ভোলা’র বোরহানউদ্দিনে বিএনপির নেতা কর্মীদের কে ফাঁসাতে নিজ বসত ঘরে আগুন দেন ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ নেতা তসলিম মাস্টার(৫৫)। এমন অভিযোগ স্হানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের।
বৃহস্পতিবার (২১ নভেম্বর২০২৪) উপজেলার গংগাপুর ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডে ভোর সাড়ে ৩টার দিকে এ ঘটনা ঘটে বলে জানায় স্থানীয়রা,পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।
একই দিন সকাল ৯ টায় সরেজমিনে গেলে স্থানীয় বাসীন্দা মো. বজলুক হক জানান, উপজেলার গংগাপুর ইউনিয়নের আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহ সভাপতি তসলিম মাস্টার তার চাচাতো ভাই মো.নাসির ওরফে নাসু’র সাথে জমিজমা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ চলছিল, এর আগেও একবার তার বসত ঘরে আগুন দেয়ার ঘটনায় নাসু’র বিরুদ্বে থানায় অভিযোগ দেন তসলিম মাস্টার। কে বা কাহারা গতকাল রাতে তার বাড়ী তে আগুন দেয়, এঘটনায় সে এখন বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীদের কে দোষারোপ করছে।
ফকরুল মেম্বার জানান-আগুন লাগার কয়েক দিন আগে তসলিম মাস্টার তার বাসার আসবাবপত্র বড় ট্রাক দিয়ে অন্যত্র সরিয়ে নেন, সেই সময় স্হানীয় আনোয়ার আমাকে ও এলাকার চৌকিদারকে বিষয়টি অবগত করেন,পরে আমি ও চৌকিদার সরাসরি তসলিম মাস্টারের বাসায় গিয়ে দেখি তারা, তাদের মালামাল চরফ্যাশনে তসলীম মাস্টারের নতুন বাসায় নিয়ে যাচ্ছে। এমনকি এলাকার লোকজন ট্রাক ও আসবাবপত্রের ভিডিও ধারণ করে।
আমি সেটার প্রত্যক্ষদর্শী, এইদিকে আনোয়ার নামে একজন বলেন- ওনি আওয়ামী লীগের সময় অনেক নিরীহ মানুষের উপর হামলা মামলা দিয়ে হয়রানি করেছেন, সে নিজেকে আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে লাইমলাইটে আনার জন্য পূর্বপরিকল্পিত ভাবে এঘটনা ঘটিয়েছে। জায়গাজমির বিরোধের জের ধরে এর আগেও সে তার চাচাতো ভাই নাসুর বিরুদ্বে তার বসত ঘরে আগুন দেয়ার অভিযোগে থানায় মামলা করে। এটা তার নতুন কিছু নয়,
এ বিষয় তসলিম মাস্টার কে মুঠোফোনে কল করা হলে তিনি বলেন আওয়ামীলীগ রাজনীতি করার কারনে বিএনপি ও এর অসংগঠনের নেতা কর্মীরা আমার বসত ঘরে আগুন দিয়েছে,বিষয়টি আমি দলের হাই কমান্ড কে জানিয়েছি,এখন পরবর্তী নির্দেশনার অপেক্ষায় আছি বলে ফোন কেটে দেন।এরপর বারবার কল করা হলেও তিনি আর ফোন রিসিভ করেননি।
এদিকে গংগাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারন সম্পাদক মো. মাইনউদ্দিন কাজি জানান তসলিম মাষ্টার সন্ত্রাসী প্রকৃতির লোক সে বিগত ১৬ বছর আওয়ামীলীগ আমলে বিএনপি সহ সাধারন মানুষকে অন্যায় ভাবে হামলা-মামলা দিয়ে এলাকা ছাড়তে বাধ্য করেছে। পুরোনো সেই একই কায়দায় সে বিএনপি সহ সাধারন মানুষের বদনাম করতে নিজ বসত ঘরে আগুন দেয়।
তিনি আরো বলেন তার বসত বাড়ী থেকে উপজেলা আওয়ামীলীগ সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক বোরহানউদ্দিন পৌরসভার মেয়র এর বাড়ী ১০০/১৫০ মিটার সামনে উনার বাড়ীতেতো কেউ একটা ঢিল ও ছুড়ে নাই তাহলে তার বাড়ীতে কেন বিএনপির লোকজন আগুন দিবে।এঘটনা তার সাজানো নাটক,বিএনপি কিংবা এর অসংগঠন কোনো ভাবেই এসমস্ত ন্যাক্কার জনক কর্মকান্ডের সাথে যুক্ত না।
বোরহানউদ্দিন থানার ইনচার্জ (ওসি) সিদ্দিকুর রহমান জানান- পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে,এব্যাপারে কোনো অভিযোগ পাইনি,অভিযোগ পেলে তদন্তপূর্বক ব্যাবস্থা গ্রহণ করা হবে।
স্টাফ রিপোর্টার 
























