ঢাকা ০৪:৫১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সংকট থেকে কেবল বিএনপিই দেশকে উদ্ধার করতে পারবে : অর্থমন্ত্রী দিনে টিকটক রাতে ছিনতাই, গ্রেপ্তার ‘ভাইরাল’ ছিনতাইকারী খেলাধুলার শৃঙ্খলাই গড়ে তুলবে আগামী দিনের সফল নেতৃত্ব: পবিপ্রবি উপাচার্য ১৩ লাখ দিলেই চাকরি নিশ্চিত’ সেই সুমনই ফের জাতীয় জাদুঘরে বাংলাদেশি নাগরিকদের ফের অভিবাসী ভিসা দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র মুকসুদপুরে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে আলোচনা সভা ও র‍্যালি ৫ সেপ্টেম্বর ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চ: কুমিল্লায় পুলিশ সুপারের সঙ্গে নেতৃবৃন্দের মতবিনিময় পঞ্চগড়ে নানা আয়োজনে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন সাগরে লঘুচাপ, দেশের ৪ সমুদ্র বন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত মোটরসাইকেলসহ গাড়ির মালিক-চালকদের বড় সুখবর দিল বিআরটিএ

শেষ সময়ের ব্যস্ততা কামার পাড়ায়

ঈদুল আযহার বাকি আর মাত্র পাঁচদিন। ঈদকে সামনে রেখে তাই ব্যস্ত সময় পার করছেন কামার পাড়ার শিল্পীরা। দম ফেলার ফুরসত নেই তাদের।

কোরবানির ঈদ উপলক্ষে এক মাস আগে থেকে ছুরি-চাকু-বটি, চাপাতি ও দা তৈরি ও পুরাতনগুলো শান দেওয়ার কাজে ব্যস্ত কামাররা।

হাতুড়ি আর লোহার টুংটাং শব্দে রাতদিন মুখরিত থাকে কামার পাড়া।

কেউ হাঁপর টানছেন, সেই হাঁপরে পুড়ছেন কয়লা, জ্বলছে লোহা। কেউ কেউ হাতুড়ি পিটিয়ে তৈরি করছেন দা, বটি, ছুরিসহ মাংস কাটার বিভিন্ন সরঞ্জাম।

কোরবানির ঈদ ঘিরে কামারদের যত রোজগার। তাই ঈদের দিন পর্যন্ত চলবে তাদের এমন ব্যস্ততা। প্রতিবছর কোরবানির ঈদে তাদের জিনিসপত্রের কেনা-বেচা বেড়ে যায়। এ থেকে অর্জিত টাকায় সারা বছর সংসার চালান। বছরের বেশিরভাগ সময় কামার শিল্পীরা অল্প কাজ করে সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হয়। তাই তারা এ সময়টাকে কাজে লাগান।

রোববার (২৫ জুন) নগরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, কোরবানিকে সামনে রেখে মানুষ কিনতে শুরু করেছেন ছুরি-চাকু-বটি, চাপাতি। আবার অনেকে একটু আগেভাগে দা, বটি, ছুরিসহ মাংস কাটার বিভিন্ন সরঞ্জাম শান দিয়ে দিচ্ছেন।

নগরের জেল রোড সংলগ্ন লালদীঘির পাড়ে বাপ-বেটা মিলেই কামারের দোকান পরিচালনা করেন। বাপ লোহা ধরে আছেন, ছেলে হাতুড়ি নিয়ে পেটাচ্ছেন। তাতেই তৈরি হচ্ছে চকচকে দা, ছুরি,  চাপাতি, বটি, চাকু।

নগরের আতুরার ডিপো এলাকার কামার শুভ্রত কর্মকার বাংলানিউজকে বলেন, কোরবানির ঈদে কাজ বেশি হয়। যে কারণে ঈদের একমাস আগে থেকেই আমাদের কাজ বাড়তে থাকে। সারা বছর তেমন কাজ না থাকলেও এই ঈদে আমরা একটু বিশ্রামের সময়ও পাই না। ঈদের অনেক আগে থেকেই নতুন সরঞ্জাম তৈরি করে রাখি। অনেকে বানানোর সময় না পেয়ে নতুন জিনিস কিনতে চায়।

নগরের নিউমার্কেট এলাকার সঞ্জয় কর্মকার। বয়স ষাটের ঘরে। কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত পরিশ্রম করতে হচ্ছে তাঁকে। সঙ্গে কাজ করেন তার স্ত্রী ও বারো বছরের স্কুল পড়ুয়া ছেলে রাজীবও।

সঞ্জয় কর্মকার বলেন, বছরের এই ঈদ মৌসুমটাই আমাদের মূল টার্গেট থাকে। বছরের কয়েকটা দিন ভালো টাকা, ভালো উপার্জন করার চিন্তা করলে এই দিনগুলো ঘিরেই করা হয়।

বর্তমানে প্রতিটি দা তৈরিতে প্রকারভেদে মজুরি নেওয়া হচ্ছে ২৫০-৬০০ টাকা পর্যন্ত। চাকু তৈরিতে নেওয়া হচ্ছে ১২০ টাকা। বড় ছুড়ি তৈরিতে নেওয়া হচ্ছে ৫০০-৭০০ টাকা। বটি তৈরিতে নেওয়া হচ্ছে ৩০০ টাকা থেকে ৪০০ টাকার মধ্যে।

নগরের ফিরিঙ্গিবাজারের মা জননী দোকানে পরিবারকে সহযোগিতা করতে আসা সীমান্ত বাংলানিউজকে বলেন, আমার দাদাও এ কাজ করতেন। বাবা ৩০ বছর ধরে করছেন। সবমিলিয়ে ৬০ বছরের পুরোনো ব্যবসা আমাদের। এখন স্কুল বন্ধ, তাই পরিবারকে সময় দিতে এসেছি।

তিনি আরও বলেন, বেচাকেনা এখনো জমে উঠেনি। আর মাত্র পাঁচদিন পর ঈদ। এ সময়ে জমে ওঠার কথা দা-বটির বাজার, অথচ এবার বিক্রিই নেই। পুরোনো সরঞ্জামে অনেকেই শান দিয়ে নিচ্ছেন।

কোরবানির সরঞ্জাম কিনতে আসা নগরের হামজারবাগ এলাকার বাসিন্দা বাবুল আহমেদ বাংলানিউজকে বলেন, এবার গরু একটু আগেভাগেই কিনেছি। কোরবানির জন্য প্রয়োজন চাকু ও ছুরি। সে কারণে বাজারে এসেছি দা, বটি ও ছুরি কিনতে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সংকট থেকে কেবল বিএনপিই দেশকে উদ্ধার করতে পারবে : অর্থমন্ত্রী

শেষ সময়ের ব্যস্ততা কামার পাড়ায়

আপডেট সময় ০৪:৩৫:১২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ জুন ২০২৩

ঈদুল আযহার বাকি আর মাত্র পাঁচদিন। ঈদকে সামনে রেখে তাই ব্যস্ত সময় পার করছেন কামার পাড়ার শিল্পীরা। দম ফেলার ফুরসত নেই তাদের।

কোরবানির ঈদ উপলক্ষে এক মাস আগে থেকে ছুরি-চাকু-বটি, চাপাতি ও দা তৈরি ও পুরাতনগুলো শান দেওয়ার কাজে ব্যস্ত কামাররা।

হাতুড়ি আর লোহার টুংটাং শব্দে রাতদিন মুখরিত থাকে কামার পাড়া।

কেউ হাঁপর টানছেন, সেই হাঁপরে পুড়ছেন কয়লা, জ্বলছে লোহা। কেউ কেউ হাতুড়ি পিটিয়ে তৈরি করছেন দা, বটি, ছুরিসহ মাংস কাটার বিভিন্ন সরঞ্জাম।

কোরবানির ঈদ ঘিরে কামারদের যত রোজগার। তাই ঈদের দিন পর্যন্ত চলবে তাদের এমন ব্যস্ততা। প্রতিবছর কোরবানির ঈদে তাদের জিনিসপত্রের কেনা-বেচা বেড়ে যায়। এ থেকে অর্জিত টাকায় সারা বছর সংসার চালান। বছরের বেশিরভাগ সময় কামার শিল্পীরা অল্প কাজ করে সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হয়। তাই তারা এ সময়টাকে কাজে লাগান।

রোববার (২৫ জুন) নগরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, কোরবানিকে সামনে রেখে মানুষ কিনতে শুরু করেছেন ছুরি-চাকু-বটি, চাপাতি। আবার অনেকে একটু আগেভাগে দা, বটি, ছুরিসহ মাংস কাটার বিভিন্ন সরঞ্জাম শান দিয়ে দিচ্ছেন।

নগরের জেল রোড সংলগ্ন লালদীঘির পাড়ে বাপ-বেটা মিলেই কামারের দোকান পরিচালনা করেন। বাপ লোহা ধরে আছেন, ছেলে হাতুড়ি নিয়ে পেটাচ্ছেন। তাতেই তৈরি হচ্ছে চকচকে দা, ছুরি,  চাপাতি, বটি, চাকু।

নগরের আতুরার ডিপো এলাকার কামার শুভ্রত কর্মকার বাংলানিউজকে বলেন, কোরবানির ঈদে কাজ বেশি হয়। যে কারণে ঈদের একমাস আগে থেকেই আমাদের কাজ বাড়তে থাকে। সারা বছর তেমন কাজ না থাকলেও এই ঈদে আমরা একটু বিশ্রামের সময়ও পাই না। ঈদের অনেক আগে থেকেই নতুন সরঞ্জাম তৈরি করে রাখি। অনেকে বানানোর সময় না পেয়ে নতুন জিনিস কিনতে চায়।

নগরের নিউমার্কেট এলাকার সঞ্জয় কর্মকার। বয়স ষাটের ঘরে। কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত পরিশ্রম করতে হচ্ছে তাঁকে। সঙ্গে কাজ করেন তার স্ত্রী ও বারো বছরের স্কুল পড়ুয়া ছেলে রাজীবও।

সঞ্জয় কর্মকার বলেন, বছরের এই ঈদ মৌসুমটাই আমাদের মূল টার্গেট থাকে। বছরের কয়েকটা দিন ভালো টাকা, ভালো উপার্জন করার চিন্তা করলে এই দিনগুলো ঘিরেই করা হয়।

বর্তমানে প্রতিটি দা তৈরিতে প্রকারভেদে মজুরি নেওয়া হচ্ছে ২৫০-৬০০ টাকা পর্যন্ত। চাকু তৈরিতে নেওয়া হচ্ছে ১২০ টাকা। বড় ছুড়ি তৈরিতে নেওয়া হচ্ছে ৫০০-৭০০ টাকা। বটি তৈরিতে নেওয়া হচ্ছে ৩০০ টাকা থেকে ৪০০ টাকার মধ্যে।

নগরের ফিরিঙ্গিবাজারের মা জননী দোকানে পরিবারকে সহযোগিতা করতে আসা সীমান্ত বাংলানিউজকে বলেন, আমার দাদাও এ কাজ করতেন। বাবা ৩০ বছর ধরে করছেন। সবমিলিয়ে ৬০ বছরের পুরোনো ব্যবসা আমাদের। এখন স্কুল বন্ধ, তাই পরিবারকে সময় দিতে এসেছি।

তিনি আরও বলেন, বেচাকেনা এখনো জমে উঠেনি। আর মাত্র পাঁচদিন পর ঈদ। এ সময়ে জমে ওঠার কথা দা-বটির বাজার, অথচ এবার বিক্রিই নেই। পুরোনো সরঞ্জামে অনেকেই শান দিয়ে নিচ্ছেন।

কোরবানির সরঞ্জাম কিনতে আসা নগরের হামজারবাগ এলাকার বাসিন্দা বাবুল আহমেদ বাংলানিউজকে বলেন, এবার গরু একটু আগেভাগেই কিনেছি। কোরবানির জন্য প্রয়োজন চাকু ও ছুরি। সে কারণে বাজারে এসেছি দা, বটি ও ছুরি কিনতে।