বাংলাদেশ আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশন ময়মনসিংহ মহানগর শাখার উদ্যোগে শিক্ষক সম্মেলন-২০২৪ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (২ নভেম্বর) ময়মনসিংহ মহানগরীর অ্যাডভোকেট তারেক স্মৃতি অডিটোরিয়ামে এ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
বাংলাদেশ আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশন ময়মনসিংহ মহানগর শাখার সভাপতি প্রফেসর ড. আবু জাফর মো. মোসলেহ উদ্দিনের সভাপতিত্বে এবং শাখার সেক্রেটারি মো. আল হেলাল তালুকদারের সঞ্চালনায় সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা ও বাংলাদেশ লইয়ার্স কাউন্সিলের সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ।
প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি ও মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সাবেক উপাচার্য প্রফেসর ড. এম উমর আলী।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ শিক্ষক পরিষদের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি ও তামিরুল মিল্লাত কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ড. মুফতি মুহাম্মদ আবু ইউছুফ খান, ন্যাশনাল ডক্টরস ফোরামের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি ডা. শাহাব উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী এবং বাংলাদেশ আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশন ময়মনসিংহ জেলা শাখার সভাপতি অধ্যক্ষ মু. কামরুল হাসান মিলন।
অধ্যক্ষ মু. কামরুল হাসান মিলন বলেন, সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যদি শিক্ষা ব্যবস্থার সমস্যা নিয়ে দাবি জানায়, তাহলে আশা করি বর্তমান সরকার সেসব সমস্যা সমাধান করবেন।
ডা. শাহাব উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী বলেন, “আমরা আমাদের ছাত্রদের কাছে নিজেদের আদর্শ শিক্ষক হিসেবে উপস্থাপন করব। শিক্ষকদের নৈতিকতাসম্পন্ন ছাত্র গড়ে তোলার চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। আদর্শবান ও নৈতিকতাসম্পন্ন জাতি ছাড়া আদর্শ ও সুন্দর সমাজ বিনির্মাণ করা যায় না। আমাদের শিক্ষকদের সেদিকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে।”
১০ দফা দাবি
সম্মেলনে শিক্ষক-কর্মচারীদের পক্ষ থেকে ১০ দফা দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলো হলো—
১. শিক্ষক-কর্মচারীদের চাকরি জাতীয়করণ করে বিদ্যমান সরকারি-বেসরকারি বৈষম্য দূর করতে হবে।
২. জাতীয়করণ না করা পর্যন্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের শতভাগ উৎসবভাতা, ৫০ শতাংশ বাড়িভাড়া এবং বিধি অনুযায়ী চিকিৎসাভাতাসহ সব সুযোগ-সুবিধা দিতে হবে।
৩. পতিত স্বৈরাচারী সরকার কর্তৃক গঠিত দুর্নীতিগ্রস্ত অবসর সুবিধা বোর্ড ও কল্যাণ ট্রাস্টের কমিটি অবিলম্বে বাতিল করে সৎ, যোগ্য, দক্ষ ও নৈতিকতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের নিয়ে কমিটি পুনর্গঠন করতে হবে।
৪. ২০০৯ সাল থেকে বঞ্চিত যেসব শিক্ষক-কর্মচারীকে দীর্ঘদিন ধরে অন্যায় ও অবৈধভাবে তাঁদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে বিতাড়িত বা বরখাস্ত করা হয়েছে, তাঁদের স্ব-স্ব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পুনর্বহাল করতে হবে এবং তাঁদের প্রাপ্য বেতন-ভাতা পরিশোধের প্রজ্ঞাপন জারি করতে হবে।
৫. বিতাড়িত বা বরখাস্তকৃত শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে যাঁরা ইতোমধ্যে বয়সজনিত কারণে অবসর গ্রহণ করেছেন, তাঁদের ক্ষতিপূরণসহ সমুদয় পাওনা পরিশোধ করতে হবে।
৬. শিক্ষা প্রশাসনের সব স্তরের চিহ্নিত দুর্নীতিবাজ ও দলবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অবিলম্বে নির্বাহী আদেশে বহিষ্কার করতে হবে।
৭. বেসরকারি কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষকদের আট বছর পূর্ণ হওয়ার পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতি দিতে হবে। পাশাপাশি পর্যায়ক্রমে সহযোগী অধ্যাপক ও অধ্যাপক পদ সৃষ্টি করতে হবে।
৮. বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মতো সব পর্যায়ের শিক্ষকদের চাকরির বয়সসীমা ৬৫ বছর করতে হবে।
৯. কিন্ডারগার্টেন ও ইবতেদায়ি মাদ্রাসার নিবন্ধনপ্রক্রিয়া সহজ করতে হবে।
১০. ইসলামী মূল্যবোধে বিশ্বাসী বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে পাঠ্যপুস্তক সংশোধন ও পরিমার্জন সমন্বয় কমিটি অবিলম্বে পুনর্গঠন করতে হবে।
মো. আরিফুল ইসলাম মুরাদ-সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার 



















