সংবাদ শিরোনাম ::
খাল দখলের থাবায় বিপন্ন ভোলা-জলাবদ্ধতা ও পরিবেশ বিপর্যয়ের শঙ্কা ভাওরা হাই স্কুল এন্ড কলেজে মাদক বিরোধী প্রচারণা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত ডা. মাহফুজ রায়হান আক্কেলের বদলিতে উদ্বিগ্ন চাঁপাইনবাবগঞ্জবাসী গঙ্গাচড়ার নোহালী ইউপির দুর্নীতি মামলায় সাবেক চেয়ারম্যানের ৫ বছর, সচিবের ৩ বছর জেল জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার ফরিদপুর জেলা ইউনিট অনুমোদিত  চীনে প্রথম ‘বিনিয়োগ কার্যালয়’ খোলার ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর বাংলা‌দে‌শিদের জন্য দুই বছর পর ট্যুরিস্ট ভিসা চালু করছে ভারত নকল নামক জিনিসটি বাংলাদেশে আর নেই : শিক্ষামন্ত্রী মির্জাপুরের অভিযান চালিয়ে ৫০০ পিস ই-য়াবাসহ তিন জন আ’টক মনোহরগঞ্জে তিন দিনব্যাপী জাতীয় ফল মেলা-২০২৬ উদ্বোধন

স্কুলে না গিয়েও বেতন তোলেন প্রধান শিক্ষক আ.লীগ নেতা

জামালপুরের মাদারগঞ্জে বিদ্যালয়ে না এসেও হাজিরা খাতায় সই দিয়ে নিয়মিত বেতন তুলে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে উপজেলার আদারভিটা ইউনিয়নের শহীদ শাহজাহান বীর বিক্রম বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে।

অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক হলেন মিনহাজুর রহমান চৌধুরী আনিছ। তিনি আওয়ামী লীগ নেতা।

জানা গেছে, গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে তিনি নিয়মিত বিদ্যালয়ে আসেন না। দুই বছর আগে গাবেরগ্রাম বাজার উপজেলা বিএনপির বিক্ষোভ মিছিলে হামলার ঘটনায় এ বছরের ২৪ অক্টোবর মাদারগঞ্জ মডেল থানায় নাশকতার মামলা হলে এজাহারে তার নাম থাকার পর থেকে গ্রেপ্তার এড়াতে তিনি গা ঢাকা দিয়েছেন। তবে দেড় মাস ধরে বিদ্যালয়ে না এলেও হাজিরা খাতায় সই করে নিয়মিত তুলছেন বেতন-ভাতা।

মঙ্গলবার (৩ ডিসেম্বর) বিষয়টি জানতে সরেজমিনে গেলে বিদ্যালয়ের হাজিরা খাতায় প্রধান শিক্ষকের উপস্থিতির স্বাক্ষর দেখা যায়।

এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক তোজাম্মেল হক বলেন, অনেক দিন ধরে আমাদের হেড স্যার স্কুলে আসেন না। মামলার পর তাকে আমি বিদ্যালয়ে আসতে দেখিনি।

আরেক সহকারী শিক্ষক হায়দার আলী বলেন, আমাদের হেড স্যার স্কুলে আসেন না অনেক দিন ধরে। স্কুলে না এসেও হাজিরা খাতায় কীভাবে সই করেন, জানতে চাইলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

স্থানীয় বাসিন্দা মাহমুদুল হাসান চৌধুরী মুক্তা বলেন, বিদ্যালয়ে না এসেও কীভাবে তিনি বেতন উত্তোলন করেন? কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানাচ্ছি, বিষয়টি যেন তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক মিনহাজুর রহমান চৌধুরী আনিছের ব্যবহৃত মুঠোফোন নম্বরে যোগাযোগ করা হলে তার নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়। এ জন্য বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাদির শাহ বলেন, বিদ্যালয়ে না এসে হাজিরা খাতায় সই করে বেতন উত্তোলনের সুযোগ নেই। দ্রুত বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

খাল দখলের থাবায় বিপন্ন ভোলা-জলাবদ্ধতা ও পরিবেশ বিপর্যয়ের শঙ্কা

স্কুলে না গিয়েও বেতন তোলেন প্রধান শিক্ষক আ.লীগ নেতা

আপডেট সময় ০৯:৪৯:৫৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ ডিসেম্বর ২০২৪

জামালপুরের মাদারগঞ্জে বিদ্যালয়ে না এসেও হাজিরা খাতায় সই দিয়ে নিয়মিত বেতন তুলে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে উপজেলার আদারভিটা ইউনিয়নের শহীদ শাহজাহান বীর বিক্রম বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে।

অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক হলেন মিনহাজুর রহমান চৌধুরী আনিছ। তিনি আওয়ামী লীগ নেতা।

জানা গেছে, গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে তিনি নিয়মিত বিদ্যালয়ে আসেন না। দুই বছর আগে গাবেরগ্রাম বাজার উপজেলা বিএনপির বিক্ষোভ মিছিলে হামলার ঘটনায় এ বছরের ২৪ অক্টোবর মাদারগঞ্জ মডেল থানায় নাশকতার মামলা হলে এজাহারে তার নাম থাকার পর থেকে গ্রেপ্তার এড়াতে তিনি গা ঢাকা দিয়েছেন। তবে দেড় মাস ধরে বিদ্যালয়ে না এলেও হাজিরা খাতায় সই করে নিয়মিত তুলছেন বেতন-ভাতা।

মঙ্গলবার (৩ ডিসেম্বর) বিষয়টি জানতে সরেজমিনে গেলে বিদ্যালয়ের হাজিরা খাতায় প্রধান শিক্ষকের উপস্থিতির স্বাক্ষর দেখা যায়।

এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক তোজাম্মেল হক বলেন, অনেক দিন ধরে আমাদের হেড স্যার স্কুলে আসেন না। মামলার পর তাকে আমি বিদ্যালয়ে আসতে দেখিনি।

আরেক সহকারী শিক্ষক হায়দার আলী বলেন, আমাদের হেড স্যার স্কুলে আসেন না অনেক দিন ধরে। স্কুলে না এসেও হাজিরা খাতায় কীভাবে সই করেন, জানতে চাইলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

স্থানীয় বাসিন্দা মাহমুদুল হাসান চৌধুরী মুক্তা বলেন, বিদ্যালয়ে না এসেও কীভাবে তিনি বেতন উত্তোলন করেন? কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানাচ্ছি, বিষয়টি যেন তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক মিনহাজুর রহমান চৌধুরী আনিছের ব্যবহৃত মুঠোফোন নম্বরে যোগাযোগ করা হলে তার নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়। এ জন্য বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাদির শাহ বলেন, বিদ্যালয়ে না এসে হাজিরা খাতায় সই করে বেতন উত্তোলনের সুযোগ নেই। দ্রুত বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।