সংবাদ শিরোনাম ::
কেরানীগঞ্জে আনোয়ারের জমি দখলের চেষ্টা অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থার দাবি ৮০ কোটি টাকার বিআইডব্লিউটিএ টেন্ডারে কবিরস সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ জাইকার সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদারের প্রত্যাশা স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর বয়সকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে বিশ্বমঞ্চ কাঁপানো মেসি-রোনালদোদের রহস্য ফাঁস মাদরাসার শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন নিয়ে যা জানা গেল আমি ভেবেছিলাম ইরানের মানুষ খামেনিকে তীব্র ঘৃণা করে: ট্রাম্প  সিরাজগঞ্জ গণপূর্তের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহমুদুলের বিরুদ্ধে কোটি টাকার টেন্ডার জালিয়াতির অভিযোগ জাতীয় জাদুঘরে মেসির স্বাক্ষরিত জার্সি, দেখতে ভক্তদের ভিড় কার্বন ক্রেডিট বাড়াতে কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর অডিটের নামে অর্থ আদায়ের প্রতারণা, করদাতাদের সতর্ক করল এনবিআর

সিরাজগঞ্জ গণপূর্তের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহমুদুলের বিরুদ্ধে কোটি টাকার টেন্ডার জালিয়াতির অভিযোগ

সিরাজগঞ্জ গণপূর্ত বিভাগে টেন্ডার জালিয়াতি, অনিয়ম এবং পছন্দের নির্দিষ্ট কিছু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কোটি কোটি টাকার কাজ পাইয়ে দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহমুদুল হাসানের বিরুদ্ধে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সুবিধাভোগী, বিতর্কিত ঠিকাদার ও নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাদের পুনর্বাসন এবং বড় অঙ্কের আর্থিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।

অনুসন্ধানে জানা যায়, সিরাজগঞ্জ জেলা কারাগারে ডিপ টিউবওয়েল বসানোর কাজের জন্য একটি দরপত্র (টেন্ডার আইডি: ১১৭৩৮৫০) আহ্বান করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, সংশ্লিষ্ট কাজের কোনো পূর্ব অভিজ্ঞতা না থাকা সত্ত্বেও মোটা অঙ্কের কমিশনের বিনিময়ে সাবেক সরকারের এক প্রভাবশালী মন্ত্রীর ভাইয়ের প্রতিষ্ঠান টাঙ্গাইলের ‘বীথি কনস্ট্রাকশন’-কে কাজটি পাইয়ে দেন নির্বাহী প্রকৌশলী মাহমুদুল হাসান।

এ বিষয়ে ওই প্রতিষ্ঠানের কাজের অভিজ্ঞতা ও দরপত্র মূল্যায়নের নথিপত্র চেয়ে গত জানুয়ারি মাসে তথ্যাধিকার আইনে আবেদন করা হলেও প্রকৌশলী মাহমুদুল হাসান সময়ক্ষেপণ করে তথ্য দিতে অস্বীকৃতি জানান। তথ্য না পাওয়ায় সংক্ষুব্ধ পক্ষ থেকে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।

সোয়া কোটি টাকার আরএফকিউ বাণিজ্য
চলতি অর্থবছরে বড় কাজগুলোকে নিয়মনীতি বহির্ভূতভাবে ছোট ছোট ভাগে বিভক্ত করে প্রায় সোয়া কোটি টাকা বরাদ্দে ৩৭টি আরএফকিউ (RFQ)-এর সংস্থান রাখা হয়েছে সামগ্রিক বার্ষিক ক্রয় পরিকল্পনায় (APP)। ইতোমধ্যে বেশ কিছু আরএফকিউ কোটেশন আহ্বান করে তড়িঘড়ি কাজ বাস্তবায়ন দেখানো হয়েছে, যা নিয়ে স্থানীয় ঠিকাদারদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।

গোপালগঞ্জের এসএ এন্টারপ্রাইজের দাপট
সবচেয়ে বড় অনিয়মের চিত্র উঠে এসেছে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ার বাসিন্দা ও ছাত্রলীগের সাবেক এক নেতার মালিকানাধীন ‘এসএ এন্টারপ্রাইজ’ নামক প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে। গত দুই অর্থবছরের মতো চলতি অর্থবছরেও এই একটি প্রতিষ্ঠানকেই সোয়া কোটি টাকার বেশ কিছু লাভজনক কাজ পাইয়ে দেওয়া হয়েছে। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য:

টেন্ডার আইডি ১১৫১১৪৩: শহীদ মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সাবস্টেশন ভবন নির্মাণ ও যন্ত্রপাতি সরবরাহ (চুক্তিমূল্য: ৬৪ লাখ ৭২৪ টাকা)।

টেন্ডার আইডি ১২১৩২৬১: জেলা প্রশাসকের দপ্তরের এ-ব্লকের টাইলস ও রেলিং মেরামত (চুক্তিমূল্য: ১১ লাখ ৬১ হাজার ৮১০ টাকা)।

টেন্ডার আইডি ১২১৩২৭২: একই দপ্তরের বি-ব্লকের সিঁড়িতে টাইলস স্থাপন ও ছাদের সংস্কার কাজ (চুক্তিমূল্য: ৯ লাখ ৮৪ হাজার ১৮০ টাকা)।

টেন্ডার আইডি ১২১৩২৪৭: সি-ব্লকের সংস্কার কাজ (বরাদ্দ: ১৯ লাখ ৬১ হাজার ৫২০ টাকা)।

টেন্ডার আইডি ১১৭৩৭৮৮: জেলা কারাগারের আবাসিক ভবন মেরামত (চুক্তিমূল্য: ১৩ লাখ ৬ হাজার ৩২৯ টাকা)।

সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, এসএ এন্টারপ্রাইজের লাইসেন্স ব্যবহার করা হলেও পর্দার আড়াল থেকে কাজগুলো নির্বাহী প্রকৌশলী নিজেই তদারকি করছেন। এর আগে ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ-১ এর স্টাফ অফিসার থাকাকালীনও এই প্রতিষ্ঠানের নামে শতাধিক কাজ পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগে দীর্ঘদিন তার পদোন্নতি স্থগিত ছিল। পরে রাজনৈতিক তদবিরে ২০২৩ সালের নভেম্বরে সিরাজগঞ্জে পোস্টিং পেয়েই তিনি অনিয়মের সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন। এছাড়া ২০২৪ ও ২০২৫ সালের জুন ক্লোজিংয়ে ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে প্রায় ৩ কোটি টাকা লোপাটের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

বিতর্কিতদের তালিকায় আরও যারা
বর্তমান অর্থবছরে ঢাকার ‘বাবর অ্যাসোসিয়েটস’ নামক অপর এক রাজনৈতিক প্রভাবশালী প্রতিষ্ঠানকে জেলা আনসার ও ভিডিপি দপ্তরের অস্ত্রাগার ভবনের ৩য় তলা নির্মাণ কাজ (টেন্ডার আইডি: ১১৩৫৭২০, চুক্তিমূল্য: ৬৫ লাখ ২০ হাজার ৯৭৮ টাকা) দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদপ্তরের ডিআইজি বিল্ডিং নির্মাণ প্রকল্পে ডিপটিউবওয়েল স্থাপন এবং সাবস্টেশন ও জেনারেটর সরবরাহের কাজ (টেন্ডার আইডি: ১১৩৩৫২৫, চুক্তিমূল্য: ৮৭ লাখ ৯৮ হাজার ১৭৪ টাকা) দেওয়া হয়েছে ‘এইচবি ট্রেডার্স লি.’-কে। জেলা প্রশাসকের রেকর্ডরুম মেরামতের কাজ (টেন্ডার আইডি: ১২৪৭০০০, চুক্তিমূল্য: ৫৭ লাখ ৪৫ হাজার ১৭৬ টাকা) পেয়েছে ঢাকার ‘প্যাসিফিক ইঞ্জিনিয়ার্স’। পাশাপাশি ২ কোটি ৪২ লাখ ২৬ হাজার ৬৩২ টাকা ব্যয়ে রাজগঞ্জ পুলিশ সার্কেল কাম রেসিডেন্স ভবনের অবশিষ্ট নির্মাণ কাজ (টেন্ডার আইডি: ১২০৬৭৭৪) দেওয়া হয়েছে ‘মেসার্স পূর্বাঞ্চল ট্রেড’ নামের একটি সংস্থাকে।

এসব কাজের দরপত্র প্রক্রিয়া নিয়ে যেমন জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে, তেমনি কাজের গুণগত মান নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে ব্যবহারকারী সংস্থাগুলো। অভিযোগ রয়েছে, এই বিপুল অনিয়ম ও লুটপাটে নির্বাহী প্রকৌশলীকে সরাসরি সহায়তা করছেন উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী (এসডিই) কল্যাণ কুমার কুণ্ডু এবং এসডিই (ই/এম) মিজানুর রহমান আকন।

এসব সুনির্দিষ্ট অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে নির্বাহী প্রকৌশলী মাহমুদুল হাসানের ব্যক্তিগত মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। ফলে উনার কোনো বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কেরানীগঞ্জে আনোয়ারের জমি দখলের চেষ্টা অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থার দাবি

সিরাজগঞ্জ গণপূর্তের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহমুদুলের বিরুদ্ধে কোটি টাকার টেন্ডার জালিয়াতির অভিযোগ

আপডেট সময় ০৩:৫১:০০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬

সিরাজগঞ্জ গণপূর্ত বিভাগে টেন্ডার জালিয়াতি, অনিয়ম এবং পছন্দের নির্দিষ্ট কিছু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কোটি কোটি টাকার কাজ পাইয়ে দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহমুদুল হাসানের বিরুদ্ধে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সুবিধাভোগী, বিতর্কিত ঠিকাদার ও নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাদের পুনর্বাসন এবং বড় অঙ্কের আর্থিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।

অনুসন্ধানে জানা যায়, সিরাজগঞ্জ জেলা কারাগারে ডিপ টিউবওয়েল বসানোর কাজের জন্য একটি দরপত্র (টেন্ডার আইডি: ১১৭৩৮৫০) আহ্বান করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, সংশ্লিষ্ট কাজের কোনো পূর্ব অভিজ্ঞতা না থাকা সত্ত্বেও মোটা অঙ্কের কমিশনের বিনিময়ে সাবেক সরকারের এক প্রভাবশালী মন্ত্রীর ভাইয়ের প্রতিষ্ঠান টাঙ্গাইলের ‘বীথি কনস্ট্রাকশন’-কে কাজটি পাইয়ে দেন নির্বাহী প্রকৌশলী মাহমুদুল হাসান।

এ বিষয়ে ওই প্রতিষ্ঠানের কাজের অভিজ্ঞতা ও দরপত্র মূল্যায়নের নথিপত্র চেয়ে গত জানুয়ারি মাসে তথ্যাধিকার আইনে আবেদন করা হলেও প্রকৌশলী মাহমুদুল হাসান সময়ক্ষেপণ করে তথ্য দিতে অস্বীকৃতি জানান। তথ্য না পাওয়ায় সংক্ষুব্ধ পক্ষ থেকে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।

সোয়া কোটি টাকার আরএফকিউ বাণিজ্য
চলতি অর্থবছরে বড় কাজগুলোকে নিয়মনীতি বহির্ভূতভাবে ছোট ছোট ভাগে বিভক্ত করে প্রায় সোয়া কোটি টাকা বরাদ্দে ৩৭টি আরএফকিউ (RFQ)-এর সংস্থান রাখা হয়েছে সামগ্রিক বার্ষিক ক্রয় পরিকল্পনায় (APP)। ইতোমধ্যে বেশ কিছু আরএফকিউ কোটেশন আহ্বান করে তড়িঘড়ি কাজ বাস্তবায়ন দেখানো হয়েছে, যা নিয়ে স্থানীয় ঠিকাদারদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।

গোপালগঞ্জের এসএ এন্টারপ্রাইজের দাপট
সবচেয়ে বড় অনিয়মের চিত্র উঠে এসেছে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ার বাসিন্দা ও ছাত্রলীগের সাবেক এক নেতার মালিকানাধীন ‘এসএ এন্টারপ্রাইজ’ নামক প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে। গত দুই অর্থবছরের মতো চলতি অর্থবছরেও এই একটি প্রতিষ্ঠানকেই সোয়া কোটি টাকার বেশ কিছু লাভজনক কাজ পাইয়ে দেওয়া হয়েছে। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য:

টেন্ডার আইডি ১১৫১১৪৩: শহীদ মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সাবস্টেশন ভবন নির্মাণ ও যন্ত্রপাতি সরবরাহ (চুক্তিমূল্য: ৬৪ লাখ ৭২৪ টাকা)।

টেন্ডার আইডি ১২১৩২৬১: জেলা প্রশাসকের দপ্তরের এ-ব্লকের টাইলস ও রেলিং মেরামত (চুক্তিমূল্য: ১১ লাখ ৬১ হাজার ৮১০ টাকা)।

টেন্ডার আইডি ১২১৩২৭২: একই দপ্তরের বি-ব্লকের সিঁড়িতে টাইলস স্থাপন ও ছাদের সংস্কার কাজ (চুক্তিমূল্য: ৯ লাখ ৮৪ হাজার ১৮০ টাকা)।

টেন্ডার আইডি ১২১৩২৪৭: সি-ব্লকের সংস্কার কাজ (বরাদ্দ: ১৯ লাখ ৬১ হাজার ৫২০ টাকা)।

টেন্ডার আইডি ১১৭৩৭৮৮: জেলা কারাগারের আবাসিক ভবন মেরামত (চুক্তিমূল্য: ১৩ লাখ ৬ হাজার ৩২৯ টাকা)।

সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, এসএ এন্টারপ্রাইজের লাইসেন্স ব্যবহার করা হলেও পর্দার আড়াল থেকে কাজগুলো নির্বাহী প্রকৌশলী নিজেই তদারকি করছেন। এর আগে ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ-১ এর স্টাফ অফিসার থাকাকালীনও এই প্রতিষ্ঠানের নামে শতাধিক কাজ পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগে দীর্ঘদিন তার পদোন্নতি স্থগিত ছিল। পরে রাজনৈতিক তদবিরে ২০২৩ সালের নভেম্বরে সিরাজগঞ্জে পোস্টিং পেয়েই তিনি অনিয়মের সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন। এছাড়া ২০২৪ ও ২০২৫ সালের জুন ক্লোজিংয়ে ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে প্রায় ৩ কোটি টাকা লোপাটের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

বিতর্কিতদের তালিকায় আরও যারা
বর্তমান অর্থবছরে ঢাকার ‘বাবর অ্যাসোসিয়েটস’ নামক অপর এক রাজনৈতিক প্রভাবশালী প্রতিষ্ঠানকে জেলা আনসার ও ভিডিপি দপ্তরের অস্ত্রাগার ভবনের ৩য় তলা নির্মাণ কাজ (টেন্ডার আইডি: ১১৩৫৭২০, চুক্তিমূল্য: ৬৫ লাখ ২০ হাজার ৯৭৮ টাকা) দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদপ্তরের ডিআইজি বিল্ডিং নির্মাণ প্রকল্পে ডিপটিউবওয়েল স্থাপন এবং সাবস্টেশন ও জেনারেটর সরবরাহের কাজ (টেন্ডার আইডি: ১১৩৩৫২৫, চুক্তিমূল্য: ৮৭ লাখ ৯৮ হাজার ১৭৪ টাকা) দেওয়া হয়েছে ‘এইচবি ট্রেডার্স লি.’-কে। জেলা প্রশাসকের রেকর্ডরুম মেরামতের কাজ (টেন্ডার আইডি: ১২৪৭০০০, চুক্তিমূল্য: ৫৭ লাখ ৪৫ হাজার ১৭৬ টাকা) পেয়েছে ঢাকার ‘প্যাসিফিক ইঞ্জিনিয়ার্স’। পাশাপাশি ২ কোটি ৪২ লাখ ২৬ হাজার ৬৩২ টাকা ব্যয়ে রাজগঞ্জ পুলিশ সার্কেল কাম রেসিডেন্স ভবনের অবশিষ্ট নির্মাণ কাজ (টেন্ডার আইডি: ১২০৬৭৭৪) দেওয়া হয়েছে ‘মেসার্স পূর্বাঞ্চল ট্রেড’ নামের একটি সংস্থাকে।

এসব কাজের দরপত্র প্রক্রিয়া নিয়ে যেমন জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে, তেমনি কাজের গুণগত মান নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে ব্যবহারকারী সংস্থাগুলো। অভিযোগ রয়েছে, এই বিপুল অনিয়ম ও লুটপাটে নির্বাহী প্রকৌশলীকে সরাসরি সহায়তা করছেন উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী (এসডিই) কল্যাণ কুমার কুণ্ডু এবং এসডিই (ই/এম) মিজানুর রহমান আকন।

এসব সুনির্দিষ্ট অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে নির্বাহী প্রকৌশলী মাহমুদুল হাসানের ব্যক্তিগত মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। ফলে উনার কোনো বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।