ঢাকা ০৪:৩৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
যুদ্ধ বন্ধে খসড়া প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা, দোহা ছেড়েছেন ইরানি প্রতিনিধিরা মুন্সিগঞ্জের জেলা রেজিস্ট্রার রমজান খানের বিরুদ্ধে বদলি বাণিজ্য ও বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগ আগারগাঁও পাসপোর্ট অফিসে দালাল চক্রের ৭ সদস্যের কারাদণ্ড নারায়ণগঞ্জে আওয়ামী লীগ নেতার ১৬,৫০০ লিটার চোরাই জেট ফুয়েল জব্দ, মূল হোতারা অধরা শিক্ষক-কর্মচারীদের ১০ দফা দাবি জানিয়ে ময়মনসিংহে শিক্ষক সম্মেলন কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের ছোটশালঘরে ট্রাকের চাপায় শিশুর মৃত্যু গ্রামের মেঠোপথ থেকে কৃষি প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদে কৃষিবিদ পরেশ চন্দ্র দাস ঈশ্বরদীতে স্ত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ লিখে আত্মহত্যা যুবকের শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষে উত্তপ্ত আশুলিয়া, কাভার্ডভ্যানে আগুন; ছুটি ২০০ কারখানায় লাকসাম রেলওয়েতে কিশোর চন্দ্র ও সুফিয়ান সিন্ডিকেটের নজিরবিহীন নৈরাজ্য

ঈশ্বরদীতে স্ত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ লিখে আত্মহত্যা যুবকের

বন্ধ ঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় হৃদয় প্রামাণিক (৩০) নামে এক যুবকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনাস্থলে মৃত্যুর জন্য স্ত্রীকে দায়ী করে লেখা একটি চিরকুট পাওয়া গেছে। রোববার (১ নভেম্বর) সন্ধ্যায় ঈশ্বরদী উপজেলার সাহাপুর ইউনিয়নের দিয়ার সাহাপুর এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।

ঘটনাস্থলে পাওয়া একটি চিরকুটে নিজের মৃত্যুর জন্য স্ত্রী সুমাইয়াকে দায়ী করেছেন হৃদয়।

নিহত হৃদয় উপজেলার মানিকনগর পশ্চিমপাড়া এলাকার আনজারুল প্রামাণিকের ছেলে। তিনি পেশায় ট্রাকচালক ছিলেন।

স্বজনরা জানান, হৃদয় তার স্ত্রী সুমাইয়া খাতুনকে নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দিয়ার সাহাপুর এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। তিন দিন আগে পারিবারিক কলহের জেরে সুমাইয়া বাবার বাড়িতে চলে যান। স্ত্রী চলে যাওয়ায় হৃদয় হতাশাগ্রস্ত ছিলেন।

স্থানীয়দের ভাষ্য, রোববার দুপুর থেকে ওই বাসার দরজা বন্ধ ছিল। সন্ধ্যায় স্থানীয় লোকজন তাকে বারবার ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া পাননি। পরে হৃদয়ের পরিবারের সদস্যদের খবর দেওয়া হয়। স্বজনরা এসে দরজা ভেঙে ভেতরে তার ঝুলন্ত লাশ দেখতে পান।

স্বজন ও স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রায় এক মাস আগে হৃদয়ের স্ত্রী সুমাইয়া একটি ছেলে জন্ম দেন। জন্মের কয়েক দিন পর শিশুটির মৃত্যু হয়। চিরকুটে উল্লেখ করা শরীফ নিহতের দ্বিতীয় স্ত্রী সুমাইয়ার বড় ভাই। তবে নবজাতকের মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। শিশুটির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে হৃদয়ের মনে ক্ষোভ ও সন্দেহ তৈরি হয়েছিল বলে জানা গেছে।

ঈশ্বরদী থানার এসআই মুকুল হোসেন জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করেছে। ময়নাতদন্তের পর এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরও জানান, সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির সময় লাশের পাশে একটি চিরকুট পাওয়া গেছে। এতে লেখা ছিল, ‘আমার মৃত্যুর জন্য সুমাইয়া দায়ী। আমার ছেলেকে মেরেছে শরীফ। আমার জন্য দোয়া করবেন।’

পুলিশ জানায়, প্রায় এক মাস আগে হৃদয়ের স্ত্রী সুমাইয়া একটি ছেলে সন্তানের জন্ম দেন। জন্মের পাঁচ দিন পর শিশুটির মৃত্যু হয়। হৃদয়ের ধারণা ছিল, তার স্ত্রীর বড় ভাই শরীফ পরিকল্পিতভাবে শিশুটিকে হত্যা করেছেন।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

যুদ্ধ বন্ধে খসড়া প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা, দোহা ছেড়েছেন ইরানি প্রতিনিধিরা

ঈশ্বরদীতে স্ত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ লিখে আত্মহত্যা যুবকের

আপডেট সময় ০৩:৩৬:১৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬

বন্ধ ঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় হৃদয় প্রামাণিক (৩০) নামে এক যুবকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনাস্থলে মৃত্যুর জন্য স্ত্রীকে দায়ী করে লেখা একটি চিরকুট পাওয়া গেছে। রোববার (১ নভেম্বর) সন্ধ্যায় ঈশ্বরদী উপজেলার সাহাপুর ইউনিয়নের দিয়ার সাহাপুর এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।

ঘটনাস্থলে পাওয়া একটি চিরকুটে নিজের মৃত্যুর জন্য স্ত্রী সুমাইয়াকে দায়ী করেছেন হৃদয়।

নিহত হৃদয় উপজেলার মানিকনগর পশ্চিমপাড়া এলাকার আনজারুল প্রামাণিকের ছেলে। তিনি পেশায় ট্রাকচালক ছিলেন।

স্বজনরা জানান, হৃদয় তার স্ত্রী সুমাইয়া খাতুনকে নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দিয়ার সাহাপুর এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। তিন দিন আগে পারিবারিক কলহের জেরে সুমাইয়া বাবার বাড়িতে চলে যান। স্ত্রী চলে যাওয়ায় হৃদয় হতাশাগ্রস্ত ছিলেন।

স্থানীয়দের ভাষ্য, রোববার দুপুর থেকে ওই বাসার দরজা বন্ধ ছিল। সন্ধ্যায় স্থানীয় লোকজন তাকে বারবার ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া পাননি। পরে হৃদয়ের পরিবারের সদস্যদের খবর দেওয়া হয়। স্বজনরা এসে দরজা ভেঙে ভেতরে তার ঝুলন্ত লাশ দেখতে পান।

স্বজন ও স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রায় এক মাস আগে হৃদয়ের স্ত্রী সুমাইয়া একটি ছেলে জন্ম দেন। জন্মের কয়েক দিন পর শিশুটির মৃত্যু হয়। চিরকুটে উল্লেখ করা শরীফ নিহতের দ্বিতীয় স্ত্রী সুমাইয়ার বড় ভাই। তবে নবজাতকের মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। শিশুটির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে হৃদয়ের মনে ক্ষোভ ও সন্দেহ তৈরি হয়েছিল বলে জানা গেছে।

ঈশ্বরদী থানার এসআই মুকুল হোসেন জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করেছে। ময়নাতদন্তের পর এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরও জানান, সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির সময় লাশের পাশে একটি চিরকুট পাওয়া গেছে। এতে লেখা ছিল, ‘আমার মৃত্যুর জন্য সুমাইয়া দায়ী। আমার ছেলেকে মেরেছে শরীফ। আমার জন্য দোয়া করবেন।’

পুলিশ জানায়, প্রায় এক মাস আগে হৃদয়ের স্ত্রী সুমাইয়া একটি ছেলে সন্তানের জন্ম দেন। জন্মের পাঁচ দিন পর শিশুটির মৃত্যু হয়। হৃদয়ের ধারণা ছিল, তার স্ত্রীর বড় ভাই শরীফ পরিকল্পিতভাবে শিশুটিকে হত্যা করেছেন।