সংবাদ শিরোনাম ::
গুগলে দেখলাম দুর্নীতিতে এক নম্বরে রাজনীতিবিদরা, দুই নম্বরে আমলারা: রুমিন ফারহানা তালাকের নোটিশের পর শ্বশুরবাড়ি-জামাইপক্ষের বিরোধ, গরু ও মালামাল নেওয়ার অভিযোগ ডিএনসিসির সোহেল মিয়ার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ পবিপ্রবিতে ব্যবসায় প্রশাসন, সিএসই ও মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের শিক্ষকদের সঙ্গে উপাচার্যের মতবিনিময় বিআইডাব্লিউটিএর প্রকল্প পরিচালক আবুল কালামের দূর্নীতি তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার কর্মকর্তা মাহফুজের বিরুদ্ধে নারীকে মারধরের অভিযোগ ১৬তম গ্রেডের কর্মচারী, অথচ কোটি কোটি টাকার সম্পদের মালিক! শফিকুল ইসলামের সম্পদ নিয়ে প্রশ্ন চার্জে লাগিয়ে মোবাইল চালাতে গিয়ে বিস্ফোরণ, প্রাণ গেল মিজানের কমলনগরে ক্ষতিগ্রস্ত ৩ পরিবারকে আর্থিক সহায়তা প্রদান  আমশিল্প ও ইপিজেড প্রতিষ্ঠায় বিশেষ গুরুত্বের দাবি, প্রস্তাবিত বাজেটকে স্বাগত চাঁপাইনবাবগঞ্জ চেম্বারের

গল্পে গল্পে মূল্যস্ফীতি নিয়ে কথন

বাংলাদেশে বর্তমানে ইউনুস সরকার সাড়ে ২২ হাজার কোটি টাকা ছাপিয়ে ছয়টি ব্যাংকে দিলেন।

ভাবুন, আপনার একটি বড় পরিবার আছে। আপনি প্রতিদিন বাজারে যান, কিন্তু হঠাৎ একদিন আপনার পকেটে টাকা নেই। তখন কি করবেন? হয়তো আত্মীয়-স্বজন বা বন্ধুর থেকে ধার করবেন। কিন্তু সমস্যা হলো, ধার পাওয়ার সুযোগ কম থাকলে আপনাকে নিজের ঘরে কিছু বিক্রি করে টাকা তুলতে হবে।

সরকারের অবস্থাও এখন অনেকটা এমন। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমে গেছে। আগে ছিল ৪৮ বিলিয়ন ডলার, এখন নেমে এসেছে ২০ বিলিয়নে। কিন্তু বাজারে টাকা দরকার, কারণ দেশের কিছু ব্যাংক টাকা যোগাতে পারছে না। ঠিক যেমন আপনার পকেটে টাকা না থাকলে বাজার করা কঠিন হয়, ব্যাংকগুলোর অবস্থাও তেমন।

একটি ছোট গল্পের মাধ্যমে বোঝানোর চেষ্টা করছি:

একদিন সকালে আপনার বন্ধু বলল, “ভাই, আমার ব্যবসায় টাকা লেগেছে, তাড়াতাড়ি কিছু টাকা জোগাড় করে দাও।” আপনি জানেন, বন্ধুকে সাহায্য করতে হবে, কিন্তু টাকাটা কোথা থেকে দেবেন? হয় আপনার সঞ্চয় থেকে দেবেন, নইলে ঘরে থাকা কিছু বিক্রি করবেন।

সরকার এখন সঞ্চয় বা রিজার্ভ কম থাকায় নতুন টাকা ছাপাচ্ছে। ২২,৫০০ কোটি টাকা। ছয়টি ব্যাংককে বলছে, “এই নাও টাকা, এখন ব্যবসা চালাও।”

মুদ্রাস্ফীতি এবং বাজারের গল্প:

এখন ভাবুন, আপনার এলাকায় সবাই হঠাৎ করে অনেক টাকা পেয়ে গেল। সবাই একসঙ্গে বাজারে গিয়ে চাল, ডাল, তেল কিনতে শুরু করল। কিন্তু দোকানে পণ্যের পরিমাণ ঠিকই আছে। তাহলে কী হবে? দামের বাড়তি চাপ পড়বে।

বাংলাদেশে এখন এই অবস্থাই হতে পারে। টাকা যদি বেশি ছাড়া হয়, তাহলে বাজারে পণ্যের দাম বাড়বে। যেমন, গত মাসে মুদ্রাস্ফীতি ছিল ৯.৯৪%, এখন সেটা আরও বাড়তে পারে। আপনি যদি আগে ১০০ টাকায় এক কেজি চাল কিনতেন, তা হলে আগামী মাসে হয়তো ১২০ টাকাও লাগবে।

বৈদেশিক মুদ্রার সংকট:

এখন ধরুন, আপনাকে বিদেশ থেকে কিছু কিনতে হবে। ডলার দিয়ে দাম দিতে হয়। কিন্তু ডলার তো কম! এখন আপনার হাতে অনেক টাকা, কিন্তু ডলার কেনার জন্য আপনাকে ১ ডলারের জন্য ১০৮ টাকা না দিয়ে ১১৫ বা ১২০ টাকা দিতে হতে পারে। এটা কি ভালো হলো?

ব্যাংকগুলোর আচরণ:

যে ছয়টি ব্যাংক টাকা পাচ্ছে, তাদেরও কিন্তু সাবধান হতে হবে। ভাবুন, আপনার বন্ধু ধার নিলো, কিন্তু কখনো ফেরত দিল না। তাহলে আপনার সমস্যায় পড়তে হবে। বাংলাদেশের ব্যাংকগুলোর অনেকের অবস্থা এরকম। খেলাপি ঋণ এখন ১.৬০ লাখ কোটি টাকা।

শেষ কথাঃ
সরকার টাকাটা ভালো কাজে লাগালে সবাই উপকৃত হবে। কিন্তু যদি ঠিকমতো মনিটরিং না হয়, তবে বাজারে দাম বাড়বে, ডলার সংকট বাড়বে, আর মানুষের জীবনযাত্রা কঠিন হয়ে পড়বে।

জিম্বাবুয়ের গল্প শুনেছেন?
তারা অতিরিক্ত টাকা ছাপিয়ে এমন অবস্থায় গিয়েছিল যে, এক বস্তা টাকা নিয়ে গেলেও একটা পাউরুটি কেনা যেত না।

এখন প্রশ্ন হলো, সরকার কি সেই ভুল করবে নাকি সঠিক পথে চলবে?

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

গুগলে দেখলাম দুর্নীতিতে এক নম্বরে রাজনীতিবিদরা, দুই নম্বরে আমলারা: রুমিন ফারহানা

গল্পে গল্পে মূল্যস্ফীতি নিয়ে কথন

আপডেট সময় ০৭:২৫:১৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ ডিসেম্বর ২০২৪

বাংলাদেশে বর্তমানে ইউনুস সরকার সাড়ে ২২ হাজার কোটি টাকা ছাপিয়ে ছয়টি ব্যাংকে দিলেন।

ভাবুন, আপনার একটি বড় পরিবার আছে। আপনি প্রতিদিন বাজারে যান, কিন্তু হঠাৎ একদিন আপনার পকেটে টাকা নেই। তখন কি করবেন? হয়তো আত্মীয়-স্বজন বা বন্ধুর থেকে ধার করবেন। কিন্তু সমস্যা হলো, ধার পাওয়ার সুযোগ কম থাকলে আপনাকে নিজের ঘরে কিছু বিক্রি করে টাকা তুলতে হবে।

সরকারের অবস্থাও এখন অনেকটা এমন। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমে গেছে। আগে ছিল ৪৮ বিলিয়ন ডলার, এখন নেমে এসেছে ২০ বিলিয়নে। কিন্তু বাজারে টাকা দরকার, কারণ দেশের কিছু ব্যাংক টাকা যোগাতে পারছে না। ঠিক যেমন আপনার পকেটে টাকা না থাকলে বাজার করা কঠিন হয়, ব্যাংকগুলোর অবস্থাও তেমন।

একটি ছোট গল্পের মাধ্যমে বোঝানোর চেষ্টা করছি:

একদিন সকালে আপনার বন্ধু বলল, “ভাই, আমার ব্যবসায় টাকা লেগেছে, তাড়াতাড়ি কিছু টাকা জোগাড় করে দাও।” আপনি জানেন, বন্ধুকে সাহায্য করতে হবে, কিন্তু টাকাটা কোথা থেকে দেবেন? হয় আপনার সঞ্চয় থেকে দেবেন, নইলে ঘরে থাকা কিছু বিক্রি করবেন।

সরকার এখন সঞ্চয় বা রিজার্ভ কম থাকায় নতুন টাকা ছাপাচ্ছে। ২২,৫০০ কোটি টাকা। ছয়টি ব্যাংককে বলছে, “এই নাও টাকা, এখন ব্যবসা চালাও।”

মুদ্রাস্ফীতি এবং বাজারের গল্প:

এখন ভাবুন, আপনার এলাকায় সবাই হঠাৎ করে অনেক টাকা পেয়ে গেল। সবাই একসঙ্গে বাজারে গিয়ে চাল, ডাল, তেল কিনতে শুরু করল। কিন্তু দোকানে পণ্যের পরিমাণ ঠিকই আছে। তাহলে কী হবে? দামের বাড়তি চাপ পড়বে।

বাংলাদেশে এখন এই অবস্থাই হতে পারে। টাকা যদি বেশি ছাড়া হয়, তাহলে বাজারে পণ্যের দাম বাড়বে। যেমন, গত মাসে মুদ্রাস্ফীতি ছিল ৯.৯৪%, এখন সেটা আরও বাড়তে পারে। আপনি যদি আগে ১০০ টাকায় এক কেজি চাল কিনতেন, তা হলে আগামী মাসে হয়তো ১২০ টাকাও লাগবে।

বৈদেশিক মুদ্রার সংকট:

এখন ধরুন, আপনাকে বিদেশ থেকে কিছু কিনতে হবে। ডলার দিয়ে দাম দিতে হয়। কিন্তু ডলার তো কম! এখন আপনার হাতে অনেক টাকা, কিন্তু ডলার কেনার জন্য আপনাকে ১ ডলারের জন্য ১০৮ টাকা না দিয়ে ১১৫ বা ১২০ টাকা দিতে হতে পারে। এটা কি ভালো হলো?

ব্যাংকগুলোর আচরণ:

যে ছয়টি ব্যাংক টাকা পাচ্ছে, তাদেরও কিন্তু সাবধান হতে হবে। ভাবুন, আপনার বন্ধু ধার নিলো, কিন্তু কখনো ফেরত দিল না। তাহলে আপনার সমস্যায় পড়তে হবে। বাংলাদেশের ব্যাংকগুলোর অনেকের অবস্থা এরকম। খেলাপি ঋণ এখন ১.৬০ লাখ কোটি টাকা।

শেষ কথাঃ
সরকার টাকাটা ভালো কাজে লাগালে সবাই উপকৃত হবে। কিন্তু যদি ঠিকমতো মনিটরিং না হয়, তবে বাজারে দাম বাড়বে, ডলার সংকট বাড়বে, আর মানুষের জীবনযাত্রা কঠিন হয়ে পড়বে।

জিম্বাবুয়ের গল্প শুনেছেন?
তারা অতিরিক্ত টাকা ছাপিয়ে এমন অবস্থায় গিয়েছিল যে, এক বস্তা টাকা নিয়ে গেলেও একটা পাউরুটি কেনা যেত না।

এখন প্রশ্ন হলো, সরকার কি সেই ভুল করবে নাকি সঠিক পথে চলবে?