ঢাকা ০৯:৩৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
পোশাকশিল্পে চলমান পরিস্থিতি স্বাভাবিক শ্রমিক আন্দোলন নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাহজাহানপুরে রাজউকের নকশা লঙ্ঘন করে ১০ তলা ভবন নির্মাণ, নেপথ্যে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ চীনা মন্ত্রীর সঙ্গে রাষ্ট্রপতির সাক্ষাৎ, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারের আহ্বান অপপ্রচার ছাপিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে শক্ত অবস্থান গড়ছে সশস্ত্র বাহিনী ফায়ার সার্ভিসে গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়নে তদবির, মামুনুর রশিদকে ঘিরে অনিয়মের অভিযোগ ট্রাম্পের রিপাবলিকানদের পরাজয়ে তেহরানে ইরানিদের উল্লাস জুলাইয়ের অর্জন ধরে রাখতে নতুন বিপ্লবের প্রস্তুতি নিতে হবে: মাহমুদুর রহমান সাফের ১০ কোটি টাকার স্পন্সরশিপে ৩ কোটি কমিশনের অভিযোগ, বিতর্কে সালাউদ্দিন-কিরন ভালুকায় সাত বছরের শিশুকে অনৈতিক প্রস্তাবের অভিযোগ, মাদ্রাসাশিক্ষক গ্রেপ্তার তাড়াইলে মাদকবিরোধী অভিযানে তৎপর এসআই ফোরকান মোল্লা, স্বস্তিতে এলাকাবাসী

সাফের ১০ কোটি টাকার স্পন্সরশিপে ৩ কোটি কমিশনের অভিযোগ, বিতর্কে সালাউদ্দিন-কিরন

ঢাকা জাতীয় স্টেডিয়ামে আগামীকাল বৃহস্পতিবার শুরু হচ্ছে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ। টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই স্পন্সরশিপ, কমিশন ও বাণিজ্যিক স্বত্ব নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, টুর্নামেন্টের স্পন্সরশিপের অর্থ থেকে তিন কোটি টাকা কমিশন নেওয়া হয়েছে। এ অভিযোগে সাফ সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন ও মাহফুজা আক্তার কিরনের নাম জড়িয়েছে। একই সঙ্গে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সালাউদ্দিনের উপস্থিতি নিয়েও জটিলতা তৈরি হয়েছে। তবে অভিযোগগুলো এখনো প্রমাণিত নয় এবং সংশ্লিষ্ট কেউ প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি।

সূত্র জানায়, সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা পৃষ্ঠপোষক প্রতিষ্ঠান টেকনো। স্পন্সরশিপের অঙ্ক ধরা হচ্ছে ১০ কোটি টাকা। এর মধ্য থেকে তিন কোটি টাকা কমিশন নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ অভিযোগের সঙ্গে সালাউদ্দিন ও কিরনের পাশাপাশি বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) দুজন কর্মকর্তার নামও আলোচনায় এসেছে। তবে টেকনোর কাছ থেকে মোট কত টাকা এসেছে, কোনো মধ্যস্থতাকারী কমিশন পেয়েছেন কি না এবং ওই অর্থের সুবিধাভোগী কারা—এসব বিষয়ে কেউ প্রকাশ্যে কথা বলতে চাননি।

সালাউদ্দিন দীর্ঘ ১৬ বছর বাফুফের সভাপতি ছিলেন। বর্তমানে তিনি সাফের সভাপতি। কিরনও দীর্ঘদিন দেশের ফুটবলের সঙ্গে যুক্ত। তবে কমিশনসংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়ে তাঁদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

উদ্বোধনে সালাউদ্দিনের উপস্থিতি নিয়ে জটিলতা

সূত্রের দাবি, বুধবার গভীর রাত পর্যন্ত সালাউদ্দিনের নিরাপত্তা ছাড়পত্র মেলেনি। আওয়ামী লীগ সরকারের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত হওয়ায় তাঁকে ‘ফ্যাসিস্টের দোসর’ বলে আখ্যায়িত করা হয়। তাঁর রাজনৈতিক পরিচয় ও অতীত বিতর্কের কারণেই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিতি নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে বলে জানা গেছে। ফলে সাফের আয়োজনে হওয়া প্রতিযোগিতার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তাঁর থাকা হচ্ছে না।

বাণিজ্যিক স্বত্ব প্রদান নিয়েও প্রশ্ন

এদিকে, টুর্নামেন্টের বাণিজ্যিক স্বত্ব পাওয়া প্রতিষ্ঠান টিএসএকে ঘিরেও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রমের নেপথ্যে বাফুফের এক প্রভাবশালী সহসভাপতি ভূমিকা রাখছেন। আওয়ামী লীগ আমলে বঙ্গবন্ধু, বঙ্গমাতা ও শেখ কামালের নামে আয়োজিত ফুটবল প্রতিযোগিতার ব্যবস্থাপনার সঙ্গেও তাঁর সম্পৃক্ততা ছিল বলে জানা যায়। তবে টিএসএর সঙ্গে ওই কর্মকর্তার ব্যবসায়িক বা আর্থিক সম্পর্কের কোনো প্রমাণ সূত্রটি দিতে পারেনি।

এ বিষয়ে বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল বলেছেন, প্রতিযোগিতার পুরো ব্যবস্থাপনা সাফ করছে। স্বাগতিক ফেডারেশন হিসেবে বাফুফে শুধু সহযোগিতা করছে।

টুর্নামেন্ট শুরুর আগে স্পন্সরশিপের অর্থ ও বাণিজ্যিক স্বত্ব নিয়ে এমন অভিযোগ ওঠায় আয়োজনের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। স্পন্সরশিপের অর্থ কোথায় গেছে এবং বাণিজ্যিক স্বত্ব কীভাবে দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষের স্পষ্ট ব্যাখ্যা না এলে বিতর্ক থেকেই যাবে। সূত্রের দাবির পক্ষে এখনো কোনো প্রমাণ সামনে আসেনি। তাই অভিযুক্তদের বক্তব্য ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র সামনে এলেই বিষয়টি পরিষ্কার হতে পারে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

পোশাকশিল্পে চলমান পরিস্থিতি স্বাভাবিক শ্রমিক আন্দোলন নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সাফের ১০ কোটি টাকার স্পন্সরশিপে ৩ কোটি কমিশনের অভিযোগ, বিতর্কে সালাউদ্দিন-কিরন

আপডেট সময় ০৮:২৪:৪৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬

ঢাকা জাতীয় স্টেডিয়ামে আগামীকাল বৃহস্পতিবার শুরু হচ্ছে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ। টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই স্পন্সরশিপ, কমিশন ও বাণিজ্যিক স্বত্ব নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, টুর্নামেন্টের স্পন্সরশিপের অর্থ থেকে তিন কোটি টাকা কমিশন নেওয়া হয়েছে। এ অভিযোগে সাফ সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন ও মাহফুজা আক্তার কিরনের নাম জড়িয়েছে। একই সঙ্গে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সালাউদ্দিনের উপস্থিতি নিয়েও জটিলতা তৈরি হয়েছে। তবে অভিযোগগুলো এখনো প্রমাণিত নয় এবং সংশ্লিষ্ট কেউ প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি।

সূত্র জানায়, সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা পৃষ্ঠপোষক প্রতিষ্ঠান টেকনো। স্পন্সরশিপের অঙ্ক ধরা হচ্ছে ১০ কোটি টাকা। এর মধ্য থেকে তিন কোটি টাকা কমিশন নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ অভিযোগের সঙ্গে সালাউদ্দিন ও কিরনের পাশাপাশি বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) দুজন কর্মকর্তার নামও আলোচনায় এসেছে। তবে টেকনোর কাছ থেকে মোট কত টাকা এসেছে, কোনো মধ্যস্থতাকারী কমিশন পেয়েছেন কি না এবং ওই অর্থের সুবিধাভোগী কারা—এসব বিষয়ে কেউ প্রকাশ্যে কথা বলতে চাননি।

সালাউদ্দিন দীর্ঘ ১৬ বছর বাফুফের সভাপতি ছিলেন। বর্তমানে তিনি সাফের সভাপতি। কিরনও দীর্ঘদিন দেশের ফুটবলের সঙ্গে যুক্ত। তবে কমিশনসংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়ে তাঁদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

উদ্বোধনে সালাউদ্দিনের উপস্থিতি নিয়ে জটিলতা

সূত্রের দাবি, বুধবার গভীর রাত পর্যন্ত সালাউদ্দিনের নিরাপত্তা ছাড়পত্র মেলেনি। আওয়ামী লীগ সরকারের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত হওয়ায় তাঁকে ‘ফ্যাসিস্টের দোসর’ বলে আখ্যায়িত করা হয়। তাঁর রাজনৈতিক পরিচয় ও অতীত বিতর্কের কারণেই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিতি নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে বলে জানা গেছে। ফলে সাফের আয়োজনে হওয়া প্রতিযোগিতার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তাঁর থাকা হচ্ছে না।

বাণিজ্যিক স্বত্ব প্রদান নিয়েও প্রশ্ন

এদিকে, টুর্নামেন্টের বাণিজ্যিক স্বত্ব পাওয়া প্রতিষ্ঠান টিএসএকে ঘিরেও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রমের নেপথ্যে বাফুফের এক প্রভাবশালী সহসভাপতি ভূমিকা রাখছেন। আওয়ামী লীগ আমলে বঙ্গবন্ধু, বঙ্গমাতা ও শেখ কামালের নামে আয়োজিত ফুটবল প্রতিযোগিতার ব্যবস্থাপনার সঙ্গেও তাঁর সম্পৃক্ততা ছিল বলে জানা যায়। তবে টিএসএর সঙ্গে ওই কর্মকর্তার ব্যবসায়িক বা আর্থিক সম্পর্কের কোনো প্রমাণ সূত্রটি দিতে পারেনি।

এ বিষয়ে বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল বলেছেন, প্রতিযোগিতার পুরো ব্যবস্থাপনা সাফ করছে। স্বাগতিক ফেডারেশন হিসেবে বাফুফে শুধু সহযোগিতা করছে।

টুর্নামেন্ট শুরুর আগে স্পন্সরশিপের অর্থ ও বাণিজ্যিক স্বত্ব নিয়ে এমন অভিযোগ ওঠায় আয়োজনের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। স্পন্সরশিপের অর্থ কোথায় গেছে এবং বাণিজ্যিক স্বত্ব কীভাবে দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষের স্পষ্ট ব্যাখ্যা না এলে বিতর্ক থেকেই যাবে। সূত্রের দাবির পক্ষে এখনো কোনো প্রমাণ সামনে আসেনি। তাই অভিযুক্তদের বক্তব্য ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র সামনে এলেই বিষয়টি পরিষ্কার হতে পারে।