ঢাকা ০৩:৩৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
চট্টগ্রামের নতুনবাজারে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্নের অভিযোগ পিডিবি কর্মকর্তা সানাউল্লাহর বিরুদ্ধে ৫০ লাখ টাকার ঘুষ লেনদেন ঘিরে আবারও আলোচনায় চট্টগ্রাম গণপূর্তের প্রকৌশলী মেহেদী হাসান শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর শিমুল সিন্ডিকেটের কবজায়, ঠিকাদারি নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ একসঙ্গে চিরনিদ্রায় শায়িত বজ্রপাতে নিহত ৬ জন কুমিল্লায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে আটক ২৩৬, ১০৭ জনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গড়গড়িয়া মাস্টারবাড়িতে বাউল সন্ধ্যা অনুষ্ঠিত ডেঙ্গুমুক্ত ঢাকা গড়তে প্রতিমন্ত্রী হাবিবের নতুন বার্তা, পরিচ্ছন্নতায় নামার আহ্বান বিমানের তেল চুরির মহোৎসব, নেপথ্যে ২১ বছর গেড়ে বসা ম্যানেজার সাদেক ও ডিজিএম মজিবুর কুঁজিপুর হাট-মাঝগ্রাম সড়ক পাকাকরণ কাজের উদ্বোধন, ফুলেল শুভেচ্ছায় বরণ এমপি পুতুলকে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের সাবরেজিস্ট্রার রায়হানের বিরুদ্ধে ২ কোটি টাকা ঘুষের অভিযোগ

বিএলআরআইয়ের ১২০ কোটি টাকার প্রকল্পে অনিয়ম, পিডি সাজেদুলের বিরুদ্ধে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ

দেশের পোল্ট্রি খাতের গবেষণা ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়াতে ১৩৪ কোটি টাকার মেগা প্রকল্প হাতে নেওয়া হলেও মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হয়ে অর্থের সিংহভাগ ভবন নির্মাণ ও সরঞ্জাম ক্রয়ে ব্যয়ের চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএলআরআই) বাস্তবায়নাধীন ‘পোল্ট্রি গবেষণা ও উন্নয়ন জোরদারকরণ (১ম সংশোধিত)’ প্রকল্পের নথি ঘেঁটে দেখা গেছে, গবেষণার সুফল মেলার পরিবর্তে প্রকল্প পরিচালক (পিডি) ড. মো. সাজেদুল করিম সরকারের বিরুদ্ধে নিজের স্ত্রীকে নিয়মবহির্ভূতভাবে মোটা অঙ্কের ফেলোশিপ প্রদান, দরপত্র ছাড়াই কোটি কোটি টাকার কাজ বণ্টন এবং ভুয়া ভাউচারে অর্থ উত্তোলনের গুরুতর অনিয়ম হয়েছে। সরকারি বরাদ্দের এই চরম অপব্যবহার ও স্বজনপ্রীতির ঘটনায় পুরো খাতের গবেষক মহলে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

প্রকল্পের আর্থিক ও প্রশাসনিক নথিপত্র বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত প্রকল্পে মোট ১২০ কোটি ৫৭ লাখ টাকা ব্যয় দেখানো হয়েছে। এর মধ্যে ৮১ কোটি ২৮ লাখ টাকা বা প্রায় ৬৫ শতাংশ অর্থই ব্যয় করা হয়েছে ভবন নির্মাণ, জমি অধিগ্রহণ ও ভারী সরঞ্জাম কেনাকাটায়। অথচ প্রকল্পের মূল ভিত্তি যে গবেষণা ও ফেলোশিপ, সেই খাতে বরাদ্দ রাখা হলেও ব্যয় করা হয়েছে মাত্র ৭ কোটি ৯৯ লাখ টাকা, যা মোট ব্যয়ের মাত্র ৫.৯৭ শতাংশ। সরকারি অনুমোদন অনুযায়ী গবেষণা খাতে ৬ কোটি ৩০ লাখ টাকা বরাদ্দ থাকার কথা থাকলেও কেবল পোল্ট্রির খাবার ও ফিড অ্যাডিটিভস ক্রয়েই খরচ দেখানো হয়েছে ১২ কোটি ৪২ লাখ টাকা, যা মূল বরাদ্দের প্রায় দ্বিগুণ। এছাড়া স্থানীয় প্রশিক্ষণে ৪ কোটি ১০ লাখ টাকার বিপরীতে ৪৫ শতাংশ খরচ দেখানো হলেও বিদেশি প্রশিক্ষণের ১ কোটি টাকার মধ্যে কাগজে-কলমে মাত্র ১ লাখ টাকা ব্যয় দেখানো হয়েছে। ২০১৯ সালের জুলাইয়ে শুরু হওয়া এই প্রকল্পের মূল মেয়াদ ২০২৪ সালের জুনে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও তা দুই বছর বাড়িয়ে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত করা হয় এবং অতিরিক্ত ১০ কোটি ৬৫ লাখ টাকা বাজেট বৃদ্ধি করা হয়। অথচ প্রকল্প বিলম্বের সুনির্দিষ্ট কোনো প্রশাসনিক বা যৌক্তিক ব্যাখ্যা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।

এই দুর্নীতির সবচেয়ে বড় চাঞ্চল্যকর অধ্যায় হলো প্রকল্প পরিচালকের স্ত্রী ড. ফারহানা শারমীনকে নিয়মবহির্ভূতভাবে পোস্ট-ডক্টরাল ফেলোশিপ প্রদান। কোনো ধরনের জাতীয় দৈনিক বা বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্মুক্ত বিজ্ঞপ্তি ছাড়াই সম্পূর্ণ গোপনে এই সুযোগ তৈরি করা হয়, যা ২০২২ সালের সরকারি তদন্তেও প্রমাণিত হয়েছে। বিএলআরআইয়ের স্থায়ী কর্মকর্তা না হওয়া সত্ত্বেও পিডির স্ত্রী মাসিক ১ লাখ ২০ হাজার টাকা ভাতা হিসেবে গ্রহণ করেছেন এবং ফেলোশিপ খাতের বরাদ্দের প্রায় ৬৫ শতাংশই তাঁর একাই ভোগ করেছেন। প্রশিক্ষণ আয়োজনেও স্বামী-স্ত্রীর একচ্ছত্র আধিপত্য ছিল। ট্রেনিং কোর্সের নির্দেশক নিজেই হওয়ার সুবাদে পিডি ড. সাজেদুল করিম বড় অঙ্কের সম্মানীর বিপরীতে একাধিক সেশনের প্রশিক্ষক হিসেবেও যুক্ত ছিলেন এবং তাঁর স্ত্রীকেও সম্মানীভিত্তিক প্রশিক্ষক রাখা হয়। এছাড়া এক জুনিয়র ট্রেনিং সহকারী ও হিসাবরক্ষকের মাধ্যমে ভুয়া দোকানের নামে কোটি কোটি টাকার সরবরাহ ভাউচার তৈরি, দরপত্র ছাড়া সাড়ে ৩ কোটি টাকার রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতের কাজ বণ্টন এবং গবেষণাগারে জায়গা না থাকা সত্ত্বেও ২ কোটি ১৫ লাখ টাকায় ৪টি ইনকিউবেটর ক্রয়ের নজির রয়েছে। প্রকল্পের মোটরসাইকেল ও অন্যান্য যানবাহন পিডির ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কাজে ব্যবহার করারও গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগের বিষয়ে প্রকল্প পরিচালক ও বিএলআরআইয়ের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. সাজেদুল করিম সমস্ত অনিয়ম অস্বীকার করে দাবি করেছেন যে, প্রচলিত বিধি মোতাবেক এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানিয়েই প্রকল্পের সব কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। তবে সাবেক ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ততার সুবাদে পিডির দায়িত্ব প্রাপ্তি এবং স্ত্রীর ফেলোশিপ সংক্রান্ত সুনির্দিষ্ট প্রশ্নের কোনো সদুত্তর তিনি দিতে চাননি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএলআরআইয়ের এক শীর্ষ কর্মকর্তা জানান, রাজনৈতিক প্রভাব ও তৎকালীন ক্ষমতাসীনদের ঘনিষ্ঠতার সুবাদেই তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ পদের দায়িত্ব পেয়েছিলেন এবং আগস্ট-পরবর্তী পরিস্থিতিতে তাঁর ভূমিকা নিয়ে প্রতিষ্ঠানটির ভেতরে ও বাইরে গভীর প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।

খাতসংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিগত আটাশ বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা এই প্রকল্পে রাষ্ট্রীয় অর্থের যে যথেচ্ছ অপচয় হয়েছে, তা প্রশাসনিক জবাবদিহির সম্পূর্ণ পরিপন্থী। সরকারি প্রকল্পের নথিপত্রের জটিল হিসাব-নিকাশ ও ক্ষমতার বলয় ব্যবহার করে যেভাবে ব্যক্তিবিশেষের স্বার্থ হাসিল করা হয়েছে, তা দেশের সামগ্রিক গবেষণা খাতের স্বচ্ছতাকে চরম হুমকির মুখে ফেলেছে। অতীতে বিভিন্ন জাতীয় উন্নয়ন প্রকল্পে এ ধরনের অনিয়মের নজির থাকলেও প্রাণিসম্পদ গবেষণার মতো একটি সংবেদনশীল খাতে স্বজনপ্রীতির এমন নগ্ন বহিঃপ্রকাশ নজিরবিহীন।

অবিলম্বে এই প্রকল্পের সম্পূর্ণ অর্থ বরাদ্দ, কেনাকাটা ও ফেলোশিপ বিতরণের একটি নিরপেক্ষ ও স্বাধীন নিরীক্ষা (অডিট) পরিচালনা করা জরুরি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। একই সঙ্গে দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) দিয়ে কঠোর আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে জড়িতদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে। অন্যথায়, কোটি কোটি টাকার এই মেগা প্রকল্প কেবল কাগজ-কলমে সীমাবদ্ধ থেকে যাবে এবং পোল্ট্রি খাতের টেকসই উন্নয়ন ও খাদ্যনিরাপত্তার স্বপ্ন অধরাই থেকে যাবে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

চট্টগ্রামের নতুনবাজারে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্নের অভিযোগ পিডিবি কর্মকর্তা সানাউল্লাহর বিরুদ্ধে

বিএলআরআইয়ের ১২০ কোটি টাকার প্রকল্পে অনিয়ম, পিডি সাজেদুলের বিরুদ্ধে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ

আপডেট সময় ১১:২৯:৩৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬

দেশের পোল্ট্রি খাতের গবেষণা ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়াতে ১৩৪ কোটি টাকার মেগা প্রকল্প হাতে নেওয়া হলেও মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হয়ে অর্থের সিংহভাগ ভবন নির্মাণ ও সরঞ্জাম ক্রয়ে ব্যয়ের চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএলআরআই) বাস্তবায়নাধীন ‘পোল্ট্রি গবেষণা ও উন্নয়ন জোরদারকরণ (১ম সংশোধিত)’ প্রকল্পের নথি ঘেঁটে দেখা গেছে, গবেষণার সুফল মেলার পরিবর্তে প্রকল্প পরিচালক (পিডি) ড. মো. সাজেদুল করিম সরকারের বিরুদ্ধে নিজের স্ত্রীকে নিয়মবহির্ভূতভাবে মোটা অঙ্কের ফেলোশিপ প্রদান, দরপত্র ছাড়াই কোটি কোটি টাকার কাজ বণ্টন এবং ভুয়া ভাউচারে অর্থ উত্তোলনের গুরুতর অনিয়ম হয়েছে। সরকারি বরাদ্দের এই চরম অপব্যবহার ও স্বজনপ্রীতির ঘটনায় পুরো খাতের গবেষক মহলে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

প্রকল্পের আর্থিক ও প্রশাসনিক নথিপত্র বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত প্রকল্পে মোট ১২০ কোটি ৫৭ লাখ টাকা ব্যয় দেখানো হয়েছে। এর মধ্যে ৮১ কোটি ২৮ লাখ টাকা বা প্রায় ৬৫ শতাংশ অর্থই ব্যয় করা হয়েছে ভবন নির্মাণ, জমি অধিগ্রহণ ও ভারী সরঞ্জাম কেনাকাটায়। অথচ প্রকল্পের মূল ভিত্তি যে গবেষণা ও ফেলোশিপ, সেই খাতে বরাদ্দ রাখা হলেও ব্যয় করা হয়েছে মাত্র ৭ কোটি ৯৯ লাখ টাকা, যা মোট ব্যয়ের মাত্র ৫.৯৭ শতাংশ। সরকারি অনুমোদন অনুযায়ী গবেষণা খাতে ৬ কোটি ৩০ লাখ টাকা বরাদ্দ থাকার কথা থাকলেও কেবল পোল্ট্রির খাবার ও ফিড অ্যাডিটিভস ক্রয়েই খরচ দেখানো হয়েছে ১২ কোটি ৪২ লাখ টাকা, যা মূল বরাদ্দের প্রায় দ্বিগুণ। এছাড়া স্থানীয় প্রশিক্ষণে ৪ কোটি ১০ লাখ টাকার বিপরীতে ৪৫ শতাংশ খরচ দেখানো হলেও বিদেশি প্রশিক্ষণের ১ কোটি টাকার মধ্যে কাগজে-কলমে মাত্র ১ লাখ টাকা ব্যয় দেখানো হয়েছে। ২০১৯ সালের জুলাইয়ে শুরু হওয়া এই প্রকল্পের মূল মেয়াদ ২০২৪ সালের জুনে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও তা দুই বছর বাড়িয়ে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত করা হয় এবং অতিরিক্ত ১০ কোটি ৬৫ লাখ টাকা বাজেট বৃদ্ধি করা হয়। অথচ প্রকল্প বিলম্বের সুনির্দিষ্ট কোনো প্রশাসনিক বা যৌক্তিক ব্যাখ্যা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।

এই দুর্নীতির সবচেয়ে বড় চাঞ্চল্যকর অধ্যায় হলো প্রকল্প পরিচালকের স্ত্রী ড. ফারহানা শারমীনকে নিয়মবহির্ভূতভাবে পোস্ট-ডক্টরাল ফেলোশিপ প্রদান। কোনো ধরনের জাতীয় দৈনিক বা বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্মুক্ত বিজ্ঞপ্তি ছাড়াই সম্পূর্ণ গোপনে এই সুযোগ তৈরি করা হয়, যা ২০২২ সালের সরকারি তদন্তেও প্রমাণিত হয়েছে। বিএলআরআইয়ের স্থায়ী কর্মকর্তা না হওয়া সত্ত্বেও পিডির স্ত্রী মাসিক ১ লাখ ২০ হাজার টাকা ভাতা হিসেবে গ্রহণ করেছেন এবং ফেলোশিপ খাতের বরাদ্দের প্রায় ৬৫ শতাংশই তাঁর একাই ভোগ করেছেন। প্রশিক্ষণ আয়োজনেও স্বামী-স্ত্রীর একচ্ছত্র আধিপত্য ছিল। ট্রেনিং কোর্সের নির্দেশক নিজেই হওয়ার সুবাদে পিডি ড. সাজেদুল করিম বড় অঙ্কের সম্মানীর বিপরীতে একাধিক সেশনের প্রশিক্ষক হিসেবেও যুক্ত ছিলেন এবং তাঁর স্ত্রীকেও সম্মানীভিত্তিক প্রশিক্ষক রাখা হয়। এছাড়া এক জুনিয়র ট্রেনিং সহকারী ও হিসাবরক্ষকের মাধ্যমে ভুয়া দোকানের নামে কোটি কোটি টাকার সরবরাহ ভাউচার তৈরি, দরপত্র ছাড়া সাড়ে ৩ কোটি টাকার রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতের কাজ বণ্টন এবং গবেষণাগারে জায়গা না থাকা সত্ত্বেও ২ কোটি ১৫ লাখ টাকায় ৪টি ইনকিউবেটর ক্রয়ের নজির রয়েছে। প্রকল্পের মোটরসাইকেল ও অন্যান্য যানবাহন পিডির ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কাজে ব্যবহার করারও গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগের বিষয়ে প্রকল্প পরিচালক ও বিএলআরআইয়ের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. সাজেদুল করিম সমস্ত অনিয়ম অস্বীকার করে দাবি করেছেন যে, প্রচলিত বিধি মোতাবেক এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানিয়েই প্রকল্পের সব কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। তবে সাবেক ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ততার সুবাদে পিডির দায়িত্ব প্রাপ্তি এবং স্ত্রীর ফেলোশিপ সংক্রান্ত সুনির্দিষ্ট প্রশ্নের কোনো সদুত্তর তিনি দিতে চাননি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএলআরআইয়ের এক শীর্ষ কর্মকর্তা জানান, রাজনৈতিক প্রভাব ও তৎকালীন ক্ষমতাসীনদের ঘনিষ্ঠতার সুবাদেই তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ পদের দায়িত্ব পেয়েছিলেন এবং আগস্ট-পরবর্তী পরিস্থিতিতে তাঁর ভূমিকা নিয়ে প্রতিষ্ঠানটির ভেতরে ও বাইরে গভীর প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।

খাতসংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিগত আটাশ বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা এই প্রকল্পে রাষ্ট্রীয় অর্থের যে যথেচ্ছ অপচয় হয়েছে, তা প্রশাসনিক জবাবদিহির সম্পূর্ণ পরিপন্থী। সরকারি প্রকল্পের নথিপত্রের জটিল হিসাব-নিকাশ ও ক্ষমতার বলয় ব্যবহার করে যেভাবে ব্যক্তিবিশেষের স্বার্থ হাসিল করা হয়েছে, তা দেশের সামগ্রিক গবেষণা খাতের স্বচ্ছতাকে চরম হুমকির মুখে ফেলেছে। অতীতে বিভিন্ন জাতীয় উন্নয়ন প্রকল্পে এ ধরনের অনিয়মের নজির থাকলেও প্রাণিসম্পদ গবেষণার মতো একটি সংবেদনশীল খাতে স্বজনপ্রীতির এমন নগ্ন বহিঃপ্রকাশ নজিরবিহীন।

অবিলম্বে এই প্রকল্পের সম্পূর্ণ অর্থ বরাদ্দ, কেনাকাটা ও ফেলোশিপ বিতরণের একটি নিরপেক্ষ ও স্বাধীন নিরীক্ষা (অডিট) পরিচালনা করা জরুরি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। একই সঙ্গে দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) দিয়ে কঠোর আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে জড়িতদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে। অন্যথায়, কোটি কোটি টাকার এই মেগা প্রকল্প কেবল কাগজ-কলমে সীমাবদ্ধ থেকে যাবে এবং পোল্ট্রি খাতের টেকসই উন্নয়ন ও খাদ্যনিরাপত্তার স্বপ্ন অধরাই থেকে যাবে।