঘটনায় রুজিনা আক্তার নামে এক নাড়ী চার জনের নাম উল্লেখ সহ অজ্ঞাত কয়েকজনকে আসামি করে ভেদরগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযুক্ত আসামিরা হলেন, উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের ইকরকান্দি এলাকার জব্বার মাদবরের ছেলে মাসুদ মাদবর (৩৬), নিজাম মাদবরের ছেলে রুমান মাদবর(৩৫, জাহাঙ্গীর মাদবরের ছেলে শাহিন মাদবর(৩৭) ও হাসেম বেপারীর ছেলে আলি আজম বেপারী(৪৫)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে নিজাম মাদবর ও আবু কালাম মাদবরের সাথে জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলে আসছিলো। এনিয়ে গত (৩০ ডিসেম্বর) বৃহস্পতিবার বিকেলে দুপক্ষের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে। এসময় প্রতিপক্ষ নিজাম মাদবরের লোকজন ককটেল ফাটিয়ে ও লোহার রড দিয়ে এলোপাথাড়ি পিটিয়ে ও কুপিয়ে জখম করে। হামলায় রুজিনা আক্তার, বিনা আক্তার ও সাথী আক্তার আহত হন। এছাড়াও তাদের বাসা থেকে নগট টাকা, স্বর্ণঅলংকার ও ছিনিয়ে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করা হয়। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে ভেদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় আহত রুজিনা আক্তার বাদী হয়ে চার জনের নাম উল্লেখ সহ অজ্ঞাত বেশ কয়েকজনকে আসামি করে ভেদরগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। ওই অভিযোগ দেওয়াকে কেন্দ্র করে গতকাল রাতে মামলার বাদী রুজিনা আক্তারের বসতঘর আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেন বাদী রুজিনা।
এবিষয়ে রুজিনা আক্তার বলেন, গত বৃহস্পতিবার বিকেলে আমাদের জমি জোরপূর্বক নিজাম মাদবর ও তার লোকজন নিয়ে দখল করতে আসে এসময় তারা ককটেল ফাটিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে আমাকে ও আমার দুই ননদকে পিটিয়ে আহত করে টাকাপয়সা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে যায়। এবং আমাদের মেরে ফেলার হুমকি-ধামকি দেয়। পরে আমি বাদী হয়ে ভেদরগঞ্জ থানায় অভিযোগ করি। অভিযোগ করার কারণে গতকাল রাতে তিনটার দিকে আমাদের বাড়ীতে আগুন ধরিয়ে দেয়। আমাদের ঘরে থাকা সবকিছু পুড়ে ছাই হয়ে যায়। আমি এই হামলা ও ঘর পুড়িয়ে দেওয়ার বিচার চাই।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্তদের বাড়ীতে গেলে তাদের পাওয়া যায় নি। মোবাইল ফোনে কথা হয় অভিযুক্ত রুমান মাদবরের সাথে তিনি বলেন, ওরা আমার বাবা নিজাম মাদবরকে পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করে। তাকে নিয়ে আমি বর্তমানে হাসপাতালে আছি। আমরা তাদের মারধর করি নি। আগুন দেওয়ার বিষয়টি মিথ্যা বানোয়াট আমরা এর সাথে জড়িত নয়।
এবিষয়ে ভেদরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) পারভেজ হাসান সেলিম বলেন, মারামারির ঘটনায় অভিযোগ পেয়েছি তদন্ত করে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আনোয়ার হোসেন বাবু 

























